Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

পঞ্চম হিজরির লেখা কোরআনের তাফসির

পঞ্চম হিজরির লেখা কোরআনের তাফসির
পঞ্চম হিজরির লেখা কোরআনের তাফসির, ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মৌরিতানিয়া। আফ্রিকার একাদশতম বৃহত্তর রাষ্ট্র এটি। একসময় ফরাসি উপনিবেশ ছিল। দেশটির প্রায় শত ভাগ লোকই মুসলমান।

বিশ্বে দাসত্ব প্রথা আনুষ্ঠানিকভাবে বিলোপে মৌরিতানিয়াই হচ্ছে সর্বশেষ রাষ্ট্র। দেশটির পুরো নাম, মৌরিতানিয়া ইসলামি প্রজাতন্ত্র। রাজধানীর নাম নুয়াকশুত।

এক লাখ ৩০ হাজার বর্গকিলোমিটার দেশের দাপ্তরিক ভাষা আরবি। মৌরিতানিয়া ফ্রান্স থেকে ১৯৬০ সালে স্বাধীনতা অর্জন করে।

সেই মৌরিতানিয়ার ভ্যালিটা শহরের এক লাইব্রেরিতে ২৫ হাজার হস্তলিখিত ও প্রাচীন গ্রন্থের বিশাল সমাহার রয়েছে। এ সব গ্রন্থের মধ্যে প্রাচীনতম গ্রন্থ হচ্ছে- কোরআনে কারিমের একটি তাফসির। যা পঞ্চম হিজরিতে লেখা হয়েছে। আরবিতে লেখা তাফসিরটি দেখতে প্রতিদিন অসংখ্যা দর্শনার্থী ও গবেষক লাইব্রেরিতে ভিড় জমান। তবে, ওই তাফসিরটির মূল লেখক কে এটি নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি রয়েছে। এখন পর্যন্ত মূল লেখকের নাম উদ্ধার করা যায়নি। এটা নিয়ে গবেষণা চলছে। তবে লাইব্রেরিতে যে সব প্রাচীন পাণ্ডুলিপি রয়েছে, তার অধিকাংশই ইতিহাস ও সভ্যতা বিষয়ক। লাইব্রেরিটি ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই লাইব্রেরিটি বিশ্বব্যাপী গবেষকদের জন্য একটি রেফারেন্স পয়েন্ট হিসেবে প্রসিদ্ধ।

ভ্যালিটা রাজধানী নুয়াকশুতের ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে অবস্থিত।

আপনার মতামত লিখুন :

এবার নৌ পথে হজপালন করবেন ২২ হাজার হজযাত্রী

এবার নৌ পথে হজপালন করবেন ২২ হাজার হজযাত্রী
২০১৮ সালে নৌ পথে আসা হজযাত্রীদের একাংশ, ছবি: সংগৃহীত

৪ জুলাই থেকে বিভিন্ন দেশের হজযাত্রীরা হজপালনের জন্য আকাশপথে সৌদি আরব যাচ্ছেন। বুধবার থেকে (১৭ জুলাই) সৌদি আরবের জেদ্দা (ইসলামিক পোর্টে) নৌ বন্দর দিয়ে নৌ পথে আসা হজযাত্রীরা দেশটিতে প্রবেশ করবেন। প্রথম জাহাজে ৪৮০ জন যাত্রী রয়েছে। জাহাজটি সুদান থেকে আসবে। খবর সৌদি গেজেটের।

এসব হজাযাত্রী সুদানের সুকিন নৌ বন্দর থেকে আসছেন। এক সময় সুকিন বন্দরটি পূর্ব আফ্রিকার প্রধান নৌ বন্দর হিসেবে স্বীকৃত ছিল।

জেদ্দা সমুদ্র বন্দরটি দীর্ঘদিন ধরে হজযাত্রীদের জন্য অনেক প্রাচীনতম বন্দর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যদিও বিমানের স্বল্প সময়ের ভ্রমণের ফলে নৌ পথে হাজিদের যাতায়াত ব্যাপকহারে হ্রাস পেয়েছে। এই নৌ বন্দরে প্রতি ঘণ্টায় ৮ শ’ জনের বেশি মানুষ ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে পারবেন। এ জন্য অতিরিক্ত ২৬৬ জন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

জেদ্দার বাদশাহ আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং মদিনার প্রিন্স মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের পর হজযাত্রীদের জন্য তৃতীয় বৃহত্তম প্রবেশ পথ হলো- জেদ্দার ইসলামিক নৌ বন্দর।

জেদ্দা নৌ বন্দরের মহাপরিচালক আব্দুল্লাহ আল জালিলি সৌদি গেজেটকে জানিয়েছেন, এ বছর নৌ পথে সুদান থেকে ৩০টি জাহাজের মাধ্যমে ২২ হাজার হজযাত্রী সৌদি আরব আসবেন। গত বছর এসেছিলেন ১৫ হাজার হজযাত্রী নৌ পথে।

ইতোমধ্যে নৌ বন্দরে হজযাত্রীদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্মী নিয়োগ করেছে। হজযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি নৌ বন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্নসহ লাগেজ স্ক্যানের যন্ত্রপাতি বসানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, সময়ের পরিক্রমায় এখন বিমানে অল্প সময়ে হাজার মাইল পথ পাড়ি দেওয়া সম্ভব। এক সময় ছিল যখন মানুষকে ১ বছর বা ৬ মাস আগ থেকেই হজের সফর শুরু করতে হত। বাংলাদেশ থেকেও পানি পথে মানুষ হজে যেতেন। সম্প্রতি ভারত সরকার নৌ পথে হজ সার্ভিস চালু করার ঘোষণা দিয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রী পরিবহনে নৌ পথে ব্যবহারের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চারতি হচ্ছে। সাগরপথে চট্টগ্রাম-জেদ্দা গমন করতে পারলে খুব কম খরচে আল্লাহর মেহমানরা হজ করতে পারবেন। যেহেতু চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিকমানের নৌ বন্দর রয়েছে, সরকার ইচ্ছা করলে নৌ পথে হজযাত্রার ব্যবস্থা করতে পারে।

একাধিক জানাজা ও লাশ দাফনে বিলম্ব প্রসঙ্গে ইসলাম

একাধিক জানাজা ও লাশ দাফনে বিলম্ব প্রসঙ্গে ইসলাম
বায়তুল মোকাররম মসজিদে জানাজার নামাজের দৃশ্য, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

আমাদের দেশে বিখ্যাত কেউ মারা গেলে তার একাধিক জানাজার নামাজ পড়া হয়। অনেকক্ষেত্রে জানাজার নামাজের সংখ্যাকে গুরুত্ব দিতে যেয়ে মরদেহ দু’তিন দিন পর দাফন করার ঘটনাও ঘটে। অথচ ইসলামে এসব কাজের অনুমতি নেই।

বর্ণিত বিষয়ে ইসলামি শরিয়তের নির্দেশনা হলো- কেউ মারা গেল বিলম্ব না করে মৃতদেহের গোসল দেবে, কাফন পরাবে। অতপর জানাজার নামাজ পড়ে দ্রুত দাফন করে দেবে। একাধিক হাদিসে মৃত্যুর পর থেকে দাফন পর্যন্ত সব কাজ দ্রুত করার কথা বলা হয়েছে এবং বিলম্ব করতে নিষেধ করা হয়েছে।

সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে, ‘হজরত তালহা ইবনে বারা (রা.) অসুস্থ হলে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখতে গেলেন। অতপর বললেন, আমি তালহার মধ্যে মৃত্যুর আলামত দেখতে পাচ্ছি। অতএব (সে মারা গেলে) এ সম্পর্কে আমাকে অবহিত করবে। আর তোমরা দ্রুত কাফন-দাফনের ব্যবস্থা করবে। কেননা কোনো মুসলমানের মৃতদেহকে পরিবারস্থ লোকদের মাঝে আটকে রাখা উচিত নয়।’ -হাদিস: ৩১৫৯

অন্য বর্ণনায় এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, আমি হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি যে, তোমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তোমরা তাকে আটকে রেখো না। তাকে দ্রুত দাফন করে দিও।’ তাবারানি: ১৩৬১৩

সহিহ বোখারির এক হাদিসে জানাজার নামাজের পর লাশ দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও বিলম্ব না করার নির্দেশ এসেছে।

বর্ণিত হাদিসের আলোকে বলা যায়, মৃত্যুর পর বিলম্ব না করে কাফন, জানাজা দ্রুত সম্পন্ন করে তাড়াতাড়ি দাফন করে দেবে।

এ কারণে ইসলামি স্কলাররা বলেন, মৃতের গোসল, কাফন-দাফন ও জানাজা সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা উত্তম এবং বিনা কারণে বিলম্ব করা মাকরূহ।

তাই স্বাভাবিক সময়ের ভেতরে মৃতের জানাজা-দাফনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়ে গেলে মৃতের অভিভাবক উপস্থিত লোকদের নিয়ে জানাজা পড়ে দ্রুত দাফন করে দেবে। এ সময়ের মধ্যে কোনো আত্মীয়-স্বজন বা বিশেষ কোনো ব্যক্তির উপস্থিত হওয়া সম্ভব না হলে তার জন্য বিলম্ব করা সমীচীন নয়।

অবশ্য মৃতের অভিভাবক নিজেই যদি দূরে অবস্থান করার কারণে স্বাভাবিক সময়ের মধ্যে তার উপস্থিত হওয়া সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে করণীয় হলো- তার অপেক্ষা করতে না বলে দ্রুত দাফন করে দিতে বলা।

কিন্তু অভিভাবক যদি তার জন্য অপেক্ষা করতে বলে তাহলে তার জন্য বিলম্ব করার অবকাশ রয়েছে। অবশ্য এক্ষেত্রেও এ পরিমাণ বিলম্ব করার অবকাশ নেই, যার কারণে লাশের মধ্যে পরিবর্তন হওয়ার আশংকা হয়। এত অধিক সময় বিলম্ব করা জায়েজ নয়।

আর দাফনে দীর্ঘ বিলম্বের উদ্দেশ্যে লাশের পরিবর্তন ও বিকৃতিরোধে লাশকে হিমাগারে রাখা কিংবা ঔষধ দিয়ে রাখা জায়েয নয়। বরং লাশের স্বাভাবিক অবস্থা পরিবর্তন হওয়ার পূর্বে দাফন করে দেওয়া জরুরি। এর অধিক বিলম্ব করা গোনাহ।

ইসলামি স্কলারদের অভিমত হরো- মৃতদেহকে হিমাগারে রাখা কিংবা মেডিসিন ইত্যাদি দিয়ে রাখা সম্মানপরিপন্থী ও কষ্টদায়ক। অথচ মৃত ব্যক্তির সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা জরুরি। হাদিসে আছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছেন, কোনো মুমিন ব্যক্তিকে তার মৃত্যুর পর কষ্ট দেওয়া তেমনই যেমন জীবিত অবস্থায় তাকে কষ্ট দেওয়া। -মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ১১৯৯০
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/15/1563205495520.jpg

এ সংক্রান্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় আল্লামা ইবনে হাজার (রহ.) বলেছেন, জীবিত ব্যক্তি যে সব বস্তু দ্বারা আরামবোধ করে মৃত ব্যক্তি তা দ্বারা আরামবোধ করে। ইবনুল মালেক (রহ.) বলেছেন, মৃত ব্যক্তি কষ্টদায়ক বস্তু দ্বারা কষ্ট পায়। -মিরকাতুল মাফাতিহ: ৪/১৭০

তাই মৃতকে হিমাগারে রাখা মূলত তাকে কষ্ট দেওয়ারই নামান্তর। এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা অপরিহার্য।

অনুরূপ লাশ জানাজা ও দাফনের জন্য প্রস্তুত হওয়ার পর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রথা পালনের জন্য স্থানে স্থানে প্রদর্শন করা, পুষ্পস্তবক অর্পণ করা, ভিডিও করা, শোকের আবহে করুণ সুর বাজানো, লাশকে সামনে রেখে দীর্ঘ সময় ধরে জীবনালোচনা করা গর্হিত কাজ। এগুলোর মধ্যে জীবিত মৃত কারোরই কোনো কল্যাণ নেই।

জানাজার নামাজ একটি ফরজ ইবাদত। নবী করিম (সা.) আদেশ করেছেন, ‘তোমরা সবার জানাজার নামাজ আদায় করো। মৃত ব্যক্তি ভালো হোক আর মন্দ হোক।’

নবী করিম (সা.) আরও ইরশাদ করেছেন, ‘একজন মুসলমানের ওপর অপর মুসলমানের পাঁচটি অধিকার রয়েছে। ওই সব অধিকারের পঞ্চমটি হলো- সে মারা গেলে তার জানাজার নামাজ আদায় করা।’

যেহেতু পৃথিবীর সব মুসলমানের জন্য প্রত্যেক মৃত মুসলিমের জানাজার নামাজ আদায় করা সম্ভব নয়, সেহেতু এটা ফরজে কিফায়া। অর্থাৎ কিছু মানুষ আদায় করলে সবার ওপর থেকে ফরজ আদায় হয়ে যাবে। আর এ কথা আমরা সবাই জানি যে, কোনো নির্দিষ্ট ফরজ আমল একাধিকবার করা যায় না। নফল বারবার করা যায়।

আর মৃতের একাধিক জানাজা পড়া জায়েজ নয়। মৃতের অভিভাবক কিংবা তার অনুমতি সাপেক্ষে জানাজার নামাজ আদায় হয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়বার ওই মৃতের জানাজা পড়ার অবকাশ নেই। সাহাবারা কোনো মৃতের একাধিক জানাজা পড়া থেকে বিরত থাকতেন।

ইসলামি স্কলারহণ, জুমার দিনের শুরুতে জানাজা প্রস্তুত হয়ে যাওয়ার পর শুধু অধিক সংখ্যক মুসল্লি নিয়ে জানাজা পড়ার উদ্দেশ্যে জুমা পর্যন্ত বিলম্ব করাকেও মাকরূহ বলেছেন।

ইসলামি শরিয়ত মৃতের অভিভাবককে নামাজে জানাজার অগ্রাধিকার প্রদান করেছে, সেহেতু তার অসম্মতিতে কিংবা তার অগোচরে নামাজে জানাজা পড়া হলে শরিয়ত প্রদত্ত অভিভাবকের এ অগ্রাধিকার ক্ষুন্ন হয়। সেক্ষেত্রে অভিভাবকের অধিকার অক্ষুন্ন রাখার জন্য ইসলাম অভিভাবককে বিশেষ অনুমতি প্রদান করেছে, সে পুনরায় নতুন কিছু মানুষ নিয়ে নামাজে জানাজা আদায় করতে পারবে।

ইসলাম মতে মৃতের অভিভাবকের সম্মতিতে নামাজে জানাজা মাত্র একবার হবে। যারা কোনো কারণে নামাজে জানাজার জামাতে অংশ নিতে পারবে না- তারা মৃতের জন্য মাগফিরাতের দোয়া করবে।

উল্লেখ্য, মৃতের জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে পারাটাই জীবিতদের একমাত্র কর্তব্য নয়। বরং দাফনের পরও মৃত ব্যক্তির জন্য জীবিতদের অনেক করণীয় রয়েছে। যেমন, মৃত ব্যক্তির জন্য মাগফিরাতের দোয়া করা, কবর জিয়ারত করা ও শরিয়ত মোতাবেক ইসালে সওয়াব করা ইত্যাদি।

ইসলামি শরিয়তের নির্দেশনা হলো- কোনো ব্যক্তি যে এলাকায় মারা যাবে তাকে সেখানের কবরস্থানে বা নিকটের কোনো কবরস্থানে দাফন করে দেবে। প্রয়োজন ব্যতিত দূরবর্তী এলাকায় লাশ নিয়ে দাফন করা অনুত্তম।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র