Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

রমজানের প্রথম দিনই অস্থির রাজধানীর কাঁচাবাজার

রমজানের প্রথম দিনই অস্থির রাজধানীর কাঁচাবাজার
সবজি/ছবি: বার্তা২৪.কম
তৌফিকুল ইসলাম
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

প্রথম রোজা পালন করছে বাংলাদেশের মুসলমানরা। বিগত কয়েকদিন ধরেই নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তি ছিল। কিন্তু রোজা শুরুর প্রথম দিনই যেন আরও অস্থির হয়ে উঠেছে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলো।

মঙ্গলবার (৭ মে) সকালে রাজধানীর‍ টাউন হল, কারওয়ান বাজার ও হাতিরপুল বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব পণ্যের দামই বাড়তি।

রাজধানীর টাউন হলসহ অন্যন্য বাজারে রোজার প্রথম দিন কেজি প্রতি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। যা এক দিন আগে ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। যা আগের দিন ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা।

Fish
বেড়েছে মাছের দাম/ছবি:বার্তা২৪.কম


এদিকে, কাঁচা পেঁপে ৬০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৪৫ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, ঝিঙ্গা ৬০ টাকা, শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, টমেটো ৩০ টাকা, গাঁজর ৫০ টাকা, ফুলকপি ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৫০ টাকা পিস, লাউ ৪০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৩৫ টাকা, ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ ২৮ টাকা, আদা ১১০ টাকা, রসুন ১১০ টাকা, আলু ১৯ থেকে ২২ টাকা ও ক্যাপসিকাম ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

টাউনহলের ব্যবসায়ী মামুন বার্তা২৪.কমকে বলেন, পাইকারি বাজার থেকে আমরা বেশি দামে পণ্য কিনি। তাই দাম না বাড়িয়ে উপায় থাকে না। আমরা যে দামে কিনি, তার চেয়ে দুই থেকে পাঁচ টাকা বেশিতে বিক্রি করি। কারণ, এখানে তো আমাদের লাভের বিষয় আছে।

এদিকে, রোজার প্রথম দিন হওয়ায় ইফতারের জন্য চাহিদা ও সরবরাহ বেড়েছে সব ধরনের ফলের। কারওয়ান বাজারের ফলের বাজার ঘুরে দেখা যায়, ফলের যথেষ্ট সরবরাহ আছে, তবে দাম খানিকটা বেশি বলছেন ক্রেতারা।

Fruits
ফলের দামও বাড়তি/বার্তা২৪.কম

 

বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি পেয়ারা ১০০ থেকে ১১০ টাকা, পাকা পেঁপে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, বেল ৭০ টাকা, কাঁচা আম ৬০ টাকা, তরমুজ ৭০ থেকে ১০০ টাকা, বাংগি ৮০ থেকে ১২০ টাকা, আনারস ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ডাব ৫০ থেকে ৬০ টাকা, আপেল ২০০ টাকা, বেদানা ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা, আঙুর সাদাটা ৩০০, লালটা ৪৫০ টাকা, মালটা ১৬০ টাকা এবং খেজুর মান ভেদে ২৫০ থেকে ১৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সাগর কলা ১০০ টাকা ডজন, চম্পা কলা ৬০ টাকা ডজনে বিক্রি হচ্ছে।

ফল কিনতে আসা আলাউদ্দিন আলী বার্তা২৪.কমকে বলেন, ইফতারের জন্য ফল তো লাগেই। দু’দিন আগেও ফল কিনেছিলাম, তখন দাম কিছুটা কম ছিল। তবে আজ রোজার প্রথম দিনে এসে দেখি, সব ফলের দাম বেড়ে গেছে।

চালের বাজার ঘুরে দেখা যায়, রাজধানীর সব বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল আছে। এদিকে, বিক্রেতারা জানিয়েছেন, পোলাওয়ের চালের দাম কিছুটা বেড়ে ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর চালের দাম বাড়েনি দেখে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ক্রেতা সেলিনা পারভীন।

হাতিরপুলের মাংসের বাজার ঘুরে দেখা যায়, কিছুটা দাম বেড়ে ফার্মের মুরগি ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা, পাকিস্তানি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, কক মুরগি ২০০ থেকে ২২০ টাকা ও দেশি মুরগি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত দামেই গরু ও খাসির মাংস বিক্রি হতে দেখা গেছে এই মাংসের বাজারে।

হাতিরপুলের মুরগির ব্যবসায়ী সেলিম বার্তা২৪.কমকে বলেন, দেশি মুরগিসহ সব মুরগি একেবারেই কম আসছে। এজন্য দামটা বেড়েছে। তবে রোজা উপলক্ষে মুরগির দাম বাড়ার কথা অস্বীকার করেন এই ব্যবসায়ী।

এদিকে, মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবকিছুর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মাছের দাম খানিকটা বেড়েছে। মাছ ব্যবসায়ী রহমান শেখ জানান, রোজার সময় চাহিদা বেশি থাকায় দামও কিছুটা বেশি।

হাতিরপুলে প্রথম রোজায় প্রতি কেজি পাবদা ৫০০ টাকা, টেংরা ৫০০ টাকা, বেলে মাছ ৫০০ টাকা, ছোট পুঁটি ৪০০ টাকা, গুঁড়া মাছ ৩৫০ টাকা, বাটা মাছ ১৫০ টাকা, তেলাপিয়া মাছ ১৬০ টাকা, রুই মাছ ২২০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছ কিনতে আসা মাসুদ মিয়া বার্তা২৪. কমকে বলেন, ছোট মাছ কেনার জন্য এসেছি বাজারে। তবে মাছের দাম অনেক বেশি। গত সপ্তাহে আমি পাবদা মাছ কিনেছিলাম সাড়ে ৩০০ টাকা কেজি। আজ দেখি ৫০০ টাকা।

Fish
পাবদা মাছ/বার্তা২৪.কম

 

এদিকে, মুদি বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজার ভেদে দুই থেকে পাঁচ টাকা বেড়েছে ছোলা, চিনি, তেল, আটা, ময়দা, বেসন, মুড়ি, চিঁড়া, গুড়, আটাসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম।

ক্রেতা শামসুন নাহার বার্তা২৪.কমকে বলেন, রোজাকে কেন্দ্র করে প্রায় সব জিনিসের দাম বেড়েছে। সরকারের সঠিক নজরদারি থাকলে দাম নিয়ন্ত্রণে থাকতো।

রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখা যায়, রোজাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর সব বাজারে পণ্যের দাম সমান নয়। বাজার ভেদে দামেরও বেশ তারতম্য রয়েছে। কারওয়ান বাজারে যে পণ্যের খুচরা মূল্য ৫০ টাকা, হাতিরপুল বা টাউনহল বাজারে সেটি ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হয়।

আপনার মতামত লিখুন :

এজেন্টদের ১৫ শতাংশের বেশি কমিশন দেবে না বিমা কোম্পানি

এজেন্টদের ১৫ শতাংশের বেশি কমিশন দেবে না বিমা কোম্পানি
ছবি: সংগৃহীত

এজেন্টদের ১৫ শতাংশের বেশি কমিশন দেবে না সাধারণ বিমা কোম্পানিগুলো।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তরা বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের বৈঠকে (আইডিআরএ) অঙ্গীকার করেছেন।

আইডিআরএ চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান পাটোয়ারির সভাপতিত্বে বৈঠকে আইডিআরএ’র সদস্য, পরিচালক এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্সে অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেনসহ কোম্পানির চেয়ারম্যান, এমডি এবং মুখ্য নির্বাহীরা ১৫ শতাংশের অধিক কমিশন বন্ধে দৃঢ় প্রত্যয় এবং কর্তপক্ষের সার্কুলারের সাথে পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।

সভায় শেখ কবির হোসেন আইডিআরএ’র নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য বিমা কোম্পানিগুলোর চেয়ারম্যান ও নির্বাহীদের আন্তরিকতা প্রদর্শনে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘এখন থেকে কোনো নন-লাইফ বিমাকারী ১৫ শতাংশের বেশি কমিশন প্রদান করে ব্যবসা করবে না।’

সভায় আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘সকলের এ কার‌্যকর এবং সম্মিলিত উদ্যোগের ফলে বিমা শৃঙ্খলা ও সুষ্ঠুবাজার ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।’

অবৈধ কয়েল বিক্রি: দুই প্রতিষ্ঠানকে মামলা, ২ জনের কারাদণ্ড

অবৈধ কয়েল বিক্রি: দুই প্রতিষ্ঠানকে মামলা, ২ জনের কারাদণ্ড
জব্দকৃত মশার কয়েল, ছবি: সংগৃহীত

সনদ ছাড়াই অবৈধভাবে নিন্মমানের কয়েল বিক্রি করার অপরাধে দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই অপরাধে আনলু ব্যান্ডের মশার কয়েলের দুই কর্মকর্তাকে ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর মিরপুরে অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ মামলা ও কারাদণ্ড দেয়। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিএসটিআইয়ের আইন, ২০১৮ অমান্য করে ড্রাগন ব্রান্ডের মশার কয়েল বাজারজাত করায় মিরপুরের মেসার্স মীম এন্টারপ্রাইজের মালিক মোশারফ আলীর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়া একই অপরাধে আনলু ব্যান্ডের মশার কয়েল বিক্রি-বিতরণ করায় ম্যানেজার মো. আতিকুর রহমান (২৮) ও মাছুম আলম (৪৯) কে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে উভয় ব্যান্ডের ১৩০ কার্টুন মশার কয়েল জব্দ করা হয়। এ সময় লাইসেন্সবিহীন মশার কয়েল ক্রয় ও ব্যবহার হতে বিরত থাকার জন্য ক্রেতাসাধারণকে পরামর্শ প্রদান করা হয়। বিএসটিআই’র এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বেগম রাশিদা আক্তারের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র