করোনা পরিস্থিতিতেও এবি পার্টির ব্যানারে সরব সাবেক জামাতপন্থীরা

লুৎফে আলি মহব্বত, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
করোনা পরিস্থিতিতেও সরব সাবেক জামাতপন্থীরা, ছবিটি চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার, ছবি: সংগৃহীত

করোনা পরিস্থিতিতেও সরব সাবেক জামাতপন্থীরা, ছবিটি চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে সামাজিক দূরত্বজনিত সঙ্গরোধে সবকিছুর মতো রাজনীতি নিস্তব্ধ হলেও ব্যতিক্রম সাবেক জামাতপন্থীরা। মাঠে-ময়দানে সরবে পরিচালিত তাদের রাজনৈতিক তৎপরতা রাজধানী ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে দেশের  প্রত্যন্ত অঞ্চলের  তৃণমূল পর্যায়ে।

মে মাসের শুরুতে (শনিবার ২ মে) রাজধানী ঢাকার বিজয়নগরের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন দল গঠনের ঘোষণা করা হয় সাবেক জামাতপন্থী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পক্ষে। নবগঠিত  দলের নাম রাখা হয় ‘আমার বাংলাদেশ পার্টি’ বা এবি পার্টি।

এর আগে জামায়াত থেকে বেরিয়ে আসা ও বহিষ্কৃতরা ‘জন আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ’র ব্যানারে কাজ করছিলেন, যা এখন নতুন রাজনৈতিক দল এবি পার্টিতে পরিণত হয়েছে। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জামায়াতের সাবেক কেন্দ্রীয় শুরা (পরামর্শ পরিষদ)  সদস্য, সাবেক সচিব এএফএম সোলায়মান চৌধুরী (আহ্বায়ক) ও জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত নেতা, ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মজিবুর রহমান মনজু (সদস্য সচিব)।

এবি পার্টির ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র বার্তা২৪.কমকে জানায়, এক বছর আগে একটি রাজনৈতিক দল করার জন্য ‘জন আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ’ নামে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। সেই রাজনৈতিক উদ্যোগের ফলাফল হলো এবি পার্টি নামে আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দলের ঘোষণা।

সূত্র আরো জানায়, সাবেক জামাতপন্থীদের নতুন দলটি আপাতত একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে কাজ করছে। এই আহ্বায়ক কমিটি আগামী এক বছর সব মহানগর, জেলা, উপজেলা ও পৌরসভায় কমিটি গঠন করে খসড়া গঠনতন্ত্রকে চূড়ান্ত রূপ দেবে। এক বছর পর সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের সর্বস্তরে নেতা নির্বাচিত হবেন।

তবে আত্মপ্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই দেশের বিভিন্ন স্থানে এবি পার্টির তৎপরতা শুরু হয়েছে। করোনার পরিস্থিতির মধ্যেও তারা দলীয় কাজের পাশাপাশি জনসংযোগ করছেন। এতে সামনের সারিতে কাজ করছে সাবেক জামাত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। 

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বৃহত্তর চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও কুমিল্লা জোনে এবি পার্টির তৎপরতা চলছে জোরেসোরে। প্রতিদিনই ইউনিয়ন, উপজেলা পর্যায়ে রাজনৈতিক তৎপরতা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাচ্ছে এবি পার্টি।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলায় লোহাগাড়া উপজেলা এবি পার্টির উদ্যোগে যোগদান অনুষ্ঠান এবং অসহায় ও দুঃস্থ ব্যক্তিদের ইফতারির প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে শনিবার (১৬ মে)। এতে উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টি কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক এডভোকেট গোলাম ফারুক, কেন্দ্রীয় এসিসটেন্স সেক্রেটারি এডভোকেট মোস্তফা নূর, লাভ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী, কেন্দ্রীয় এসিসটেন্স সেক্রেটারি ছিদ্দিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য যুবনেতা কামরুল কায়েস চৌধুরী, লোহাগাড়া উপজেলার সংগঠক যুবনেতা হেলাল উদ্দিন হেলাল প্রমুখ।

কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত আরো কয়েকটি দলীয় টিম দেশের বিভিন্ন স্থানে তৃণমূল পর্যায়ে রাজনৈতিক সফর ও সাংগঠনিক তৎপরতা চালাচ্ছে বলেও বার্তা২৪.কমকে নিশ্চিত করেছে একাধিক সূত্র। তবে নতুন দলীয় পরিচয়ে সাবেক জামাতপন্থীদের মাঠে নামার বিষয়ে জামাতে ইসলামীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেয়া হয়নি। তাদের নিরবতার ফলে এবি পার্টির সঙ্গে জামাতের সম্পর্ক নিয়ে ধোঁয়াশা ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

অনেকে মনে করছেন, কোণঠাসা ও ইমেজ সঙ্কটে জর্জরিত জামাত তাদেরই বি-টিম হিসেবে মাঠে নামিয়েছে এবি পার্টিকে। শুধুমাত্র সাবেক ও বর্তমান জামাত-শিবিরের লোকজনকে নিয়ে সংগঠিত হওয়ায় নতুন দলটি জামাত ঘরানার সম্প্রসারিত অংশ রূপে সবার কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :