রওশন এরশাদ ভুল বুঝতে পেরেছেন!

সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
রওশন এরশাদ, ছবি: সংগৃহীত

রওশন এরশাদ, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ ভুল বুঝতে পেরেছেন যে এভাবে তার চিঠি দেওয়া ঠিক হয়নি। তিনি মূলত সুপারিশ দিতে চেয়েছিলেন, যাতে ওইসব নেতাকে মূল্যায়ন করা হয়।

কিন্তু সেই চিঠি সরাসরি গণমাধ্যমে যাওয়ার বিষয়েও রওশন এরশাদ বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বলে দাবি করেছেন জাতীয় পার্টির এক শীর্ষ নেতা। ওই নেতা নিজে রওশন এরশাদের সঙ্গে কথা বলে এমন অভিমত জানতে পেরেছেন বলে বার্তা২৪.কমকে নিশ্চিত করেছেন।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভরায় বার্তা২৪.কমকে বলেন, পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যখন বেঁচে ছিলেন, তখনও অনেকের নামে সুপারিশ করতেন রওশন এরশাদ। তিনি সিনিয়র নেতা, একটি এলাকার সংসদ সদস্য, তার কিছু সুপারিশ থাকতেই পারে। এখানেও বিষয়টি তেমন হয়েছে হয়তো। তিনি সুপারিশ দিয়েছেন, এখন পার্টির চেয়ারম্যান বিষয়টি বিবেচনা করবেন। তবে কোনো পদে কাউকে নিয়োগ দেওয়ার কোনো ক্ষমতা প্রধান পৃষ্ঠপোষকের নেই।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে সুনীল শুভরায় বলেন, রওশন এরশাদ যাদের নামে চিঠি দিয়েছেন, তাদের অনেকেই বলেছেন, তারা বিষয়টি জানেন না এবং এর সঙ্গে একমত নন। পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের প্রতি তাদের পূর্ণ আস্থা ও সমর্থন রয়েছে। রওশন এরশাদের চিঠিতে ভাইস চেয়ারম্যান করার কথা বলা হয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য ইয়াহিয়াকে। তিনি বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে এসেছিলেন, আমার সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনিও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। সাবেক সংসদ সদস্য মাহজাবিন মোর্শেদকে প্রেসিডিয়াম সদস্য করা হয়েছে। তিনি এসবের কিছুই জানেন না।

জিএম কাদেরের ঘনিষ্ঠ একাধিক নেতা দাবি করেছেন, রওশন এরশাদকে ভুল বুঝিয়ে ওই চিঠিতে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। চিঠির ওপরে লেখা ‘কাউন্সিলে অর্পিত দায়িত্ব ও প্রদত্ত ক্ষমতা বলে সংগঠনের কার্যক্রম গতিশীল করার স্বার্থে নিম্নে মনোনীত পদে পদায়ন করা হইল’- এটা না দেখেই স্বাক্ষর দিয়েছেন। যা তিনি পরে স্বীকার করেছেন। এটা তাকে প্রভাবিত করে স্বাক্ষর নিয়েছেন বিদায়ী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন রাজু। তিনিই আসলে কলকাঠি নাড়ছেন।

এ বিষয়ে ইকবাল হোসেন রাজুর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, এ তথ্য সঠিক নয়। প্রধান পৃষ্ঠপোষক জেনে বুঝেই সব করেছেন। তার ভুল স্বীকার করার কোনো কারণই নেই। সিনিয়র ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না করায় তিনি ক্ষুব্ধ।

পার্টির চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এখন চিঠির পরিণতি কি দাঁড়াচ্ছে-এমন প্রশ্নের জবাবে ইকবাল হোসেন রাজু বলেন, এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক আর চেয়ারম্যান বুঝবেন।

তিনি বলেন, পার্টির গঠনতন্ত্রে প্রধান পৃষ্ঠপোষককে সর্বোচ্চ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আমরা এভাবেই গঠনতন্ত্র সংশোধন করেছি। এখন যদি কাঁটা ছেড়া করে সেই ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়, যারা এটি করছেন তাদেরও হয়তো জবাবদিহি করতে হবে।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে রওশন এরশাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আশা করছি, এটা নিয়ে আর কোনো সমস্যা হবে না। ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে।

দৃশ্যত রওশন এরশাদ এখন অনেকটা সমর্থনহীন। তার পেছনে এতোদিন যারা একাট্টা ছিলেন, তাদের অনেককেই জিএম কাদেরের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধতে দেখা যাচ্ছে। তবে এটাকে অনেকেই লোক দেখানো মনে করছেন। অনেকেই নাকি গোপনে দু’দিকেই যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। যেদিকে বর্ষা দেখবেন, সেদিকে ছাতা ঘুরাবেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন :