প্রশান্ত পশ্চিম



মাহমুদ হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

পর্ব-৫

আলাস্কা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ওয়ান ফোর সিক্স ওয়ান যথাসময়ে এসে দাঁড়ানোয় বোর্ডিং শুরু হয়েছে। আসন নম্বরের সিরিয়াল মেনে ডাকা হচ্ছে। আমাদের আসন বিজনেস ক্লাসের পেছনের সারিতেই। তুসুর আসন পড়েছে পিছনে। স্লিমদেহী এয়ারবাস থ্রি টু জিরোর দু’দিকের জানালাঘেঁষে তিনটি করে আসন, মাঝখান দিয়ে চলাচল। বিমানে উঠে দেখি আমাদের সারির আয়েল আসনে আসন নিয়েছে জলির চোখের যম ‘ওগো বিদেশিনী’। এয়ারক্রাফট স্লিমদেহী হলে আসনগুলো কোসাদা। ইস্তাম্বুল-সানফ্রানসিস্কো ফ্লাইটে ভাগ্যক্রমে জলি স্বামীকে সুরক্ষিত করতে পারলেও এখানে তা অসম্ভব। কারণ আমাদের আগেই নিজ আসনে আসন গেড়েছে। জলি আজকের মনোরম বিকালটি পাখির চোখে পাহাড় বন বনানী আর সমুদ্র দেখতে চায়। চোখে তেরচা নজর জারি রেখে মাঝের আসনটি আমাকে ছেড়ে দেয়। নিজে জানালার কাছে গিয়ে বসে। শেষ ফ্লাইটের এ কাণ্ডে আমি এই ভরশ্রাবণে কবি নজরুলকে স্মরণ করি- ‘পরাণ প্রিয়….কেন এলে অবেলায়’। 

আমাদের সাময়িক শয়নকক্ষ

‘ওগো বিদেশিনী’র বয়স বোঝার উপায় নেই। এয়ারক্রাফটের মতোই চিকনদেহী। চেহারার কমনীয়তা কবেই উধাও, আহামরি দর্শনধারীও নয়। এটাই জলির সান্ত্বনা। সামনের আসনলগ্ন সকেটে চার্জার ঢুকিয়ে আইপ্যাডে মগ্ন সে। আসন নেওয়ার সময় ‘এক্সিউজিম মি’ বললে শুধু ‘ওহ সিওর’ বলে উঠে দাঁড়িয়েছে। মোবাইল চার্জ করতে কোন সকেটে চার্জার ঢুকাবো এ নিয়ে আমার দোনোমোনো দেখে ‘ইউ ক্যান পুট ইট অন টপ অফ মি’ বলে আমাকে ভড়কে দিয়েছে। পরে বুঝতে পারি প্যানেলের দুটি সকেটের নিচেরটিতে সে চার্জ দিচ্ছে, আমাকে ওপরেরটিতে চার্জার লাগাতে বলছে। আমাদের মধ্যে কথা ওই দুই বাক্যই। আর কোন কথা নেই। আসনসঙ্গীর সঙ্গে সচরাচর আলাপ জমাতেই পছন্দ করি আমি। কোন নারী সঙ্গে থাকলে কোন নারী আর তার সঙ্গে আলাপ জমাতে চায়! সে আলাপ বৃথা। আমি বামপাশে নিজ নারী, ডানপাশে পরনারীর মাঝখানে চিড়ে চ্যাপ্টা হচ্ছি। থিতু হয়ে জুস কফি খাওয়ার মধ্যেই ল্যান্ডিংয়ের জন্য নিচে নামতে শুরু করেছে বিমান।

শ্যাম্পু, কন্ডিশনার সম্ভার

ঘণ্টা দুয়েকের উড়ালশেষে সিয়াটল তাকোমা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে নেমে আমি দ্রুত এক্সিটের দিকে হাঁটা শুরু দিই। জলি ও তুসুকে দ্রুত পা চালাতে বলি। কাস্টমস ইমিগ্রেশনের ঝামেলা আগেই গুজার গিয়া। বিমানের ভেতরে থাকতেই আলাস্কা এয়ারের কোকিলকণ্ঠি বলে দিয়েছে- থ্রি ফোর সিক্স ওয়ানের লাগেজ পাওয়া যাবে ১৫ ও ১৬ নম্বর বেল্টে। বেল্ট পর্যন্ত পৌঁছাতে পৌঁছাতেই লাগেজ এসে হাজির। সেগুলো নামিয়ে এক জায়গায় জড়ো করে আমি মোবাইলে রোমিং নম্বরটি সচল করি। সিয়াটলে আমাদের মেজবান মি. পল কে বার্তা দিই-‘ উই হ্যাভ এ্যারাইভড’। পরক্ষণেই ফিরতি বার্তা পাই ‘আই এ্যাম ড্রাইভিং, জাস্ট ফাইভ মিনিটস’। টেনশনপ্রিয় মন আমার প্রশান্ত উপকূলের এয়ারপোর্টে দাঁড়িয়ে শান্ত থাকে।

আজকাল ভ্রামণিকদের জন্য হোটেলের ঘড়িবাঁধা জীবন ছাড়াও এয়ার বিএনবি, কাউচ সার্ফিংয়ের মতো অ্যাপসভিত্তিক ব্যবস্থা বিদেশে বসবাসের নানারকম বন্দোবস্ত করেছে। তাতে দিন মাস ক্ষণ সময় বেঁধে থাকা যায়। হোস্টগণ এয়ারপোর্ট থেকে নবাগত ভ্রামণিককে রিসিভও করে থাকেন। আমাদের সম্পর্ক ভিন্নধর্মী, ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে’র মতো। সময়কেন্দ্রিক বাঁধাধরা নিয়ম সেখানে অচল। এসেছো যখন এ নগরে, থাকো যতোদিন ইচ্ছে- গোছের।  কিছুক্ষণ পরই মি. পলের উদয়। দীর্ঘ সম্পর্কের সূত্রধরে বিমানবন্দরের অগুণতি মানুষের ভিড়ের মধ্যেই অনায়াসে চিনতে পারি আমরা। কিছু সময় কাটে শুভেচ্ছা বিনিময়ে, আবেগমথিত মানবীয়বোধে। 

বাথরুম টয়লেট্রিজ

লাগেজসহ পলের সঙ্গে চৌদ্দ নম্বর এক্সিট দিয়ে বের হয়ে ড্রাইভওয়ের বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াই। পলের বন্ধু সিনা ও রকিও এসেছে আমাদের রিসিভে সহায়তা করতে।পার্কিংয়ে গাড়ি রেখে এয়ারপোর্টের ভেতরে এসেছে সে আমাদের অভ্যর্থনায়। তার বন্ধুরা বাইরে চক্কর দিচ্ছিলো,, ফোন পেয়ে বিশালবপু গাড়ি নিয়ে হাজির চোখের পলকে। শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর সিনা-রকির গাড়ির পেছনে ছোট বড় নয়টি লাগেজ তোলা হয়। রকি আর পলই ধরাধরি করে লাগেজগুলো তোলে, আমাদের হাত লাগাতে হয়নি। ভাবটা এমন যে, সব ভার, চাপ আমাদের ওপর ছেড়ে দিন। বিশালবপু গাড়ি আপত্তি ছাড়াই ঢাউস লাগেজগুলো পেটে ভরে নেয় পরম যত্নে। সঙ্গের হাতব্যাগগুলো নিয়ে আমরা পলের সঙ্গে পার্কিংলটের দিকে হেঁটে চলি। অপেক্ষমান তার ব্রান্ডনিউ হুন্ডা। বাড়িতে স্বাগত জানাতে অপেক্ষমান গৃহবন্ধু মিসেস জেরিন। এ নগরে দম্পতির প্রার্থিত মেহমান আমরা। বিমানবন্দর থেকে ট্যাক্সি-উবার আমাদের জন্য নয়, সিয়াটলে পৌঁছেই  পেতে শুরু করি রাজকীয় আতিথ্য।

তাকোমা থেকে সিয়াটল ডাউনটাউনকে বাইপাস করা ফ্রিওয়ে ফোর ও ফাইভ ধরে ড্রাইভ করে পল ১৮ নম্বর এক্সিট নেয়। আগে জানি তার বাসা স্নোহোমিশ কাউন্টির লিনউড নেইবারহুডে। পৌনে একঘণ্টর ড্রাইভে বাসায় পৌঁছে দেখি সিনা-রকি দম্পতি লাগেজ নামিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ল্যান্ডিংয়ের সময় আকাশ মেঘলা দেখেছি। আসার সময় গাড়ির গ্লাসেও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির ফোঁটা পড়তে দেখেছি। লিনউডে সেই গুঁড়ি একটু বড় ও ঘন হয়েছে। ভাবি, প্রশান্ত মহাসাগরসংলগ্ন ওয়াশিংটন স্টেটের সিয়াটল শহরে বৃষ্টিপ্রবণ বলে শুনেছি, আজ সেই বৃষ্টি কি আমাদের স্বাগত জানাতে এলো?

লেখার টেবিল

ভ্রমণক্লান্ত শরীরকে বিশ্রামের সুযোগ দিয়ে বৃষ্টির মধ্যে সিনা ও রকি আর অপেক্ষা করলো না। ডুপ্লেক্স বাড়ির গ্যারেজটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে গাড়ি পার্ক করে পল। লাগেজগুলো প্রশস্ত গ্যারেজে ঢুকিয়ে বামপাশে দরজা দিয়ে আমরা তার সঙ্গে বাড়িতে ঢুকি। নিচতলায় কাউকেই দেখতে পাই না। কয়েক মিনিটের মধ্যে দোতলা থেকে ত্রস্তপায়ে হৈ হুল্লোড় করতে করতে সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসে গৃহকর্ত্রী জেরিন। জলিকে জরিয়ে ধরে। পল, তুসু আর আমি থ’ হয়ে যাই। যেন এ আবেগ জন্মজন্মান্তেরের সম্পর্কের।

ভ্রমণক্লান্ত শরীর, বাইরের বৃষ্টি আর রাতের আঁধারের কারণে মার্কিন মুলুকের এই অচেনা শহরে আমাদের নয়া অতিথিশালাটি পুরো দেখতে পারি না। ভ্রমণঘোরের মধ্যেই টেবিলে পরিবেশিত পাঁচপদের তরকারি দিয়ে রাতের খাবার খাই। গৃহকর্ত্রী জেরিন জলি আমার শয়ন কক্ষটি দেখিয়ে দেয়। দোতলার শয়ন কক্ষ আর বাথরুম দেখে আমাদের আশ্চর্য হওয়ার পালা। পেশাগত জীবনে পাঁচতারকা মানের হোটেল স্যুটের অতিথি হয়েছি অগুণতিবার। কিন্তু এই প্রশস্ত নতুন খাট, মোটা গদির পরিপাটি শুভ্র বিছানা, দুই আসনের সোফা, জানালা লাগোয়া রিডিং টেবিল, সবুজরঙা ভেলভেটে মোড়ানো চেয়ার, রিডিং লাইট, দেয়ালঘড়ি, এ্যালার্ম ক্লক, সবুজ ইনডোর প্ল্যান্ট, বড়সড় ক্লজেটে গোটা বিশেক হ্যাঙ্গার, লাইফসাইজ মিরর, খাটের দুই পাশে সাইডটেবিলে নতুন থার্মোফ্লাস্কে খাবার পানি, সবার জন্য আলাদা আলাদা ছোট ও বড় তোয়ালে, বাথরুমে সোপ, শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, স্ক্রাব, ফেসওয়াস, লোশন, মাউথওয়াশ, সেন্ট, বডিস্প্রে, শেভিং ক্রিম, হ্যান্ডওয়াশের বিপুল সম্ভার কোন পাঁচতারকায় মেলে? উপর্যুপরি এখানে নেই ঘড়ি ধরে চেক ইন চেক আউটের তাড়া।

পল-জেরিনের অতিথিসেবার বিপুল আয়োজন দেখে আমাদের চোখে পানি চলে আসে। মেজবান দম্পতির বাড়ি ও মেহমানদারির আরও এন্তেজাম আগামীকালের জন্য তুলে রাখি। পঞ্চাশঘণ্টার পরিভ্রমণক্লান্ত শরীর এলিয়ে দেই কোমল বিছানায়।

বাংলাদেশি পর্যটক আকর্ষণে ঢাকায় ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার রোড শো



তৌফিক হাসান, কন্ট্রিবিউটিং এডিটর-ট্রাভেল এন্ড ট্যুর, বার্তা২৪.কম
বাংলাদেশি পর্যটক আকর্ষণে ঢাকায় ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার রোড শো

বাংলাদেশি পর্যটক আকর্ষণে ঢাকায় ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার রোড শো

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনাভাইরাসের প্রভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর  চলতি বছরের ১ এপ্রিল সীমান্ত খুলে দেয় মালয়েশিয়া। মূলত ওইদিন থেকে দেশটিতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। এর ফলে ফের পর্যটক টানতে নানা উদ্যোগ নেয় মালয়েশিয়া। এর অংশ হিসেবে দেশটির পর্যটন উন্নয়ন সংস্থা ‘ট্যুরিজম মালয়েশিয়া’ ২ থেকে ৭  জুন বাংলাদেশের  গুরুত্বপূর্ণ শহর ঢাকা এবং চট্রগ্রামে প্রথমবারের মতো রোডশো’র আয়োজন করছে।

ঢাকায় রোববার (৫ জুন) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে বাংলাদেশি ট্রাভেল এজেন্ট ও ট্যুর অপারেটরদের জন্য  রোডশো’র আয়োজন করে মালয়েশিয়া পর্যটন উন্নয়ন বোর্ড- ট্যুরিজম মালয়েশিয়া।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার হাজনা এমডি. হাশিম, ট্যুর অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (টোয়াব)-এর নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট শিবলুল আজম কোরেশী সহ স্বনামধন্য সকল ট্রাভেল এজেন্ট এবং ট্যুর অপারেটররের শীর্ষকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার সিনিয়র পরিচালক সৈয়দ ইয়াহিয়া সৈয়দ ওথমান এবং ‘দ্য বাংলাদেশ মনিটর’র সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুর আলম।

এদিকে রোডে শো উপলক্ষে ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার সিনিয়র পরিচালক (কৌশলগত পরিকল্পনা বিভাগ) সৈয়দ ইয়াহিয়া সৈয়দ ওথমান এর নেতৃত্বে একটি মালয়েশীয় প্রতিনিধি দল বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভূক্ত রয়েছে মালয়েশিয়ার ৫টি ট্রাভেল এজেন্সি এবং দুটি স্বাস্থ্যশিল্প সংস্থার প্রতিনিধিরাও।

বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার হাজনা এমডি. হাশিম বক্তব্য রাখছেন

অনুষ্ঠানে রোড শো’র আয়োজন প্রসঙ্গে বক্তরা জানান, মালয়েশিয়া ভ্রমণে বাংলাদেশিদের মধ্যে আস্থার সঞ্চার করার সাথে সাথে এই রোডশো’র লক্ষ্য হলো ভ্রমণ ও পর্যটন শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম প্রদান করা যার মাধ্যমে তারা পর্যটনকে পূর্বাবস্থায় বা আরো ভালো অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে।

সৈয়দ ইয়াহিয়া সৈয়দ ওথমান বলেন, বাংলাদেশে ফিরে আসার এটি একটি দারুণ সময় এবং রোডশো আয়োজনের জন্য যথার্থ। বাংলাদেশে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পুনরায় শুরু এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্য মালয়েশিয়ার সীমান্ত উন্মুক্তকরণ বলতে গেলে একই সময়ে সংঘঠিত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশি পর্যটকদের মালয়েশিয়ায় স্বাগত জানানোর সূযোগ পেয়ে আমরা সত্যিই রোমাঞ্চিত। পর্যটকরা এখন মালয়েশিয়ার শ্রেষ্ঠ এবং সর্বশেষ রোমাঞ্চকর আকর্ষণগুলো সাশ্রয়ী খরচে উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন। দীর্ঘ দুবছর পর পর্যটকরা এখন অনেক কিছুই এক্সপ্লোর করতে পারবেন যার মধ্যে রয়েছে সম্প্রতি চালু হওয়া আউটডোর থিমপার্ক, গেন্টিং স্কাইওয়ার্ল্ড, কুয়ালালামপূরে নতুন সাজে সজ্জিত সানওয়ে রিসোর্ট এবং জাকজমকপূর্ণ নতুন আকর্ষণ বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উঁচু অট্টালিকা ‘মারদেকা ১১৮’। অনিন্দ্য সুন্দর সমূদ্রতট, চিত্তাকর্ষক পর্বতমালা ও বনোরাজিসহ বিভিন্ন আনন্দদায়ক ও রোমাঞ্চকর কর্মকান্ড আপনার ভ্রমণকে স্মরণীয় করে রাখবে।

উল্লেখ্য, বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যার হিসেবে মালয়েশিয়ার তালিকায় বাংলাদেশের স্থান প্রথম দিকে। ২০১৯ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১ লাখ ৮৯ হাজারের বেশি বাংলাদেশি মালয়েশিয়া ভ্রমণ করেছেন; যা মোট সংখ্যার ১৯.৩০ শতাংশেরও বেশি। চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে পূর্ণ কোর্স কোভিড টিকাপ্রাপ্ত বিদেশিদের জন্য মালয়েশিয়া ভ্রমণে কোন কোয়ারেন্টাইনের প্রয়োজন নেই। আসার আগে ও যাওয়ার পর  পর্যটকদের কোভিড-১৯ পরীক্ষা লাগবে না। ১৭ বছর বা তার নিচের বয়সী শিশুদের জন্যও করোনা পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। বর্তমানে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স, বাটিক এয়ার এবং এয়ার এশিয়া ঢাকা এবং মালয়েশিয়ার মধ্যে ভ্রমণের জন্য সপ্তাহে ৩ হাজার ৯১০ টির বেশি আসন অফার করছে।

;

ফের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে মালয়েশিয়া



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ফের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে মালয়েশিয়া

ফের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে মালয়েশিয়া

  • Font increase
  • Font Decrease

দুই বছর পর পুরোদমে ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করার ঘোষণা দিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি ইসমাইল সাবরি ইয়াকোব। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ১ এপ্রিল থেকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য সীমানা সম্পূর্ণরূপে খুলে দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, দর্শনার্থীদের পাশাপাশি মালয়েশিয়া থেকে ফেরত আসা কর্মী যারা দুই ডোজ বা বুস্টার ডোজ গ্রহণ করেছেন তারা খুব সহজেই মালয়েশিয়ায় ঢুকতে পারবেন। তাদের কোয়ারেনটিনে থাকার প্রয়োজন নেই। তবে তাদের অবশ্যই যাত্রার দুই দিন আগে একটি আরটি-পিসিআর পরীক্ষা এবং পৌঁছানোর পরে একটি দ্রুত পরীক্ষা (আরটিকে) করতে হবে।

করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালের মার্চ থেকে পর্যটনসহ সব ধরনের ভিসার কার্যক্রম বন্ধ করে দেশের সীমানা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিয়েছিল দেশটির সরকার। মালয়েশিয়ার প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৯৮ শতাংশকে দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে এবং অর্ধেকেরও বেশি বুস্টার ডোজ পেয়েছেন।

;

করোনা টেস্ট ছাড়াই ভ্রমণ করা যাবে মালদ্বীপ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
করোনা টেস্ট ছাড়াই ভ্রমণ করা যাবে মালদ্বীপ

করোনা টেস্ট ছাড়াই ভ্রমণ করা যাবে মালদ্বীপ

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনার টিকার দুই ডোজ সম্পন্ন করলেই যাওয়া যাবে মালদ্বীপ। বিশ্বের যেকোনো দেশের পর্যটকরাই এ সুযোগ নিতে পারবে।

সম্প্রতি মালদ্বীপের পর্যটন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে, যা গত শনিবার থেকে কার্যকর হয়।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়, কোনো যাত্রী যদি করোনা প্রতিরোধ টিকার পূর্ণাঙ্গ ডোজ (বুস্টার ডোজ প্রয়োজন নেই) নিয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে ৫ মার্চ থেকে সেসব যাত্রীর মালদ্বীপ ভ্রমণের আগে আরটি-পিসিআর টেস্টের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করা হলো। সূত্র: লয়ালটিলবি ডটকম

;

সাদা পানির ঝর্ণা



তৌফিক হাসান
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

অন্ধকার থাকতেই ভোর ৫টা নাগাদ হোটেল ছেড়ে নৌকা ঘাট পৌঁছে গেলাম। ভোরের আলো সবে ফুটতে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই কিছু জেলে নৌকা নিয়ে নেমে গেছে কাপ্তাই লেকের জলে জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে। আজকের যাত্রা সাদা পানির ঝর্ণা তথা ধুপপানির উদ্দেশ্যে। রাঙমাটির বিলাইছড়ি ঘাট থেকে সকাল সাড়ে ৫টা নাগাদ আমাদের বোট ছাড়ল উলুছড়ির উদ্দেশ্যে, সেখান থেকেই শুরু হবে ঝর্ণার উদ্দেশ্যে মূল ট্রেকিং। লোকালয়ের পাশ দিয়েই এগিয়ে চলছে আমাদের বোট। স্থানীয়রা কেউ কেউ লেক ঘেষা রাস্তায় প্রাতঃভ্রমণ করছেন, কেউ কেউ কৌতুহলী দৃষ্টি আমাদের বোটের দিকে তাকিয়ে আছেন। এবারের যাত্রায় আমরা মোট ৯ জন যাচ্ছি। সবারই পাহাড়ে হাঁটার অল্প বিস্তর অভিজ্ঞতা আছে। ঢাকা থেকে সেন্টমার্টিন নন-এসি বাসে করে কাপ্তাই এসেছিলাম। কাপ্তাই ঘাট থেকে দুই দিনের জন্য ৫৫০০ টাকায় নৌকা ভাড়া নিয়ে আমরা রাঙ্গামাটির বিলাছড়িতে পৌঁছেছি। রাত্রিবাস হয়েছে ঘাট লাগোয়া স্মৃতিময় বোডিং-এ। কোনরকমে থাকা যায় সেরকম রুমের ভাড়া পড়েছে ১০০০ টাকা।

কাপ্তাই লেকের বুক চিরে আমাদের নৌকা এগিয়ে চলছে। বিগত কয়েকদিন বৃষ্টিজনিত পাহাড়িঢলের কারণে সব পলিমাটি এসে জমা হয়েছে সুন্দরি কাপ্তাইয়ের বুকে, তাই পানি একেবারে ঘোলা। সুন্দর পানিপথের মাঝে মাঝে জংলার মতন আবার কখনো বা নাম না জানা জলজ ফুল দেখতে পাচ্ছি। সামান্য যাবার পর বিলাইছড়ি আর্মি সদর দফতরের নৌ-চেক পোস্ট পড়লো সেখানে যথাযথ পরিচয় লিপিবন্ধ করেই আবার সচল হলো আমাদের নৌকার ইঞ্জিন। নৌকা এবার নদী বা খালের মতো সরু পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। কি মনোরম এই পথ, সবুজে ঘেরা খাড়া পাহাড়কে পাশে রেখে চলছি। মাঝে মাঝে পাহাড়ের খাজে শুভ্র মেঘকে আটকে থাকতে দেখছি যেন সবুজ পাহাড় তার শুভ্রতায় ভরা প্রেয়সীকে বুকে জড়িয়ে রেখেছে। আমরা কেউ কোনো কথা বলছিনা, অবারিত সৌন্দর্যে অবগাহন করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছি।

কাদা মাটি মাড়িয়ে ঝর্ণার উদ্দেশ্যে মূল ট্রেকিং শুরু

এক পর্যায়ে আমরা আলীক্ষিয়াং নামক একটা স্থানে দাঁড়িয়ে নাস্তা সেরে নিলাম। এখানে খুব কম সংখ্যক পরিবারই বাস করে যার মধ্যে মাত্র ৩টি পরিবার আছে বাঙালি। লাল মিয়া নামে এক বাঙালির হোটেলে ঝটপট নাস্তা করেই যাত্রা শুরু হলো। মিনিট ৫/৭ পরেই আবার দাঁড়াতে হলো আরেকটা আর্মি চেক পোস্টে, যথারীতি পরিচয় লিপিবদ্ধ করার পালা। এবারে চেক পোস্ট থেকে আমাদের সতর্ক করা হলো ফিরতি পথে বিকেল ৫টার মধ্যেই এই চেকপোস্ট পার হতে হবে। চেকপোস্ট পেরিয়ে সুন্দর নদীপথ ধরে যেতে যেতে মোটামুটি আড়াই ঘণ্টায় উলুছড়ি পৌঁছে গেলাম। ঘাট থেকে ৫০০ টাকার বিনিময়ে এক ক্ষুদে গাইড বিচ্ছুকে সাথে নিয়ে শুরু হলো মূল ট্রেকিং। যাত্রা শুরুর পূর্বে মাঝির মাধ্যমে দুপুরের খাবার ব্যবস্থা করে গেলাম স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়িতে, কারণ এখানে কোন খাবারের দোকান নেই। ২০০ টাকায় আমাদের ভাত, মুরগি, আলু ভর্তা আর ডাল খাওয়ার ব্যবস্থা হলো।

যাইহোক ট্রেকিং এর শুরুতেই পথটা বেশ খারাপ। খানিকটা পথ বেশ পিচ্ছিল, গ্রিপ পেতে বেশ সমস্যা হচ্ছিল। আর বেশ খানিকটা পথ ভয়াবহ কর্দমাক্ত, মোটামুটি হাঁটুর সমান কাঁদা। এ ধরনের রাস্তার আলাদা একটা মজা আছে, আমরা পাহাড়ে আসি রোমাঞ্চের খোঁজে আর এরকম পথ, নালা, জংগল, চড়াই-উতরাই ও ঝর্না দেয় ভীষণ রকম আনন্দ। ধুপপানিতে বর্ষার শেষ দিকে যাওয়াই উত্তম বিধায় আমরা সেপ্টেম্বর মাসে যাচ্ছি এই পথে। অন্য সময় গেলে হয়তো অন্যরকম সৌন্দর্য দেখতে পাবো কিন্তু ঝর্ণায় বেশি পানি পেতে হলে এর থেকে দেরিতে যাওয়া ঠিক হবে না।

অবারিত সৌন্দর্যে অবগাহন করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছি

 

ট্রেকিং শুরুর খানিক পরেই একটা ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গ্রাম পড়ল, চারিদিকে পাহাড় মাঝখানে সমতল আর সেখানে ধান পেকে সোনালি রঙ ধারন করে আছে। কি সেই সৌন্দর্য, সবুজের মাঝে খানিকটা সোনালি আভা একেবারে চিরায়ত বাংলার রূপ। গ্রামবাসীরা তাদের উৎপাদিত ফল বিক্রি করছিল আমরা সেখান থেকে দেশি লাল পেয়ারা আর পেঁপে কিনে খেয়ে হাঁটা দিলাম।

এরপর প্রথমে একটা সিড়ি তারপর খাঁড়া তিনটে পাহাড় ডিঙিয়ে বেশ হাঁপিয়ে গিয়ে বিশ্রাম নেবো বলে চিন্তা করতেই দূরে তাকিয়ে দেখি দুটো শিশু কি যেন বিক্রি করছে! ওদের কাছে গিয়ে দেখি কলার ছড়ি ঝুলিয়ে রেখেছে, প্রতি পিস ৫ টাকা। অতঃপর বেশকিছু কলার সুব্যবস্থা করে সেখানে খানিকক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার যাত্রা শুরু হলো আমাদের। আরও কিছুদূর গিয়ে ধুপপানি গ্রামে পৌঁছে দেখি টেবিল পেতে রীতিমতো দোকান সাজিয়ে বসে আছে, জুস পানি চিপস শসা আর ফল-মূল কি নেই সেখানে! আবারও পেয়ারা কিনে নিয়ে যাত্রা শুরু হলো আমাদের।

সাদা পানির ঝর্ণা

হাচরে-পাচরে প্রায় আড়াই ঘণ্টা হেঁটে পৌঁছে গেলাম ধুপপানিতে। রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নে এর অবস্থান। খুব বেশিদিন হয়নি মানুষজন এই ঝর্ণার অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতে পেরেছে। কিছু বছর আগে এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী এই স্থানে ধ্যান করার কারণে নয়নাভিরাম এই ঝর্ণাটি মানুষের নজরে আসে। তঞ্চঙ্গ্যা শব্দে ধুপ অর্থ সাদা আর পানিকে পানিই বলা হয় অর্থাৎ ধুপানির অর্থ সাদা পানির ঝর্ণা ।

মূলত এই ঝর্ণার পানি স্বচ্ছ এবং যখন অনেক উঁচু (প্রায় ১৫০ মিটার) থেকে ঝর্ণার জল আছড়ে পড়ে তখন তা শুধু সাদাই দেখা যায়। তাই একে ধুপপানি ঝর্ণা বলা হয়। বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর ঝরনাগুলির মধ্যে অন্যতম এই ঝরনায় নিচের দিকে একটি গুহার মতন আছে। যা এই ঝরনাকে করেছে অনন্য।

;