Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

রমজান আসতেই চড়া কাঁচাবাজার

রমজান আসতেই চড়া কাঁচাবাজার
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সবজি বাজার, ছবি: বার্তা২৪.কম
তৌফিকুল ইসলাম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে বাজার তদারকিসহ অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তবে এর তেমন প্রভাব পড়েনি বাজারে। এদিকে দরজায় কড়া নাড়ছে রমজান। আর এরই মধ্যে রোজাকে সামনে রেখে চড়া কাঁচাবাজার।

সোমবার (৬ মে ) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজি প্রকার ভেদে ১০ থেকে ১৫ টাকা দাম বেড়েছে। তবে স্থিতিশীল রয়েছে চাল ও মাছের বাজার। বেড়েছে মুরগির দাম।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী রুবেল বার্তা২৪.কমকে জানান, রমজানকে সামনে রেখে সবজির দাম কিছুটা বেড়েছে। ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে আবহাওয়া খারাপ থাকায় বাজারে সবজি আসছে না। তাই সবজির সরবরাহ কম থাকায় এবং চাহিদার কারণে দাম কিছুটা বেড়েছে।

সবজি বাজারের বর্তমান বাজার দরে প্রতি কেজি বেগুন ৭০-৮০ টাকা, টমেটো ৩০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, কলা ৩০ টাকা হালি, চাল কুমড়া ৫০ টাকা কেজি, ঝিঙা ৫৫ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা, ক্যাপসিকাম ৩৫০ টাকা, লেটুস পাতা ১৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/06/1557123608113.gif

এছাড়াও সজনে ডাঁটা ৬০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৬০ টাকা, করলা ৪০ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৬০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৩৫ টাকা, ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ ২৫ টাকা, আলু ২২ টাকা, রসুন ১২০ টাকা, আদা ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

রমজানে ইফতারের জন্য যেসব উপকরণ লাগে সেগুলোর দাম বেড়েছে। বাজারের বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী প্রতি কেজি চিনি ৬০ টাকা, ছোলা ৮০ থেকে ৯০ টাকা, বেসন ৭০ টাকা, আটা ৬০ টাকা, প্রতি ৫ লিটার সয়াবিন তেলের বোতল ৪৯০ থেকে ৫০০ টাকা, গুড় ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে।

দাম বাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের মুদি দোকানদার বাসার বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমরা বেশি দামে কিনেছি, তাই বেশি দামে বিক্রি করছি। রমজান উপলক্ষে দাম বাড়ানোর বিষয়ে আমাদের কোনো হাত নেই।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/06/1557133232974.jpg

বাজার করতে আসা শাহিনা আক্তার বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘রোজার আর মাত্র একদিন বাকি। তার আগেই প্রতিটি সবজির দাম বেড়েছে। আমাদের মতো মধ্যবিত্ত মানুষদের জন্য এ বাড়তি দাম অনেকটাই কষ্টকর।’

অন্যদিকে মাছ ও চালের বাজারে স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। সর্বশেষ খুচরা বাজারের তথ্য অনুযায়ী, রুই মাছের কেজি ৩০০ টাকা, পাঙাশ ১৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৫০ টাকা, বোয়াল ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশ মাছ বড় আকারের হালি ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/06/1557123627128.gif

চালের সর্বশেষ খুচরা বাজারের তথ্য অনুযায়ী প্রতি কেজি মিনিকেট চাল ৫২ টাকা, ২৮-চাল ৪০ টাকা, পারি চাল ৩৮ টাকা, নাজিরশাইল চাল ৬০ টাকা, কাটারি ভোগ ৯৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে চিনিগুঁড়া চালের দাম কিছুটা বেড়ে ৯৫ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মুরগি ব্যবসায়ী সোহেল বার্তা২৪.কমকে জানান, বাজারে মুরগি কম আসছে। তাই তিনদিনের ব্যবধানে সব ধরনের মুরগি কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে।

মাংসের বাজার ঘুরে দেখা যায়, কেজিপ্রতি ব্রয়লার মুরগি ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা, কক মুরগি ২২০ টাকা, পাকিস্তানি মুরগি ২৮০ টাকা, দেশি মুরগি ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাংসের মধ্যে গরু ৫৫০ টাকা এবং খাসি ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতা আবু নাছের বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘রমজান আসলেই সব কিছুর দাম বেড়ে যায়। সরকারও বলতে থাকে আমরা বাজার মনিটরিং করছি। আমাদের মতো সাধারণ ক্রেতারা তার কোনো সুফল পায় না।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/06/1557133264798.jpg

এদিকে সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছিলেন, রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে ও চাঁদাবাজি বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তবে বাজার ঘুরে তার বিপরীত চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে পণ্যের বাড়তি দামের বিষয়ে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমি মনে করি বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের দায়িত্ব। তাই সরকারের উচিত রমজানের আগে বাজারকে স্থিতিশীল রাখা।’

আপনার মতামত লিখুন :

প্রস্তাবিত দরেই শেয়ার কিনতে হবে নিলামে অংশগ্রহণকারীদের

প্রস্তাবিত দরেই শেয়ার কিনতে হবে নিলামে অংশগ্রহণকারীদের
ছবি: সংগৃহীত

 

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) বুক বিল্ডিং পদ্ধতির বিডিংয়ে অংশগ্রহণকারীদেরকে প্রস্তাবিত দরেই শেয়ার কিনতে হবে। একই সঙ্গে যে পরিমাণ শেয়ার কেনার জন্য দর প্রস্তাব করবে, সেই পরিমাণ কিনতে হবে।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৬৯৩তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের দুই পুঁজিবাজার ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই ও সিএসই) এবং ডিএসই ব্রোকাস অ্যাসোসিয়েশনের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন এই সিদ্ধান্ত নেয়।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে নিলামে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দকৃত শেয়ার সম্পূর্ণ বিক্রি না হলে, সেই ইস্যু বাতিল করা হবে। এই পদ্ধতিতে বিডারদের নাম ও তাদের প্রস্তাবিত দর প্রদর্শন করানো যাবে না। আর বিডিংয়ের জন্য নিলামকারীদেরকে শতভাগ অর্থ সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দিতে হবে।

এক্ষেত্রে শেয়ার সর্বোচ্চ দর প্রস্তাবকারী থেকে বিতরণ শুরু হবে, যা ক্রমান্বয়ে নিচের দিকে নামবে। যে মূল্যে বিতরণ শেষ হবে, সেটাই কাট-অব প্রাইস হবে। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সেই মূল্য থেকে ১০ শতাংশ কমে শেয়ার ক্রয় করবেন। আর কাট-অব প্রাইসে যদি একাধিক বিডার থাকেন, তাহলে যে বিডার আগে বিড করবেন তাকে আগে শেয়ার দেওয়া হবে।

বিডিংয়ের চূড়ান্ত ফল, মূল্য ও বরাদ্দকৃত শেয়ারের সংখ্যাসহ যারা শেয়ার পেয়েছেন, তাদের ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠানো হবে। একইসঙ্গে ইস্যুয়ার, ইস্যু ম্যানেজার এবং এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। অকৃতকার্য বিডারের টাকা পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে ফেরত দেবে স্টক এক্সচেঞ্জ। আর কৃতকার্য বিডারের টাকা পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে ইস্যুয়ারের ব্যাংক হিসাবে জমা দেবে।

কমিশন বুক বিল্ডিংয়ে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কোটা ৬০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫০ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কোটা ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪০ শতাংশ করা হবে।

অন্যদিকে, ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কোটা ৪০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩০ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কোটা ৪০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে।

আইপিওতে যোগ্য বিনিয়োগকারী হিসেবে কোটা সুবিধা পেতে সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগ থাকতে হবে। এই বিনিয়োগের পরিমাণ কি হবে, কমিশন তা প্রত্যেক পাবলিক ইস্যুর সম্মতিপত্রে উল্লেখ করবে। অন্যথায় সংরক্ষিত শেয়ারের কোটা সুবিধা পাবেন না। পূর্বের ইস্যুকৃত মূলধনের ৮০ শতাংশ ব্যবহার না করে পাবলিক ইস্যুর প্রস্তাব করা যাবে না। আইপিওতের ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে কমপক্ষে ৩০ কোটি টাকা বা পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশ উত্তোলন করতে হবে।
যেটির পরিমাণ বেশি, সেই পরিমাণ তুলতে হবে। আর বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ৭৫ কোটি টাকা বা পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশ উত্তোলন করতে হবে। এক্ষেত্রেও যেটির পরিমাণ বেশি, সেই পরিমাণ উত্তোলন করতে হবে।

ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে সম্মিলিতভাবে আবেদন ৬৫ শতাংশের কম হলে ইস্যু বাতিল করা হবে। আর ৬৫ শতাংশের বেশি এবং ১০০ শতাংশের কম হলে, বাকি শেয়ার অবলেখক (আন্ডাররাইটার) গ্রহণ করবে।

এদিকে আইপিও’র আবেদনের সময় ইস্যুয়ারকে পূর্বে নগদে উত্তোলিত মূলধনের ক্ষেত্রে ব্যাংকের অথবা অডিটরের সার্টিফিকেট এবং ব্যাংক স্টেটমেন্ট দাখিল করতে হবে। আর নগদ ব্যতিত উত্তোলিত মূলধনের ক্ষেত্রে যৌথ মূলধনী কোম্পানির রেজিস্টারের সার্টিফাইড ভেন্ডর এগ্রিমেন্ট এবং সম্পদের মালিকানা সংক্রান্ত টাইটেল ডকুমেন্ট কমিশনে জমা দিতে হবে।

ব্যাংক এশিয়ার ৫০০ কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন

ব্যাংক এশিয়ার ৫০০ কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন
ছবি: সংগৃহীত

পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত ব্যাংক এশিয়ার ৫০০ কোটি টাকার নন-কনভার্টেবল সাবঅর্ডিনেটেড বন্ডের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) কমিশনের ৬৯৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, সাত বছর মেয়াদী এই বন্ডের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে নন-কনভার্টেবল, আনলিস্টেড, ফুল্লি রিডেম্বল, ফ্লাটিং রেটেড এবং সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড। সাত বছরে বন্ডটি পূর্ণ অবসায়ন হবে। যা শুধুমাত্র স্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা কোম্পানি, করপোরেট বডি এবং যোগ্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ইস্যু করা হবে।

উল্লেখ্য, এই বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ উত্তোলন করে ব্যাংক এশিয়ার টায়ার-টু মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করবে। এই বন্ডের প্রতিটি ইউনিটির অভিহিত মূল্য এক কোটি টাকা। এই বন্ডের ম্যানডেটেড লিড অ্যারেঞ্জার এবং ট্রাস্টি হিসাবে যথাক্রমে স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক এবং গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স কাজ করছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র