Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

পাইকারি বাজার পেরুলেই দাম বেড়ে দ্বিগুণ

পাইকারি বাজার পেরুলেই দাম বেড়ে দ্বিগুণ
কারওয়ান বাজারে শাক-সবজি কিনছেন ক্রেতারা | ছবি: সুমন শেখ
রাকিবুল ইসলাম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

মাছ-মাংস, শাক-সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে প্রতিদিন কারওয়ান বাজারে ভিড় জমান রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। খুচরা ক্রেতাদের পাশাপাশি পাইকারি দরে বাজার করতে এখানে আসেন খুচরা ব্যবসায়ীরাও। তারা কারওয়ান বাজার থেকে পণ্যসামগ্রী কিনে নগরীর অন্যান্য বাজারে বিক্রি করেন খুচরা দামে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ পাইকারি বাজার থেকে বের হলেই পণ্যের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

সোমবার (১০ জুন) রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে পণ্যের দাম আর খুচরা ব্যবসায়ীদের হাত বদলে যাওয়া দামে বিস্তর ফারাক দেখা যায়।

পাইকারি সবজি বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাইকারি দরে পটল কেজি ১৫ টাকা কিন্তু খুচরা বিক্রি ৪০ টাকায়। একইভাবে কচু লতি ২৫ টাকা কিনে খুচরা বিক্রি ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়, চালকুমড়া প্রতি পিস ১০ টাকা দরে কিনে বিক্রি হয় ২০/২৫ টাকায়, কাঁচাকলা হালি ১৫ টাকায় কিনে বিক্রি ২৫ টাকায়, করলা প্রতি কেজি ১৫ টাকায় কিনে বিক্রি ৩০/৩৫ টাকা, লাউ ২০ টাকায় কিনে বিক্রি হয় ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়।

তবে লাগামহীন বৃদ্ধি পেয়েছে কাঁচা মরিচের দাম। পাইকারি বিক্রেতাদের থেকে প্রতি কেজি ৩৫/৩৬ টাকায় কেনা মরিচ খুচরা ব্যবসায়ীরা বিক্রি করছেন ৭০ টাকারও বেশি দরে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/10/1560153935247.jpg
বাজার সূত্রে জানা যায়, কারওয়ান বাজারের পাইকারি বেচাকেনা শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গে পাশেই শুরু হয় খুচরা বিক্রি। রাতভর যেখানে পাইকারি বিক্রি হয়েছে সেখানে সকাল থেকে চলে খুচরা বিক্রি। রাতের ফুরিয়ে সকাল হতেই দাম বেড়ে যাচ্ছে দ্বিগুণ। কারওয়ান বাজারে পাইকারির চেয়ে দ্বিগুণ দামে কাঁচাবাজার করেও অনেক ক্রেতা স্বস্তি প্রকাশ করেন। কারণ, কারওয়ান বাজার থেকে বেরিয়ে কিছুটা এগিয়ে গেলেই কোনো কোনো পণ্যের দাম তিন থেকে চার গুণ বেশি হয়ে যাবে।

নিয়মিত কারওয়ান বাজারে আসেন সরকারি কর্মকর্তা শাহজাহান সরকার। বার্তা২৪.কমকে তিনি বলেন, আমি বনশ্রীতে থাকি, সময় সুযোগ পেলেই সকালে চলে আসি কারওয়ান বাজারে। এখানে যে সবজির মূল্য ৩০ টাকা বনশ্রীতে গেলে তার মূল্য দাঁড়ায় ৫০ টাকার বেশি।

ঈদের পরে প্রথম দিন বাজারে এসেছেন জানিয়ে শাহজাহান বলেন, রোজায় যে দামে সবজি কিনলাম ভেবেছিলাম এখন তার চেয়ে কম দামে পাওয়া যাবে। এসে দেখি দামটা আগের মতোই।

কারওয়ান বাজারে ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতিদিন ইজারা তুলেন হাজী মোহাম্মদ জাকির হোসেন। বার্তা২৪.কমকে তিনি বলেন, পাইকারি বাজার শুরু হয় সন্ধ্যা ৭টায়, শেষ সকাল ৭টায়। এরপর পাইকারি বিক্রি আর থাকে না। সকালের পর বাজার মূল্যের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় খুচরা ব্যবসায়ীদের হাতে। তারা তাদের মতো দাম রাখেন।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/10/1560153958409.jpg
সবজির পাইকারি ব্যবসায়ী জামাল হোসেন বলেন, আমরা ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছি। বলতে গেলে অনেকটা কেনা দামে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে ছেড়ে দিচ্ছি। এখন বাজারে তেমন মানুষ নাই। সবজির যোগান প্রচুর। সে দিক থেকে ক্রেতা নেই বললেই চলে।

দাম নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানান খুচরা ব্যবসায়ীরা। মোহাম্মদ মঞ্জিল নামে এক খুচরা ব্যবসায়ী বার্তা২৪.কমকে বলেন, ঈদের পরে সব মানুষ এখনও ঢাকায় ফেরেনি। দুই-একদিনের মধ্যেই মানুষ ফিরবে, আমাদের বিক্রিও বেড়ে যাবে।

আপনার মতামত লিখুন :

‘এমন গহনা তৈ‌রি করুন, যাতে কেউ বিদেশমুখী না হন'

‘এমন গহনা তৈ‌রি করুন, যাতে কেউ বিদেশমুখী না হন'
স্বর্ণমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি/ ছবি: বার্তা২৪.কম

দে‌শের স্বর্ণ কা‌রিগরদের উদ্দেশে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ব‌লে‌ছেন, ‘আপনা‌দের দক্ষতা কা‌জে লা‌গি‌য়ে এমন গহনা তৈ‌রি করুন, যাতে ক্রেতা‌রা ভারতের কলকাতাসহ বিদেশের বিভিন্ন শহরমুখী না হন।’

মঙ্গলবার (২৫ জুন) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে স্বর্ণমেলার সমাপনী অনুষ্ঠা‌নে তিনি এসব কথা ব‌লেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এন‌বিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার সভাপ‌তি‌ত্বে অনুষ্ঠা‌নে আ‌রও উপ‌স্থিত ছি‌লেন এনবিআর-এর সদস্য (আয়কর) কানন কুমার রায়, বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সভাপ‌তি গঙ্গা চরণ মালাকার, সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগারওয়ালা সহ স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও রাজস্ব কর্মকর্তারা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561473259556.jpg

বা‌ণিজ্যমন্ত্রী ব‌লেন, ‘আমা‌দের অনেক ধনী মানুষ আছেন, যারা ভারতের কলকাতা, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর থেকে স্বর্ণের গহনা কেনেন। দেশে অনেক দক্ষ কারিগর রয়েছেন, তা‌দের হা‌তের কাজ অনেক সুন্দর। তারা যদি ভালো মানের গহনা তৈরি করতে পারেন, তাহলে কেউ আর গহনার জন্য বিদেশমুখী হবেন না।’

‘বরং দেশের গহনা বিদেশে রফতানি করা যাবে। আমরা বিদেশে রফতানির জন্য বিশেষ প্রণোদনারও চিন্তা করব।’

স্বর্ণ কারিগরদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন উল্লেখ ক‌রে বা‌ণিজ্যমন্ত্রী ব‌লেন, ‘কারিগরদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউশন খুব দরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্র‌য়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঢাকার আশপা‌শে একটি জুয়েলারি পল্লী স্থাপনের জন্য সহযোগিতা কর‌বে।’ আগামী এক মা‌সের ম‌ধ্যে এ বিষ‌য়ে সং‌শ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ‌কে চি‌ঠি দেওয়া হ‌বে ব‌লে তি‌নি জানান।

অনুষ্ঠা‌নে এন‌বিআর চেয়ারম্যান ও বাংলা‌দেশ অর্থ‌নৈ‌তিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ‌কে জমি বরা‌দ্দের জন্য চি‌ঠি দেওয়া হবে ব‌লে জানানো হয়।

সোনা বৈধ বাবদ মেলায় ১৭৫ কোটি টাকার কর আদায়

সোনা বৈধ বাবদ মেলায় ১৭৫ কোটি টাকার কর আদায়
হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে স্বর্ণ মেলার সমাপনী অনুষ্ঠান/ছবি: বার্তা২৪.কম

 

দেশে প্রথমবার অনুষ্ঠিত ‘স্বর্ণ মেলায়’ ঢাকা বিভাগে অবৈধ রুপা, সোনা এবং ডায়মন্ড বৈধ করতে ১৭৫ কোটি টাকার কর দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) তিনদিন ব্যাপী স্বর্ণ মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ জুয়েলারি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগারওয়াল। তবে কত কোটি টাকার সোনা, রুপা এবং ডায়মন্ড বৈধ করা হয়েছে তার দেননি তিনি।

তিনদিন ব্যাপী এই মেলা রাজধানী ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটলসহ দেশের ৮ টি বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়। এনবিআর ও বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) যৌথভাবে মেলার আয়োজন করে।

দিলীপ কুমার আগারওয়াল বলেন, স্বর্ণ মেলায় এখন ( সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা ) পর্যন্ত এক হাজার ২০০ মানুষ তাদের ডায়মন্ড, সোনা ও রুপা বৈধ করতে এসেছেন। আজকে মেলার শেষ দিনে এক হাজার লোক ডায়মন্ড, সোনা ও রুপা বৈধ করান। মেলায় এখন পর্যন্ত ১৭৫ কোটি টাকার কর দিয়ে সোনা বৈধ করা হয়েছে।

এর আগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডর (এনবিআরের) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বার্তা২৪.কম-কে বলেন, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে ৩০০ কোটি টাকার কর আদায় হবে বলে আশা করছি।

গত ২৩ জুন সকাল ১০টায় মেলা উদ্বোধন করেন এনবিআর চেয়ারম্যান। মেলার সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন এনবিআরের সদস্য (কর ও প্রশাসন) কানন কুমার রায়।

মেলায় ব্যবসায়ীরা ভরিপ্রতি রুপা ৫০ টাকা, স্বর্ণ ভরপ্রতি ১ হাজার এবং ডায়মন্ড ভরিপ্রতি ৬ হাজার টাকা দিয়ে ব্যবসায়ীরা স্বর্ণ, রুপা এবং ডায়মন্ড বৈধ করেছেন। ৪০০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মেলার আয়োজন করে এনবিআর ও বাজুস।

তিন দিনব্যাপী ‘স্বর্ণ মেলা-২০১৯'র প্রথম দুদিনে মোট ৫১ কোটি টাকার দিয়ে সোনা, রূপা ও ডায়মন্ড বৈধ করেছেন ২১০ জন ব্যবসায়ী।

 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র