অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ফ্যাটযুক্ত খাবার মুখরোচক হয় বিধায় সে সকল খাবারের দিকেই আমরা বেশি ঝুঁকি। অথচ শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে চাইলে খাদ্যাভাসে থাকতে হবে প্রাকৃতিক খাদ্য উপাদান। প্রাধান্য দিতে হবে শাক ও সবজি খাওয়ার প্রতি। সবজি খাওয়ার দারুণ কয়েকটি উপকারিতা জেনে নিন আজকের ফিচার থেকে।
২০১৬ সালের একটি গবেষণাপ্রাপ্ত তথ্য জানাচ্ছে, সবজি খাওয়ার সাথে মানসিক সন্তুষ্টি ও আনন্দের থাকার মাঝে সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি চলতি বছরেও এই সম্পর্কিত একটি গবেষণা জানাচ্ছে, নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণ সবজি গ্রহণের সাথে মানসিক স্বাস্থ্যের দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে।
বেশ কয়েকটি স্বাস্থ্য বিষয়ক পরীক্ষা থেকে দেখা গেছে যে, সবজি বেশি খাওয়ার ফলে রাতের ঘুম দীর্ঘ ও ভালো হয়। মার্কিন যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যবিদ নাওমি হুইটেল বলেন, ‘খাদ্য তালিকায় সবজির পরিমাণ বৃদ্ধিতে মানসিক প্রশান্তির পাশাপাশি শারীরিক অবস্থাতেও পরিবর্তন আসবে। ঘুম ভালো হবে। সবজির মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস হেলথি সারকেডিয়ান রিদম (Circadian Rhythms) তৈরি করে। ফলে ঘুমের মান বৃদ্ধি পায়’।
আমরা সাধারণত যে ধরণ খাবার খাই তা মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত ও চিনিযুক্ত খাবারে টাইপ-২ ডায়বেটিস দেখা দেওয়ার সম্ভবনা বৃদ্ধি পায় প্রবল ভাবে। ডায়বেটিস খুব সূক্ষ্মভাবে মনোযোগের ব্যাঘাত ঘটায়।
অ্যাভোকাডো, টমেটো, কেইল, কচুশাকের মতো শাক-সবজিগুলোতে থাকে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। যা আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যঙ্গ মস্তিষ্কের প্রদাহ কমাতে কাজ করে। নাওমি জানায়, এই উপকারী উপাদানটি মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ও মনমেজাজ নিয়ন্ত্রণ করতে কাজ করে।
সবুজ সবজি থেকে পাওয়া যায় ফলেট ও বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন-বি। যা মেটাবলিজম বৃদ্ধিতে কাজ করে এবং শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করে। তাইতো কর্মক্ষম ও সুস্থ থাকার জন্য স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন সকালে শাক ও সবজির স্মুদি পানের পরামর্শ দেন।
সকল প্রকাশ শাক ও সবজি থেকেই পাওয়া যায় প্রচুর পরিমাণ দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় খাদ্যআঁশ। এই আঁশ রক্তে চিনির মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি খাদ্য পরিপাকে ও পেটের সমস্যা দূর করতে কাজ করে। নাওমি জানান, সবজির আঁশ পাকস্থলীর ভালো ব্যাকটেরিয়া হিসেবে কাজ করে।
আরও পড়ুন: যেভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকবে আপনার ক্ষুধা
আরও পড়ুন: ক্যানসার দূরে থাকবে সাধারণ কয়েকটি নিয়মে