Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

আর নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রয়োজন নেই

আর নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রয়োজন নেই
ছবি: সংগৃহীত
সেরাজুল ইসলাম সিরাজ
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

২০৩০ সালের চাহিদা পূরণে নতুন করে আর বিদ্যুৎ প্রকল্প হাতে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। বিদ্যুৎ বিভাগের উন্নয়ন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার সেলের এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে।

পাওয়ার সেল মনে করছে, ২০৩০ সালের চাহিদা পূরণের জন্য নতুন করে আর বিদ্যুৎ প্রকল্প করার প্রয়োজন নেই। নির্মাণাধীন প্রকল্প, চুক্তি স্বাক্ষরিত ও এলওআই (আগ্রহপত্র) ইস্যু করা হয়েছে- এমন প্রকল্পগুলোকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, সংশোধিত পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্ল্যান (২০১৬) অনুযায়ী, ২০৩০ সালে বিদ্যুতের চাহিদার প্রাক্কলন করা হয়েছে ৩৭ হাজার ২৪ মেগাওয়াট, আর যদি সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহার (ইইঅ্যান্ডসি) নিশ্চিত করা যায়, তাহলে চাহিদা হবে ১৯ হাজার ৬১৯ মেগাওয়াট।

অন্যদিকে, বর্তমানে স্থাপিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর নেট উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে (২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত) ১৬ হাজার ৯১৪ মেগাওয়াট। পর্যায়ক্রমে বেশকিছু বিদ্যুৎ কেন্দ্র অবসরে যাবে। এতে করে ২০৩০ সালে পুরনো বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে ৯ হাজার ২৮৯ মেগাওয়াট।

পাইপলাইনে থাকা বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো থেকে ২০৩০ সালে নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদনে আসবে ৩৪ হাজার ৭২৩ মেগাওয়াট। একই সময়ে বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে ২ হাজার ৩৩৬ মেগাওয়াট। আমদানি, নতুন ও পুরনো মিলে মোট উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়াবে ৪৬ হাজার ৩৪৮ মেগাওয়াট। আর ঠিক সেই সময়ে সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে চাহিদা দাঁড়াবে ২৯ হাজার ৬১৯ মেগাওয়াট। অর্থাৎ বর্ধিত উৎপাদন ক্ষমতা হবে ১৬ হাজার ৭১৯ মেগাওয়াট।

অর্থাৎ প্রাক্কলন অনুযায়ী সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০৩০ সালে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। এটাকে অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এতো বর্ধিত বিদ্যুৎ বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের সবচেয়ে বড় বিপদ হচ্ছে, দিন-রাত ও পিক-অফপিকের ফারাক। এ কারণে বসিয়ে রেখে রেখে অনেক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে। শীত মৌসুমে এই চিত্র ভয়াবহ।

Graf

যেমন, রোববার (১২ মে) সকাল ৭টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৮ হাজার ৫২৭ মেগাওয়াট। আর রাত ৮টায় গিয়ে সেই চাহিদা দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ১২ হাজার মেগাওয়াটে। অর্থাৎ দিন-রাতের ব্যবধান প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াটের মতো পার্থক্য। সেচ ও শীত মৌসুমে এই ব্যবধান আরও বেড়ে যায়। যে কারণে বসিয়ে রেখে ভাড়া পরিশোধ করায় পিডিবির কাঁধে দিন দিন ঘাটতির বোঝা বাড়ছে।

পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন বার্তা২৪.কমকে বলেন, একটি কমিটি করা হয়েছিল, কমিটি মনে করছে, পাইপলাইনে থাকা প্রকল্পগুলোই যথেষ্ট। স্বাভাবিকভাবে চাহিদার তুলনায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ উৎপাদন ক্ষমতা বেশি রাখতে হয়। নিয়মিত সার্ভিসিং করতে হয়, আবার হঠাৎ বিকল হয়ে যেতে পারে এ কারণে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে হলে আমাদের প্রক্ষেপিত চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি উৎপাদন ক্ষমতা অর্জিত হবে ২০৩০ সালে। সে কারণে নতুন করে আর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের চুক্তির প্রয়োজনীয়তা কমিটি দেখছে না বলে জানান মোহাম্মদ হোসাইন।

যদি পাওয়ার সেলের এই হিসেবেকে অনেকেই কাজির গরুর সঙ্গে তুলনা করেছেন। তারা বলেছেন, চুক্তি ও এলওআই ইস্যু করা মানেই বিদ্যুৎ কেন্দ্র হয়ে গেল এমনটা ভাবার সুযোগ নেই। কারণ, অনেকের ব্যর্থতার হিসেবও চোখের সামনে জ্বলজ্বল করছে।

২০১২ সালে প্রথম ওরিয়ন গ্রুপের সঙ্গে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের চুক্তি করে সরকার। এগুলো হচ্ছে মাওয়া ৫২২ মেগাওয়াট, খুলনা ২৮২ ও চট্টগ্রাম ২৮২ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। খুলনা ও চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ২০১৬ সালের মার্চে উৎপাদন শুরু করার কথা ছিল। আর মাওয়া ৫২২ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির ২০১৬ সালের জুলাই মাসে উৎপাদনে যাওয়ার কথা।

কিন্তু উৎপাদনে যাওয়া তো দূরের কথা, প্রায় সাড়ে ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও কাজই শুরু করতে পারেনি ওরিয়ন গ্রুপ। দ্বিতীয় দফায় আরও তিনটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ঢাকা-২৮২ মেগাওয়াট, চট্টগ্রাম ২৮২ ও ঢাকা ৬৩৫ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের এলওআই (আগ্রহপত্র) ইস্যু করা হয় ২০১৩ সালে। সেগুলোর অগ্রগতিও শূন্য শতাংশ। দফায় দফায় শুধু সময় বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু এখনও পর‌্যন্ত অর্থায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি ওরিয়ন।

এ ব্যর্থতার কারণে গত বছরের ১৭ অক্টোবর বিদ্যুৎ বিভাগের এক উচ্চ পর‌্যায়ের সভায় ভর্ৎসনা করা হয় ওরিয়ন গ্রুপকে। সেখানে বলা হয়, চলতি মাসের (অক্টোবর) পর আর যদি সময় বাড়ানো হয়, তাহলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে। এখানে বিদ্যুৎ বিভাগ যতটা গর্জেছে ততটা বর্ষণ দেখা যায়নি।

সরকারের মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল এসব কেন্দ্রের বিদ্যুৎ। কিন্তু উৎপাদনে যেতে না পারায় সরকারকেও অনেকটা বেকায়দায় পড়তে হয়। বাধ্য হয়ে বহুল সমালোচিত রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নতুন করে নবায়ন করতে হয়। এর আগে সামিট গ্রুপ বিবিয়ানায় একটি গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে এভাবে ব্যর্থ হয়।

আপনার মতামত লিখুন :

এজেন্টদের ১৫ শতাংশের বেশি কমিশন দেবে না বিমা কোম্পানি

এজেন্টদের ১৫ শতাংশের বেশি কমিশন দেবে না বিমা কোম্পানি
ছবি: সংগৃহীত

এজেন্টদের ১৫ শতাংশের বেশি কমিশন দেবে না সাধারণ বিমা কোম্পানিগুলো।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তরা বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের বৈঠকে (আইডিআরএ) অঙ্গীকার করেছেন।

আইডিআরএ চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান পাটোয়ারির সভাপতিত্বে বৈঠকে আইডিআরএ’র সদস্য, পরিচালক এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্সে অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেনসহ কোম্পানির চেয়ারম্যান, এমডি এবং মুখ্য নির্বাহীরা ১৫ শতাংশের অধিক কমিশন বন্ধে দৃঢ় প্রত্যয় এবং কর্তপক্ষের সার্কুলারের সাথে পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।

সভায় শেখ কবির হোসেন আইডিআরএ’র নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য বিমা কোম্পানিগুলোর চেয়ারম্যান ও নির্বাহীদের আন্তরিকতা প্রদর্শনে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘এখন থেকে কোনো নন-লাইফ বিমাকারী ১৫ শতাংশের বেশি কমিশন প্রদান করে ব্যবসা করবে না।’

সভায় আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘সকলের এ কার‌্যকর এবং সম্মিলিত উদ্যোগের ফলে বিমা শৃঙ্খলা ও সুষ্ঠুবাজার ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।’

অবৈধ কয়েল বিক্রি: দুই প্রতিষ্ঠানকে মামলা, ২ জনের কারাদণ্ড

অবৈধ কয়েল বিক্রি: দুই প্রতিষ্ঠানকে মামলা, ২ জনের কারাদণ্ড
জব্দকৃত মশার কয়েল, ছবি: সংগৃহীত

সনদ ছাড়াই অবৈধভাবে নিন্মমানের কয়েল বিক্রি করার অপরাধে দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই অপরাধে আনলু ব্যান্ডের মশার কয়েলের দুই কর্মকর্তাকে ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর মিরপুরে অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ মামলা ও কারাদণ্ড দেয়। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিএসটিআইয়ের আইন, ২০১৮ অমান্য করে ড্রাগন ব্রান্ডের মশার কয়েল বাজারজাত করায় মিরপুরের মেসার্স মীম এন্টারপ্রাইজের মালিক মোশারফ আলীর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়া একই অপরাধে আনলু ব্যান্ডের মশার কয়েল বিক্রি-বিতরণ করায় ম্যানেজার মো. আতিকুর রহমান (২৮) ও মাছুম আলম (৪৯) কে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে উভয় ব্যান্ডের ১৩০ কার্টুন মশার কয়েল জব্দ করা হয়। এ সময় লাইসেন্সবিহীন মশার কয়েল ক্রয় ও ব্যবহার হতে বিরত থাকার জন্য ক্রেতাসাধারণকে পরামর্শ প্রদান করা হয়। বিএসটিআই’র এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বেগম রাশিদা আক্তারের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র