Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

শয়তান মুমিনকে পথভ্রষ্টের জন্য রাস্তার মোড়ে মোড়ে বসে থাকে

শয়তান মুমিনকে পথভ্রষ্টের জন্য রাস্তার মোড়ে মোড়ে বসে থাকে
তারা শয়তানের দল। সাবধান! শয়তানের দলই ক্ষতিগ্রস্ত। আয়াতের অর্থ
মুহাম্মদ খায়রুল ইসলাম
অতিথি লেখক
ইসলাম


  • Font increase
  • Font Decrease

শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু। হজরত আদম আলাইহিস সালামকে সিজদা না করায় আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে ইবলিসের প্রতি ছিলো চরম অভিশাপ। যার ফলশ্রুতিতে শয়তানের মানবজাতির সঙ্গে চির শত্রুতা। শয়তান মানুষ ও জিন উভয় শ্রেণীভুক্ত।

শয়তানের নির্দিষ্ট কোনো আকার আকৃতি নেই। প্রয়োজন মোতাবেক স্বেচ্ছায় নিজেদের আকার পরিবর্তন করতে পারে। শুধুমাত্র হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আকার ধারণ করতে পারে না।

এ বিষয়ে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে আমাকে স্বপ্নে দেখে সে ঠিক আমাকেই দেখে। কারণ শয়তান আমার আকৃতি ধারণ করতে পারে না।’ -সহিহ বোখারি: ১১০

শয়তানের ক্ষমতা নিয়ে এক ধরনের বিভ্রান্তি রয়েছে। এ প্রসঙ্গে ইসলামি স্কলারদের অভিমত হলো- যখন ইবলিস হজরত আদম (আ.)-কে সিজদা না করার কারণে বিতাড়িত শয়তানে পরিণত হয়ে গেল- তখন সে বলল, ‘আমাকে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিন। আল্লাহ বললেন, তোমাকে অবকাশ দেওয়া হলো। সে বলল, যে আদমের প্রতি অহঙ্কারের কারণে আপনি আমার মধ্যে পথভ্রষ্টতার সঞ্চার করেছেন, সেই আদম সন্তানদের পথভ্রষ্ট করার জন্য আমি অবশ্যই আপনার সরল পথের ওপর বসে থাকব। অতঃপর আমি অবশ্যই তাদের কাছে আসব তাদের সামনে, পেছনে, ডাইনে, বামে সবদিক থেকে। আর তখন আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না।’ -সূরা আরাফ: ১৪-১৭

অবশেষে শয়তানকে এমন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যে, সে বনি আদমের শিরায় প্রবেশ করতে পারে। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘স্বামীর অনুপস্থিতিতে কোনো স্ত্রীর নিকট তোমরা প্রবেশ করো না। কেননা শয়তান তোমাদের রক্তনালীতে চলমান রয়েছে। আমরা বললাম, আপনার মধ্যেও? তিনি বললেন, আমার মাঝেও। তবে আল্লাহতায়ালা আমাকে তার বিরুদ্ধে সাহায্য করেছেন। ফলে আমি নিরাপত্তা লাভ করেছি।’ -সহিহ বোখারি: ৭১৭১

শয়তান ও শয়তানের দলের লোকদের পরিচয় প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, যারা অসৎ পথে থেকেও মনে করে সৎ পথে আছি, তারা মূলতঃ মিথ্যাবাদী। আর এমন মিথ্যাবাদীদের ব্যাপারে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘শয়তান তাদেরকে বশীভূত করে নিয়েছে, অতঃপর আল্লাহর স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছে। তারা শয়তানের দল। সাবধান! শয়তানের দলই ক্ষতিগ্রস্ত।’ -সূরা মুজাদালা: ১৯

শয়তান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে ক্ষমতা গ্রহণ করার পর মুমিনকে পথভ্রষ্ট করার জন্য রাস্তার মোড়ে মোড়ে বসে থাকে। এ বিষয়ে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজ হাতে একটি দাগ দিলেন, অতঃপর বললেন, এটা আল্লাহর সরল সঠিক পথ। এরপর ডানে-বামে দাগ কাটলেন এবং বললেন, এই রাস্তাগুলোর প্রত্যেকটিতে একজন শয়তান দাঁড়িয়ে আছে। যে মানুষকে তার দিকে আহবান করে থাকে। অতঃপর পাঠ করলেন, ‘এটাই আমার সরল সঠিক পথ, এরই অনুসরণ করো। অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, তাহলে (শয়তান) তোমাদেরকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে।’ -সূরা আনআম: ১৫৩

বর্ণিত আয়াতের মর্ম ও হাদিসের ভাষ্যে বুঝা যায়, শয়তান রাস্তার মোড়ে মোড়ে বসে মানুষকে তাদের দিকে বিভ্রান্ত করার জন্য আহবান করে থাকে। শয়তানের চক্রান্ত ও কর্মকাণ্ড কোরআন-হাদিস হতে বিভিন্ন পরিভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে। যা পরিত্যাগ করা প্রতিটি মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরি। শয়তান মানুষকে নানাভাবে বিভ্রান্ত করে বিপথগামী করে থাকে। শয়তানের সূক্ষ্মচালে পড়ে মানুষের পদস্খলন ঘটে নানাভাবে। এর অন্যতম হলো- ছলনা করা। শয়তান বিভিন্ন কায়দা-কৌশল ও ছলনা করে মানুষকে পথভ্রষ্ট করার চেষ্টা করে। তবে শয়তানের কৌশল খুবই দুর্বল।

এ বিষয়ে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই শয়তানের কৌশল একান্তই দুর্বল।’ -সূরা আন নিসা: ৭৬

এ ছাড়া শয়তান মানুষকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও দিক-নির্দেশনা দিয়ে পথভ্রষ্ট করার চেষ্টা করে। এ বিষয়ে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ তাকে অভিসম্পাত করেছেন। আর সে বলেছিল যে, অবশ্যই আমি তোমার বান্দাদের মধ্য থেকে একটা নির্দিষ্ট অংশকে আমার দলে টেনে নেব। আমি অবশ্যই তাদের পথভ্রষ্ট করব, তাদেরকে মিথ্যা আশ্বাস দেব, তাদেরকে আদেশ দেব যেন তারা পশুর কর্ণ ছেদন করে এবং তাদেরকে আদেশ করবো যেন তারা আল্লাহর সৃষ্টি পরিবর্তন করে। বস্তুতঃ যে ব্যক্তি আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, সে প্রকাশ্য ক্ষতিতে পতিত হয়। সে তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেয় ও মিথ্যা আশ্বাস দেয়। আর শয়তান তাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেয়, তা প্রতারণা বৈ কিছু নয়। ওদের ঠিকানা হলো- জাহান্নাম। সেখান থেকে তারা অন্যকোনো আশ্রয়স্থল পাবে না।’ –সূরা আন নিসা: ১১৮-১২১

আপনার মতামত লিখুন :

হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেম

হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেম
হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেমকে অন্তর্ভুক্ত করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়

সৌদি আরবে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা দেওয়ার জন্য গঠিত ওলামা-মাশায়েখদের দলে যোগ হয়েছেন আরও তিন আলেম। এখন ওই দলের সদস্য সংখ্যা ৫৭। এর আগে ৯ জুলাই ৫৫ জন আলেমের একটি দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

তালিকায় যোগ হওয়া ওই তিনজন হলেন- হাইয়াতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফ আলীর ছেলে হাফেজ মাওলানা মুফতি শামীম আহমদ (মুহাদ্দিস, মাদরাসাতুল আবরার, মাতুয়াইল, ঢাকা), বেফাক মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দসের ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ মঞ্জুরুল হাসান যোবায়ের (শিক্ষক, ফরিদাবাদ মাদরাসা, ঢাকা) ও মাওলানা সাজিদুর রহমান (মুহতামিম, দারুল আরকাম মাদরাসা, বি.বাড়িয়া)। তন্মধ্যে মাওলানা আশরাফ আলী ও মাওলানা আবদুল কুদ্দুস ওলামা-মাশায়েখদের দলে আগেই ছিলেন। এবার তালিকায় তাদের সঙ্গে সন্তানরাও যোগ হলেন। 

তালিকা দেখতে ক্লিক করুন 

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শিব্বির আহমদ উছমানি স্বাক্ষরিত এক চিঠির বরাতে ওলামা-মাশায়েখদের হজ পালনের বিষয়টি জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় খরচে হজযাত্রীদের প্যাকেজে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান সাপেক্ষে ওলামা-মাশায়েখদের হজপালনে এবারই প্রথম অন্তর্ভুক্ত করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগামী ৪ ও ৫ আগস্ট ফ্লাইট প্রাপ্তি সাপেক্ষে ওলামা-মাশায়েখদের দলটি সৌদি আরবে যাবেন। ২৩ আগস্ট তারা দেশে ফিরে আসবেন। রাষ্ট্রীয় খরচে হজ সফর হিসেবে গণ্য হবে। মনোনীত আলেমদের কোরবানি নিজ খরচে করতে হবে। মক্কা-মদিনায় তাদের ভ্রমনসূচি হজ কাউন্সিলর কর্তৃক নির্ধারিত হবে, তারা নিজ অর্থায়নে হলেও স্ত্রী-সন্তানসহ গমন করতে পারবেন না।

এদিকে ১৪ জুলাই বাংলাদেশিদের হজ ব্যবস্থাপনার কাজে সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য ১০ সদস্য বিশিষ্ট হজ প্রতিনিধি দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ওই দলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদাসহ তিনজন প্রতিমন্ত্রী, তিনজন সংসদ সদস্য, দু্’জন সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন মহাপরিচালক (মহাপরিচালক-৩) রয়েছেন।

এই দুই দল ছাড়াও বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় সহায়তা করতে সরকার বেশ কয়েকটি টিম গঠন করে সৌদি আরব প্রেরণ করেছে। দলগুলো হলো- হজ চিকিৎসক দল, হজ প্রশাসনিক দল, হজ কারিগরি দল ও হজ চিকিৎসক দলের সহায়ক দল।

আরও পড়ুন:

হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৫ আলেমকে সৌদি পাঠাচ্ছে সরকার

সিইসিসহ হজ প্রতিনিধি দলে ৩ মন্ত্রী, ৩ এমপি

উল্লেখ্য, এ বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন হজযাত্রী হজপালনের জন্য সৌদি আরব যাবেন।

নবীর রওজার গিলাফ উপহার পেলেন ব্রিটিশ বক্সার

নবীর রওজার গিলাফ উপহার পেলেন ব্রিটিশ বক্সার
নবীর রওজার গিলাফের টুকরা দেখাচ্ছেন আমির খান, ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত জনপ্রিয় ব্রিটিশ বক্সার আমির ইকবাল খান এক বক্সিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে সৌদি আরব সফরে রয়েছেন। তিনি জেদ্দায় অস্ট্রেলিয়ান বক্সার বিলি ডিবের বিপক্ষে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবেন। সৌদি আরব যেয়ে তিনি বিশেষ ব্যবস্থায় ওমরা পালন করেছেন। সেই সঙ্গে নবী করিম (সা.)-এর রওজা শরিফের অভ্যন্তরে ব্যবহৃত গিলাফের একটি টুকরা পেয়েছেন উপহার হিসেবে।

মাত্র ১৭ বছর বয়সে ব্রিটেনের হয়ে অলিম্পিক পদকজয়ী এই বক্সিং চ্যাম্পিয়ন স্ত্রী ফারিয়াল মাকদুমকে নিয়ে কাবা চত্ত্বরে দাঁড়িয়ে ইহরাম পরিহিত ও রওজার গিলাফের একটি ছবি ইন্সটাগ্রামে পোস্ট করেছেন। গিলাফের ওই টুকরাটি সবুজ কাপড়ের। সেখানে সাদা রংয়ের ক্যালিগ্রাফিতে কালেমা লেখা রয়েছে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563289158690.jpg

আমির খান সম্মাননা পাওয়া রওজার গিলাফের ছবি ইন্সটাগ্রামে পোস্ট করে লিখেছেন, ‘আমি বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র রওজা শরিফের এক টুকরো কাপড় পেয়ে সম্মানিত ও খুব সৌভাগ্যবান। এটা আমার পুরো জীবনের জন্য উপভোগের বিষয়।’

প্রতি বছরই নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রওজা শরিফের গিলাফ এবং কাবা শরিফের গিলাফ পরিবর্তন করা হয়। পরে গিলাফের অংশ বিশ্বের খ্যাতনামা আলেম ও রাষ্ট্রপ্রধানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরকে সম্মাননা হিসেবে উপঢৌকন দেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে কিংবদন্তি বক্সার মোহাম্মাদ আলীর পর মুসলিম বক্সার হিসেবে পরিচিত ও জনপ্রিয় মুষ্টিযোদ্ধা আমির ইকবাল খান এ উপহার পেলেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র