প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ নেতৃত্বের প্রত্যাশায় যুবলীগ

রেজা-উদ্-দৌলাহ প্রধান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের অন্যতম বড় যুব সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ। স্বাধীনতার পরের বছর দেশের দিকভ্রান্ত যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে যুদ্ধবিধ্বস্ত জাতি গঠনের লক্ষ্য নিয়ে যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করা হয়। অথচ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠাকালীন চেতনাগুলো দূরে ঠেলে দিয়ে যুবলীগের অনেক নেতাকর্মী জড়িয়ে পড়েন নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অপকর্মে।

সম্প্রতি ক্যাসিনো, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ নানা অপরাধে নেতাদের সম্পৃক্তায় ফের আলোচনায় আসে যুবলীগ। চলমান শুদ্ধি অভিযানে ক্যাসিনোর সঙ্গে নেতারা জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে আসায় যুবলীগের নামটি এখন সারাদেশের মানুষের মুখে মুখে। ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানে যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর পতনের পর সারাদেশেই ‘ইমেজ সংকটে’ পড়ে সংগঠনটি। এরপর থেকে যুবলীগের সে ‘ইমেজ সংকট’ কাটাতে নিজেই হস্তক্ষেপ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুবলীগের কেন্দ্রীয় কংগ্রেসের তারিখ নির্ধারণ, বয়স নির্ধারণসহ সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন, সব কিছুতে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করেন তিনি। আওয়ামী লীগ সভাপতির সরাসরি হস্তক্ষেপে খুশি যুবলীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। পদ প্রত্যাশীরাও স্বস্তিতে রয়েছেন।

যুবলীগের কংগ্রেসের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন নেতাকর্মীরা। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, ধানমন্ডিস্থ ৩/এ তে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় এখন পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখর থাকে। ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে নগরী। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সুনজরে পড়তে চলছে জোরালো তদবির–লবিং।

যুবলীগের পদপ্রত্যাশী একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এবার যুবলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনের দায়িত্বও তিনি কাউকে দেননি। তাই সম্মেলনের আগে সরাসরি কেউ প্রার্থী হতে চাইছেন না বরং পদপ্রত্যাশী হিসেবেই মাঠে আলোচনায় থাকতে চাইছেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি যাকে যোগ্য মনে করে যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করবেন, তাকেই সবাই মেনে নেবেন।

কেমন নেতৃত্ব আশা করছেন জানতে চাইলে বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, সৎ, নির্লোভ, আন্দোলন সংগ্রামে অকুতোভয়, এক/এগারোর সময় নেত্রীর মুক্তির আন্দোলনে যাদের ভূমিকা আছে, বিতর্কিত নন, সংগঠন অন্তঃপ্রাণ, শিক্ষিত, আওয়ামী ঘরানার পরিবার থেকে উঠে আসা ব্যক্তিত্বদেরই যুবলীগের দায়িত্বে দেখতে চাই।

তিনি আরো বলেন, আগামী দিনে যুবলীগের হাল কার কাছে যাবে, সে সিদ্ধান্ত নেবেন রাষ্ট্রনায়ক ও সংগঠনের দলনেতা শেখ হাসিনা। আমরা মনে করি, যোগ্য লোকের হাতেই নেতৃত্ব যাবে। আমাদের নেত্রী যুবলীগের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নেবেন, কর্মী হিসেবে আমাদের কাছে সেটাই চূড়ান্ত।

কংগ্রেসের পদপ্রত্যাশী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ বদিউল আলম বলেন, যুবলীগের সম্মেলনের (কংগ্রেস) প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। যুবলীগের সাংগঠনিক নেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। নেত্রীর প্রতি অগাধ আস্থা ও বিশ্বাস আছে। তিনি যেখানে রাখবেন, সেখানেই থাকব।

আসন্ন কংগ্রেসে যুবলীগে কেমন নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছেন জানতে চাইলে যুবলীগের প্রচার সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ বাবলু বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, আমরা চাই, প্রতিশ্রুতিশীল ভিশনারি নেতৃত্ব। যে নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রীর ভিশন-২০২১, ২০৪১ বাস্তবায়নের সারথি হবে। যারা হবেন প্রতিশ্রুতিশীল আর সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের সামনে আসার সুযোগ দিতে হবে।

এদিকে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুবলীগের কংগ্রেস নিয়ে কয়েক দফায় দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করেছেন। এ সময় তিনি যুবলীগের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে ক্লিন ইমেজের প্রতিশ্রুতিশীল নেতৃত্ব খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন। যুবলীগকে যেন কোনো কথিত ‘সিন্ডিকেট’ নিয়ন্ত্রণ না করে, সেদিকেও লক্ষ্য রাখার কথা জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতা জানান, যুবলীগকে ঢেলে সাজাতে এবার বিশেষ মনোযোগ দিয়েছেন দলের হাইকমান্ড। অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতৃত্বের প্রতিই হাইকমান্ড আস্থাশীল। আর নেতৃত্বের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন শেখ হাসিনা।

যুবলীগের কংগ্রেসে কেমন নেতৃত্ব আসছে, এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, নতুন সম্মেলন মানেই নতুন মুখ। সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী অঙ্গ সংগঠনগুলোকে ঢেলে সাজানো হবে। অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটিয়ে আমরা দলকেসামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব। এখানে পরিবর্তন হবে, নতুন মুখ আসবে।

এদিকে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কংগ্রেসের তারিখ নির্ধারণ হলেও ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার কংগ্রেসের কোনো তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। অথচ ঐতিহ্যগতভাবে ঢাকা মহানগরের দু’টি ইউনিটের কংগ্রেসের পরেই কেন্দ্রীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। বিষয়টি নিয়ে তাই কিছুটা দ্বিধান্বিত যুবলীগের সাবেক নেতারা। সমস্যা সমাধানে তারা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেছেন। মহানগরের দুই ইউনিটের কংগ্রেস অনুষ্ঠিত না হলেও যুবলীগের কেন্দ্রীয় কংগ্রেসের দিনই এ দুই ইউনিটের শীর্ষ দুই নেতার নাম একসঙ্গে ঘোষণা করতে চান তারা। অবশ্য সেটি নির্ভর করছে একান্তই আওয়ামী লীগ সভাপতির সম্মতির ওপর।

জানা গেছে, শেখ হাসিনা সম্মতি দিলে যুবলীগের কংগ্রেসে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পাশাপাশি মহানগরের দুই শাখার শীর্ষ দুই নেতার নামও ঘোষণা করা হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১৪ জুলাই যুবলীগের ষষ্ঠ জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। এরপরগত সাত বছরে কোনো সম্মেলন হয়নি সংগঠনটির। পরে আগামী ২৩ নভেম্বর সংগঠনের সপ্তম কাউন্সিল হবে বলে ঘোষণা করা হয়। সপ্তম জাতীয় কংগ্রেস নিয়ে সবার দৃষ্টি এখন যুবলীগের দিকে। রাজনীতি পাড়ার মানুষদের সঙ্গে সাধারণ মানুষদেরও কৌতূহলের শেষ নেই। কারা আসছেন যুবলীগের শীর্ষ নেতৃত্বে, তা জানতে অপেক্ষায় থাকতে হবে আগামী ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত।

আপনার মতামত লিখুন :