‘দেশ-সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন নির্ভর করে মানুষের কর্মদক্ষতার ওপর’



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
নাসিমা আক্তার নিশা

নাসিমা আক্তার নিশা

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশে বৈশ্বিক মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন নিয়ে বার্তা ২৪ এর প্রতিবেদকের সাথে কথোপকথনে নাসিমা আক্তার নিশা, ই-ক্যাবের (ই-কমার্স এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং উইমেন এ্যান্ড ই-কমার্স ফোরাম (উই) এর স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা

প্রশ্ন: প্রগতি উন্নয়ন নির্ভর করে কর্মদক্ষতার ওপর, যা একমাত্র মানসম্মত উচ্চশিক্ষার মাধ্যমেই সম্ভবএকটি উন্নয়নশীল দেশে উচ্চশিক্ষার বিকাশের জন্য প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছেআপনার মতে গতানুগতিক শিক্ষাব্যবস্থা এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার পার্থক্যগুলো কী কী?

একটি দেশ, জাতি কিংবা সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন নির্ভর করে এর মানুষের কর্মদক্ষতার ওপর। সঠিক, যুগোপযোগী, মানসম্মত শিক্ষা ও প্রাযোগিক জ্ঞানের মাধ্যমেই এ কর্মদক্ষতা অর্জন সম্ভব। কোন একটি দেশ বা সমাজকে সামনে এগিয়ে যেতে হলে প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থাকে বিদায় জানিয়ে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে গ্রহণ করতে হবে। কারণ, গতানুগতিক ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক এ বিশ্বে টিকে থাকতে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় একজন শিক্ষার্থীকে গ্লোবাল কম্পিট্যান্সি অর্জনে অনুপ্রাণিত করা হয়। গ্লোবাল কম্পিট্যান্সি হলো এমন জ্ঞান, দক্ষতা ও গুণাবলিকে নির্দেশ করে, যার মাধ্যমে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিষয় জানা, বোঝা বা ব্যবহারের মাধ্যমে একজন মানুষ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করতে পারে। বিশ্বায়নের এ যুগে সারা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেকে এগিয়ে রাখতে শুধু আশপাশের এক-দুটি দেশ নয়, সারা বিশ্বের সব দেশ, দেশের মানুষ, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবশ্যই পর্যাপ্ত জ্ঞান রপ্ত করতে হবে, হতে হবে ‘গ্লোবালি কম্পিট্যান্ট’। অন্যদিকে, গতানুগতিক শিক্ষাব্যবস্থায় অ্যাকাডেমিক বা পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞানের ওপর বেশি আলোকপাত করা হয়।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা একটি তীব্র রূপান্তরের দিকে অগ্রসর হচ্ছেডিজিটালাইজেশনের ছোঁয়ায় প্রথাগত শিক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে; আপনার মতে কি কি পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে এই ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়াটিকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিতেতরুণ উদ্যোক্তা করপোরেট জনশক্তি তৈরিতেও কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?

বিশ্বায়নের এ যুগে রূপান্তরিত শিক্ষা ব্যবস্থায় আমাদের শিক্ষা ও শেখার পদ্ধতিতে অনেক পরিবর্তন এসেছে। এ পরিবর্তন গতানুগিক শিক্ষা পদ্ধতিকে আরো উন্নত ও ত্বরাণ্বিত করেছে। আমাদের দেশে তরুণ উদ্যোক্তা ও করপোরেট জনশক্তি তৈরি করতে হলে পিপলস স্কিলস বা সফট স্কিলসের ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি স্ট্যানফোর্ড রিসার্চ সেন্টারের একটি সমীক্ষা বলছে, আমরা আমাদের ক্যারিয়ারে কতটুকু সফল তার ১৫ শতাংশ নির্ভর করে আমাদের টেকনিক্যাল বা বিষয়ভিত্তিক দক্ষতার ওপর আর বাকি ৮৫ শতাংশ নির্ভর করে আমাদের পিপল স্কিলস বা সফট স্কিলসের ওপর। বাংলাদেশে নারী উদ্যোক্তাদের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্দেশ্য নিয়ে শুরু হয় “উই” । সংস্থাটি গড়ে তুলতে, শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে এবং মহিলা উদ্যোক্তাদের তাদের নৈপুণ্যকে ব্যবসায় পরিণত করতে অনুপ্রাণিত করেছি  সফট স্কিলসের ওপর ভিত্তি করে । বর্তমানে আমরা বিভিন্ন সফ্ট স্কিলস এর উপর প্রশিক্ষণসহ উদ্যোক্তাদের প্ল্যাটফর্ম প্রদান, জ্ঞান পরিসর বৃদ্ধি ও উদ্যোক্তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছি ।

আমার মতে, শিক্ষা পদ্ধতিতে আধুনিকায়নের সাথে সাথে সফ্ট স্কিলস থাকা উচিত এতে এই সবকিছুর সমন্বয়ে আমরা আরো তরুণ উদ্যোক্তা ও করপোরেট জনশক্তি তৈরি করতে পারবো।

প্রশ্ন: আপনার কি মনে হয় আমাদের বর্তমান শিক্ষা পাঠ্যসূচি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিকাশের জন্য সহায়ক?

আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিকাশে শিক্ষা পাঠ্যসূচিতে যুগোপযোগী বেশ কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাঠ্যক্রমে এমন কিছু বিষয় সংযুক্ত করতে হবে যেনো শিক্ষার্থীরা নিজের ও অন্য দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে পারে, ভিন্ন সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় ঘটাতে পারে এবং টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে সবার সমৃদ্ধির জন্য পদক্ষেপ গ্রহণে আগ্রহী হতে পারে। এছাড়া, নতুনের সঙ্গে নিজেদের সহজে মানিয়ে নেয়ার মানসিকতা তৈরি করার লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শী বিশেষজ্ঞের দ্বারা পরিচালিত কর্মশালায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতারও তারা বিকাশ ঘটাতে পারবে। 

প্রশ্ন: বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত শিক্ষাব্যবস্থা কীভাবে শিক্ষার্থীদের বেড়ে উঠতে সাহায্য করতে পারে?

বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা বিশ্বমানের না হলে গ্লোবাল কম্পিট্যান্সি অর্জন প্রায় অসম্ভব। তবে, এ বিষয়গুলো নিয়ে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে কাজ করছে। একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টিকে তুলে ধরা যাক, কিছুদিন আগে একজন মোনাশ এর সাবেক শিক্ষার্থী আমিদ হোসাইন চৌধুরীর একটি লেখা আমার নজরে পরে যেখানে এক অনন্য প্রতিষ্ঠানের  ব্যাপারে জানতে পারি। বিস্তারিত পড়ে জানতে পারলাম মোনাশ কলেজ, অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র অংশীদার ইউনিভার্সাল কলেজ বাংলাদেশ (ইউসিবি) দেশে বসেই শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের শিক্ষালাভের সুযোগ করে দিয়েছে। এছাড়া, ইউসিবি বৈশ্বিক পাঠ্যক্রম অনুসরণ করে শিক্ষা প্রদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের গ্লোবাল কম্পিট্যান্সি অর্জনে বিভিন্ন সফট স্কিলের ওপর বিনামূল্যে কর্মশালা আয়োজন করছে। এতে যোগদান করে শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারেন এবং অন্যান্য দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে সহজে ধারণা লাভ করতে পারেন, যা গ্লোবাল কম্পিট্যান্সি অর্জনে অত্যন্ত সহায়ক। গ্লোবাল কম্পিট্যান্সি অর্জনের মাধ্যমে দেশের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের ও দেশের পরিচিতি উজ্জ্বল করবে বলে আমি প্রত্যাশা করছি।

প্রশ্ন: বৈশ্বিক পাঠ্যক্রমে উচ্চশিক্ষা কর্মক্ষেত্রে কেমন ভূমিকা রাখে বলে আপনি মনে করেন? আপনার মতে দেশে এরূপ পাঠ্যক্রমে শিক্ষা লাভের সুযোগ শিক্ষর্থীরা কিভাবে পেতে পারে?

বৈশ্বিক পাঠ্যক্রমে উচ্চশিক্ষা কর্মক্ষেত্রে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি। বাংলাদেশে বসে শিক্ষার্থীরা যাতে এ ধরনের শিক্ষা লাভ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কাজও করছে। একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি তুলে ধরা যাক, এ দেশের সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীরা যাতে দেশে বসেই তাদের মোনাশ ডিগ্রি অর্জনের যাত্রা শুরু করতে পারেন, এ ধরনের সুযোগ তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটি তাদের জন্য কাজ করছি। ইউসিবি বাংলাদেশে মোনাশ কলেজ অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। শিক্ষার্থীরা তাদের ও লেভেল/এস লেভেল/এ লেভেল/ এইচ এস সি প্রথম বর্ষ ও লেভেল/এস লেভেল/এ লেভেল/ এইচ এস সি  পর পরই ঢাকায় ইউনিভার্সাল কলেজ বাংলাদেশে ফাউন্ডেশন ইয়ার এবং মোনাশ ইউনিভার্সিটি ১ম বর্ষের ডিগ্রি সমমানের প্রোগ্রামে যোগ দিয়ে তাদের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যের পথে যাত্রা শুরু করতে পারেন। তরুণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য এটি সত্যিই একটি চমৎকার সুযোগ। আর এভাবেই তারা দেশে বসে বৈশ্বিক পাঠ্যক্রমের উচ্চ শিক্ষা লাভের সুযোগ পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের জন্য আপনার কিছু পরামর্শ এবং উপদেশ যা তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করতে পারে?

বিশ্বায়নের এ যুগে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে নেতৃত্বের গুণাবলী, যোগাযোগ দক্ষতা, দূরদর্শিতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতার মতো সফট স্কিল অর্জন করতে হবে। আজকের তরুণ শিক্ষার্থীরাই যেহেতু ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দেবেন, তাই তাদের গ্লোবাল কম্পিট্যান্সি অর্জন করতেই হবে; এর কোন বিকল্প নেই।  

স্মার্ট নাগরিক গড়তে দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই: তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক

ছবি: সংগৃহীত, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক

  • Font increase
  • Font Decrease

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, একটাই লক্ষ্য, হতে হবে দক্ষ। উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হলেও প্রযুক্তির নিত্য নতুন উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির প্রয়োগ সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করতে না পারলে ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের ইন্টেলিজেন্স যুগে হয়ত প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাজারে অপ্রয়োজনীয় হয়ে যেতে পারি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) ঢাকায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের 'দীক্ষা-দক্ষতা উন্নয়নে শিক্ষা অনলাইনে' প্রকল্পের আওতায় নির্মিত কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এ সব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের এই ইন্টেলিজেন্স যুগে প্রতিযোগিতার বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে নেতৃত্বের আসনে আসীন করতে হলে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের স্মার্ট বাংলাদেশ রূপকল্প বাস্তবায়ন করতে স্মার্ট নাগরিক গড়ে তুলতে আমাদের দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। স্মার্ট নাগরিক ও স্মার্ট সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে শুধুমাত্র শিক্ষাব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত হলেই হবে না; শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে একটা নলেজ ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে হবে এবং আমাদের মনস্তাত্ত্বিক একটা পরিবর্তন আনতে হবে।

তিনি বলেন, শুধুমাত্র সনদমুখী বা উচ্চশিক্ষামুখী না হয়ে এবং ঢাকা কিংবা বিদেশমুখী না হয়ে দক্ষতানির্ভর ও কর্মমুখী মানবসম্পদ হিসেবে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে তৈরি করতে হবে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোনো বিলাসী পণ্য নয় উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী পলক বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা রোবটিকস এখন আর কোনো বিলাসী পণ্য নয়। রোবট এখন আমাদের নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় পণ্যে পরিণত হয়েছে। উন্নত বিশ্বে উৎপাদনমুখী কারখানায় শ্রমিকের পরিবর্তে রোবট ব্যবহৃত হচ্ছে। এমনকী তৈরি পোশাকখাতেও অনেক কাজে রোবট ব্যবহার করা হচ্ছে।

বাস্তবতা এটা দাঁড়িয়েছে যে, আমাদের গার্মেন্টস শ্রমিকদের যদি আমরা ‘আপস্কিলিং’ বা ‘রিস্কিলিং’ করে দক্ষতার উন্নয়ন করতে না পারি, তাহলে হয়ত কিছুদিন পর আমরা দেখবো রোবট এই শ্রমিক ভাইবোনদের যায়গা দখল করে নিয়েছে।

আমাদের মেন্টরিংয়ের ভূমিকা নিতে হবে উল্লেখ করে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশ রূপকল্পের সফল বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের দক্ষতা অর্জন করতে হবে। সেজন্য আমাদের প্রথাগত শিক্ষাপদ্ধতির পরিবর্তনের পাশাপাশি আমাদের শিক্ষকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

আমাদের শিক্ষকদের রোলটা শুধু শিক্ষকতা না হয়ে মেন্টরিংয়ের হতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী কারিকুলামের বাইরে কিছু শিখতে চাইলে তাকে সঠিক প্ল্যাটফর্ম দেখিয়ে দিতে হবে। দীক্ষা ও মুক্তপাঠের মতো এমন অনেক প্ল্যাটফর্ম আছে, আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে যুক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের একটাই লক্ষ্য, হতে হবে দক্ষ। আগামীর ইন্টেলিজেন্স যুগে আমাদের সফল হতে হলে দক্ষতা উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। সেজন্য আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে একটা ব্লেন্ডেড নলেজ ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে হবে।

;

এন মোহাম্মদ গ্রুপের ডিজিটাল ও সাইবার সিকিউরিটি সহযোগিতায় অ্যাকজেনটেক



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের অন্যতম ব্যবসায়িক শিল্পগোষ্ঠী এন মোহাম্মদ গ্রুপের ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবে স্মার্ট সলিউশন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাকজেনটেক পিএলসি। সম্প্রতি রবি আজিয়াটা লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যাকজেনটেক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী (সিইও) আদিল হোসেন নোবেল এবং এন. মোহাম্মদ গ্রুপের চেয়ারম্যান মনজুরুল হক এ সংক্রান্ত চুক্তিতে সই করেন।

চুক্তি অনুসারে, দেশের প্লাস্টিক শিল্পের অন্যতম প্রতিষ্ঠান এন মোহাম্মদ গ্রুপের ডিজিটাল কার্যক্রম গতিশীল করবে অ্যাকজেনটেক। এন মোহাম্মদ গ্রুপের ওরাকল ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ওসিআই) বাস্তবায়নে কাজ করবে অ্যাকজেনটেক, যা গ্রুপটির ওরাকল ইআরপি সিস্টেমকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে চালু রাখবে। এই সমন্বয়ের মাধ্যমে এন মোহাম্মদ গ্রুপের ব্যবসায়িক দক্ষতা, নির্ভরযোগ্যতা, কার্যকারিতা ও সর্বোচ্চ মান বজায় রাখার বিষয়টি নিশ্চিত হবে।

ইআরপির জন্য ওসিআই ব্যবহারের পাশাপাশি এন মোহাম্মদ গ্রুপ নিজেদের ই-কমার্স এবং মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন পরিচালনার জন্য অ্যাকজেনটেকের রবি ক্লাউড ব্যবহার করছে। যা অনলাইনে গ্রুপটির প্রসার এবং স্থানীয় বাজারে ভোক্তাদের সাথে যোগাযোগের ডিজিটাল অভিজ্ঞতাকে বিস্তৃত করবে।

অ্যাকজেনটেক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী (সিইও) আদিল হোসেন নোবেল এ প্রসঙ্গে বলেন, “এন মোহাম্মদ গ্রুপের ডিজিটাল অবকাঠামো নিয়ে কাজ করতে পেরে আমরা আনন্দিত। ওরাকল ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও রবি ক্লাউডের মাধ্যমে আমাদের সমন্বিত ক্লাউড সলিউশন এন মোহাম্মদ গ্রুপকে বর্তমান ডিজিটাল সময়ে নিজেদের ব্যবসাকে আরো এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।”

;

গিগাবাইটের গেমিং মনিটর এখন বাংলাদেশে



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: গিগাবাইটের গেমিং মনিটর উন্মোচন

ছবি: গিগাবাইটের গেমিং মনিটর উন্মোচন

  • Font increase
  • Font Decrease

গেমিংয়ের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা আকর্ষণীয় ওলেড মনিটর বাংলাদেশের বাজারে নিয়ে এলো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কম্পিউটার ব্র্যান্ড গিগাবাইট। রোববার (১৪ জুলাই) রাজধানী একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এক পার্টনারমিট অনুষ্ঠানে এই মনিটর উন্মোচন করা হরে গিগাবাইট বাংলাদেশ। আয়োজনে গিগাবাইটের গেমিং ও বিনোদনের আরও বিস্তৃত পণ্যের সমাহারের সাথে পরিচিত হন পার্টনাররা।

এই মনিটর উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- গিগাবাইট এর পরিবেশক প্রতিষ্ঠান স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেডের ডিসট্রিবিউশন বিজনেস ডিরেক্টর জাফর আহমেদ, চ্যানেল সেলস ডিরেক্টর মুজাহিদ আলবেরুনী সুজন এবং গিগাবাইট কান্ট্রি হেড খাজা মো. আনাস খান।

এ সময় বাংলাদেশ সহ বিশ্ববাজারে গেমিং মনিটরের ক্ষেত্রে অপ্রতিদ্বন্দ্বী গিগাবাইট বলে জানিয়েছেন বক্তরা। দেশের বাজারেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে বলে জানান তাঁরা।

স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেডের ডিসট্রিবিউশন বিজনেস ডিরেক্টর জাফর আহমেদ বলেন-একসময় গিগাবাইট বলতে শুধু মানুষ মাদারবোর্ড ছিলো। এখন গিগাবাইট বলতে বুঝায় একটা ব্র্যান্ড পিসি। এ সময় সম্মানিত পার্টনারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

খাজা মো. আনাস খান বলেন-পৃথিবী এখন চলতেছে এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট) বেইজড। এই এইআইকে গুরুত্ব আমরা এআই বেইজড ল্যাপটপ বাজারে নিয়ে এসেছি। এর ধারাবিকতায় গেমিংয়ের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা আকর্ষণীয় ওলেড গেমিং মনিটর বাজারে নিয়ে এসেছি। নতুন নিয়ে আসা এই ওলেড সিরিজের গেমিং মনিটরটি এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের লাসভেগাসে অনুষ্ঠিত এসইএস (কনজ্যুমার ইলেকট্রনিকস শো) ২০২৪-এ উন্মোচন করা হয়। এখন থেকে বাংলাদেশের বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।

নতুন এই মনিটরে কি আছে:

২৭-৩৪ ইঞ্চির এই মনিটরগুলোয় রয়েছে ৩৬০ হার্জ রিফ্রেশ রেট, এর সাথে যুক্ত হয়েছে সর্বাধুনিক স্পেকিফিকেশন ও বিশেষ ট্যাকটিকাল ফিচার; যা ব্যবহারকারীর গেমিং ও মাল্টিটাস্কিংয়ের অভিজ্ঞতাকে নিয়ে যাবে অনন্য উচ্চতায়। এসইএস ২০২৪ অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণই ছিল সর্বাধুনিক ফিচার সমৃদ্ধ ৩২ ইঞ্চির অরাস এফও৩২ইউ২পি। বিশ্বের প্রথম ডিপি২.১ ইউএইচবিআর২০ ট্যাকটিকাল গেমিং মনিটর হিসেবে এতে ব্যবহার করা হয়েছে ৮০ জিবিপিএস (গিগাবাইট পার সেকেন্ড) ব্যান্ডউইথ। যা ডিসপ্লে স্ট্রিম কমপ্রেশন (ডিএসসি) ছাড়াই পূর্ববর্তী ডিপি১.৪ এইচবিআর৩ এর তুলনায় আড়াই গুণ বেশি ব্যান্ডউইথ-সম্পন্ন গেমিং অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে সক্ষম। এই মনিটরের ডিসপ্লে পোর্টে ডেইজি চেইন ব্যবহার করা যাবে, ফলে কোনোপ্রকার ক্যাবল ক্লাটার ছাড়াই মাল্টি-ডিসপ্লে কনফিগার করা হবে অনেক সহজ।

অরাসের গেমিং মনিটরগুলোয় বেশকিছু উদ্ভাবনী ও গেমিং-বান্ধব ট্যাকটিকাল ফিচার যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কুইক অ্যাক্সেস ফাংশনের জন্য নির্ধারিত শর্টকাট কী - ট্যাকটিকাল সুইচ। কম আলোতেও সমৃদ্ধ দেখার অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে রয়েছে নাইট ভিশন, যা পুরো স্ক্রিন ওভারএক্সপোজ না করেই অন্ধকার এলাকাকে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম। পাশাপাশি, ফার্স্ট-পারসন শ্যুটারদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা এর রেজ্যুলুশন সুইচ। দ্রুত গতির গেমিং অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে যা মাত্র এক ক্লিকেই ২৪ ইঞ্চিকে ১০৮০ পিক্সেলে রূপান্তর করতে সক্ষম।

একইসাথে, এআই-নির্ভর সমাধান গিগাবাইট ওলেড কেয়ার নিয়ে এসেছে গিগাবাইট। ফলে, এখন ইমেজ জমিয়ে রাখার দুশ্চিন্তা কমে আসা এবং নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘস্থায়ী স্বয়ংক্রিয় প্যানেল-প্রোটেকটিং ফিচার যুক্ত করা আরও সহজ হবে। বিশেষকরে, স্ক্রিন ব্যবহারের ধরন নিরবচ্ছিন্নভাবে শনাক্ত করতে পারে গিগাবাইট ওলেড, যা নিজেকে নিয়মিত ও স্বাধীনভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে সক্ষম। ফলে, এখানে ব্যবহারকারীর ম্যানুয়েল কোনো কাজ থাকছে না।

মোশনের ক্ষেত্রে অতুলনীয় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং মোশন ব্লার ও ঘোস্টিং উল্লেখযোগ্যহারে কমিয়ে আনতে নতুন এই গেমিং মনিটরগুলোয় ব্যবহার করা হয়েছে সিএমআর১৩০০০-টায়ার কিউডি-ওলেড প্যানেল। ব্যবহারকারীর স্ক্রিন দেখার ক্ষেত্রে একদম স্বচ্ছ ও ঝকঝকে অনুভূতি নিশ্চিত করবে এর ১,৫০০,০০০:১ কনট্রাস্ট রেশিও, ভেসা ডিসপ্লে এইচডিআর ট্রু ব্ল্যাক ৪০০ এবং ৯৯ শতাংশ ডিসিআই-পি৩ এর আলট্রা-ওয়াইড কালার গেমাট। এর উচ্চ রিফ্রেশ রেট ও বিদ্যুৎগতিসম্পন্ন ০.০৩ এমএস জিটিজি রেসপন্স টাইম গেমিংয়ের অভিজ্ঞতাকে করবে আরও নিখুঁত ও দুর্দান্ত।

অনবদ্য এই এফও৩২ইউ২পি-এর মতোই আরেকটি মনিটর হচ্ছে এফও৩২ইউ২; এতে এইচডিএমআই ২.১ এফআরএল ১২জি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। আরেকটি হচ্ছে এফও২৭কিউ৩, যেখানে সমৃদ্ধ দেখার অভিজ্ঞতা নিশ্চিতে ৩৬০ হার্জ রিফ্রেশ রেট ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যবহারকারীর জন্য অনবদ্য অভিজ্ঞতা নিশ্চিতে এবং গেমিং ও মাল্টিটাস্কিংয়ের অনন্য চাহিদা পূরণ করতে আলট্রা-ওয়াইড কার্ভড মনিটর এমও৩৪ডব্লিউকিউসি ও এমও৩৪ডব্লিউকিউসি২ নিয়ে আসা হয়েছে।

;

আজ সারাদেশে থাকতে পারে ইন্টারনেটে ধীরগতি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
আজ সারাদেশে ১২ ঘণ্টা থাকতে পারে ইন্টারনেটে ধীরগতি

আজ সারাদেশে ১২ ঘণ্টা থাকতে পারে ইন্টারনেটে ধীরগতি

  • Font increase
  • Font Decrease

সাবমেরিন ক্যাবল রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য আজ শনিবার (১৩ জুলাই) সারাদেশে ১২ ঘণ্টা ধীরগতিতে থাকতে পারে ইন্টারনেট। এদিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ইন্টারনেটের নিরবিচ্ছিন্ন সেবা ব্যাহত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। 

শুক্রবার (১২ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস কোম্পানি লিমিটেড পিএলসি (বিএসসিপিএলসি) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে বলা হয়, সাবমেরিন ক্যাবল (সিমিইউ-৪) সিস্টেমের সিঙ্গাপুর প্রান্তে কনসোর্টিয়াম কর্তৃক গৃহীত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করার জন্য ১৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রায় ১২ ঘণ্টা এ ক্যাবলের মাধ্যমে সংযুক্ত সার্কিটগুলো আংশিক বন্ধ থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এ কারণে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হতে পারে। সাময়িক এ অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বিএসসিপিএলসি।

তবে কুয়াকাটায় স্থাপিত দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন (সিমিউই-৫) ক্যাবলের মাধ্যমে সংযুক্ত সার্কিটগুলো যথারীতি চালু থাকবে।

;