Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

স্বর্গ-শান্তির দেশ দেখলো নরক-সন্ত্রাস!

স্বর্গ-শান্তির দেশ দেখলো নরক-সন্ত্রাস!
ছবি: সংগৃহীত
এম. এম. কায়সার
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

নিউজিল্যান্ডে এই ঘটনা! এটা কি করে হয়!

যারা জানছেন, শুনছেন তারাই অবাক হচ্ছেন। এত লম্বা সময় ধরে নিউজিল্যান্ডে আছেন বাংলাদেশি তরুণী স্নিগি জান্নাত, কিন্তু দুঃস্বপ্নেও কখনো ভাবেননি এমন দৃশ্য তাকে দেখতে হবে। পড়াশোনার জন্য ২০১৪ সালে নিউজিল্যান্ডে যান তিনি। জীবন-যাত্রা, মানুষের সরলতা, জীবিকার নিশ্চয়তা এবং সর্বোপরি নিউজিল্যান্ডের অনুপম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবকিছুতে মুগ্ধ হয়ে স্নিগি 'নিউজিল্যান্ডার' হয়ে যাওয়ার স্বপ্ন বুনেন।

ক্রাইস্টচার্চের সন্ত্রাসী হামলার পর এই বাংলাদেশি তরুণীও উদ্বেগ নিয়ে ভাবছেন, 'স্বাভাবিক জীবনের নিরাপত্তা তাহলে কোথাও নেই!'

পড়াশোনার সময় থাকতেন হ্যামিল্টনে। সেই শহরে ২০১৫ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সময় স্বেচ্ছাসেবকের কাজও করেছেন। বিশ্বকাপের সেই মাঠে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সেঞ্চুরি দেখেছেন। বাংলাদেশি হিসেবে আনন্দে মেতেছিলেন। হ্যামিল্টন ছেড়ে স্নিগি চলে এসেছেন ক্রাইস্টচার্চে। এবার এখানে দেখলেন মৃত্যুমুখ থেকে ফিরে আসা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, তামিম ইকবাল, মুশফিক রহিমদের উদ্বিগ্ন চেহারা।

শুক্রবার (১৫ মার্চ) শহরের যে দুটি মসজিদে সন্ত্রাসীদের পরিকল্পিত হামলা হয়েছে সেই মসজিদের একটি থেকে স্নিগির বাসস্থানের দূরত্ব গাড়ি পথে দশ মিনিটের রাস্তা।

ক্রাইস্টচার্চ থেকে বার্তা২৪.কমকে স্নিগি জানান এমনিতেই ক্রাইস্টচার্চের এই অংশটা খুবই শান্ত থাকে। কখনো কোন ধরনের হৈচৈ শোনা যায় না। কিন্তু শুক্রবার দুপুরে এই শহরে যা ঘটলো তাতেই নিউজিল্যান্ড সম্পর্কে বিশ্ববাসীর ধারণা বদলে গেলো!'

স্নিগি জান্নাত বলেন, 'এই হামলায় আমার পরিচিত একজন হাসপাতালের আইসিইউতে আছে। কিন্তু আমি যেতে পারছি না। নিরাপত্তার কারণে ক্রাইস্টচার্চের সেই হাসপাতালের আশপাশে কাউকে যেতে দিচ্ছে না পুলিশ। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে এই হামলায় এখন পর্যন্ত ৪৯ জন মানুষ মারা গেছে। এই হামলায় তিনজন বাংলাদেশিও খুন হয়েছেন। অথচ এরা নামাজ পড়ার জন্য শহরের মসজিদে জড়ো হয়েছিলেন।'

স্বর্গ শান্তির এই শহর এই দেশ নারকীয় সন্ত্রাসের তাণ্ডবও দেখলো। নিরীহ মানুষকে হত্যার পৈশাচিক উন্মত্ততার প্রলয় ঘটলো নিউজিল্যান্ডে। রাতের রাস্তায় মাঝে সাজে মাতলামি করা ছাড়া আর কোন বড় অপরাধ সাধারণত নিউজিল্যান্ডে দেখা যেতো না। সেই দেশেই মসজিদে ঢুকে নিরপরাধ নিরস্ত্র মানুষকে পাখির মতো গুলি করে মারার বিকৃত মানসিকতার খুনির দেখাও মিললো।

ঠিক যাকে বলে, ঠাণ্ডা মাথার খুন। এটা তাই। দুবছর ধরে নাকি এই খুনিরা এমন হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে আসছে। পুরো হত্যাকাণ্ডের লাইভস্ট্রিমিংই প্রমাণ করে কি ভয়াবহ ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছিলো এই মানসিক বিকারগ্রস্ত সন্ত্রাসীরা।

শান্তির দেশ। সুখের দেশ। সুন্দরের দেশ। সাধারণত এই নামেই পরিচিত ছিল নিউজিল্যান্ড। এখন সন্ত্রাস খুনের এই রক্তহোলি নিউজিল্যান্ডের সেই সুন্দর সেই গর্ব কালিতে ঢেকে দিলো।

নিউজিল্যান্ড মানেই এখন আলো ঝলমল শান্তির শহর নয়। বৈশ্বিক সন্ত্রাসের রক্তাক্ত নখ এই শান্তির মানচিত্রেও আঁচড় বসিয়েছে।

নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের বড় কর্তা ডেভিড হোয়াইটও বুকভরা বেদনা নিয়ে বললেন 'ক্রাইস্টচার্চের এই সন্ত্রাসী হামলা আন্তর্জাতিক খেলাধুলার আয়োজন বা ক্রীড়াক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের ওপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করবে। এটা ভয়াবহ একটা ধাক্কা। সবাই শকড! পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থার পদ্ধতি নিয়ে আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে। আগে যেভাবে নিউজিল্যান্ডকে নিরাপদ স্বর্গ ভাবা হতো, সেই ধারণা হাওয়া মিলিয়ে গেছে।'

আপনার মতামত লিখুন :

চীনা ছাত্রী হত্যাকারী মার্কিন যুবকের যাবজ্জীবন

চীনা ছাত্রী হত্যাকারী মার্কিন যুবকের যাবজ্জীবন
চীনা ছাত্রী জাং জিনজিয়াং/ ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক চীনা ছাত্রীকে অপহরণ ও হত্যার অপরাধে এক মার্কিন পিএইচডি শিক্ষার্থীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আদালত।

আসামি ব্রেন্ডট ক্রিস্টেনসেনকে মৃতুদণ্ড দেওয়া হবে কিনা এই সিদ্ধান্তে একমত হতে পারেনি বিচারকদের জুরি বোর্ড। পরে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ২০১৭ সালের জুনে ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চীনা শিক্ষার্থী জাং জিনজিয়াংকে অপহরণ করে ক্রিস্টেনসেন। পরে জাং জিনজিয়াংকে বেসবলের ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলে ক্রিস্টেনসেন এবং জাং জিনজিয়াংয়ের মাথা শরীর থেকে আলাদা করে ফেলে। শরীরের আলাদা করা অংশ আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

শিকাগোর দক্ষিণ-পশ্চিমের পিউরিয়ায় অনুষ্ঠিত পাঁচ সপ্তাহব্যাপী বিচার কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন জাং জিনজিয়াংয়ের বাবা-মা ও বাগদত্তা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563537807568.gif
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মার্কিন যুবক ক্রিস্টেনসেন/ ছবি: সংগৃহীত

 

চীনা কর্মকর্তাদের সামনেই এই বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। রায়ে ক্রিস্টেনসেনকে মৃতুদণ্ড না দেওয়ায় চীনজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠে।

ক্রিস্টেনসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট জজ জেমস শহিদ বলেন, ‘ক্রিস্টেনসেনের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড বর্ণনা করার মতো না।’ রায় অনুযায়ী ক্রিস্টেনসেনের কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

বিচারক আরও বলেন যে, জাংয়ের শরীরের অবশিষ্ট অংশ কোথায় আছে তা হয়তো তার পরিবার আর নাও জানতে পারে।

রায় ঘোষণার সময় ক্রিস্টেনসেন কোনো কথা বলেনি। এদিকে জাংয়ের বাবা বঙ্গাও জাং গণমাধ্যমকে বলেন যে, জাংয়ের দেহাবশেষ ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত তার পরিবার শান্তি পাবে না।

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক
নেতাকর্মীদের নিয়ে রাস্তায় বসে পড়েন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তরপ্রদেশে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ১০ জন খুন হওয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাওয়ার পথে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুলাই) উত্তরপ্রদেশের সোনভদ্রা গ্রামে জমি নিয়ে সংঘর্ষের জেরে ১০ জন নিহত হয়। তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে সেখানে যাচ্ছিলেন প্রিয়াঙ্কা। কিন্তু মাঝপথে তাকে আটক করা হয়। উত্তরপ্রদেশে অপরাধ বৃদ্ধি ও আইনের শাসন নেই বলে রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সমালোচনা করেন প্রিয়াঙ্কা।

আটকের পর মির্জাপুরে এসে রাস্তায় বসে পড়েন প্রিয়াঙ্কা। তার সঙ্গে থাকা অন্য কংগ্রেসের কর্মীরাও বসে পড়েন। তাদের ঘিরে থাকেন প্রিয়াঙ্কার নিরাপত্তারক্ষীরা। সেখান থেকে সরে যেতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে আটক করে সরকারি গাড়িতে তোলা হয়।

এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রিয়াঙ্কা বলেন, 'যাদেরকে নির্মমভাবে মেরে ফেলা হয়েছে আমি শুধু তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম। আমার ছেলের বয়সী একটি ছেলেকেও গুলি করা হয়েছে এবং সে এখন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। আমাকে বলুন, কোন আইনে আমাকে এভাবে আটকে দেয়া হল।'

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রিয়াঙ্কা সেখানে যাওয়ার সোনভদ্রায় যেকোনো ধরনের সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

প্রিয়াঙ্কার দাবি, তাকে বলা হয়েছে তিনি গাড়ি করে বারানসি থেকে সোনভদ্রা যেতে পারবেন না। সরকারি গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বলেন, 'আমি জানি না তারা আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে। আমরা যেকোনো জায়গায় যেতে রাজি।'

শুক্রবার সকালেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লোকসভা আসন বারানসিতে পৌঁছান প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। সেখান থেকে তিনি সোনভদ্রা কাণ্ডে আহতদের দেখতে স্থানীয় হাসপাতালে যান।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র