প্রশান্ত পশ্চিম



মাহমুদ হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

পর্ব ৯

সকালে উঠে দেখি গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। পূবের জানালায় সূর্যের দেখা নেই। রাস্তায় গাড়িও নেই তেমন। যে বাড়িতে এসে উঠেছি, এর পূর্বদিকে উত্তর-দক্ষিণ লম্বা রাস্তা। রাস্তা ডিঙিয়ে পূর্বদিকে তাকালে কয়েকটি ডুপ্লেক্স বাড়ি। আমাদের দেশের বাংলো প্যাটার্নের । ছাদগুলো চারচালা। করোগেট টিনের বাড়ি স্টাইলের, ওপর থেকে নিচের দিকে নামানো। শীতকালে বরফ পড়ে বলে কোন ছাদই আমাদের মতো সমান নয়, চারচালা ঘরের মতো বাঁকানো। কোন স্থপতি আমেরিকানদের এই্ বাড়ি বানানো শিখিয়েছে আল্লাহ মালুম। বাড়ির কাঠামো ভিন্ন হলেও দেখতে প্রায় একই রকম । বিস্তীর্ণ সবুজের মধ্যে এসব সাদা, ছাই বা হাল্কা খয়েরি রঙের বাড়ি নজর কাড়ে বড়। শান্ত সকালে যতোদূর চোখ যায়, সবুজের মধ্যে বাড়িগুলো আমার চোখে প্রশান্তি দেয়  সিয়াটলে দ্বিতীয় দফা ভ্রমণের এই প্রথম সকালটিতে। 

পাহাড়, টিলা ও সবুজ বনানীময় লিনউইড এলাকাটিই দৃষ্টিনন্দন। এর পেছন দিয়ে চলে গেছে ফোর ও ফাইভ ফ্রি ওয়ে।  অদূরেই মিলেছে তা আই ফাইভে। এই আই ফাইভ বা ইন্টারস্টিট ফাইভ রাস্তাটি আমেরিকার সঙ্গে মেক্সিকো ও কানাডার মতো প্রতিবেশি  দেশকে যুক্ত করেছে। মেক্সিকো সীমান্তের চুলাভিস্তা থেকে শুরু হয়ে প্রশান্ত পশ্চিমের সব উপকূলীয় শহর ছুঁয়ে কানাডার ভ্যাঙ্কুভার গিয়ে পৌঁচেছে। পথে সান্দিয়েগো, লস এঞ্জেলেস, সানফ্রানসিস্কো, স্যাকরামান্টো, ইউজিন, পোর্টল্যান্ড, সিয়াটলকে ছুঁয়ে গেছে। একটা রাস্তা দিয়ে উত্তরে কানাডায় আর দক্ষিণে মেক্সিকোয় যাওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সড়ক নেটওয়ার্কের ঘনবন্ধনকে প্রমাণ করে।

পাকা ফল খাওয়ার লোক নেই

নিচে আসি। আস্তে আস্তে বাড়ির সবা্‌ই ওঠে। রসুইঘর থেকে শব্দ আসে: ‘ নো অনিয়ন, নিড অনিয়ন’ মানে বাড়িতে পিঁয়াজ নেই বলে। গৃহকর্তা গাড়ি বের করেন। গৃহকর্তা লা জওয়াব। বাড়িতে প্রার্থিত অতিথি। গুঁড়িবৃষ্টির সকালে আলস্য ভেঙে তাঁকে গাড়িতে বেরুতেই হয় বাজারে। বাজার বলতে চটের হাতে কাওরান বাজার বা মালিবাগ বাজার নয়, সুপার মার্কেট। এশিয়ার সঙ্গে পুঁজির প্রতাপশালী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফারাকটি চোখে লাগে। এশিয়ায় পথে ঘাটে দোকান বাজার। অনায়াস জীবনযাপনের জন্য যত্রতত্র থেকে রসদ সংগ্রহ চলে। এখানে ব্যাংকের ডেবিট ক্রেডিট কার্ড নিয়ে গাড়ি হাঁকিয়ে দৌড়াতে হবে চেইন সুপারশপে।

গৃহকর্তা বাড়ির সম্মুখভাগে গ্যারাজের অটোমেটেড দরজা মোবাইল টিপে খোলেন। আস্তাবল থেকে হোন্ডা নামের ঘোঁড়াটি বের করেন। আমাকে বাজারে যাওয়ার আহবান জানালে গাড়িতে উঠে বসি। বুদ্ধিবৃত্তিক জীবন ও আলু পটল কেনার আটপৌরে সাংসারিকজীবনের মধ্যে সমতাবিধানে বাজার করাকেই জীবনের সখ হিসাবে বেছে নিয়েছি। বাজারে যাওয়ার আহবানকে তাই লুফে নিই। গৃহকর্তার ঘোঁড়াটি মসৃণ সড়ক ধরে দৌড়াতে থাকে। আবিষ্কার করি, আমাদের হোস্টের বাড়িটি পাহাড়-টিলার ওপর এক চমৎকার লোকেশনে। বাড়িটির সামনে উত্তর দক্ষিণ লম্বা রাস্তার দু’দিক থেকে বের হয়ে আশপাশের শপিং ও রিক্রিয়েশন এরিয়াগুলোতে যাওয়া যায়। দুদিক দিয়েই গাড়িতে ৪/৫ মিনিটের দূরত্ব। বাড়ি থেকে বামে গেলে পাহাড়ি ঢালু রাস্তায় দু’দিকের নয়ানাভিরাম বাড়িগুলোকে গুডবাই জানিয়ে নেমে যেতে হয় লুকাস্টওয়েতে, তারপর ফিলবার্ট রোড নামের বনানীময় এক নেইবারহুডের সড়ক। ডানে গেলে সামান্য ঢালুতে নেমে ড্যামসন সড়ক হয়ে ওঠা যায় অন্য সড়কে।  জায়গাটি পকেট মতো হওয়ায়  নিরিবিলি, শান্ত ও চাপমুক্ত।

জানালা দিয়ে আনবাড়ি

গাড়িতে উঠে বুঝতে পারি মার্কিনীদের মতোই এখানে রাস্তা গাড়ির গতি আমাদের দ্বিগুনেরও বেশি। নেইবারহুডের রাস্তাতেই তা চলে কমপক্ষে ৭০ কিলোমিটার বেগে। বড় রাস্তায় গেলে কমবেশি ১৩০ কিলোমিটার বেগ পায় গাড়ির। মোদ্দাকথা, এরা নতুন গাড়ি ব্যবহার করে, রাস্তায় ব্রেক করার প্রয়োজন হয় না তাই এই খরগোশগতি। আমি সীটবেল্ট বেঁধে তৈরি হয়ে বসি।

এশিয়ান -বিশেষ করে মসলাদার খাদ্যরসিক অতিথি  এলে গৃহকর্তা আপামর মার্কিনীদের বাজারগন্তব্য ‘কস্টকো হোলসেল’য়ে যান না, চলে যান এশিয়ান মাছ মসলা শাকসব্জি পাওয়া যায় এমন সুপারশপে। সিয়াটলে জাপানী-কোরিয়ানরা এইচ মার্কেট, এশিয়ান মার্কেট নামে এশিয়ান খাদ্যসম্ভারে এন্তার সুপারশপ গড়ে তুলেছে। ভারতীয়রাও কম যায় না। এ নগরে ভারতীয় মসলা মাছের জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেছে ‘ময়ূরী’নামের সুপারশপ। এতে শুধু ভারত পাকিস্তান নয়-  বাংলাদেশের মাছ, মশলা, নাড়ু, চানাচুর সবই মেলে। বাসায় এখন যেহেতু পিঁয়াজ দরকার, গৃহকর্তা স্বগতোক্তিতে বললেন-‘ময়ূরীতেই আজ যাই’। 

গৃহকর্ত্রীর সখের গোলাপ

পৌঁছে দেখি এলাহী কাণ্ড। ইচ্ছে থাকলে এখানে হয়তো মুক্তাগাছার মন্ডা, কুমারখালীর দই আর কুমিল্লার রস মালাইও মেলানো যায়। পিঁয়াজ, বিস্কুট, বেগুনসহ কিছু সবজি চটজলদি কিনে নেন গৃহকর্তা। একই পথে ফিরে আসি।  এখানে একটু বেলা করে নাস্তা খাওয়ার চল। দিনে রাতে মেইন কোর্সটি এক বা দু’বার খাওয়া হয়। দিনমান চলে শুকনো খাবার, ফলমূল।আমরা ফিরে এসে নাস্তা খাই। বৃষ্টি ধরে এলেও আকাশ মেঘমুক্ত হতে চায় না। বৃষ্টি চলে গেলে সবাই ব্যাকইয়ার্ড বা গৃহঅন্দরে হাটাহাটি করে। এ বাড়ির ব্যাকইয়ার্ডটি একটু বেশিই বড়। আমাদের হিসাবে কমপক্ষে আটকাঠা আয়তনের। সবুজ ঘাসে ছাওয়া। একপাশে গৃহকর্ত্রী জেরিনের সখের গোলাপফুলের তিনটি টব। একপাশে বুনোফুলের ঝোঁপ। বড় একটা বৃক্ষও আছে ব্যাকাইয়ার্ডে।

কাঠের সীমানা প্রাচীরে ফলভারে নত ব্লবেরি

সীমানাদেয়ালের পিছন বা পশ্চিম দিকের বাগানে থোকায় থোকায় ব্লবেরি ঝুলছে। তার শাখা বিস্তৃত হয়েছে কাষ্ঠনির্মিত সীমানা দেয়ালের ওপরে। রসভারে নত টসটসে ঘন বেগুণী রঙ ফলপ্রিয়কে হাতছানি দেয়। মার্কিনমুলুকে ট্রেসপাসিং বা অনঅধিকার প্রবেশ নাজায়েজ। বাড়ি বা জমিওলা গুলিও করে দিতে পারে। স্পর্শরহিত ফলবৃক্ষের বাগানটি এ্যাজমালি বলে তাতে সবারই অধিকার। তাই হাতছানি দেয়া রসমঞ্জুরি যদি কেউ কব্জাও করে কারও কিছু বলার কিছু । আমার গৃহবন্ধু জলি দেখি গৃহকর্ত্রীর সঙ্গে পাকাফল তুলে এ নিয়ে আনন্দে মাতোয়ারা। এতো দামি ফল যেচে বাড়ির সীমানা দেয়ালে এসে রসভার মেলে ধরেছে। হাত দিয়ে পেড়ে ফল খাওয়ার আনন্দ আলাদা। আমি দূর থেকে বলি ধুয়ে নাও। আর আল মাহমুদ এর কবিতার ভাষায় বলি ‘ তুমি যদি খাও তবে আমাকেও দিয়ো সেই ফল’ উচ্চারণ করি। মুহুর্তেই আমার হাতে চলে আসে দুয়েকটি। খেয়ে দেখি, টকমিষ্টি। বলি আরও কয়েকটি দাও। ভাবি এই ফলের নামেই বুঝি বৃটিশ ফোন কোম্পানির নাম হয়েছিল ব্লবেরি। আজকাল অবশ্য ওই নামটি কম শোনা যায়।

ব্লবেরি

বিলগেটস এর কোম্পানি মাইক্রোসফট এর পক্ষ থেকে উইন্ডোজ ১১ প্রকল্প কমপ্লিট করায় ইডেন নামে একটি দামি ড্রিংক এসেছে গৃহকর্তার নামে।  ভারমন্ট আইস সিডার। হানি ক্রিসপ। গৃহকর্তা আমাকে ও তুসুকে অফার সামান্য করে। আমরা চুমুক দিয়ে বড় মজা পাই। দামি আপেল থেকে নাকি তৈরি। সারসগলা বোতলটি দেখতেও বেশ।

দুপুর গড়াতেই সূর্য সমস্ত অভিমান ত্যাগ করে হেসে ওঠে। বাড়ির সামনে ও গৃহঅন্দর তীর্যক আলো পড়লে চারপাশ ঝলমলিয়ে ওঠে। সবুজ ব্যাকইয়ার্ড হয়ে ওঠে কাকলিময়।

বাংলাদেশি পর্যটক আকর্ষণে ঢাকায় ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার রোড শো



তৌফিক হাসান, কন্ট্রিবিউটিং এডিটর-ট্রাভেল এন্ড ট্যুর, বার্তা২৪.কম
বাংলাদেশি পর্যটক আকর্ষণে ঢাকায় ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার রোড শো

বাংলাদেশি পর্যটক আকর্ষণে ঢাকায় ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার রোড শো

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনাভাইরাসের প্রভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর  চলতি বছরের ১ এপ্রিল সীমান্ত খুলে দেয় মালয়েশিয়া। মূলত ওইদিন থেকে দেশটিতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। এর ফলে ফের পর্যটক টানতে নানা উদ্যোগ নেয় মালয়েশিয়া। এর অংশ হিসেবে দেশটির পর্যটন উন্নয়ন সংস্থা ‘ট্যুরিজম মালয়েশিয়া’ ২ থেকে ৭  জুন বাংলাদেশের  গুরুত্বপূর্ণ শহর ঢাকা এবং চট্রগ্রামে প্রথমবারের মতো রোডশো’র আয়োজন করছে।

ঢাকায় রোববার (৫ জুন) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে বাংলাদেশি ট্রাভেল এজেন্ট ও ট্যুর অপারেটরদের জন্য  রোডশো’র আয়োজন করে মালয়েশিয়া পর্যটন উন্নয়ন বোর্ড- ট্যুরিজম মালয়েশিয়া।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার হাজনা এমডি. হাশিম, ট্যুর অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (টোয়াব)-এর নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট শিবলুল আজম কোরেশী সহ স্বনামধন্য সকল ট্রাভেল এজেন্ট এবং ট্যুর অপারেটররের শীর্ষকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার সিনিয়র পরিচালক সৈয়দ ইয়াহিয়া সৈয়দ ওথমান এবং ‘দ্য বাংলাদেশ মনিটর’র সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুর আলম।

এদিকে রোডে শো উপলক্ষে ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার সিনিয়র পরিচালক (কৌশলগত পরিকল্পনা বিভাগ) সৈয়দ ইয়াহিয়া সৈয়দ ওথমান এর নেতৃত্বে একটি মালয়েশীয় প্রতিনিধি দল বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভূক্ত রয়েছে মালয়েশিয়ার ৫টি ট্রাভেল এজেন্সি এবং দুটি স্বাস্থ্যশিল্প সংস্থার প্রতিনিধিরাও।

বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার হাজনা এমডি. হাশিম বক্তব্য রাখছেন

অনুষ্ঠানে রোড শো’র আয়োজন প্রসঙ্গে বক্তরা জানান, মালয়েশিয়া ভ্রমণে বাংলাদেশিদের মধ্যে আস্থার সঞ্চার করার সাথে সাথে এই রোডশো’র লক্ষ্য হলো ভ্রমণ ও পর্যটন শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম প্রদান করা যার মাধ্যমে তারা পর্যটনকে পূর্বাবস্থায় বা আরো ভালো অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে।

সৈয়দ ইয়াহিয়া সৈয়দ ওথমান বলেন, বাংলাদেশে ফিরে আসার এটি একটি দারুণ সময় এবং রোডশো আয়োজনের জন্য যথার্থ। বাংলাদেশে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পুনরায় শুরু এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্য মালয়েশিয়ার সীমান্ত উন্মুক্তকরণ বলতে গেলে একই সময়ে সংঘঠিত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশি পর্যটকদের মালয়েশিয়ায় স্বাগত জানানোর সূযোগ পেয়ে আমরা সত্যিই রোমাঞ্চিত। পর্যটকরা এখন মালয়েশিয়ার শ্রেষ্ঠ এবং সর্বশেষ রোমাঞ্চকর আকর্ষণগুলো সাশ্রয়ী খরচে উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন। দীর্ঘ দুবছর পর পর্যটকরা এখন অনেক কিছুই এক্সপ্লোর করতে পারবেন যার মধ্যে রয়েছে সম্প্রতি চালু হওয়া আউটডোর থিমপার্ক, গেন্টিং স্কাইওয়ার্ল্ড, কুয়ালালামপূরে নতুন সাজে সজ্জিত সানওয়ে রিসোর্ট এবং জাকজমকপূর্ণ নতুন আকর্ষণ বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উঁচু অট্টালিকা ‘মারদেকা ১১৮’। অনিন্দ্য সুন্দর সমূদ্রতট, চিত্তাকর্ষক পর্বতমালা ও বনোরাজিসহ বিভিন্ন আনন্দদায়ক ও রোমাঞ্চকর কর্মকান্ড আপনার ভ্রমণকে স্মরণীয় করে রাখবে।

উল্লেখ্য, বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যার হিসেবে মালয়েশিয়ার তালিকায় বাংলাদেশের স্থান প্রথম দিকে। ২০১৯ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১ লাখ ৮৯ হাজারের বেশি বাংলাদেশি মালয়েশিয়া ভ্রমণ করেছেন; যা মোট সংখ্যার ১৯.৩০ শতাংশেরও বেশি। চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে পূর্ণ কোর্স কোভিড টিকাপ্রাপ্ত বিদেশিদের জন্য মালয়েশিয়া ভ্রমণে কোন কোয়ারেন্টাইনের প্রয়োজন নেই। আসার আগে ও যাওয়ার পর  পর্যটকদের কোভিড-১৯ পরীক্ষা লাগবে না। ১৭ বছর বা তার নিচের বয়সী শিশুদের জন্যও করোনা পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। বর্তমানে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স, বাটিক এয়ার এবং এয়ার এশিয়া ঢাকা এবং মালয়েশিয়ার মধ্যে ভ্রমণের জন্য সপ্তাহে ৩ হাজার ৯১০ টির বেশি আসন অফার করছে।

;

ফের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে মালয়েশিয়া



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ফের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে মালয়েশিয়া

ফের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে মালয়েশিয়া

  • Font increase
  • Font Decrease

দুই বছর পর পুরোদমে ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করার ঘোষণা দিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি ইসমাইল সাবরি ইয়াকোব। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ১ এপ্রিল থেকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য সীমানা সম্পূর্ণরূপে খুলে দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, দর্শনার্থীদের পাশাপাশি মালয়েশিয়া থেকে ফেরত আসা কর্মী যারা দুই ডোজ বা বুস্টার ডোজ গ্রহণ করেছেন তারা খুব সহজেই মালয়েশিয়ায় ঢুকতে পারবেন। তাদের কোয়ারেনটিনে থাকার প্রয়োজন নেই। তবে তাদের অবশ্যই যাত্রার দুই দিন আগে একটি আরটি-পিসিআর পরীক্ষা এবং পৌঁছানোর পরে একটি দ্রুত পরীক্ষা (আরটিকে) করতে হবে।

করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালের মার্চ থেকে পর্যটনসহ সব ধরনের ভিসার কার্যক্রম বন্ধ করে দেশের সীমানা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিয়েছিল দেশটির সরকার। মালয়েশিয়ার প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৯৮ শতাংশকে দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে এবং অর্ধেকেরও বেশি বুস্টার ডোজ পেয়েছেন।

;

করোনা টেস্ট ছাড়াই ভ্রমণ করা যাবে মালদ্বীপ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
করোনা টেস্ট ছাড়াই ভ্রমণ করা যাবে মালদ্বীপ

করোনা টেস্ট ছাড়াই ভ্রমণ করা যাবে মালদ্বীপ

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনার টিকার দুই ডোজ সম্পন্ন করলেই যাওয়া যাবে মালদ্বীপ। বিশ্বের যেকোনো দেশের পর্যটকরাই এ সুযোগ নিতে পারবে।

সম্প্রতি মালদ্বীপের পর্যটন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে, যা গত শনিবার থেকে কার্যকর হয়।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়, কোনো যাত্রী যদি করোনা প্রতিরোধ টিকার পূর্ণাঙ্গ ডোজ (বুস্টার ডোজ প্রয়োজন নেই) নিয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে ৫ মার্চ থেকে সেসব যাত্রীর মালদ্বীপ ভ্রমণের আগে আরটি-পিসিআর টেস্টের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করা হলো। সূত্র: লয়ালটিলবি ডটকম

;

সাদা পানির ঝর্ণা



তৌফিক হাসান
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

অন্ধকার থাকতেই ভোর ৫টা নাগাদ হোটেল ছেড়ে নৌকা ঘাট পৌঁছে গেলাম। ভোরের আলো সবে ফুটতে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই কিছু জেলে নৌকা নিয়ে নেমে গেছে কাপ্তাই লেকের জলে জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে। আজকের যাত্রা সাদা পানির ঝর্ণা তথা ধুপপানির উদ্দেশ্যে। রাঙমাটির বিলাইছড়ি ঘাট থেকে সকাল সাড়ে ৫টা নাগাদ আমাদের বোট ছাড়ল উলুছড়ির উদ্দেশ্যে, সেখান থেকেই শুরু হবে ঝর্ণার উদ্দেশ্যে মূল ট্রেকিং। লোকালয়ের পাশ দিয়েই এগিয়ে চলছে আমাদের বোট। স্থানীয়রা কেউ কেউ লেক ঘেষা রাস্তায় প্রাতঃভ্রমণ করছেন, কেউ কেউ কৌতুহলী দৃষ্টি আমাদের বোটের দিকে তাকিয়ে আছেন। এবারের যাত্রায় আমরা মোট ৯ জন যাচ্ছি। সবারই পাহাড়ে হাঁটার অল্প বিস্তর অভিজ্ঞতা আছে। ঢাকা থেকে সেন্টমার্টিন নন-এসি বাসে করে কাপ্তাই এসেছিলাম। কাপ্তাই ঘাট থেকে দুই দিনের জন্য ৫৫০০ টাকায় নৌকা ভাড়া নিয়ে আমরা রাঙ্গামাটির বিলাছড়িতে পৌঁছেছি। রাত্রিবাস হয়েছে ঘাট লাগোয়া স্মৃতিময় বোডিং-এ। কোনরকমে থাকা যায় সেরকম রুমের ভাড়া পড়েছে ১০০০ টাকা।

কাপ্তাই লেকের বুক চিরে আমাদের নৌকা এগিয়ে চলছে। বিগত কয়েকদিন বৃষ্টিজনিত পাহাড়িঢলের কারণে সব পলিমাটি এসে জমা হয়েছে সুন্দরি কাপ্তাইয়ের বুকে, তাই পানি একেবারে ঘোলা। সুন্দর পানিপথের মাঝে মাঝে জংলার মতন আবার কখনো বা নাম না জানা জলজ ফুল দেখতে পাচ্ছি। সামান্য যাবার পর বিলাইছড়ি আর্মি সদর দফতরের নৌ-চেক পোস্ট পড়লো সেখানে যথাযথ পরিচয় লিপিবন্ধ করেই আবার সচল হলো আমাদের নৌকার ইঞ্জিন। নৌকা এবার নদী বা খালের মতো সরু পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। কি মনোরম এই পথ, সবুজে ঘেরা খাড়া পাহাড়কে পাশে রেখে চলছি। মাঝে মাঝে পাহাড়ের খাজে শুভ্র মেঘকে আটকে থাকতে দেখছি যেন সবুজ পাহাড় তার শুভ্রতায় ভরা প্রেয়সীকে বুকে জড়িয়ে রেখেছে। আমরা কেউ কোনো কথা বলছিনা, অবারিত সৌন্দর্যে অবগাহন করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছি।

কাদা মাটি মাড়িয়ে ঝর্ণার উদ্দেশ্যে মূল ট্রেকিং শুরু

এক পর্যায়ে আমরা আলীক্ষিয়াং নামক একটা স্থানে দাঁড়িয়ে নাস্তা সেরে নিলাম। এখানে খুব কম সংখ্যক পরিবারই বাস করে যার মধ্যে মাত্র ৩টি পরিবার আছে বাঙালি। লাল মিয়া নামে এক বাঙালির হোটেলে ঝটপট নাস্তা করেই যাত্রা শুরু হলো। মিনিট ৫/৭ পরেই আবার দাঁড়াতে হলো আরেকটা আর্মি চেক পোস্টে, যথারীতি পরিচয় লিপিবদ্ধ করার পালা। এবারে চেক পোস্ট থেকে আমাদের সতর্ক করা হলো ফিরতি পথে বিকেল ৫টার মধ্যেই এই চেকপোস্ট পার হতে হবে। চেকপোস্ট পেরিয়ে সুন্দর নদীপথ ধরে যেতে যেতে মোটামুটি আড়াই ঘণ্টায় উলুছড়ি পৌঁছে গেলাম। ঘাট থেকে ৫০০ টাকার বিনিময়ে এক ক্ষুদে গাইড বিচ্ছুকে সাথে নিয়ে শুরু হলো মূল ট্রেকিং। যাত্রা শুরুর পূর্বে মাঝির মাধ্যমে দুপুরের খাবার ব্যবস্থা করে গেলাম স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়িতে, কারণ এখানে কোন খাবারের দোকান নেই। ২০০ টাকায় আমাদের ভাত, মুরগি, আলু ভর্তা আর ডাল খাওয়ার ব্যবস্থা হলো।

যাইহোক ট্রেকিং এর শুরুতেই পথটা বেশ খারাপ। খানিকটা পথ বেশ পিচ্ছিল, গ্রিপ পেতে বেশ সমস্যা হচ্ছিল। আর বেশ খানিকটা পথ ভয়াবহ কর্দমাক্ত, মোটামুটি হাঁটুর সমান কাঁদা। এ ধরনের রাস্তার আলাদা একটা মজা আছে, আমরা পাহাড়ে আসি রোমাঞ্চের খোঁজে আর এরকম পথ, নালা, জংগল, চড়াই-উতরাই ও ঝর্না দেয় ভীষণ রকম আনন্দ। ধুপপানিতে বর্ষার শেষ দিকে যাওয়াই উত্তম বিধায় আমরা সেপ্টেম্বর মাসে যাচ্ছি এই পথে। অন্য সময় গেলে হয়তো অন্যরকম সৌন্দর্য দেখতে পাবো কিন্তু ঝর্ণায় বেশি পানি পেতে হলে এর থেকে দেরিতে যাওয়া ঠিক হবে না।

অবারিত সৌন্দর্যে অবগাহন করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছি

 

ট্রেকিং শুরুর খানিক পরেই একটা ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গ্রাম পড়ল, চারিদিকে পাহাড় মাঝখানে সমতল আর সেখানে ধান পেকে সোনালি রঙ ধারন করে আছে। কি সেই সৌন্দর্য, সবুজের মাঝে খানিকটা সোনালি আভা একেবারে চিরায়ত বাংলার রূপ। গ্রামবাসীরা তাদের উৎপাদিত ফল বিক্রি করছিল আমরা সেখান থেকে দেশি লাল পেয়ারা আর পেঁপে কিনে খেয়ে হাঁটা দিলাম।

এরপর প্রথমে একটা সিড়ি তারপর খাঁড়া তিনটে পাহাড় ডিঙিয়ে বেশ হাঁপিয়ে গিয়ে বিশ্রাম নেবো বলে চিন্তা করতেই দূরে তাকিয়ে দেখি দুটো শিশু কি যেন বিক্রি করছে! ওদের কাছে গিয়ে দেখি কলার ছড়ি ঝুলিয়ে রেখেছে, প্রতি পিস ৫ টাকা। অতঃপর বেশকিছু কলার সুব্যবস্থা করে সেখানে খানিকক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার যাত্রা শুরু হলো আমাদের। আরও কিছুদূর গিয়ে ধুপপানি গ্রামে পৌঁছে দেখি টেবিল পেতে রীতিমতো দোকান সাজিয়ে বসে আছে, জুস পানি চিপস শসা আর ফল-মূল কি নেই সেখানে! আবারও পেয়ারা কিনে নিয়ে যাত্রা শুরু হলো আমাদের।

সাদা পানির ঝর্ণা

হাচরে-পাচরে প্রায় আড়াই ঘণ্টা হেঁটে পৌঁছে গেলাম ধুপপানিতে। রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নে এর অবস্থান। খুব বেশিদিন হয়নি মানুষজন এই ঝর্ণার অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতে পেরেছে। কিছু বছর আগে এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী এই স্থানে ধ্যান করার কারণে নয়নাভিরাম এই ঝর্ণাটি মানুষের নজরে আসে। তঞ্চঙ্গ্যা শব্দে ধুপ অর্থ সাদা আর পানিকে পানিই বলা হয় অর্থাৎ ধুপানির অর্থ সাদা পানির ঝর্ণা ।

মূলত এই ঝর্ণার পানি স্বচ্ছ এবং যখন অনেক উঁচু (প্রায় ১৫০ মিটার) থেকে ঝর্ণার জল আছড়ে পড়ে তখন তা শুধু সাদাই দেখা যায়। তাই একে ধুপপানি ঝর্ণা বলা হয়। বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর ঝরনাগুলির মধ্যে অন্যতম এই ঝরনায় নিচের দিকে একটি গুহার মতন আছে। যা এই ঝরনাকে করেছে অনন্য।

;