Alexa

ইন্টারপোল প্রধানের পদত্যাগপত্র পেল ফ্রান্স

ইন্টারপোল প্রধানের পদত্যাগপত্র পেল ফ্রান্স

ছবি: সংগৃহীত

 

চীনে আটক ইন্টারপোলের প্রেসিডেন্ট মেং হংওয়েই-এর কাছ থেকে জরুরি ভিত্তিতে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে ফ্রান্স। আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, রোববার ফ্রান্সের লিঁও ভিত্তিক পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থাটির প্রধান চীনা নাগরিক মেং হংওয়েই এর কাছ থেকে পদত্যাগপত্র পায়।

১২ দিন নিখোঁজ থাকার পর চীন ঘোষণা দেয় যে চীনা আইনের অনির্দিষ্ট লঙ্ঘনের কারণে মেং তদন্তাধীন আছেন। আর চীনের এ ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই এই পদত্যাগপত্র পাওয়া গেল।

সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি নিয়ে কাজ করা চীনের ন্যাশনাল সুপারভিশরি কমিশন এক বিবৃতিতে জানায় যে আইন ভঙ্গের সন্দেহে মেং বর্তমানে তদন্তাধীন আছেন।

এর আগে রোববার মেং হংওয়েই-এর স্ত্রী গ্রেস মেং জানায় যে মেং তার নিজের দেশ চীনে থাকার সময় গুম হওয়ার আগে তাকে একটি ছুরির ছবি পাঠায়।

এই বিষয়ে ফ্রান্সের লিঁওতে জনসমক্ষে দেওয়া প্রথম বক্তব্যে গ্রেস বলেন যে তিনি ভেবেছিলেন এই ছুরি দিয়ে তার স্বামী বিপদে পড়ার কথা বুঝাতে চেয়েছিলেন।

সেপ্টেম্বরের ২৫ তারিখে এই বার্তা পাওয়ার পর থেকে তার স্বামীর সাথে কোন ধরণের যোগাযোগ নেই। গ্রেস বলেন, এই বার্তা পাঠানোর আগে মেং আরেক বার্তায় বলেছিলেন যে ‘আমার ফোনের অপেক্ষায় থাক’।

রোববারও গ্রেস মেং চিন্তা করতে পারেননি যে মেং-এর ক্ষেত্রে কী ঘটতে যাচ্ছে।

মেং চীনে গ্রেফতার হয়েছেন এই কথা গ্রেস বিশ্বাস করেছিলেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চীনে কী ঘটেছিল আমি নিশ্চিত ছিলাম না।’

লিঁও-এ এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রেস তার মুখ ঢেকে একটি বিবৃতি পাঠ করেন। মুখ ঢাকার কারণ হিসেবে তিনি জানান যে তিনি নিজের ও তার দুই সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে ভয়ে আছেন।

মেং চীনের একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা, একই সাথে তিনি পুলিশের আন্তর্জাতিক সংগঠন ইন্টারপোলের প্রেসিডেন্ট।

গত শনিবার লিঁও ভিত্তিক আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা জানায় যে মেং এর অবস্থান সম্পর্কে জানার জন্য আইন প্রয়োগকারী চ্যানেলে চীনের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে।  

মেং এর গুম হওয়ার কথা জনসমক্ষে আসে গত শুক্রবার, যখন ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানায় যে মেং এর ক্ষেত্রে কী ঘটেছে তা খুঁজে বের করতে তারা অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। মেং দীর্ঘদিন যাবৎ চীনের জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের উপ-মন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন।

দক্ষিণ চীন মর্নিং পোস্ট সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে জানা যায়, মেংকে চীনা কর্তৃপক্ষ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়েছে। পত্রিকাটি নামবিহীন এক সূত্রের বরাত দিয়ে জানায় যে মেংকে জিজ্ঞাবাদের কারণ অজানা।

মেং এর গুম হওয়ার খবর প্রথম দেন তার স্ত্রী গ্রেস। লিঁও পুলিশকে তিনি বলেন যে চীনে পৌঁছার পর থেকে তিনি মেং এর সাথে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না।

ইন্টারপোলের ওয়েব সাইটের তথ্যমতে, অপরাধীদের বিচার ও পুলিশি কাজে মেং এর প্রায় ৪০ বছরের অভিজ্ঞতা আছে এবং বৈধ প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত বিষয়, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম দেখাশোনা করেছেন।

ইন্টারপোলের নিয়োগের পরে সমালোচকরা বলেছিলেন যে, মেং এর নিয়োগ চীনা প্রেসিডেন্টের দুর্নীতি বিরোধী প্রচারণার অংশ হিসেবে দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করতে আন্তর্জাতিক সাহায্য পাওয়ার ক্ষেত্রে বেইজিংকে একটি সুযোগ দিল।

কিন্তু ইন্টারপোল সমালোচকদের এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে এবং বলে যে সংস্থাটির প্রধান অথবা মহাসচিব কেউেই প্রতিদিনের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করেন না।

আপনার মতামত লিখুন :