Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

বিশ্ব মুসলিমের মহামিলন কেন্দ্র 

বিশ্ব মুসলিমের মহামিলন কেন্দ্র 
কাবা শরিফে বিশ্ব মুসলিমের মিলনমেলা। ছবি বার্তা২৪
ড. মাহফুজ পারভেজ
কন্ট্রিবিউটিং এডিটর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: হজের সময় তো বটেই, সারা বছরের প্রতিটি দিনই পবিত্র কাবা শরিফ  বিশ্ব মুসলিমের মহামিলনের এক অনিবার্য কেন্দ্রস্থল।  'লাব্বাইক আল্লাহুমা লাব্বাইক' ধ্বনি উচ্চারণ করে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্ত থেকে মুসলিম নর-নারী হাজির হন এখানে।

সকলেই এক ও অভিন্ন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, 'হে আল্লাহ, আমি উপস্থিত হয়েছি। হে আল্লাহ, আপনার কোনো শরিক নেই। আপনি এক ও অদ্বিতীয়। সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্য।'

কেউ কারো ভাষা জানেন না। কারো চেহারার সঙ্গে কারো কোনো মিল নেই। কিন্তু সকলোর মধ্য একটি মিল সবাইকে এক কাতারে মিলিত করেছে। তা হলো, তাওহিদের স্বাক্ষ্য। সকলেই এক আল্লাহর বান্দা হিসাবে ঘোষণা দিয়ে মিশেছেন ইসলামের ঐক্যের বন্ধনে। মুসলিম উম্মাহর অংশ হয়ে সকলেই একাকার হয়েছেন হেরার জ্যোতিময় কালেমার নূরানী  কাফেলায়।

হজের নির্ধারিত দিনগুলো ছাড়া বছরের বাকী সব দিনে বায়তুল্লাহর পবিত্র কাবা চত্বরে ওমরাহ পালনের জন্য মুসলিমরা সমবেত হন। সাধারণত রমজান মাসে ওমরাহ পালনের আগ্রহ মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি হাদিসের বাণীতে উল্লেখিত হয়েছে, 'যে ব্যক্তি রমজানে ওমরাহ পালন করবে, সে আমার (নবীর) সঙ্গে ওমরাহ পালনের সৌভাগ্য লাভ করবে।' ফলে অনেক নিবেদিতপ্রাণ মুসলমান রমজানে ওমরাহ পালনের জন্য আকুল হয়ে থাকেন।

রমজান ছাড়াও বছরের সুবিধাজনক সময়ে মানুষ ওমরাহ করতে আসেন মক্কার পবিত্র বায়তুল্লাহর কাবা শরিফে। তারা সেখানে তাওয়াফ বা সাত বার চক্কর দিয়ে সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থান সাত বার সাঈ করেন বা দৌড়ান। এক বিস্ময়কর বিষয় হলো, আল্লাহর ঘরে তাওয়াফ এবং সাঈ এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ হয় না। দিনে বা রাতে, শীতে বা গ্রীষ্মে, ঝড়ে বা বৃষ্টিতে, দুর্যোগ বা ঝঞ্ঝার মধ্যেও কেউ না কেউ আল্লাহর মহিমা উচ্চারণের মাধ্যমে তাওয়াফ ও সাঈ করছেনই। আল্লাহর শানে ঊর্ধ্বকাশের বায়তুল মা'মুরে ফেরেশতাদের আর পৃথিবীতে বায়তুল্লাহে মানুষের প্রার্থনা নিরবধি। সদা চলমান। 

প্রার্থনার চিরন্তন ধারায় সমবেত হতে মানুষ দলে দলে উপস্থিত হন পবিত্র কাবায়। উৎসবমুখর তাদের অংশগ্রহণ। সাধারণত প্রৌঢ় বা বৃদ্ধ বয়সে হজ, ওমরাহ করার একটি প্রবণতা বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে পরিলক্ষিত হলেও বৈশ্বিক বাস্তবতা ভিন্ন।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মুসলমানরা তরুণ ও যুবক বয়সেই আসেন হজ ও ওমরাহে। তারা আসেন সপরিবারে। আনন্দময় মনোভাবে অংশ নেন নামাজে, তাওয়াফে, সাঈ এবং অন্যান্য আমলে।দলবেঁধে ঘুরে বেড়ান মক্কার পবিত্র স্থানগুলোতে। চোখ ও মন ভরে দেখেন আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালার অপরূপ নিদর্শন। পুষ্ট করেন তাদের ঈমান। শুদ্ধ করেন তাদের আমল। ঐক্যবদ্ধ হন ইসলামী উম্মাহর ঐতিহাসিক কাফেলায়। তারপর রূহানিয়াতের ফল্গুধারায় প্লাবিত হয়ে প্রত্যাবর্তন করেন স্বদেশে।

আপনার মতামত লিখুন :

হাজিদের ভিড়ে জাগ্রত থাকে মসজিদে আয়েশা

হাজিদের ভিড়ে জাগ্রত থাকে মসজিদে আয়েশা
মসজিদে হারামে নামাজ আদায়, নফল তাওয়াফ ও সুযোগ বুঝে নফল উমরা আদায় করছেন হাজিরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: হজপালন শেষে মক্কায় অবস্থানরত হাজিরা মক্কার বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন, ৫ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে হারামে আদায়, নফল তাওয়াফ ও সুযোগ বুঝে নফল উমরা আদায় করে কাটাচ্ছেন।

মক্কায় অবস্থানরত হাজিরা উমরার নিয়ত করলে তাদের ইহরাম বাধার জন্য যেতে হয় আয়েশা মসজিদে। সেখানে যেয়ে (ইহরাম আগেও পড়া যায় মসজিদে আয়েশাতে যেয়েও অনেকে পরিধান করেন) দুই রাকাত নামাজ পড়ে তালবিয়া (লাব্বাইক .... ) পড়ে কাবা শরিফে এসে উমরার সব নিয়মনীতি পালন করেন।

মসজিদটি মক্কার তানঈম এলাকায় অবস্থিত। এটাকে মসজিদে তানঈমও বলা হয়। হেরেম এলাকার বাইরে এটি মক্কা থেকে সর্বাধিক নিকটবর্তী স্থান। মক্কা থেকে ৬ কিলোমিটার উত্তরে মক্কা-মদিনা রোডে আল হিজরা এলাকায় অবস্থিত এই মসজিদ। রাতদিন ২৪ ঘণ্টা এখানে মুসল্লিদের উপস্থিতি থাকে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566392961853.jpg

উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) এখান থেকে উমরার ইহরাম বেঁধে উমরা করেছিলেন। পরে সেখানে একটি বিশাল মসজিদ গড়ে উঠে। মসজিদটি ইসলামি শিল্পনৈপুণ্যের এক অনুপম নিদর্শন।

বিদায় হজের সময় হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.)কে তার ভাই হজরত আবদুর রহমান (রা.)-এর সঙ্গে হারামের বাইরে এখান থেকে উমরার ইহরাম বাঁধার জন্য পাঠিয়েছিলেন।

এ কারণে এখান থেকে মক্কাবাসীরা উমরার জন্য এখান থেকে ইহরাম বেঁধে থাকেন। বিদেশি হাজিরা এখান থেকে উমরার ইহরাম বেঁধে থাকেন। অবশ্য এটা নিয়ে ইসলামি স্কলারদের মাঝে বিতর্ক আছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566392972633.jpg

মক্কা থেকে এখানে আসতে বাস ভাড়া ৩ রিয়াল, আর ট্যাক্সি ভাড়া ৫ রিয়াল। সারাক্ষণ নফল উমরার ইহরামের জন্য আসা হাজিদের ভিড় থাকে মসজিদটিতে। বিশাল এই মসজিদের দু’টি মিনার ও একটি গম্বুজ অনেক দূর থেকে দেখা যায়। মসজিদটি খেজুর গাছ দ্বারা পরিবেষ্টিত। মসজিদের সামনে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য বিশাল জায়গা রয়েছে। রয়েছেন অজু ও নারীদের নামাজের জন্য আলাদা ব্যবস্থা।

হজ বা উমরাপালন করতে যারা বিমানযোগে সৌদি আরব আসেন তারা নিজ দেশ থেকে কিংবা নির্দিষ্ট মিকাত থেকে নিয়ত করেন। কিন্তু হজের পর উমরা করতে চাইলে উত্তম হলো- নির্দিষ্ট মিকাতে যেয়ে উমরার নিয়ত করা। এজন্য তায়েফ, রাবেক, মদিনা, আস-সাইরুল খাবির, আস-সাদিয়াত যেতে পারেন। এসব জায়গা থেকে আসার পথে মিকাত পড়বে। সেখান যথা নিয়মে উমরার নিয়ত করে উমরা আদায় করতে পারেন।

ইসলামি স্কলারদের অভিমত হচ্ছে, হজে গিয়ে বেশি বেশি তাওয়াফ করা। এটি সুন্নত এবং সবচেয়ে উত্তম কাজ। কাজেই যারা মক্কায় অবস্থান করেন, তারা বেশি করে তাওয়াফ করবেন এবং আল্লাহর ঘরে গিয়ে বেশি করে নফল নামাজ আদায় করবেন।

আরও পড়ুন: হজপালনে শীর্ষ ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ চতুর্থ

আরও পড়ুন: হজ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কিছু প্রস্তাবনা

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে
ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: সৌদি আরবে আসা হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আসা ৫৮ আলেমকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন মদিনার মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকালে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহর নেতৃত্বে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখ দল হজপালন শেষে মদিনার মসজিদে নববী পরিদর্শনে গেলে তারা এ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় মসজিদে নববীর প্রধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল খুদায়েরি বলেন, অতীতে বাংলাদেশের এতো বড় আলেম প্রতিনিধি দল সৌদি আরব বিশেষ করে মদিনায় আসেনি। একসঙ্গে বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমদের কাছে পেয়ে তারা গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315408680.jpg

এ সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সৌদি আরবের সঙ্গেও তিনি সুসম্পর্ক বজায় রাখছেন। তিনি আরও বলেন, মুসলিম বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সৌদি আরবের নেতৃত্বকে সমর্থন জানাবে বাংলাদেশ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315426944.jpg

পরে বাংলাদেশের আলেম ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারকে সালাম ও দরুদ পেশ এবং রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করেন মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য যে, হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখের একটি দল রাষ্ট্রীয় খরচে সৌদি আরব অবস্থান করছেন। ২১ আগস্ট তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র