ইডেনে গোলাপি টেস্টে সবুজ উইকেট!

আপন তারিক, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, কলকাতা (ভারত) থেকে
ইডেনের পিচ পরখ করে দেখছেন ক্যাপ্টেন মুমিনুল হক ও কোচ রাসেল ডমিঙ্গো, ছবি: বিসিবি

ইডেনের পিচ পরখ করে দেখছেন ক্যাপ্টেন মুমিনুল হক ও কোচ রাসেল ডমিঙ্গো, ছবি: বিসিবি

  • Font increase
  • Font Decrease

পিঙ্ক বলের টেস্ট। ইডেনের অন্দর-বাহির চারধারে নতুন চুনকামের সুবাস। তবে মাঠে-মাঠের বাইরে গোলাপি আভাটাও পরিষ্কার!

প্রথমবারের মতো ভারতে গোলাপি বলের টেস্ট। আর সেই ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে নন্দন কানন ইডেন গার্ডেন্স। গোলাপি বলে টেস্ট ম্যাচ হলেও ইডেনের ২২ গজে কিন্তু গোলাপি রংয়ের ছিটেফোঁটাও নেই! যা থাকছে তার পুরোটা জুড়েই শুধু সবুজ আর সবুজ। সময়ের পরিক্রমায় ইডেনের উইকেটের চরিত্রগুণ বদলেছে বেশ। এখন এখানে বোলার-ব্যাটসম্যানরা প্রায় সমান সুযোগই পান। তবে ২২ নভেম্বর থেকে এই মাঠের পিঙ্ক টেস্টে সম্ভবত যে কোনো সময়ের চেয়ে ঘাসের পরিমাণ একটু বেশিই থাকছে।

পিঙ্ক বলের গুণাগুণ বাঁচিয়ে রাখতেই ইডেনে বাড়তি ঘাসের আগমন!

সুজন মুখোপাধ্যায়: পিচ কিউরেটর, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি)

ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি) চিফ কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়ের মন্তব্যে সেই সম্ভাবনাই পরিষ্কার-‘ম্যাচটা হয়তো আলাদা। ভারতবর্ষে এই প্রথমবারের মতো গোলাপি বলে ফ্লাডলাইটে টেস্ট ম্যাচ হবে। সেদিক থেকে এটা একটা ঐতিহাসিক ঘটনা হবে। কিন্তু উইকেট প্রসঙ্গে যদি জানতে চাও, তবে বলবো উইকেটের একই রকম চরিত্র বজায় রাখার চেষ্টা করবো আমি। ইডেনের পিচ কিউরেটর হিসেবে এখানে আলাদাভাবে করার কিছু নেই। এর আগেও আমরা এখানে একটা পিঙ্ক বলের ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজন করেছিলাম। এই স্বাভাবিক উইকেটেই সেই ম্যাচ হয়েছিল।’

ইডেনে এখন ভালো পেসে বল আসে ব্যাটে। বাউন্সও ভালো হয়। ব্যাটসম্যানরাও সুবিধা পায়। যত সময়ের খেলা যায় স্পিনাররাও এই উইকেট থেকে সুবিধা নিতে পারে। পিঙ্ক টেস্টেও কি সেই চরিত্র বজায় থাকছে ইডেনের পিচের?

উত্তরে সুজনের ব্যাখ্যাটা এমন-‘আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি সেরকম উইকেটই রাখবার। সৌরভ গাঙ্গুলিরও তাই ইচ্ছে। ওরকম উইকেটই সে পছন্দ করেছে। আশা করি সেই রকম উইকেটই হবে ইডেনের টেস্টে এবারও। ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে বৃষ্টির জন্য পিচ প্রস্তুত করতে আমাদের কাজটা একটু ব্যাহত হয়েছে। তবে আমার আশা আছে ম্যাচের আগে আমরা সেই চিরাচরিত ইডেনের উইকেটই পুরো তৈরি করতে পারবো। সৌরভ মাঠে আসছেন। পরিদর্শন করছেন। নিজের অভিজ্ঞতার ইনপুট দিচ্ছেন। নভেম্বরের শেষে টেস্ট। গঙ্গার ধারের ঠাণ্ডা বাতাস বয়ে যাবে ইডেনের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে। গোলাপি বলে বল একটু বেশি সুইং করে।’

-পিঙ্ক বলের রং স্থায়ী রাখার জন্য উইকেটে একটু বেশি লম্বা ঘাসের প্রয়োজন হয়। ইডেনে কি তাহলে ঘাসের পুরুত্ব বাড়ছে?

বাস্তবতা মেনে নিলেন সুজন মুখোপাধ্যায়-‘আমি সাধারণত ঘাস একই রকম রাখি। তবে পিঙ্ক বল সম্পর্কে আমি যা জেনেছি তাতে উইকেটে ঘাস একটু বেশি হলে ভালো। বলের সিম এবং স্থায়িত্ব অনেকক্ষণ ধরে থাকে। আর আউটফিল্ডের ঘাস একটু কম হল ভালো হয়।’

যদিও বুধবার দেখা গেল-উইকেটের ঘাস কিছুটা কমিয়ে ফেলা হয়েছে। ইঙ্গিত এটাই ব্যাটসম্যানরা যেন একটু বেশি সুবিধা পান। খেলাটা যেন কিছুটা লম্বা হয়। ইন্দোরে ভারতের কাছে তিন দিনেই হেরেছিল বাংলাদেশ। এখানে কলকাতায় পা রেখেই শুনছি, প্রথম চার দিনের টিকিট নাকি শেষে।

রাতের আলোয় টেস্ট ম্যাচ। এমনিতেই শীতের আগমনী বার্তা বাতাসে। তার ওপর রাতের আলোয় টেস্ট ম্যাচটায় শিশির তাহলে স্পিনারদের সমস্যা বাড়াবে বৈকি!

এই আশঙ্কাও মানতে চাইলেন না সুজন মুখোপাধ্যায়- ‘শিশির খুব বেশি সমস্যা তৈরি করবে না বলে মনে করি। এখানে দিনের বেলায় খেলার সময়টা বেশি মিলবে। রাতের বেলায় খেলার সময়টা কম। তাই শিশির মনে হয় না বড় কোনো সমস্যা করবে। দেড় থেকে দু’ঘন্টা বা খেলার শেষ সেশনটা হবে রাতে। এই দেড় থেকে দুঘন্টা যে শিশির পড়ে সেটা আমার মনে হয় ম্যানেজেবল। তাছাড়া আমরা যথেস্ট পূর্বসতর্কতা নিয়েছি। আমি চেয়েছি স্পোর্টিং একটা উইকেট বানাতে যেখানে খেলে ক্রিকেটাররা স্বস্তি পান আবার দর্শকরাও আনন্দ পায়!’

পিঙ্ক টেস্ট ম্যাচ শুরু হবে ভারতীয় সময় দুপুর ১টায়। শেষ রাত ৮টায়। ঘাসে শিশির জেঁকে পড়ার আগেই যে খেলার সময় শেষ!

আপনার মতামত লিখুন :