১৯ বছরে ৯/১১



ড. মাহফুজ পারভেজ, কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মার্কিন মুলুকের টুইন টাওয়ারে হামলা, ছবি: সংগৃহীত

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মার্কিন মুলুকের টুইন টাওয়ারে হামলা, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

শত-সহস্র বছরের পৃথিবীতে খুব কম ঘটনা আছে, যা ইতিহাস মনে রেখেছে। শত বছরে একটি বা দুইটি ঘটনা এমন ঘটে। মানুষ ও ইতিহাস ভুলতে পারে না ঘটনাটি।

১৯ বছর আগে এমনই একটি ঘটনা ঘটেছিল। আজকের দিনেই শুধু নয়, অনাগত কালেও মানুষ মনে রাখবে ঘটনাটি। ইতিহাসের যাত্রা পথে ঘটনাটি পাল্টে দিয়েছিল পৃথিবীর গতি।

১১ সেপ্টেম্বর ২০০১ সাল। সংক্ষেপে ৯/১১। আধুনিক বিশ্বের প্রতিভূ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থরথর করে কেঁপে উঠেছিল। বিমূঢ় ও বিস্মিত হয়েছিল সারা বিশ্ব। মানব সভ্যতার ইতিহাসে এই রক্তাক্ত দিনটির কথা কেউ কোনো দিন ভুলতে পারবে না। অচিন্তনীয় আতঙ্কে ডুবে গিয়েছিল পশ্চিমা বিশ্ব। সন্ত্রাসের নতুন রূপ ও বিস্তৃতিতে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল মানব সভ্যতা।

সেদিন এবং পরের আরও অনেক দিন পৃথিবীর সবগুলো টিভি চ্যানেল দেখাতেই থাকলো ৯/১১-এর ঘটনাবলী। প্লেনগুলো সোজা ধাক্কা মারল মার্কিনীদের গর্বের প্রতীকগুলোতে। নিমেষে প্লেনের হামলায় ভেঙে পড়ল ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার তথা টুইন টাওয়ার। ১৯ জন আত্মঘাতী হামলাকারী এবং চারটি বিমান জড়িত ছিল হামলায়।

চারটি বিমানের দু'টির লক্ষ্য ছিল নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উত্তর ও দক্ষিণ টাওয়ার। অন্যটি আঘাত করে পেন্টাগনে, যেটির অবস্থান ওয়াশিংটনের ঠিক বাইরেই আর চতুর্থ বিমানটি আছড়ে পড়ে পেনসিলভানিয়ার একটি মাঠে।

মারা যান ২৯৯৬ জন, গুরুতর জখম ছয় হাজার জনেরও বেশি মানুষ। যাদের মধ্যে ৪০০ এর বেশি ছিলেন পুলিশ এবং অগ্নিনির্বাপণ কর্মী। আমেরিকায় এত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের ঘটনা খুব কমই ঘটেছে।

ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে বিস্মিত বিশ্ব আড়মোড়া ভেঙে ঝাঁপিয়ে পড়ে অদৃশ্য সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ ঘোষণা করেন 'সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ'। মার্কিন দেশে, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার অনেক দেশেই মুসলিমদের পাশাপাশি দাড়িগোঁফ থাকার কারণে মুসলিম সন্দেহে বহু শিখ পর্যন্ত আক্রান্ত হন। যদিও ৯/১১ ঘটনার বহু প্রশ্নের সঠিক উত্তর ও রহস্য স্পষ্টভাবে উন্মোচিত হয়নি আজও। শুধু তাই নয়, ৯/১১ পরবর্তীতে শত শত সন্ত্রাসী ঘটনার কোনো কূলকিনারা পাওয়া যাচ্ছে না।

৯/১১-এর পর গ্রাউন্ড জিরোতে এখন ঘটনাটির স্মৃতিস্বরূপ গড়ে উঠেছে ফ্রিডম টাওয়ার। দালানের উচ্চতার দিক থেকে টুইন টাওয়ারকে ছাড়িয়ে যাওয়া ফ্রিডম টাওয়ারেই নির্মিত হয়েছে সেপ্টেম্বর ১১ মেমোরিয়াল স্থাপনা। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা স্থাপনা পেন্টাগনকেও ঢেলে সাজানো হয়েছে। সেদিন হোয়াইট হাউসের দিকে উড়ে যাওয়া আরেকটি বিমান মাঝ আকাশে ভূপাতিত হয়েছিল যাত্রীদের প্রতিরোধের মুখে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাও বৃদ্ধি করা হয়েছে ৯/১২-এর পর পরই। বলা যায়, মানুষের বসবাস, চলাচল ইত্যাদি কঠিন নিরাপত্তা বলয়ে আবৃত। পশ্চিমা বিশ্ব নিজস্ব নিরাপত্তাকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে।

৯/১১ অনেক কিছুর পাশাপাশি বিশ্ব ইতিহাসে ভয়াল দিন হয়ে চিহ্নিত হয়েছে। সেদিনের মতো সমন্বিত আর ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা পরবর্তী সময়ে আর দেখা যায়নি। এমন কি, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের পর বদলে যায় খোদ আমেরিকাও। এর জের ধরে বদলে গেছে বিশ্ব আর বৈশ্বিক রাজনীতি। বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বিভাজন শুরু হয়েছে ৯/১১-এর মাধ্যমে। শুরু হয়েছে বিশ্বের দেশে দেশে সন্ত্রাসী খোঁজার পালা। যে তৎপরতার জেরে জ্বলছে অনেক দেশ, জনপদ। অনেক নিরীহ মানুষও মারা যাচ্ছে 'সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধ'-এর পক্ষ-বিপক্ষের মাঝখানে পড়ে। শান্তি এখন নিজেই হয়ে গেছে আক্রান্ত।

শান্তিবাদী বিশ্বের শান্তিকামী মানুষ সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ চায় না। আবার অকাতরে নিরপরাধ, নিরস্ত্র, সাধারণ মানুষের মৃত্যুও মেনে নিতে পারে না। শান্তি ও মানবতার এই আকুতি ৯/১১-এর পর তীব্র ভাষায় উচ্চারিত হলেও আজও বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী হামলা থেমে থেমে হুঙ্কার দিয়েই চলেছে। আবার জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসীদের দমন করার হামলাতেও মারা পড়ছেই সাধারণ মানুষ, স্কুলের শিশু, ঘরের নারী, নিরপরাধী মানুষ। সন্ত্রাস ও পাল্টা-সন্ত্রাস রক্তাক্ত করেছে ৯/১১ পরবর্তী বিশ্বকে।

৯ /১১ ঘটনার ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়ায় সন্ত্রাসবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার এক রক্তাক্ত রণাঙ্গনে পরিণত করেছে বিশ্ব মানচিত্রকে। ৯/১১-এর স্মৃতি আজও রক্ত আর মৃত্যুর চিহ্নে বার বার ছুঁয়ে যাচ্ছে তাবৎ পৃথিবী ও পৃথিবীর মানুষদের। কে জানে, সন্ত্রাসের এই দুষ্টচক্র থেকে মানবতা কবে মুক্তি পাবে?

আরও পড়ুন: স্মৃতি: রক্তাক্ত ৯/১১

   

স্নাতক অনুষ্ঠান বাতিল করল সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভের কারণে লস অ্যাঞ্জেলেসের সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে। আগামী ১০ মে অনুষ্ঠানটি হওয়ার কথা ছিল।

ফিলিস্তানের গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রতিবাদে সাউদার্থ ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও অনেক ক্যাম্পাসে বিক্ষোভে অংশ নিতে দেখা গেছে।

বিবিসি জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে ২৮ শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ক্যাম্পাস ছাড়ার নির্দেশ দিলেও এই শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ছাড়েননি। পুলিশের ভাষ্য, নির্দেশ অমান্য করায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

এর আগে, বুধবার ইউএসসি ক্যাম্পাসে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ৯৩ শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সময়ে ক্যাম্পাসে থাকা শিক্ষার্থীদের অস্থায়ী তাবুগুলোও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। 

বাতিল হওয়া এই স্নাতক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়ার কথা ছিল বিদায়ী মুসলিম শিক্ষার্থী আসনা তাবাসসুমের। এ মাসের শুরুর দিকে ‘নিরাপত্তা হুমকির’ কারণ দেখিয়ে তাঁর বক্তৃতাও বাতিল করে ইউএসসি। এবার অনুষ্ঠানই বাতিল কার ঘোষণা দিল ইউএসসি কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা ফিলিস্তিনকে সমর্থন করছি। গাজায় ইসরায়েল যে যদ্ধ চালাচ্ছে, তা অন্যায় যুদ্ধ।’

পুলিশ জানিয়েছে, ইমোরি বিশ্বিবিদ্যালয়ের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের কাজে বাধা দিচ্ছেন। পুলিশ বাধ্য হয়ে বিক্ষোভকারীদের ওপরে রাসায়নিক উপকরণ ছুড়েছে।

;

দুর্নীতি মামলায় জামিনে মুক্ত ইউক্রেনের কৃষিমন্ত্রী



আন্তর্জাতিক ডেস্ক বার্তা২৪.কম
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির সঙ্গে জড়িত বহু মিলিয়ন ডলারের জমি দখল প্রকল্পে জড়িত থাকার সন্দেহে আটক হওয়ার পরে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ইউক্রেনের কৃষিমন্ত্রী মাইকোলা সোলস্কি।

একটি দুর্নীতি দমন আদালত সোলস্কিকে ২৪ জুন পর্যন্ত হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। প্রসিকিউটররা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ১.৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জামানতের বিনিময়ে শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) তার জামিন মঞ্জুর করা হয়।

প্রসিকিউটররা আরও জানিয়েছেন, দোষী সাব্যস্ত হলে তার ১২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে জানিয়েছে, ‘মাইকোলা সোলস্কি হেফাজত থেকে মুক্তি পেয়েছেন এবং ইউক্রেনের কৃষিনীতি ও খাদ্যমন্ত্রী হিসাবে তিনি তার দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাচ্ছেন।’

সলস্কির বিরুদ্ধে ৭.৩৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জমি অবৈধভাবে দখল করার এবং ৪.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের অন্যান্য জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে।

রাশিয়ার আক্রমণ শুরুর পরপরই ২০২২ সালের মার্চ মাসে ইউক্রেনের যুদ্ধকালীন কৃষিমন্ত্রী হিসাবে কাজ শুরু করার আগে ২০১৭ সাল থেকে ২০২১ সালে মধ্যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছিল। ।

জাতীয় দুর্নীতি দমন ব্যুরো জানিয়েছে, কথিত প্রকল্পের অধীনে জমিগুলো বেআইনিভাবে দুটি রাষ্ট্রীয় সংস্থার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিল এবং কিছু বেসরকারী সংস্থাকে লিজ দেওয়ার শর্তে যুদ্ধের অভিজ্ঞ সেনাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল।

তবে, ৪৪ বছর বয়সী মন্ত্রী এবং তার আইনজীবী সব অভিযোগ অস্বীকার করে বৃহস্পতিবার শুনানিতে বলেছেন, তিনি এই জাতীয় কোনও প্রকল্প থেকে লাভবান হননি।

এই সপ্তাহের শুরুতে, সোলস্কি তার পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়ে তদন্তে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে সংসদে পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তিনি নিয়মানুযায়ী কৃষিমন্ত্রী থাকবেন।

;

প্রথমবারের মতো মিস ইউনিভার্স মঞ্চে সৌদি আরবের প্রতিযোগী



আন্তর্জাতিক ডেস্ক বার্তা২৪.কম
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগীতায় এই বছর প্রথমবারের মতো সৌদি আরব প্রতিনিধির দেখা পাওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

সংস্থাটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সমন্বয়কারী মারিয়া হোসে উন্ডা এএফপিকে এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘মিস ইউনিভার্স অর্গানাইজেশন বর্তমানে একটি কঠোর যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যাতে করে একজন সম্ভাব্য প্রার্থী সৌদি আরব ফ্র্যাঞ্চাইজের প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা খুব শীঘ্রই সৌদি আরবের অংশগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’ তিনি বলেন, আগামী সেপ্টেম্বরে মেক্সিকোতে নির্ধারিত প্রতিযোগিতার পরবর্তী সংস্করণের আগে সৌদি আরবের পক্ষে একজন প্রতিযোগী রাখা অসম্ভব বিষয় নয়।

এদিকে, সৌদি মডেল রুমি আল-কাহতানি গত মার্চের শেষের দিকে অনলাইনে একটি গুঞ্জন তৈরি করার পরে এই বিবৃতিটি আসলো। কাহতানি গত মার্চে তার কয়েক হাজার ইনস্টাগ্রাম অনুসারীদের পোস্ট করে জানান যে, আসন্ন ইভেন্টে মিস ইউনিভার্সে সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য তিনি সম্মানিত বোধ করছেন।

পোস্টটিতে রিয়াদের বাসিন্দা ২৭ বছর বয়সি কাহতানির ছবি অন্তর্ভুক্ত ছিল। ওই ছবিতে তিনি একটি সিকুইন্ড পোশাকে সবুজ সৌদি পতাকা ধারণ করে থাকতে দেখা যায়।

এর এক সপ্তাহেরও কম সময় পরে কাহতানির পোস্টকে মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিকর বলে বিবৃতি জারি করে মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটি জানায়, উপসাগরীয় রাজ্যটির নির্বাচন প্রক্রিয়া এখনও সম্পন্ন হয়নি।

অন্যদিকে, মিস ইউনিভার্স মঞ্চে সৌদি আরবের কোনো প্রার্থীকে দাঁড় করানো হলে, সেটি হবে দেশটির অতি-রক্ষণশীল ভাবমূর্তিকে নরম করার ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রচেষ্টার আরেকটি ধাপ।

সৌদি আরব বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক। তারা দীর্ঘকাল ধরে নারী নিপীড়নের সঙ্গে যুক্ত। কারণ, সেখানে নারীদের বিপরীতে গাড়ি চালানোর উপর নিষেধাজ্ঞা এবং আবায়া পোশাক পরার প্রয়োজনীয়তার মতো নিয়ম চালু ছিল।

যদিও এই বিধিনিষেধগুলি প্রত্যাহার করা হয়েছে, কিন্তু মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, ২০২২ সালে কার্যকর হওয়া একটি ব্যক্তিগত স্থিতি আইন এখনও বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ এবং সন্তান লালন-পালনের বিষয়ে নারীদের প্রতি বৈষম্যের কারণ।

এ ছাড়াও সৌদি আরবের দুইজন নারী রয়েছেন, যারা ২০২২ সালে সরকারের সমালোচনামূলক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের জন্য কয়েক দশক ধরে কারাদণ্ড ভোগ করেছেন।

রিয়াদের বাড়িতে কথা কাহতানি মিস ইউনিভার্সে অংশগ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকার করেন।

গত মার্চ মাসে তার ইনস্টাগ্রাম পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর তার প্রথম সাক্ষাত্কারে তিনি এএফপিকে বলেছিলেন, ‘মিস ইউনিভার্স কমিটির পক্ষ থেকে সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। আলোচনা শুরু হয়েছিল, কিন্তু তখন রমজান মাসে ছিল বলে আমি সাড়া দিতে পারিনি।’

তিনি আরও বলেছিলেন যে, ‘আমরা এখনও আলোচনা করছি এবং আশা করি এটি একটি সুন্দর সমাপ্তি ঘটবে।’

মিস ইউনিভার্সের কর্মকর্তা মারিয়া হোসে উন্ডা বলেন, ‘মেক্সিকোতে পাঠানোর জন্য একজন প্রতিনিধি বাছাই করার জন্য মিস ইউনিভার্স সৌদি আরব প্রতিযোগিতার আয়োজন করার জন্য দেশটির ন্যাশনাল ডিরেক্টরকে বলা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কাহতানি যদি সৌদি আরবের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে চান, তাহলে তাকে অন্য প্রত্যেক প্রার্থীর মতো একই নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।’

;

সম্পর্কের অবনতির বিষয়ে ব্লিঙ্কেনকে সতর্ক করেছে চীন



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনকে ক্রমবর্ধমান মতবিরোধের সমাধান করার জন্য ‘সম্পর্কের অবনতি’ ঠেকানোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে চীন। 

বেইজিংয়ে শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) ক্ষমতাধর এই দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু করার সময় এই আহ্বান জানান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। তিনি চীনের রাজধানীর প্রাচীন উদ্যানের দিয়াওইউতাইয়ে রাষ্ট্রীয় গেস্টহাউসে ব্লিঙ্কেনকে অভ্যর্থনা জানান।

বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্পর্কের অগ্রগতির আশা প্রকাশ করে ব্রিঙ্কেন বলেন, তিনি সরাসরি মত-পার্থক্যের বিষয়গুলো উত্থাপন করবেন। এসবের মধ্যে রাশিয়া, তাইওয়ান এবং বাণিজ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, নভেম্বরে এক শীর্ষ সম্মেলনে নেতা জো বাইডেন এবং শি জিনপিংয়ের সাক্ষাতের পর বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির এ দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ‘স্থিতিশীল হতে শুরু করে। কিন্তু একই সময়ে সম্পর্কের নেতিবাচক বিভিন্ন বিষয় এখনো বৃদ্ধি পেতে দেখা যাচ্ছে।’ 

ওয়াং বলেন, দু’দেশের মধ্যে ‘সম্পর্ক বিভিন্নভাবে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। চীনের বৈধ উন্নয়ন অধিকার অযৌক্তিকভাবে দমন করা হচ্ছে এবং আমাদের মূল স্বার্থ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।’

এর আগে ব্লিঙ্কেনের সহযোগীরা বলেছিলেন, তিনি রাশিয়ার প্রতি চীনের সমর্থনসহ বিভিন্ন উদ্বেগের বিষয় সমাধান করবেন। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের দুই বছরে তারা দ্রুততার সাথে তাদের সামরিক ঘাঁটি পুনঃনির্মাণ করেছে।

ওয়াংয়েরর সাথে বৈঠক শুরু করার সময় ব্লিঙ্কেন বলেন, এসব ক্ষেত্রে তিনি ‘খুব স্পষ্ট এবং খুব সরাসরি কথা বলবেন। এটি আমাদের দুই দেশের সামনে একটি প্রধান প্রশ্ন এবং আমাদের আন্তরিকতা এবং সক্ষমতার পরীক্ষা।’

তিনি আরো বলেন,‘আমাদের প্রেসিডেন্টরা যে সব বিষয়ে সম্মত হয়েছেন সে সব বিষয় আমরা কিছুটা এগিয়ে নেব বলে আমরা আশা করছি।’
ব্লিঙ্কেন বলেন, দুই দেশের ‘যে ক্ষেত্রগুলোতে আমাদের মতভেদ আছে সে গুলো ব্যাপারে যতটা সম্ভব পরিষ্কার হওয়া উচিত। অন্ততপক্ষে ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে আমাদের এমনটা করা উচিত।’
তিনি আরো বলেন, ‘এটা কেবলমাত্র আমাদের জন্য নয়, সারা বিশ্বের মানুষের জন্য এমনটা করা দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

চীন এবং যুক্তরাষ্ট্র স্থিতিশীলতার সাথে এগিয়ে যাবে নাকি নিম্নগামী সম্পর্কের দিকে ফিরে যাবে সে বিষয়টি অনেকটার নির্ধারিত হতে চলেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী এই দেশে ব্লিঙ্কেনের এটি দ্বিতীয় সফর।

;