Alexa

ঈদকে সামনে রেখে গরম মসলার বাজার

ঈদকে সামনে রেখে গরম মসলার বাজার

দোকানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে নানা পদের মসলা, ছবি: বার্তা২৪.কম

ঈদের বাকি আর সপ্তাহখানেক। রাজধানীর মসলার বাজারগুলোতে এরই মধ্যে বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। ঈদে মাংস রান্নায় বিভিন্ন ধরনের মসলা দরকার হয়। তাই ঈদের সময় তুলনামূলকভাবে চাহিদা বাড়ে মসলার। বাজার বুঝে এ সময় দামও বাড়িয়ে দেন ব্যবসায়ীরা।

রাজধানীর মসলার বাজারে এরই মধ্যে এলাচের দাম কেজিতে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেড়ে গেছে। কয়েকদিন আগে যে এলাাচ বিক্রি হতো ২৪০০ টাকায়। এখন তা ২৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত বছর এই সময়ে ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা কেজিতে এলাচ বিক্রি হয়েছে। একই সঙ্গে এবার জয়ত্রী ও পেস্তা বাদামের দামও ঊর্ধ্বমুখী।

বুধবার (২৯ মে) রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার এবং কারওয়ান বাজার ঘুরে ঈদ কেন্দ্রিক মসলার এই বাড়তি দামের বিষয়টি জানা যায়।

Kismis
দোকানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে কিসমিস, ছবি: বার্তা২৪.কম

 

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের মসলা ব্যবসায়ী রহমান মিয়া বার্তা২৪.কমকে বলেন, মসলার আমদানি শুল্ক বেড়েছে। আমাদের খরচ বাড়লে পণ্যের দামের ওপর সে প্রভাব পড়ে। পাইকারি থেকে খুচরা সবখানেই দাম বেড়ে যায়।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে মসলা কিনতে আসা মো. আতাউর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ঈদের সামনে মসলার দাম বাড়ায় আমরা সাধারণ ক্রেতারা বিপাকে পড়েছি। কোনো উৎসব এলে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে মসলার দাম বাড়িয়ে দেন। ঈদকে কেন্দ্র করে জিনিসপত্রের দাম বাড়ানোটা ব্যবসায়ীদের একটা অপকৌশল। আর আমরা সাধারণ ক্রেতারা বাড়তি দাম দিয়ে তাদের অপকৌশলের বলি হই।

কারওয়ান বাজারের মসলা ব্যবসায়ী এরাইট স্টোরের মালিক আব্দুল খালেক বার্তা২৪.কমকে বলেন, বেশির ভাগ মসলার দাম এবার স্থিতিশীল রয়েছে। তবে এলাচ, জয়ত্রী ও পেস্তা বাদামের দাম কিছুটা বাড়তি। এসব পণ্যের দাম ঈদ উপলক্ষে বাড়েনি। মসলার আমদানিকারকরা আমাদের জানিয়েছেন, আমাদের এখানে এলাচের বড় অংশ আমদানি করা হয় কুয়েত থেকে। সেখানে এলাচের ফলন কম হওয়ায় এবার এলাচের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে জয়ত্রী ও পেস্তা বাদামও এবার কম এসেছে। ফলে দাম একটু বেড়েছে।

ঈদের বাজার করতে আসা রওশন আক্তার বার্তা২৪.কমকে বলেন, ঈদের সময় যেহেতু স্পাইসি খাবার বেশি রান্না করা হয়, তাই মসলার চাহিদা একটু বেশি থাকে। তবে মসলা কিনতে এসে দেখি দাম গত মাসের চেয়ে অনেক বেড়েছে। দাম বাড়ার কারণে যতটুকু কিনতে চেয়েছিলাম তার চেয়ে একটু কম কিনতে হচ্ছে।

সরকারের নজরদারি থাকলে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াতে পারতেন না বলেও মনে করেন তিনি।

টাউনহলের ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত মসলার মজুদ আছে। ঈদকে সামনে রেখে মসলার কোনো সংকট হবে না। মসলার দাম ঈদের আগে আর বাড়ার সম্ভাবনা নেই।

Spice

বর্তমান বাজারে মান ভেদে প্রতি কেজি জয়ত্রী ২৪০০ টাকা, যা আগে ছিল ২০০০ টাকা, পেস্তা বাদাম ১৯০০ থেকে ২১৫০ টাকা, যা আগে ছিল ১৭০০ টাকা, দারুচিনি ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা, লবঙ্গ ৮৫০ থেকে ৯৫০ টাকা, জিরা ৩২০ থেকে ৩২০ টাকা, তেজপাতা ১০০ থেকে ১৪০ টাকা, সাদা গোলমরিচ ৭০০ টাকা, কালো গোলমরিচ ৫০০ টাকা, জয়ফল ৪৫০ থেকে ৯০০ টাকা, কিসমিস ৩০০ থেকে ৩৭০ টাকা, আলুবোখারা ৩৩০ টাকা, পোস্তদানা ৯৮০ থেকে ১১৫০ টাকা, কাঠবাদাম ৭৫০ টাকা, কাজুবাদাম ৯০০ টাকা ও চিনাবাদাম ১০৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান ভোক্তাদের উদ্দেশে বার্তা২৪.কমকে বলেন, যে সব মসলার দাম বেড়ে গেছে, ক্রেতারা যদি সেগুলো একটু কম কেনেন, তাহলে এসব পণ্যের দাম কমে যাবে।

এদিকে, ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কথায় আছে, ‘চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী'। আমাদের ব্যবসায়ীদের অবস্থা ঠিক ওই রকমই। যারা শুধু লাভের পেছনে ছোটেন, তারা তো ভোক্তার কথা চিন্তা করবেন না।

আপনার মতামত লিখুন :

অর্থনীতি এর আরও খবর