হজ চুক্তি ১৩ ডিসেম্বর, দেড় লাখ কোটা দাবি

ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
মক্কা শরীফ, ছবি: সংগৃহীত

মক্কা শরীফ, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

হজ চুক্তি করতে সৌদি আরব যাচ্ছেন ধর্ম সচিব মো. আনিছুর রহমান। তার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি সরকারি প্রতিনিধি দল আগামী ১১ ডিসেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সৌদি আরব অবস্থান করে হজ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতর ও সৌদি সরকারের সঙ্গে চুক্তি করবেন।

১৩ ডিসেম্বর হজ চুক্তি সম্পাদিত হওয়ার কথা রয়েছে। দ্বিপক্ষীয় হজচুক্তির সময় হজের কোটা ছাড়াও হজযাত্রী পরিবহনের বিষয়সহ অন্যান্য বিষয় উল্লেখ থাকবে।

সৌদি সরকারের সঙ্গে হজ চুক্তির পর মক্কা হজ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ মোয়াচ্ছাসা, মদিনা হজ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (আদিল্লা), জেদ্দা পরিবহন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, সৌদি বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষ, ইউনাইটেড কার এজেন্সি সিন্ডিকেট ও ই-হজ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও সহায়ক চুক্তি সম্পাদন করবেন।

প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন- বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এম মোসাদ্দেক আহমেদ, হজ অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিস্টেমস অ্যানালিস্ট মো. সাইফুল ইসলাম, বিজনেস অটোমেশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহিদুল ইসলাম ও হজ এজেন্সিজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের ( হাব) মহাসচিব এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম।

রোববার (৯ ডিসেম্বর) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব এস এম মনিরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।

হজ চুক্তির আগে বাংলাদেশ হজের কোটা বাড়িয়ে দেড় লাখ করার দাবি জানাবে সৌদি সরকারের কাছে। বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য হজযাত্রীর কোটা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। গত তিন বছর ধরে এই কোটায় হজযাত্রী পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ। মূলত আদমশুমারির আলোকে সৌদি সরকার হজের কোটা নির্ধারণ করে থাকে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যেই জেদ্দাস্থ হজ কাউন্সিলর মো. মাকসুদুর রহমান সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে আগামী হজের জন্য বাংলাদেশের কোটা বাড়িয়ে দেড় লাখ করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের জনসংখ্যার হিসাবে মুসলিম জনসংখ্যা অনুযায়ী হজের কোটা ১ লাখ ৪৮ হাজারের বেশি পাওয়ার কথা। কিন্তু বাংলাদেশ এর চেয়ে অনেক কম কোটা পেয়ে আসছে। এ কারণে বাংলাদেশের হজযাত্রীদের হজের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ বিষয়ক পোর্টালে দেওয়া প্রাক নিবন্ধনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৯ সালের হজের জন্য অপেক্ষমাণ বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীর সংখ্যা ২ লাখ ১২ হাজার ৪৯৫ জন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় অপেক্ষমাণ হজযাত্রী ৬ হাজার ২১২ জন। এ হিসাবে আগামী হজেও যদি ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের কোটা বহাল থাকে তাহলে সরকারি কোটার ১০ হাজার বাদ দিয়ে বেসরকারি কোটা ১ লাখ ১৭ হাজার ১৯৮ জন ধরা হলে ৯৫ হাজার ২৯৭ জন কোটার অতিরিক্ত হয়ে যায়।

সরকার হজযাত্রীদের সুবিধার্থে হজের প্রাক নিবন্ধন সারা বছর চালু রেখেছে। সৌদি মোয়াল্লিম ফির টাকা নির্ধারিত ব্যাংকে জমা দিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দিয়েই হজের প্রাক নিবন্ধন করা যায়। অবশ্য হজের আগে নির্ধারিত সময়ে সমুদয় টাকা পরিশোধ করে পাসপোর্টের তথ্য দিয়ে হজের মূল নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হয়। মূল নিবন্ধিতরাই হজে যেতে পারেন।