Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

দানশীলদের জন্য রয়েছে গৌরবময় পুরস্কার

দানশীলদের জন্য রয়েছে গৌরবময় পুরস্কার
দানশীলদের জন্য রয়েছে গৌরবময় পুরস্কার, ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

দান কেবল আর্থিক বা বস্তুগত নয়। দান জ্ঞানগত ও আধ্যাত্মিকও হতে পারে। ইসলামি স্কলাররা ইসলামের প্রচার-প্রসার, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য রক্ষা, মানুষের দরিদ্রতা দূর করা ও সমাজের উন্নয়নের জন্য দানশীলতাকে জরুরি বলে মনে করেন। কোরআনে কারিমে আল্লাহর একত্ববাদ ও রাসূলের প্রতি ঈমান আনার পাশাপাশি আল্লাহ মানুষকে যা দিয়েছেন তা থেকে দান করতে বলা হয়েছে।

সূরা হাদিদের ১০ নম্বর আয়াতে এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদেরকে আল্লাহর পথে ব্যয় করতে কিসে বাধা দেয়…, তোমরা যা করো- আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত।’

স্বাভাবিক নিয়মে মানুষ যা অর্জন করে তা ফেলে রেখে দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়। এটাই দুনিয়ার রীতি। তাই মানুষের উচিত দান-খয়রাত করার সুযোগকে কাজে লাগানো। অবশ্য নানা পরিবেশ ও প্রেক্ষাপটে দানের গুরুত্ব সমান নয়। সংকটপূর্ণ ও কঠিন অবস্থায় দানের মূল্য বেশি স্বাভাবিক দানের তুলনায়। অবশ্য শান্তি ও সুখ-সমৃদ্ধির সময়ে করা দান এবং ইসলামি তৎপরতার জন্য দানেরও আলাদা মূল্য রয়েছে। আল্লাহতায়ালা প্রত্যেক প্রকারের দানের জন্য প্রতিদান দেবেন বলে ওয়াদা দিয়েছেন। তবে এটা স্পষ্ট যে, সংকটপূর্ণ সময়ের দান ও জিহাদ বেশি পুরস্কার পাবার যোগ্য।

দানের সওয়াব বর্ণনার পাশাপাশি সূরা হাদিদের ১১ নম্বর আয়াতে মানুষকে দানশীলতার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, ‘কে সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহকে উত্তম ধার দেবে, এরপর তিনি তার জন্যে তা বহুগুণে বাড়িয়ে দেবেন এবং তার জন্যে রয়েছে গৌরবময় পুরস্কার?’

বর্ণিত আয়াতে আল্লাহতায়ালাকে উত্তম ধার দেওয়া বলতে আল্লাহর পথে যে কোনো ধরনের খরচকে বোঝানো হয়েছে। দানশীল মানুষকে কিয়ামতের দিনে গৌরবময় পুরস্কার দেওয়া হবে বলে আল্লাহ ওয়াদা দিয়েছেন। সেদিন ঈমানদার নারী ও পুরুষের নুর তাদের সামনে এবং ডানদিকে দ্রুতগতিতে অগ্রসর হবে। কিয়ামতের দিন মানুষের বিশ্বাস ও তৎপরতা উজ্জ্বল নূর হয়ে প্রকাশ পাবে এবং কুফরি তৎপরতা চরম অন্ধকার হয়ে দেখা দেবে। এ সময় মুমিনদের বেহেশতি বাগানের অধিকারি হওয়ার সুসংবাদ দেবেন ফেরেশতারা। এসব বাগানে প্রবাহমান থাকবে ঝর্ণা। আর এটা খুবই বড় সাফল্য।

কিয়ামতের দিন অজ্ঞতা ও কপটতার মধ্যে ডুবে থাকা মুনাফিকরা একটু আলো পাওয়ার জন্য মুমিনদের কাছে আকুল আবেদন জানাতে থাকবে। জবাবে তাদের বলা হবে, নিজের অতীতের দিকে ফিরে তাকাও এবং সেখান থেকে তথা দুনিয়া থেকে আলো অন্বেষণ করা উচিত ছিল তোমাদের। অর্থাৎ পরকাল নুর অর্জনের জায়গা নয়। নুর দুনিয়াতেই অর্জন করতে হয় ঈমান ও সৎকাজের মাধ্যমে। কিন্তু এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।

এ সময় মুমিন ও মুনাফিকদের মধ্যে দেয়াল তোলা হবে। দেয়ালে থাকবে এমন এক দরজা, যার ভেতর দিকে রহমত আর বাইরে থাকবে শাস্তি। মুনাফিকরা মুমিনদের চিৎকার করে বলবে, আমরা কি তোমাদের সঙ্গে ছিলাম না? আমরা তোমাদের সঙ্গে এক জায়গাতেই তো পাশাপাশি থাকতাম। আজ কেন আমাদের থেকে আলাদা হয়ে গেলে? তোমরা আলাদা হয়ে যাওয়ায় খোদায়ি রহমত তোমাদের ঘিরে ফেলেছে অজস্র ধারায়। অথচ আমাদেরকে শাস্তির মধ্যে ছেড়ে দিলে? তখন বেহেশতি মুমিনরা বলবেন, হ্যাঁ, আমরা একসঙ্গেই ছিলাম। কিন্তু ধর্মবিশ্বাস ও আমলের দিক থেকে আমাদের মধ্যে ছিল বহুযোজন ব্যবধান। তোমাদের কাছে সত্যের কোনো মূল্যই ছিলো না।

ইতিহাসে দেখা গেছে, একটি সমাজ বিশ্বাস ও নৈতিকতার দিক থেকে উন্নত হওয়া সত্ত্বেও সে সমাজে এমন অনেককে দেখা যায় আল্লাহর আদেশ মানে না এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বাধা দেয়। এমন লোককে আল্লাহতায়ালা খুব অপছন্দ করেন। তাদের জন্য পরকালে রয়েছে কঠিনতম শাস্তি।

আপনার মতামত লিখুন :

পবিত্র কাবা ও মসজিদে হারামের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম

পবিত্র কাবা ও মসজিদে হারামের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ইবাদতের জন্য পৃথিবীতে সর্বপ্রথম স্থাপিত গৃহ পবিত্র কাবাঘর। কাবার চারপাশে গড়ে ওঠা মসজিদই মসজিদে হারাম। কাবা ও মসজিদে হারামের সঙ্গে পৃথিবীর ১৮০ কোটি মুসলমানের হৃদয় আধ্যাত্মিক সুতায় বাঁধা।

মসজিদে হারামে এক রাকাত নামাজ পড়লে অন্যত্র ১ লাখ রাকাত নামাজেরও বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। হজরত জাবির (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- 'আমার এ মসজিদে এক নামাজ অন্য মসজিদে হাজার নামাজ থেকেও উত্তম। তবে মসজিদে হারাম ছাড়া। কেননা মসজিদে হারামে এক নামাজ অন্য মসজিদের এক লক্ষ নামাজের চেয়ে উত্তম।'(মুসনাদে আহমাদ)। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/22/1563767670027.jpg
 পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য মোট কর্মচারীর সংখ্যা ১৭১৫

 

কাবাঘরকে ঘিরে নির্মিত মসজিদে হারামের আয়তন ৪ লক্ষ বর্গমিটার বা ৪৩ লক্ষ বর্গফুট। স্বাভাবিক ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী এতে একসঙ্গে ৯ লক্ষ মুসুল্লি নামাজ আদায় করতে পারে। তবে হজ বা রমজানের মওসুমে অতিরিক্ত আরও ৪০ লক্ষ লোকের স্থান সংকুলান হয় মসজিদে হারামে।

এতোবড় আয়োজনের পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও অত্যধিক গুরুত্বের দাবি রাখে। বছরে দুইবার কাবা ঘরের দরজা খুলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয় এবং কাবাঘরকে বিশেষ পানি দ্বারা ধোয়া হয়। প্রথমবার করা হয় শাবান মাসে আর দ্বিতীয়বার করা হয় জিলকদ মাসে। পবিত্র জমজমের পানি, তায়েফ গোলাপ জল এবং বহু মূল্যবান ঊড তৈল দিয়ে একটি পরিষ্কার মিশ্রণ তৈরি করে তা দিয়েই পবিত্র কাবা শরিফ পরিষ্কার করা হয়। আর এ কাজে নেতৃত্ব দেন দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম সৌদির বাদশাহসহ দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/22/1563767690112.jpg
মসজিদে হারাম পরিষ্কার ও পবিত্র করার কাজে ২০০ গ্যালন গোলাপজল ব্যবহার করা হয়

 

আর মসজিদে হারামকে দৈনিক ৫ বার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। মসজিদে হারামের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য প্রতিদিন ১২৪৫ জন কর্মচারী লিপ্ত থাকেন। হজের মৌসুমে পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য জরুরি কাজে ৪৭০ জন কর্মচারী বাড়ানো হয়। যে কারণে মোট কর্মচারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭১৫ জন। এর মধ্যে ২১০ জন মহিলা কর্মচারী থাকে।

পবিত্র রমজান মাসে উমরাহ চলাকালীন সময়ে ১৩১ জন অতিরিক্ত নারী কর্মচারীর খেদমত গ্রহণ করা হয়ে থাকে। যারা মসজিদে হারামের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন। মসজিদে হারাম পরিষ্কার ও পবিত্র করার কাজে ২০০ গ্যালন গোলাপজল ব্যবহার করা হয়। দ্রুততার সঙ্গে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে পরিষ্কারের সাধারণ পদ্ধতি ছাড়াও নিত্যনতুন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও মেশিনারির ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/22/1563767703981.jpg
পরিচ্ছন্ন কর্মীদের বড় অংশ ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের

 

কিছু আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে গোলাপজল ভরে মসজিদের মেঝে ও আশপাশে ছিটানো হয়। খাদেমগণ বাইতুল্লাহর মেঝে পরিষ্কারের সঙ্গে কাবার গিলাফ, হাজরে আসওয়াদ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ও জিনিসপত্রে প্রতিদিন পাঁচবার সুগন্ধি লাগান।

মসজিদে হারাম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সময় কর্মচারীরা বিশেষ পোশাক পরিধান করে কাজ করেন। আর এই পরিচ্ছন্ন কর্মীদের বড় অংশ ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের।

সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা

সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা
সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা, ছবি: সংগৃহীত

কালো কাপড়ের আচ্ছাদিত পবিত্র কাবা দেখতে বিশ্ববাসী অভ্যস্ত। এটাই কাবার চিরায়ত রূপ। কিন্তু বছরের তিন সপ্তাহের মতো সময় সেই পুরনো রূপে দেখা যায় না কাবাকে। কারণ, তখন কালো কাপড়ের সঙ্গে কাবার গিলাফের নিচের বেশ কিছু অংশ সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়, আর কিছু অংশ খালি রাখা হয়। তখন সাদা-কালোর মিশ্রণে নতুন রূপে দেখা যায় কাবা ঘরকে।

প্রতিবছর হজ মৌসুমে জিলকদ মাসের মাঝামাঝি সময়ে পবিত্র কাবা ঘরের গিলাফকে মাটি থেকে অনেকটা উঁচুতে উঠিয়ে খাঁজ করে রাখা হয়। আর কিছু অংশ খোলা রাখা হয়।

কারণ, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হজপালনেচ্ছুদের অনেকে বরকত লাভের আশায় নিরাপত্তারক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কাবার গিলাফ কেটে নিয়ে যায়। তারা মনে করেন, কাবার গিলাফের টুকরো কাফনের কাপড়ের সঙ্গে দিয়ে দিলে কবরের আজাব হবে না, কিংবা পরকালে এটা তার মুক্তির কারণ হবে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563722255398.jpg

অনেকে আবার পবিত্র কাবা ঘরের গিলাফ স্পর্শ করার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করে আহত হন। ফলে অনেকের জন্য তাওয়াফ করা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠে।
মূলত কাবার গিলাফের মূল অবয়ব রক্ষা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য এটা করা হয়। তখন সাদা-কালোর গিলাফের সংমিশ্রণে কাবা শরিফের নতুন রূপ পরিলক্ষিত হয়। দেখার সৌভাগ্য হয় কাবার দেয়ালের প্রকৃত রূপ।

অবশ্য ৯ জিলহজ আরাফার দিন (হজের দিন) পুরনো এই গিলাফ পরিবর্তন করে নতুন গিলাফ লাগানো হবে। ফলে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে এসে হাজি সাহেবর নতুন গিলাফে ঢাকা কাবা দেখতে পাবেন।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563722287338.jpg

কাবার গিলাফ স্পর্শ করা বা এটা ধরে দোয়া-মোনাজাত করার আলাদা কোনো ফজিলত নেই। তার পরও দেখা যায়, অনেক হজযাত্রী কাবাঘরের দেয়াল স্পর্শ করতে এমনকি তাতে নিজের রুমাল, জামা কাপড় স্পর্শ করাতে। যদিও ধর্মীয় চিন্তাবিদরা এমন কাজ করা থেকে মানুষকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র