জিপির ১০ কোটি মিনিটের পর রবির ১৩ কোটি মিনিট ফ্রি ঘোষণা

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনার স্পেশাল অফার হিসেবে গ্রাহকদেরকে ১০ কোটি মিনিট ভয়েস কল মিনিট ফ্রি দেওয়ার ঘোষণার মাত্র দু’দিনের মাথায় রবি ১৩ কোটি মিনিট ফ্রি অফার নিয়ে হাজির হয়েছে।

গত শুক্রবার (৮ মে) আও কয়েকটি অফারের সঙ্গে সঙ্গে গ্রামীণফোন এক কোটি গ্রাহকের জন্যে ১০ কোটি মিনিট করে ফ্রি দেওয়ার ঘোষণা দেয়। আর রোববার (১০ মে) রবি তাদের এক কোটি ৩০ লাখ গ্রাহকের জন্যে নিয়ে আসে ১৩ মিনিট ফ্রি অফার।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের হিসেব বলছে, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে গ্রামীণফোনের কার্যকর সংযোগ ছিল সাত কোটি ৬৮ লাখ, আর রবি’র সংযোগ আছে চার কোটি ৯০ লাখে।

এদিকে ছোট অপারেটররা অভিযোগ করেছেন, বছরের প্রথম প্রান্তিকে গ্রামীণফোন এক শতাংশ মার্কেট শেয়ার হারিয়েছে। এ সময় তাদের গ্রাহক অনেকটাই কমে গেছে। আর সেটি ফিরে পেতেই তারা প্রাইস ওয়ারের মতো কৌশল নিয়ে থাকতে পারে।

ফ্রি ভয়েস কল অফারের সঙ্গে সঙ্গে রবি আবার ৫০ এমবি করে ডেটা ফ্রি দেওয়ার ঘোষণাও তাদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে দিয়েছে।

তিন দিন মেয়াদের অফারটি গ্রহণ করতে গ্রাহককে ডায়াল করতে হবে *212*10# নম্বরে। অথবা রবি’র My Robi অ্যাপ থেকেও অফারটি গ্রহণ করা যাবে।

‘ঘরে থাকুন, নিরাপদে থাকুন। আপনার পাশে আছে রবি’ এই স্লোগান যুক্ত অফারটি একজন গ্রাহক কেবল একবারই উপভোগ করতে পারবেন বলেও ঘোষণায় উল্লেখ করা আছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পারস্পরিক এই ঘোষণার মাধ্যমে আসলে দেশের টেলিকম খাতে আরেকটা প্রাইস ওয়ার শুরু হয়ে গেল। তারা বলছেন, ডেটার ক্ষেত্রে কোনো বাধা না থাকলেও ভয়েস কল ফ্রি দেওয়ার বিধান নেই। তারপরও কীভাবে এটি করা হচ্ছে সে বিষয়ে জবাব নেই খোদ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছেও।

বিটিআরসির কেউ কেউ বলছেন, করোনার প্রাথমিক পর্যায়ে রবিসহ আরও কয়েকটি অপারেটর ফ্রি ডেটা এবং ভয়েস কল মিনিট দেওয়ার প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু বিটিআরসি সেটি আমলে নেয়নি।
আর শুক্রবার গ্রামীণফোন ঘোষণাটি দেওয়ার পর রবি এবং বাংলালিংক আপত্তি জানালে টেলিকম মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার তাদেরকে জানান, চাইলে তারাও একই অফার দিতে পারে। এখন আইন-বিধির চেয়েও মানুষের প্রয়োজনকে বড় করে দেখতে হবে বলেও জানানা জব্বার।

মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই রবি তাদের অফারটি নিয়ে হাজির হয় বলে জানা গেছে।
এর মধ্যে এপ্রিলের শেষ দিকে দেশের প্রায় এক কোটি মোবাইল নম্বরে কোনো ব্যালেন্স ছিল না বলেও অনেক অপারেটর ঘোষণা দেয়।

মূলত করোনা পরিস্থিতিতে রিটেইলার এবং ডিস্ট্রিবিউটররা কাজ না করতে পারার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ফলে গ্রাহক বাঁচিয়ে রাখতেও অপারেটরদেরকে কিছু একটা করতেই হতো।

আপনার মতামত লিখুন :