‘সরকারের অবিবেচনা প্রসূত সিদ্ধান্তে জাতিকে চরম মাশুল দিতে হবে’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
আ স ম আবদুর রব, ছবি: সংগৃহীত

আ স ম আবদুর রব, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, ‘করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতিতে দেশবাসী গভীর উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। লকডাউন বা ছুটির মূল উদ্দেশ্য সফল হয়েছে কিনা তার কোনো মূল্যায়ন না করে সরকার অবিবেচকের মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যার জন্য জাতিকে চরম মাশুল দিতে হবে।’

শুক্রবার (২৯ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘দেশবাসী প্রতিদিন প্রত্যক্ষ করছে যে দেশে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। এটা এখন শুধু নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্ত জনসাধারণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। উচ্চবিত্ত, শিল্পপতি কেউই রেহাই পাচ্ছে না। করোনার ঊর্ধ্বগতিতে দেশবাসী আতঙ্কগ্রস্থ। করোনা রোধ না করতে পারলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে। লকডাউন করে করোনা পরিস্থিতি বা লকডাউনের মূল উদ্দেশ্য সফল হয়েছে না, ব্যর্থ হয়েছে- এনিয়ে কোনো মূল্যায়ন না করেই সরকার অবিবেচকের মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে। সরকারের অবিবেচনা প্রসূত সিদ্ধান্তের জন্য জাতিকে চরম মাশুল দিতে হবে।’

‘লকডাউনের মূল উদ্দেশ্য ছিল করোনার বিস্তার রোধ করা। সে কাজটি গত দু'মাসে মোটেই সুচারুরূপে সম্পাদন করা হয়নি। এক কথায় গত দু'মাসের লকডাউন বৃথাই গিয়েছে। এর মূল কারণ হলো জাতিকে করোনা মোকাবিলায় উদ্বুদ্ধ করা যায়নি, জাতিকে এ লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধও করা হয়নি। সরকারের একলা চলো নীতি আজ এ ভয়ংকর পরিস্থিতির জন্য দায়ী,’ যোগ করেন তিনি।

বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী আরো বলেন, ‘লকডাউন প্রত্যাহারের আগে অবশ্যই চিন্তা করা উচিত, সংক্রমণ বাড়বে কিনা এবং বর্ধিত সংক্রমণে আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার ক্ষমতা আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আছে কিনা। তা যদি আমাদের সক্ষমতার মধ্যে থাকে, কেবলমাত্র তখনই লকডাউন প্রত্যাহারের কথা বিবেচনা করা যেতে পারত। এ বিষয়ে সরকার গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সুপারিশ এড়িয়ে যাওয়া একটা ভুল পদক্ষেপ।’

তিনি বলেন, বিশ্বের সব দেশে করোনা পরিস্থিতি যখন অনুকূলে এসেছে, তখনই কেবল তারা লকডাউন প্রত্যাহারে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। অথচ একমাত্র আমাদের দেশেই যখন করোনায় আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা ঊর্ধ্বমুখী তখন সরকার অবিবেচকের মতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।’

বিরাজিত অবস্থায় আ স ম আবদুর রব কিছু পরমর্শ দিয়েছেন। সেগুলো হলো

১. যথেষ্ট সংখ্যক করোনা পরীক্ষা করা; এজন্য প্রতি জেলায় ল্যাব স্থাপন করতে হবে। পরীক্ষার মাধ্যমে নতুন রোগী শনাক্তকরণ এবং তাদের কন্টাক্ট ট্রেসিং করে রোগ নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। এজন্য নিয়োগ করতে হবে প্রচুর স্বেচ্ছাসেবক।

২. নিরন্ন মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করতে হবে, যাতে তাদের বাইরে বের হবার প্রয়োজন না হয়।

৩. জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মোতাবেক ধাপে ধাপে লকডাউন প্রশ্নে পদক্ষেপ নিতে হবে।

৪. ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য অবিলম্বে ‘জাতীয় স্বাস্থ্য কাউন্সিল’ গঠন করতে হবে। জাতীয় স্বাস্থ্য কাউন্সিলের কাজ হবে একটি সুচিন্তিত স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন। আসন্ন বাজেট থেকেই এর অর্থায়ন করতে হবে। স্বাস্থ্য বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে এর একটি প্রধান লক্ষ্য। জাতীয় স্বাস্থ্য কাউন্সিলকে হতে হবে ইনক্লুসিভ এবং অংশীদারিত্বমূলক তথা স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজন সমাজশক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে এটা গঠন করতে হবে।

৫. জাতিকে করোনা মোকাবিলায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এজন্য দলমত নির্বিশেষে সব রাজনৈতিক দল, শ্রম, কর্ম, পেশার প্রতিনিধির সমন্বয়ে কার্যকর জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :