Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ইন্টারপোল প্রধানের পদত্যাগপত্র পেল ফ্রান্স

ইন্টারপোল প্রধানের পদত্যাগপত্র পেল ফ্রান্স
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

 

চীনে আটক ইন্টারপোলের প্রেসিডেন্ট মেং হংওয়েই-এর কাছ থেকে জরুরি ভিত্তিতে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে ফ্রান্স। আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, রোববার ফ্রান্সের লিঁও ভিত্তিক পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থাটির প্রধান চীনা নাগরিক মেং হংওয়েই এর কাছ থেকে পদত্যাগপত্র পায়।

১২ দিন নিখোঁজ থাকার পর চীন ঘোষণা দেয় যে চীনা আইনের অনির্দিষ্ট লঙ্ঘনের কারণে মেং তদন্তাধীন আছেন। আর চীনের এ ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই এই পদত্যাগপত্র পাওয়া গেল।

সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি নিয়ে কাজ করা চীনের ন্যাশনাল সুপারভিশরি কমিশন এক বিবৃতিতে জানায় যে আইন ভঙ্গের সন্দেহে মেং বর্তমানে তদন্তাধীন আছেন।

এর আগে রোববার মেং হংওয়েই-এর স্ত্রী গ্রেস মেং জানায় যে মেং তার নিজের দেশ চীনে থাকার সময় গুম হওয়ার আগে তাকে একটি ছুরির ছবি পাঠায়।

এই বিষয়ে ফ্রান্সের লিঁওতে জনসমক্ষে দেওয়া প্রথম বক্তব্যে গ্রেস বলেন যে তিনি ভেবেছিলেন এই ছুরি দিয়ে তার স্বামী বিপদে পড়ার কথা বুঝাতে চেয়েছিলেন।

সেপ্টেম্বরের ২৫ তারিখে এই বার্তা পাওয়ার পর থেকে তার স্বামীর সাথে কোন ধরণের যোগাযোগ নেই। গ্রেস বলেন, এই বার্তা পাঠানোর আগে মেং আরেক বার্তায় বলেছিলেন যে ‘আমার ফোনের অপেক্ষায় থাক’।

রোববারও গ্রেস মেং চিন্তা করতে পারেননি যে মেং-এর ক্ষেত্রে কী ঘটতে যাচ্ছে।

মেং চীনে গ্রেফতার হয়েছেন এই কথা গ্রেস বিশ্বাস করেছিলেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চীনে কী ঘটেছিল আমি নিশ্চিত ছিলাম না।’

লিঁও-এ এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রেস তার মুখ ঢেকে একটি বিবৃতি পাঠ করেন। মুখ ঢাকার কারণ হিসেবে তিনি জানান যে তিনি নিজের ও তার দুই সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে ভয়ে আছেন।

মেং চীনের একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা, একই সাথে তিনি পুলিশের আন্তর্জাতিক সংগঠন ইন্টারপোলের প্রেসিডেন্ট।

গত শনিবার লিঁও ভিত্তিক আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা জানায় যে মেং এর অবস্থান সম্পর্কে জানার জন্য আইন প্রয়োগকারী চ্যানেলে চীনের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে।  

মেং এর গুম হওয়ার কথা জনসমক্ষে আসে গত শুক্রবার, যখন ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানায় যে মেং এর ক্ষেত্রে কী ঘটেছে তা খুঁজে বের করতে তারা অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। মেং দীর্ঘদিন যাবৎ চীনের জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের উপ-মন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন।

দক্ষিণ চীন মর্নিং পোস্ট সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে জানা যায়, মেংকে চীনা কর্তৃপক্ষ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়েছে। পত্রিকাটি নামবিহীন এক সূত্রের বরাত দিয়ে জানায় যে মেংকে জিজ্ঞাবাদের কারণ অজানা।

মেং এর গুম হওয়ার খবর প্রথম দেন তার স্ত্রী গ্রেস। লিঁও পুলিশকে তিনি বলেন যে চীনে পৌঁছার পর থেকে তিনি মেং এর সাথে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না।

ইন্টারপোলের ওয়েব সাইটের তথ্যমতে, অপরাধীদের বিচার ও পুলিশি কাজে মেং এর প্রায় ৪০ বছরের অভিজ্ঞতা আছে এবং বৈধ প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত বিষয়, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম দেখাশোনা করেছেন।

ইন্টারপোলের নিয়োগের পরে সমালোচকরা বলেছিলেন যে, মেং এর নিয়োগ চীনা প্রেসিডেন্টের দুর্নীতি বিরোধী প্রচারণার অংশ হিসেবে দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করতে আন্তর্জাতিক সাহায্য পাওয়ার ক্ষেত্রে বেইজিংকে একটি সুযোগ দিল।

কিন্তু ইন্টারপোল সমালোচকদের এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে এবং বলে যে সংস্থাটির প্রধান অথবা মহাসচিব কেউেই প্রতিদিনের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করেন না।

আপনার মতামত লিখুন :

যদি মোজো করতে চাও, স্মার্টলি করো

যদি মোজো করতে চাও, স্মার্টলি করো
ছবি. কানালায়উই ওয়ায়েক্লায়হং

মোবাইল জার্নালিজম এখন এক বাস্তবতা। তবে একজন সাংবাদিক হিসেবে এই আলোচনাও হতে পারে, মোবাইল জার্নালিজম কি আমাদের জন্য সুযোগের নতুন দ্বার উন্মোচন করছে? মোবাইল জার্নালিজম কি আমাদের ভবিষ্যত নিউজরুম অথবা আমাদের ক্যারিয়ারের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠছে?

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563273807946.png

এসব প্রশ্নের মধ্যে প্রথমটির উত্তর আমি পেয়েছি সম্প্রতি ব্যাংককে অনুষ্ঠিত মোবাইল জার্নালিজম কনফারেন্স ২০১৯-এ। যাকে বলা হচ্ছে #মোজোএশিয়া২০১৯।

মোজোএশিয়া২০১৯-এর আয়োজক ছিল কর্নাড এডেনয়ার স্টিফটাং (কেএএস) নামক প্রতিষ্ঠান। সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে কেএএস-এর পরিচালক ক্রিস্টোফ গ্রাবিটজ বলেন, এশিয়ার দেশগুলোতে যখন স্বাধীন সাংবাদিকতা রুদ্ধ হয়ে এসেছে, তখন মোবাইল সাংবাদিকতা হতে পারে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার একটি বড় উপায়।

এই সম্মেলনে ৩৩টি দেশ থেকে পেশাদার সাংবাদিক, সংবাদ প্রযোজক এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা যোগ দেন। এখানে যেমন মোবাইল জার্নালিজমের ওপর কর্মশালা পরিচালিত হয়, তেমনি অনেকেই নিজেদের ধারণা এবং মোবাইল সাংবাদিকতার উদাহরণ উপস্থাপন করেন।

শুধু সাংবাদিক নয় এখন প্রায় সকলের হাতেই রয়েছে স্মার্টফোন। মোবাইল ফোনের ব্যবহার এই ধারণাকেই বদলে দিয়েছে, যে সংবাদ শুধুমাত্র সাংবাদিকের কাছ থেকেই আসতে হবে৷ বরং যে কোনো স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর কাছ থেকেই আসতে পারে৷ আবার একজন সাংবাদিক মোবাইল ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত এবং ঘটনার আরো কাছে গিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করতে পারেন। তবে এখানে একটি প্রশ্ন আসছে যে, যদি মোবাইল ব্যবহারকারী দিনের ২৪ ঘণ্টাই প্রতিবেদন তৈরি করতে চায় বা বলতে চায়, সেটি পেশাদারিত্ব হবে কিনা?

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563274071108.png
উদ্বোধনী বক্তব্যে কেএএস-এর পরিচালক ক্রিস্টোফ গ্রাবিটজ ◢

 

এই দুদিনের ওয়ার্কশপে কোনো প্রশিক্ষকই, কী পদ্ধতিতে মোবাইল ব্যবহার করে প্রতিবেদন তৈরি করা যায়, সেটি নিয়ে আলোচনা করেননি। তারা শুধুমাত্র বলে গিয়েছেন, মোবাইল তাদের কাজে কী ধরনের সুবিধা তৈরি করছে বা তাদের সম্পাদকীয় নীতিমালায় কিভাবে মোবাইল ব্যবহারের বিষয়গুলো এসেছে।

অন্যদিকে সামাজিক এবং কমিউনিটির উন্নতিতে মোজো বড় ভূমিকা রাখতে পারে। সে বিষয়ে কিছু প্রকল্পের উদাহরণও দেখানো হয়েছে সম্মেলনে।

সম্মেলনের মধ্যে লেবাননের সাংবাদিক এবং সাংবাদিকতার প্রশিক্ষক সারাহ টেইটসের প্রকল্প উপস্থাপনা সত্যি আমার ভালো লেগেছে। সিরিয়া যুদ্ধের সংবাদ সংগ্রহের সময় মোজো কিভাবে তার কাজে সাহায্য করেছে, উপস্থাপন করেন তিনি৷

মোজো সাংবাদিকতার তিন ধারণা

তিনি বলেন, যুদ্ধাবস্থার এলাকাগুলো থেকে সাংবাদিকরা শুধু যুদ্ধের অবস্থা, ক্ষয়ক্ষতি, ধ্বংস এবং শরণার্থী বা ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়ে প্রতিবেদন করেন৷ তবে আরেকটি সত্যি হচ্ছে, এই খারাপ দিনগুলো থেকেও তারা একদিন সুখে থাকার স্বপ্ন দেখেন, জীবনে সমৃদ্ধির জন্য চেষ্টা করেন। জীবনকে ছেড়ে দেন না।

সারাহ যুদ্ধকালীন সময়ে তিনটি শরণার্থী ক্যাম্পে মোজো প্রশিক্ষণ প্রদান করেন শরণার্থীদের। এবং তার এই উপস্থাপনায় এটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে মোজো শুধুমাত্র সাংবাদিকদের জন্য নয়, বরং সকলের জন্য।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563274315964.png
লেবাননের সাংবাদিক এবং সাংবাদিকতার প্রশিক্ষক সারাহ টেইটস ◢

 

এবার আসি পরের আলোচনায়। মোজো কি আমাদের পরবর্তী নিউজরুম? আসলে আমার মনে হয় না, এই প্রশ্নের উত্তর এখনই পাওয়া যাবে। তবে, ফিলিপাইন, পাকিস্তান, ভারত, বাংলাদেশ এবং থাইল্যান্ডের অনেক সাংবাদিকও এরই মধ্যে বলেছেন, সব দেশেই মোজোর ভিন্নতা রয়েছে এবং বর্তমান সময়ে প্রতিবেদন তৈরিতে মোজো খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তাই আমার মনে হয়, গণমাধ্যমের, নিউজরুমের খুব ভালোভাবে জানা প্রয়োজন কেন আমরা নিউজরুমে মোজোর ওপর গুরুত্ব দেব? উত্তর হচ্ছে, খরচ বাঁচানো, সবার প্রথমে সংবাদ পরিবেশন এবং স্থানীয়দের সংবাদ তৈরিতে উৎসাহ প্রদান করতে।

যাই হোক, যদিও মোজো সবার জন্য, প্রযুক্তির এই দুনিয়ায় যখন তথ্যের স্রোত বইছে, সেসময় মোজো কিন্তু ভুল সংবাদের উৎসও হয়ে উঠতে পারে। যা ঘৃণা ছড়াতে, ভুল তথ্য ছড়াতে বা বিভ্রান্ত করতে সহায়ক হতে পারে৷ তাই যখন মোজো করা হবে, সেখানে তথ্যের উৎস এবং সত্যতা সম্পর্কে আরো বেশি নিশ্চিত হতে হবে। এর মানে নিউজরুম, স্থানীয় গণমাধ্যম এমনকি নাগরিক সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে মোজোতে আনতে হবে পেশাদারিত্ব।

সম্মেলনের একজন আলোচক বলেছিলেন, যদি তুমি মোজোকে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে চাও, এটাকে নির্ভুল করো প্রথমে। সম্মেলনের এই বক্তব্যের সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ একমত। শুধু আপনার হাতে ফোন আছে বলেই আপনি দায়িত্বহীনভাবে যা ইচ্ছে বলে যাবেন, সেটা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563274529956.png

মোজো সাংবাদিকতার তিন ধারণা

মোজো সাংবাদিকতার তিন ধারণা
ছবি. কানালায়উই ওয়ায়েক্লায়হং

সম্প্রতি থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল #মোজোএশিয়া২০১৯ বা মোবাইল জার্নালিজম কনফারেন্স এশিয়া ২০১৯। এই সম্মেলনের অংশগ্রহণ আমার জন্যে মোবাইল জার্নালিজমের নতুন কিছু দিক উন্মোচিত করে—কিভাবে বিভিন্ন প্লাটফর্মে মোবাইল ব্যবহার করে সাংবাদিকতা করা যায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563272117653.png

এই সম্মেলনের একটি ছোট কর্মশালায় অংশ নিয়েছিলাম আমি। সেখান থেকে মোজো কী করতে পারে, এমন তিনটি আইডিয়া বা ধারণা শেয়ার করছি।

প্রথম হচ্ছে ডকুমেন্টারি। কী, শুনতে ভালো লাগছে, তাই না! আমি প্রথমবারের মতো এটা শিখলাম যে, মোবাইল গুণগত ডকুমেন্ট সংগ্রহের জন্যে ভালো মাধ্যম হতে পারে।

আমি স্পেনের টেলিভিশন মোবাইল সাংবাদিক লিওনোর সুয়ারেজের মোজো কর্মশালায় অংশ নিয়েছিলাম। তবে আমার জন্যে সবচেয়ে বিস্ময়কর ছিল তার ৫০ মিনিটের ইতিহাসনির্ভর ডকুমেন্টারি। যার নাম ‘টাইম অব রিভেঞ্জ’ বা ‘সময়ের বদলা’।

ডকুমেন্টারি দেখেই বোঝা গিয়েছে লিওনোর এটি নির্মাণ করতে কঠিন পরিশ্রম করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই ডকুমেন্টারির ভিডিও করেছেন তিনি ৬ দিন ধরে এবং সম্পাদনা করেছেন প্রায় একমাস সময় নিয়ে। আইফোন৬এস এবং আরো কিছু অনুষঙ্গ ব্যবহার করেছেন তিনি ভিডিওর জন্যে। আর আইমুভি অ্যাপসেই করেছেন পুরো ভিডিওর সম্পাদনা।

যদি মোজো করতে চাও, স্মার্টলি করো

বিষয়টি হচ্ছে, যদি আমি এই কর্মশালার আগে তার এই ভিডিও ডকুমেন্টারিটি দেখতাম, আমার পক্ষে কখনোই বোঝা সম্ভব হতো না এটি মোবাইল ফোনে ধারণ করা। কারণ তার ফ্রেম, কম্পোজ, অভিনয় এবং অন্য সবকিছুই ছিল খুবই নিখুঁত। এটা আমার নিজের প্রকল্প তৈরিতেও উৎসাহ যোগায়। যেখানে আমি মোবাইলে দীর্ঘ প্রতিবেদন তৈরি করতে পারব। এছাড়াও বড় বিষয় হচ্ছে, লিওনোর শুধু মোবাইল দিয়ে যে একটি ডকুমেন্টারি তৈরি করেছেন তা নয়, বরং তিনি সেই ডকুমেন্টারি থেকে আরো বিভিন্ন বিষয় এবং বিভিন্ন দিক নিয়ে তার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জন্যে কনটেন্ট তৈরি করেছেন। এটি আমাকে এই ধারণাও দিয়েছে যে, মোজোতে দক্ষ হলেই শুধু চলবে না, আসল বিষয় হচ্ছে কনটেন্ট নির্বাচন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563272152592.png
স্পেনের টেলিভিশন মোবাইল সাংবাদিক লিওনোর সুয়ারেজ ◢

 

তিনি শেষে আরো উল্লেখ করেন, যদিও মোজো তার নিজের কাজের জন্যে ব্যবহার করেন, পাশাপাশি এখনো তিনি টেলিভিশনের জন্যেও কাজ করছেন। আর মোজো নির্মাণে ১০টি ধাপের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। তবে সেক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে ধৈর্য।

এই সম্মেলন থেকে আরেকটি বড় ধারণা পেয়েছে অডিও স্টোরি টেলিংয়ের। তবে এই কর্মশালা শুধু আমাদেরকে জানায়নি, কোন অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে আমরা গুণগত মানের অডিও পেতে পারি বা সম্পাদনা করতে সুবিধা হয় স্মার্টফোনে।

কানাডার বক্তা কোরিনি পডজার এবং বাংলাদেশের জিএম মোর্তূজা, পোডবিনের মতো সহজ অ্যাপসগুলোর মাধ্যমে কিভাবে অডিও স্টোরি করা যায় সে বিষয়ে কিছু ধারণা দেন। তবে এরচেয়ে বড় কথা হলো তারা এও বলেছেন, যদি আমরা আমাদের শ্রোতা নির্ধারণ করতে পারি, তাহলে বুঝতে পারব পোডকাস্ট (অডিও প্রচার) কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং সেটা কোন সময়, কত সময়ের জন্য এবং কতবার প্রচার করা প্রয়োজন। এবং সেটা কি আলোচনা, সাক্ষাৎকার নাকি উভয় ফরম্যাটেই হতে পারে। আমাদের কি অতিরিক্ত মিউজিক বা ভয়েজ যোগ কারা প্রয়োজন রয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবশ্যই ‘বি অরিজিনাল’ বা ‘সঠিকটাই নেওয়া।

এবার আসি তৃতীয় ধারণার বিষয়ে। আমি সত্যি ভার্টিকাল ভিডিওর আইডিয়া পছন্দ করেছি। স্মার্টফোনের এই ফিল্মিং অসাধারণ সুন্দর অভিজ্ঞতা ভিডিও দেখতে। এই অধিবেশনে, আল জাজিরা ইংরেজি বিভাগের ইনস্টাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাট শাখার প্রধান কোনসটান্টিনোস অ্যান্টোনোপোউলাস আমাদেরকে জানান, টাইপো বাদ দিয়ে কিভাবে ক্রপিং, সম্পাদনা এবং ভিডিও করা যায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563272216395.png
স্মার্টফোনে ভার্টিকাল ভিডিওর আইডিয়া ◢

 

আমার মনে হয় ভালো স্টোরির জন্যে এ কাজটি অবশ্যই জানা প্রয়োজন। কোনসটান্টিনোস আরো বলেছেন, অবশ্যই প্রথমে প্রতিবেদন, পরের বিবেচ্য বিষয় সেটি ভার্টিকাল হবে, নাকি হরিজোন্টাল! খুবই দৃঢ়ভাবে তিনি যে বিষয়ে খেয়াল রাখতে বলেছেন, সেটি হচ্ছে, যেই ফরম্যাটেই আমরা প্রতিবেদন করি না কেন, সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে আমাদের দর্শক শ্রোতারা কোন ফরম্যাটের সঙ্গে পরিচিত এবং তাদের জন্যে কোনটা সহজ।’

যদিও এটা মাত্র দুই দিনের সম্মেলন ছিল, আমার মনে হয়েছে এখান থেকে স্মার্টফোনে প্রতিবেদন তৈরির বেশ কিছু সুযোগের কথা জানা গেল। তবে একটি ভালো প্রতিবেদন তৈরির আগে আমাকে প্রথমেই একটি আইডিয়া ঠিক করতে হবে। এরপর কোন পদ্ধতিতে করা যাবে, সেটি নিয়ে ভাবা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563272428613.png

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র