শহীদ আফ্রিদি: অদম্য এক করোনা যোদ্ধা

স্পোর্টস ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
মানবিক সহায়তা চালিয়ে যাচ্ছেন শহীদ আফ্রিদি, ছবি: সংগৃহীত

মানবিক সহায়তা চালিয়ে যাচ্ছেন শহীদ আফ্রিদি, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নিজের নামে ফাউন্ডেশন গড়ে শহীদ আফ্রিদি মানব সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে। এই মুহূর্তে করোনা যুদ্ধেও থেমে নেই তার সাহায্য সহযোগিতা। খেটে খাওয়া মানুষের সেবায় সময় কাটছে তার।

বিশ্বের ন্যায় পাকিস্তানও এখন করোনাভাইরাস নামের অদৃশ্য এক শত্রুর মোকাবেলা করে যাচ্ছে। সেই যুদ্ধে সামিল হয়ে সবাই এখন ঘরবন্দী। বন্ধ হয়েছে দেশের গরীব দুঃখী মানুষের আয়। নিম্নবৃত্ত মানুষের এই মহাবিপর্যয়ের দিনে মানবিক সহায়তা চালিয়ে যাচ্ছেন পাকিস্তানের তারকা অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদি।

শহীদ আফ্রিদি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে পাকিস্তানের সাবেক এ অধিনায়ক দাতব্য কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন খাইবার পাখতুনখোয়ারের কোহাটে নিজের টাঙ্গি বান্দা গ্রামে। আর্ত-মানবতার মাঝে বিলিয়ে যাচ্ছেন ত্রাণ সামগ্রী। প্রয়াত বাবার স্মরণে প্রতিষ্ঠিত শাহেবজাদা ফজল রেহমান চ্যারিটি হাসপাতালের মাধ্যমে দিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসা সেবা।

আফ্রিদি জানিয়েছেন মহাবিপদের দিনে দুস্থ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করাই এখন তার প্রধান লক্ষ্য, ‘আমার কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো লোকজনের কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়া। দিন মজুরেরা এখন আর কোনো কাজ পাচ্ছেন না। সব জায়গাতে চলছে লকডাউন। আমরা উন্নত রাষ্ট্র নই।’

তাই ঘরে বসে সময় নষ্ট করতে চান না আফ্রিদি। অসহায় মানুষের পাশে থাকতে যান সর্বক্ষণ, ‘আমি ঘরে বসে থাকতে পারি না। যদি আমরা সবাই ঘরে বসে থাকি। তাহলে যাদের খাবার দরকার তাদের কী হবে? যদিও আমাদের খাবার সরবরাহের কার্যক্রম চলছে। গত ১২-১৩ দিনে আমরা প্রায় সাড়ে চার হাজার পরিবারের কাছে পৌঁছতে পেরেছি।’

আফ্রিদির দাতব্য প্রতিষ্ঠান মানুষের মাঝে বিলি করছে পোশাক, সাবান, সচেতনতামূলক লিফলেট, চাল, ময়দা, মসুর ডাল, চিনি ও তেল। সংস্থাটির এই কার্যক্রম এতোদিন ছিল মূলত করাচি ভিত্তিক। এখন দেশের অন্যান্য প্রত্যন্ত অঞ্চলেও যাচ্ছে আফ্রিদির টিম। যেখানে শহরে কাজ করা মানুষগুলো এখন ঘরবন্দী।

নিজের দাতব্য হাসপাতালের মাধ্যমে আশেপাশের ২০টি গ্রামের মানুষকে সব সময় চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন ৪০ বছরের এ ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব। গত বছর ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন। বহির্বিভাগ, জরুরি ও অন্যান্য সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে তার হাসপাতালে।

মা ও শিশু সেবার ওপর জোর দিয়ে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালে ইতোমধ্যে আইসোলেশন ওয়ার্ড খুলেছেন ‘বুমবুম‘ খ্যাত আফ্রিদি। যদি কোনো করোনা রোগী থাকে বা সরকারের প্রয়োজন হলে কোভিড-১৯ এর চিকিৎসা দিতেও প্রস্তুত রয়েছে আফ্রিদির হাসপাতাল।

আরও পড়ুন-

করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শহীদ আফ্রিদির ফাউন্ডেশন

আপনার মতামত লিখুন :