Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলা

আফগান মুসলিমের সেদিনের বীরত্বে বাঁচলো অনেকের প্রাণ

আফগান মুসলিমের সেদিনের বীরত্বে  বাঁচলো অনেকের প্রাণ
আফগান অভিবাসী আবদুল আজিজ ও ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলাকারী ব্রেন্টন টারান্ট, ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলার দিন অন্যান্যদের মতো মসজিদে নামাজ আদায় করতে যান নিউজিল্যান্ডে বসবাসরত আফগান অভিবাসী আবদুল আজিজ। ৪৮ বছর বয়সী এই আফগান মুসলিম বীরত্বের সাথে হামলাকারী ব্রেন্টন হ্যারিসন টারান্ট এর বিরুদ্ধে সেদিন প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

যার কারণে পরবর্তীতে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালানো হামলাকারীকে নিউজিল্যান্ড পুলিশ আটক করতে সমর্থ হয়।

সোমবার (১৮ মার্চ) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে আফগান এই অভিবাসী মুসলিমের বীরত্বগাঁথা তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবদুল আজিজ সেদিন লিনউড’র মসজিদে নামাজ পড়তে যায়। হামলাকারী ক্রাইস্টচার্চের আল-নুর মসজিদে হত্যাযজ্ঞ শেষ করে লিনউড মসজিদে যায় এবং হামলা শুরু করে। এ সময় আবদুল আজিজ গুলির আওয়াজ ও মানুষের চিৎকার শুনে সে একটি ক্রেডিট কার্ড মেশিন হাতে নেয়। পরবর্তীতে সেটা হামলাকারীর দিকে ছুড়ে মারে। এ সময় হামলাকারী আবদুল আজিজকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।

কিন্তু তার বন্দুকে গুলি শেষ হয়ে গেলে সে তার গাড়ি থেকে আরেকটি বন্দুক আনতে যায়। এই সুযোগে আবদুল আজিজ রাস্তায় পড়ে থাকা বন্দুকটি হাতে নিয়ে টারান্ট এর দিকে তাক করে ধরে। তবে ওই বন্দুকে কোন বুলেট ছিল না। কিন্তু আবদুল আজিজ ওই বুলেটবিহীন বন্দুক নিয়ে হামলাকারীকে ধাওয়া করলে সে তার গাড়ির দিকে দৌড় দেয়। এ সময় দুজন পুলিশ তাকে আটক করে।

কিন্তু পুলিশের আটকের পূর্বেই টারান্টের বন্দুক কেড়ে নেয় ৫০টি তাজা প্রাণ। এছাড়া অনেকেই আহত হয়। অল্পের জন্য বেঁচে যায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা। আর দ্বিতীয় মসজিদে হামলার সময় যদি আবদুল আজিজ ওই প্রতিরোধ গড়ে না তুলতো। অন্যথায় টারান্টের নৃশংস বন্দুক কেড়ে নিতো আরও অনেকগুলো প্রাণ।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (১৫ মার্চ) নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলার ঘটনায় ৫০ জন প্রাণ হারায়। এছাড়া বেশ কয়েকজন আহত হয়।

আপনার মতামত লিখুন :

চীনা ছাত্রী হত্যাকারী মার্কিন যুবকের যাবজ্জীবন

চীনা ছাত্রী হত্যাকারী মার্কিন যুবকের যাবজ্জীবন
চীনা ছাত্রী জাং জিনজিয়াং/ ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক চীনা ছাত্রীকে অপহরণ ও হত্যার অপরাধে এক মার্কিন পিএইচডি শিক্ষার্থীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আদালত।

আসামি ব্রেন্ডট ক্রিস্টেনসেনকে মৃতুদণ্ড দেওয়া হবে কিনা এই সিদ্ধান্তে একমত হতে পারেনি বিচারকদের জুরি বোর্ড। পরে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ২০১৭ সালের জুনে ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চীনা শিক্ষার্থী জাং জিনজিয়াংকে অপহরণ করে ক্রিস্টেনসেন। পরে জাং জিনজিয়াংকে বেসবলের ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলে ক্রিস্টেনসেন এবং জাং জিনজিয়াংয়ের মাথা শরীর থেকে আলাদা করে ফেলে। শরীরের আলাদা করা অংশ আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

শিকাগোর দক্ষিণ-পশ্চিমের পিউরিয়ায় অনুষ্ঠিত পাঁচ সপ্তাহব্যাপী বিচার কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন জাং জিনজিয়াংয়ের বাবা-মা ও বাগদত্তা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563537807568.gif
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মার্কিন যুবক ক্রিস্টেনসেন/ ছবি: সংগৃহীত

 

চীনা কর্মকর্তাদের সামনেই এই বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। রায়ে ক্রিস্টেনসেনকে মৃতুদণ্ড না দেওয়ায় চীনজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠে।

ক্রিস্টেনসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট জজ জেমস শহিদ বলেন, ‘ক্রিস্টেনসেনের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড বর্ণনা করার মতো না।’ রায় অনুযায়ী ক্রিস্টেনসেনের কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

বিচারক আরও বলেন যে, জাংয়ের শরীরের অবশিষ্ট অংশ কোথায় আছে তা হয়তো তার পরিবার আর নাও জানতে পারে।

রায় ঘোষণার সময় ক্রিস্টেনসেন কোনো কথা বলেনি। এদিকে জাংয়ের বাবা বঙ্গাও জাং গণমাধ্যমকে বলেন যে, জাংয়ের দেহাবশেষ ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত তার পরিবার শান্তি পাবে না।

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক
নেতাকর্মীদের নিয়ে রাস্তায় বসে পড়েন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তরপ্রদেশে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ১০ জন খুন হওয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাওয়ার পথে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুলাই) উত্তরপ্রদেশের সোনভদ্রা গ্রামে জমি নিয়ে সংঘর্ষের জেরে ১০ জন নিহত হয়। তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে সেখানে যাচ্ছিলেন প্রিয়াঙ্কা। কিন্তু মাঝপথে তাকে আটক করা হয়। উত্তরপ্রদেশে অপরাধ বৃদ্ধি ও আইনের শাসন নেই বলে রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সমালোচনা করেন প্রিয়াঙ্কা।

আটকের পর মির্জাপুরে এসে রাস্তায় বসে পড়েন প্রিয়াঙ্কা। তার সঙ্গে থাকা অন্য কংগ্রেসের কর্মীরাও বসে পড়েন। তাদের ঘিরে থাকেন প্রিয়াঙ্কার নিরাপত্তারক্ষীরা। সেখান থেকে সরে যেতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে আটক করে সরকারি গাড়িতে তোলা হয়।

এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রিয়াঙ্কা বলেন, 'যাদেরকে নির্মমভাবে মেরে ফেলা হয়েছে আমি শুধু তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম। আমার ছেলের বয়সী একটি ছেলেকেও গুলি করা হয়েছে এবং সে এখন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। আমাকে বলুন, কোন আইনে আমাকে এভাবে আটকে দেয়া হল।'

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রিয়াঙ্কা সেখানে যাওয়ার সোনভদ্রায় যেকোনো ধরনের সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

প্রিয়াঙ্কার দাবি, তাকে বলা হয়েছে তিনি গাড়ি করে বারানসি থেকে সোনভদ্রা যেতে পারবেন না। সরকারি গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বলেন, 'আমি জানি না তারা আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে। আমরা যেকোনো জায়গায় যেতে রাজি।'

শুক্রবার সকালেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লোকসভা আসন বারানসিতে পৌঁছান প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। সেখান থেকে তিনি সোনভদ্রা কাণ্ডে আহতদের দেখতে স্থানীয় হাসপাতালে যান।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র