Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

মহাখালী কাঁচাবাজার: মেয়র সন্তুষ্ট হলেও ক্ষুব্ধ ক্রেতা

মহাখালী কাঁচাবাজার: মেয়র সন্তুষ্ট হলেও ক্ষুব্ধ ক্রেতা
মহাখালী কাঁচাবাজারের একটি মাংসের দোকান, ছবি: সুমন শেখ
মনি আচার্য্য
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর মহাখালী কাঁচাবাজারে কোনও অনিয়ম খুঁজে পাননি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। তার মতে, এই বাজারের সব পণ্যই বিক্রি হচ্ছে নির্ধারিত মূল্যে।

রোববার (১২ মে) আকস্মিকভাবে মহাখালী কাঁচাবাজার পরিদর্শন শেষে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে এমন কথাই বলেছেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। কিন্তু সোমবার (১৩ মে) সরেজমিন গিয়ে এর উল্টো চিত্রই চোখে পড়েছে।

ঠিকই অধিকাংশ দোকানে লোক দেখান নির্ধারিত মূল্য তালিকা টানিয়ে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু পণ্য বিক্রি করছেন নিজেদের হাঁকানো দামেই।

অন্যদিকে, বাজার নিয়ে মেয়রকে সন্তুষ্ট দেখে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ক্রেতারা। তারা বলেছেন, মেয়র সন্তুষ্ট হলেও আমরা সন্তুষ্ট না। কেননা, দুই-একটি পণ্য ছাড়া বাজারের প্রায় সব পণ্যই নির্ধারিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী নয়, ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী বিক্রি হচ্ছে।

Bazar
মহাখালী কাঁচাবাজারের মুদি দোকানেও পণ্য বিক্রি হচ্ছে বেশি দামে, ছবি: সুমন শেখ 

 

দেখা গেছে, মাংস ও মুদির দোকানে নির্ধারিত মূল্য তালিকা টানিয়ে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু সে দামে মাংস বিক্রি করছেন না ব্যবসায়ীরা। নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী প্রতি কেজি গরুর মাংস ৫২৫ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকায়। ৮০০ টাকার নিচে বিক্রি হচ্ছে না খাসির মাংস, কিন্তু এর নির্ধারিত মূল্য ৭৫০ টাকা। এছাড়া ৭০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ভেড়া ও ছাগীর মাংস। যা বিক্রি হওয়ার কথা ছিল ৬৫০ টাকায়।

জানা গেছে, এই বাজারে কোনও খাসির মাংস বিক্রি হয় না। রোজা শুরু হওয়ার পর দুই-একটি খাসি জবাই করা হয়েছিল, যার দাম কেজি প্রতি ৮০০ টাকার নিচে নামেনি। আর বাকি ছাগীর মাংসকে খাসির মাংস বলে চালিয়ে দিয়ে কখনও ৭০০ বা ৭৫০ টাকায় বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। এছাড়া মুদি দোকানগুলোতে মূল্য তালিকা থাকলেও অধিকাংশ দোকানে তালিকা মেনে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে না। এদিকে, সবজির দোকানগুলোতে কোনো মূল্য তালিকাই নেই।

মহাখালী কাঁচাবাজারে আসা মো. আনিস নামে এক ক্রেতা বার্তা২৪.কমকে বলেন, মেয়র সাহেব যখন এসেছিলেন, তখন ব্যবসায়ীরা বলেছেন, নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু আমরা নির্ধারিত দামে মাংস বা অন্য কোনও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যই কিনতে পারছি না। তাহলে কীভাবে এই বাজারে অনিয়ম খুঁজে পায়নি সিটি করপোরেশন? একটি দোকানেও কি নির্ধারিত মূল্যে মাংস বিক্রি হচ্ছে? এসব লোক দেখান কথা বললে ব্যবসায়ীরা আরও মাথায় উঠে যাবে।

Capci
সবজির দামও বাড়তি, ছবি: সুমন শেখ 

 

মো. সিদ্দিকুর রহমান নামে এক ক্রেতা বার্তা২৪.কমকে বলেন, প্রতিদিন বাজার মনিটরিং না করে হঠাৎ এসে বলে দিলেই কি হবে যে সব নিয়ন্ত্রণে? আমি তো আজ বাজার করতে এসে মাংস থেকে শুরু করে অধিকাংশ পণ্যই নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা দিয়ে কিনেছি। এছাড়া অনেক দোকানি মূল্য তালিকা লুকিয়ে রাখেন। অভিযান হলে তালিকা টানিয়ে দেন।

ক্রেতাদের অভিযোগ অনুযায়ী এ বাজারের সব থেকে বেশি নিয়ম ভঙ্গ করছেন মাংস ব্যবসায়ীরা। গরু বলে দিচ্ছেন মহিষ, খাসি বলে দিচ্ছেন ছাগী বা ভেড়ার মাংস। আর দামও রাখছেন নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি।

Vegetable
সবজির দামও বাড়তি, ছবি: সুমন শেখ 

 

ক্রেতাদের এমন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় বাজারের মনু মাংসের দোকানে গিয়ে। দেখা যায়, ছাগীর মাংস বিক্রি করা হচ্ছে খাসির মাংস বলে। আর দামও চাওয়া হচ্ছে ৭৫০ টাকা।

এ ব্যাপারে দোকানের মালিক মো. মনুরুদ্দিনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কোনও বাজারেই খাসির মাংস ৮০০-৮৫০ টাকার নিচে নেই। আর যা ৭০০ টাকা বা ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, তা ছাগীর মাংস। ৭৫০ টাকায় খাসির মাংস বিক্রি করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না। তালিকায় যাই থাকুক না কেন। আর গরুর মাংস কোথাও ৫২৫ টাকায়, আবার কোথাও ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

Atik
বাজার পরিদর্শন করেন মেয়র, ছবি: সংগৃহীত

 

নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী পণ্য বিক্রির বিষয়ে কুমিল্লা জেনারেল স্টোরের দোকানি মো. ইসমাইল বার্তা২৪.কমকে বলেন, এ বাজারের মুদি দোকানগুলোতে তালিকা অনুযায়ীই পণ্য বিক্রি হচ্ছে। তবে সবজি ও মাংসের দোকানের ব্যাপারে কিছু অভিযোগ রয়েছে। নিয়মিত মনিটরিং হলে হয়তো তারাও নিয়মের মধ্যেই চলবেন।

আপনার মতামত লিখুন :

সেঞ্চুরিয়ান খেলাপি ঠেকাতে বিশেষ সেল

সেঞ্চুরিয়ান খেলাপি ঠেকাতে বিশেষ সেল
বাংলাদেশ ব্যাংক

শীর্ষ ঋণ খেলাপিদের কাছ থেকে টাকা আদায়ে বিশেষ নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রত্যেক ব্যাংককে ১০০ কোটি টাকার ওপরে খেলাপি ঋণবিশিষ্ট গ্রাহকদের তালিকা তৈরি ও আদায়ের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সোমবার (২২জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নির্দেশনা দেয়া হয়।

বিআরপিডি’র মহাব্যবস্থাপক একেএম মহিউদ্দিন আজাদ সাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশে কার্যরত সকল তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে তফসিলি ব্যাংকসমূহের অপরাপর সব শ্রেণিকৃত ঋণসহ ১০০ কোটি টাকা এবং তদূর্ধ্ব স্থিতি বিশিষ্ট শ্রেণিকৃত ঋণ হিসাবসমূহ নিবিড় তদারকি একান্ত আবশ্যক। তাই শ্রেণিকৃত ঋণ হিসাব তদারকির নির্দেশ দেয়া হচ্ছে।

এর মধ্যে সব ব্যাংক সংশ্লিষ্ট উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালককে প্রধান করে একটি বিশেষ তদারকি সেল গঠন করবে। যারা ১০০ কোটি টাকা বা তার বেশি শ্রেণিকৃত ঋণ হিসাব তদারকি করবে। তদারকি সেল ত্রৈমাসিক বিবরণীতে বর্ণিত শ্রেণিকৃত ঋণ হিসাব আদায় অগ্রগতিসহ যাবতীয় তথ্য স্ব স্ব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে জানাবে। এ ছাড়া ত্রৈমাসিক বিবরণী পরবর্তী মাসের শেষ কর্মদিবসে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের টাস্কফোর্স সেলে দাখিল করবে।

এ বিবরণীতে প্রদর্শিত শ্রেণিকৃত ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ কিংবা অন্য কোনো কারণে নিয়মিত বলে গণ্য হলেও নিয়মিত হওয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী ৮টি (আট) ত্রৈমাসিক পর্যন্ত তা বিবরণীতে রাখতে হবে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ওই বিবরণীর যথাযথ পর্যালোচনা নিশ্চিত করবে। এ ক্ষেত্রে ঋণের বকেয়া আদায়ের নিমিত্তে ব্যাংক ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ একটি সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। পরিচালনা পর্ষদ নিয়মিতভাবে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে পর্যালোচনাপূর্বক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।

আগামী অক্টোবর-ডিসেম্বর, ২০১৯ থেকে এপ্রিল-জুন, ২০২০ ত্রৈমাসিক পর্যন্ত ওই বিবরণীর হার্ড ও সফট (এক্সএল সিট) কপি দাখিল করতে হবে। আগামী এপ্রিল-জুন, ২০২০ ত্রৈমাসিক থেকে আলোচ্য বিবরণী বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

ডিএসইতে কপারটেকের তালিকাভুক্তির অনুমোদন

ডিএসইতে কপারটেকের তালিকাভুক্তির অনুমোদন
কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড

শর্তসাপেক্ষে বহুল আলোচিত কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে তালিকাভুক্তির অনুমোদন দিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

আইনগতভাবে তালিকাভুক্ত করার সুযোগ না থাকায় শর্তসাপেক্ষে কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্তির অনুমোদন দিল ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ।

সোমবার (২২ জুলাই) ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের তালিকাভুক্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হয়ে গেছে। এ অবস্থায় কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্ত করার সুযোগ নেই। তবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সময় বাড়ানোর অনুমোদন সাপেক্ষে কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএসই। এ লক্ষ্যে ডিএসই থেকে শিগগিরই সময় বাড়ানোর জন্য বিএসইসিতে চিঠি দেওয়া হবে।

ডিএসই’র তালিকাভুক্তির নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো কোম্পানি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করলে ওই কোম্পানির আইপিও সাবস্ক্রিপশন (আইপিও আবেদন গ্রহণ) শেষ হওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তালিকাভুক্ত হতে হবে। তবে কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের ক্ষেত্রে সেই সময় অনেক আগেই পার হয়ে গেছে।

কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ পুঁজিবাজার থেকে ২ কোটি শেয়ার ছেড়ে ২০ কোটি টাকা উত্তোলন করার অনুমোদন পায়। এ টাকা উত্তোলনে ৩১ মার্চ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত কোম্পানিটির আইপিওতে আবেদন গ্রহণ করা হয়। ফলে চলতি বছরের ২৬ মে’র মধ্যে কোম্পানিটি ডিএসইতে তালিকাভুক্তির বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু ডিএসই পর্ষদ অনুমোদন না দেয়ায় কোম্পানিটির তালিকাভুক্তি আটকে যায়।

এরপর ডিএসই’র পর্ষদ কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্তির জন্য ২৩ জুন পর্যন্ত সময় দিয়ে বিএসইসির কাছে দিক-নির্দেশনা চেয়ে চিঠি দেয়। তবে বিএসইসি ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে কোন দিক-নির্দেশনা বা পরামর্শ দেওয়া থেকে বিরত থাকে।

গত ১১ জুলাই কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের তালিকাভুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ম্যানেজমেন্টের কাঁধে দায়িত্ব দেয় পরিচালনা পর্ষদ। এর আলোকে ম্যানেজমেন্ট কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের তালিকাভুক্তির বিষয়ে আইন-কানুন পর্যালোচনা করে। যা ডিএসইর আজকের সভায় দাখিল করা হয়। যা যাচাই-বাছাই শেষে কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজকে শর্তসাপেক্ষে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএসই পর্ষদ।

এর আগে ২৩ মে আর্থিক হিসাবে অসঙ্গতির অভিযোগে কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজকে তালিকাভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নেয় ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ। আর ৪ জুলাই কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ ইস্যুতে অসহযোগিতার জন্য বিতর্কিত নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান আহমেদ অ্যান্ড আক্তারের প্রাকটিসিং লাইসেন্স নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেয় দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সব ধরনের কোম্পানির নিরীক্ষা কাজের যোগ্যতা হারিয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র