Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

শয়তানের প্ররোচনা থেকে কোরআন মানুষকে নিরাপদ রাখে

শয়তানের প্ররোচনা থেকে কোরআন মানুষকে নিরাপদ রাখে
শয়তানের প্ররোচনা থেকে কোরআন মানুষকে নিরাপদ রাখে, ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

পবিত্র কোরআন মানুষের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ দিকসমূহ পরিশুদ্ধ ও সংশোধন করে। এ আসমানি কিতাব মানুষকে শয়তানের যাবতীয় প্ররোচনা থেকে নিরাপদ রাখে। পবিত্র কোরআন হচ্ছে- এমনই এক আসমানি কিতাব, যা মানুষকে অজ্ঞতা ও মূর্খতার অভিশাপ থেকে মুক্তি দান করে এবং সব ধরনের গোমরাহি থেকে মুক্তি দিয়ে হেদায়েতের পথে পরিচালিত করে।

ইসলামি স্কলারদের অভিমত হলো- যারা পবিত্র কোরআনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলবে, তারা নি:সন্দেহে দুনিয়া ও পরকালে সফলতার অধিকারী। পক্ষান্তরে যারা কোরআনে কারিম থেকে দূরত্ব বজায় রাখবে তারা শয়তানের ধোঁকার শিকার হবে এবং অহংকার ও অন্ধকারচ্ছন্নতা তাদেরকে ধ্বংস ও পতনের দিকে নিয়ে যাবে।

বস্তুত মানুষ সত্তাগতভাবে সত্য ও হকের প্রতি আকৃষ্ট থাকে; কিন্তু দুনিয়ার চাকচিক্য ও পার্থিব লোভ-লালসা তাকে বাতিলের দিকে প্ররোচিত করে। তাই প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর ফরজ হচ্ছে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পবিত্র কোরআনের আদেশাবলী মেনে চলা এবং কোরআনের ছায়ায় অবস্থান করা।

ইসলাম মানুষকে যে শিষ্টাচার শেখায়, সুন্দর-সুশৃঙ্খল পথের দিশা দেয়, সর্বপ্রকার জাহেলিয়াত ও খারাপ দিক থেকে মুক্তি দিয়ে অপার সৌন্দর্য আর প্রশান্ত জীবনের দিক-নির্দেশনা দেয়- এসবই কোরআনের শিক্ষা।

কোরআনের শিক্ষা হলো, সরাসরি আল্লাহ প্রদত্ত শিক্ষা। তাই এই শিক্ষা ও উপলব্ধিগুলো আত্মস্থ করার জন্য বেশি বেশি করে কোরআন তেলাওয়াত করা জরুরি। কোরআন যেহেতু মানুষকে জীবন চলার জন্য পথনির্দেশ প্রদান করে, সেজন্যে অর্থ ও ব্যাখ্যাসহ বুঝে কোরআন পড়ার চেষ্টা সাধ্যমতো করতে হবে।

ইসলামি স্কলারদের অভিমত হলো- কোরআনকে শুধু বুক শেলফে সাজিয়ে রাখলে চলবে না। কোরআন তেলাওয়াত করতে হবে, কোরআনের বিধান মতে জীবন পরিচালনা করতে হবে। এ প্রসঙ্গে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যারা কোরআনের বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করে কোরআন তেলাওয়াত করবে তারা নৈকট্যপূর্ণ ফেরেশতাদের সঙ্গে জান্নাতে থাকবে।’

কোরআন তেলাওয়াত মানুষকে মানসিক প্রশান্তি দেয় ও আত্মিক রোগ থেকে মুক্ত করে। কোরআনের মাধ্যমে মানুষ বিভিন্নভাবে উপকৃত হয়। আল্লাহতায়ালা কোরআন দিয়েছেন মানুষের জীবন বিধান হিসেবে। মানুষের জীবনের যে কোনো সমস্যার সমাধান কোরআনে রয়েছে। তাই আমাদের কোরআন বুঝতে হবে। সে অনুযায়ী জীবন সাজাতে হবে।

মনে রাখতে হবে, মুসলমানদের জীবন দু’টি। একটি ইহকালীন, অপরটি পরকালীন। এই দুই জীবনেরই মুক্তির একমাত্র সনদ হচ্ছে কোরআন। তাই ইহকালীন শান্তি এবং পরকালীন মুক্তির জন্য আমাদের উচিত বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করা।

আমাদের সন্তানদের অনেকেই কোরআন পড়তে জানে না, এটা দুঃখজনক। কোরআন শিক্ষার প্রতি এমন উদাসীনতা কাম্য নয়। মুসলমানরা সব সময় আল্লাহর কোরআনের পাঠক, ধারক ও বাহক। মানুষের মাঝে এই উপলব্ধি অনুধাবনের জন্যই বলা হয়েছে, কোরআন হলো- মানুষের জন্য আলোকবর্তিকা।

আপনার মতামত লিখুন :

হজ শেষে ধূমপান ছাড়লেন ৩১৩ হাজি

হজ শেষে ধূমপান ছাড়লেন ৩১৩ হাজি
হজ মৌসুমে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ধূমপায়ীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে কাফা, ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: সৌদি আরবে ধূমপান নিষিদ্ধ। আর ইসলামের দৃষ্টিতে ধূমপান মাকরুহ তথা চরম অবাঞ্ছিত কাজ। তারপরও মক্কায় দেখা যায় অনেকেই মসজিদে হারামের বাইরের চত্বরে ধূমপান করেন। রাস্তাঘাটেও ধূমপান করতে দেখা যায় অনেককে। এমনকি ইহরাম পরিহিত অনেককে মিনা, মুজাদালিফা ও আরাফাতের ময়দানে ধূমপান করতে দেখা গেছে।

ধূমপানের এমন ব্যাপকতা থেকে হজযাত্রীদের নিরুতসাহ করতে সৌদি আরবের তামাক, ধূমপান ও মাদক প্রতিরোধ সংস্থা ‘কাফা’ (The Tobacco and Narcotics Combat Charity Society-Kafa) দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে হজ মৌসুমে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ধূমপায়ীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে।

সংস্থাটি হজের আনুষ্ঠানিকতার জায়গাগুলোতে ভ্রাম্যমাণ সেবাকেন্দ্র স্থাপন করে। সেখান থেকে ধূমপায়ীদের মাঝে ধূমপান বিরোধী প্রচারপত্র বিলির পাশাপাশি কাউন্সেলিং করানো হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ধূমপান ছাড়তে হজযাত্রীদের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ঔষধ দিয়ে থাকেন। ধূমপানের ক্ষতির বিষয়ে সচেতন করতে হাজিদের মাঝে পুস্তিকা, লিফলেট ও মিসওয়াক বিতরণ করা হয়। এভাবে ভ্রাম্যমাণ সেবাকেন্দ্র থেকে এবার ১১ হাজার ৪৮০ ধূমপায়ীকে সেবা দেওয়া হয়েছে।

কাফার ক্লিনিকে সেবা নিতে এসে ধূমপানের বিপত্তি ও ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে অবগত হয়ে অনেকে ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন। চলতি হজ মৌসুমের ধূমপান ত্যাগীর সংখ্যা ৩১৩ জন। কাফার সেবাকেন্দ্র থেকে সেবা নিয়ে তার ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন।

মক্কায় ধূমপানের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি জন্য গঠিত কমিটির প্রধান আবু গাজালাহ স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সৌদি আরবের দাতব্য মন্ত্রণালয়, হজ ও ওমরা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ক এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে কাফা ধূমপান বিরোধী নানা কর্মসূচি প্রণয়ন করে থাকে। সেই সঙ্গে কাফা মিনা, মুজদালিফা ও আরাফাতসহ মক্কায় হজযাত্রীদের ধূমপান বিরোধী চিকিতসা দেয়।

চার বছর ধরে এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

অবশ্য অনেক ধূমপায়ী পবিত্র হজপালন শেষে নিজ থেকেই ধূমপান ছেড়ে দেন। তাদের হিসাব এখানে আসেনি।

মদিনা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু

মদিনা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু
মদিনা হাইওয়ে, ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: পবিত্র হজপালন শেষে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা জিয়ারতের উদ্দেশ্যে মক্কা থেকে মদিনা যাওয়ার পথে বাংলাদেশি হাজি বহনকারী বাস দুর্ঘটনায় ১ জন হাজি ঘটনাস্থলে ইন্তেকাল ও ২২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া হাজির নাম নুরুল ইসলাম (৭০)। তার গ্রামের বাড়ি ফেনী সদরে।

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) রাত সোয়া ১১টার দিকে মদিনা থেকে একশ' মাইল আগে ওয়াদি ফারা নামক স্থান বাসের চাকা বিস্ফোরণ হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় বাসটি উল্টে যায়। ওই বাসটিতে ৩৫ জন হাজি ছিলেন। আহতদের মধ্যে ৭ জনের অবস্থা গুরুতর। বাসের যাত্রীরা স্কাই ট্রাভেলসের মাধ্যমে সৌদি আরবে হজপালনের উদ্দেশ্যে আসেন।

আহতদের মদিনার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন নারী ছাড়া বাকিদের অবস্থা উন্নতির দিকে। গুরুতর আহতদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।

আহতদের ৮ জন মদিনা কিং ফাহাদ হাসপাতালে, মিকাত হাসপাতালে ৪ জন, উহুদ হাসপাতালে ২ জন, সৌদি-জার্মান হাসপাতালে ২ জন ও ইয়াতামা হাসপাতালে ২ জন চিকিতসাধীন রয়েছেন।

এদিকে হজপালনে সৌদি আরবে এসে শনিবার (১৬ আগস্ট) রাত পর্যন্ত ৮১ জন হাজি ইন্তেকাল করেছেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৭১ জন, নারী ১০ জন। মারা যাওয়া হাজিদের ৭২ জন মক্কায়, ৮ জন মদিনায় ও ১ জন জেদ্দায় ইন্তেকাল করেছেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র