Barta24

বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯, ৯ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

‘মার্কিন সাহায্য ছাড়া সৌদি দুই সপ্তাহও টিকবে না’-ট্রাম্প

‘মার্কিন সাহায্য ছাড়া সৌদি দুই সপ্তাহও টিকবে না’-ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প/ ছবি: সংগৃহিত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহযোগিতা ছাড়া দেশটির ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরব ও সেদেশের বাদশাহ ‍দুই সপ্তাহও টিকবে না বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে এক শোভাযাত্রায় ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।

শোভাযাত্রায় আনন্দ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, ‘সৌদি আরবকে আমরা রক্ষা করি। বলতে পারেন তারা ধনী এবং আমি বাদশাহ সালমানকে পছন্দ করি। কিন্তু বাদশাহকে বলছি- আমরা আপনাদের রক্ষা করছি, আমাদের সাহায্য ছাড়া আপনারা দুই সপ্তাহও টিকে থাকতে পারবেন না। আমাদের সামরিক বাহিনীর জন্য আপনাদের প্রার্থনা করা উচিৎ।’

ট্রাম্প যখন সৌদি বাদশাহকে এসব কথা বলছিলেন তখন যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম বাড়াচ্ছিল সৌদি আরব। কিন্তু ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে এই বিষয়ে কিছু বলেননি।

বিশ্বে সবচেয়ে বড় তেল রফতানিকারক দেশ সৌদি আরব এবং তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক-এর অঘোষিত মোড়ল, যা কিনা তেলের উচ্চমূল্যের জন্য ট্রাম্পের সমালোচনার শিকার হয়।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানায়, তেলের বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য সরবরাহ বজায় রাখার নিয়ে আলোচনার জন্য শনিবার বাদশাহ সালমানকে ডেকেছিলেন ট্রাম্প।

গত সপ্তাহে সৌদি প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান কুয়েতের আমির শেখ সাবাহ আ-আহমেদ আল-জাবের আল-সাবাহ’র সাথে আলোচনার জন্য কুয়েত সফর করেন। বলা হচ্ছে, তেল উৎপাদন বৃদ্ধি নিয়ে কথা বলার জন্যই এই সফর।

কুয়েত বৈঠক থেকে তেমন কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে উপসাগরীয় সংকটও এই বৈঠকের বিষয় ছিল।

গত মাসে জাতিসংঘের সাধারণ সভায় ট্রাম্প বলেছিলেন যে ওপেক সদস্যরা বিশ্বের বাকি দেশগুলোকে সরিয়ে রাখছেন।

তেলের দাম বাড়ছে। বর্তমানে এক ব্যারেল (প্রায় ১৫৯ লিটার) তেলের দাম প্রায় ৭৫ মার্কিন ডলার, গত বছর থেকে তা আস্তে আস্তে বাড়ছে। ২০১৭ সালের অক্টোবরে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ছিল ৫০ ডলার। 

এপি’র তথ্যমতে, মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে এক গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম ছিল তিন ডলার। কঠোর উক্তির পরেও সৌদি আরবের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে, যাকে এই অঞ্চলে ইরানের উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার উপায় হিসেবে দেখা হয়।

গত বছর প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম আন্তর্জাতিক সফর করেছিলেন সৌদি আরবে। এই ঘটনার পরেই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে মদদ দেওয়ার অভিযোগে ও ইরানের সাথে সুসম্পর্ক রাখার নিন্দা করে কাতারের উপর অবরোধ আরোপ করেন বাহরাইন, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব।

কাতার সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘বিনা লাভেই আমরা অনেক দেশকে রক্ষা করি এবং পরে উচ্চদামে তেল দিয়ে তারা আমাদের কাছ থেকে সুবিধা নেয়। এটি ঠিক না। আমরা চাই, তারা তেলের দাম হ্রাস করুক।’

১৯৯০ সালে প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধ থেকে ২০০৩ সালে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডোনাল্ড রামসফেল্ডের সৌদি ত্যাগের ঘোষণার পূর্ব পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সৌদি আরবে অবস্থান করেছিল।

২০০৯ সালের এক জনমত জরিপ অনুযায়ী, বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম জনগোষ্ঠীই মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে পবিত্র দুটি স্থান মক্কা ও মদিনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর উপস্থিতির বিরোধিতা করেছিল।

এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে বড় ঘাঁটি কাতারে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও জার্মানিকে নিজেদের প্রতিরক্ষায় আরও আর্থিক খরচ বাড়ানোর জন্য চাপ দিচ্ছেন।

 

আপনার মতামত লিখুন :

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের কনজারভেটিভ পার্টির প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন বরিস জনসন। এ হিসেবে তিনিই দেশটির প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) দলের সদস্যদের ভোটে জয়ী হন তিনি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জেরেমি হান্ট, তবে বেশ বড় ব্যবধানে তাকে হারিয়েছেন বরিস জনসন। তিনি পেয়েছেন ৯২ হাজার ১৫৩ ভোট। অন্যদিকে জেরেমি পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৬৫৬ ভোট।

বিজয়ের পর দেওয়া ভাষণে জনসন ব্রেক্সিট রক্ষা এবং দেশে একতা ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। 

তিনি বলেন, আমরা দেশের শক্তি বৃদ্ধি করতে যাচ্ছি। ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ব্রেক্সিট সম্পন্ন করব। এর সমস্ত সুযোগ-সুবিধা নতুন শক্তির সঞ্চার ঘটাবে।

ব্রিটেনের নতুন এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আবারো নিজেদের স্বকীয়তায় বিশ্বাসী হতে যাচ্ছি। আমরা নিদ্রাকাতরতা থেকে জেগে উঠতে যাচ্ছি। যারা আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি এবং নেতিবাচকতা ধারণ করছেন, আমরা তাদের জাগাতে যাচ্ছি।

সদ্য সাবেক হওয়া প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মেকে ধন্যবাদ দেন তিনি। নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় বরিস জনসনকে অভিনন্দন জানান থেরেসা মে। তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করা ঘোষণা দেন তিনি।

সূত্র: বিবিসি

হুয়াওয়েকে ‘সময়মত’ ব্যবসার লাইসেন্স দেবে যুক্তরাষ্ট্র

হুয়াওয়েকে ‘সময়মত’ ব্যবসার লাইসেন্স দেবে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

হুয়াওয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর মার্কিন মুল্লুকে ব্যবসা করতে ফের অনুমতি দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। তবে পুরো ব্যবসার জন্য ‘সময়মত’ লাইসেন্স ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন সরকার।

চীনা জায়ান্টটির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টারা বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে এ কথা জানায় হোয়াইট হাউজ।

ওই বৈঠকে গুগল, কোয়ালকমসহ আরও বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। হুয়াওয়েকে কালো তালিকাভুক্তি থেকে সরাতে গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানও হোয়াইট হাউজকে অনুরোধ জানায়।

হোয়াইট হাউজ সোমবার (২২ জুলাই) এক বিবৃতিতে জানায়, হুয়াওয়ের পক্ষ থেকে দেশটিতে মুক্তভাবে ব্যবসা করার লাইসেন্স চেয়ে অনুরোধ জানানো হয়। এরপর বৈঠকে তারা ‘সময় মত’ সিদ্ধান্তটি জানাবে। তবে দেশটির শক্ত অবস্থান থাকবে জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুটিতে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিসকো সিস্টেম ইনকর্পোরেশনের সিইও, ইন্টেল, ব্রডকম, কোয়ালকম, মাইক্রোন টেকনোলজি, ওয়েস্টার্ন ডিজিটাল এবং আলফাবেট ও গুগলের প্রধান নির্বাহী ও কর্মকর্তারা।

এর আগে গত মে মাসে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ হুয়াওয়েকে দেশটিতে কালো তালিকায় অন্তুর্ভুক্ত করে। পরে দেশটির বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করে দেয়।

হুয়াওয়ে এখন পর্যন্ত টেলিযোগাযোগ খাতে বিশেষ করে ফাইভজি বিস্তারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে। তবে কবে পাওয়া যাবে সেই লাইসেন্স, তা জানায়নি হোয়াইট হাউজ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র