Alexa

মিন্দানাওয়ের মুসলমানরা স্বায়ত্তশাসন পেতে গণভোট দিলেন

মিন্দানাওয়ের মুসলমানরা স্বায়ত্তশাসন পেতে গণভোট দিলেন

ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন মিন্দানাওয়ের মুসলমানরা, ছবি: সংগৃহীত

নতুন আইনের আলোকে ফিলিপাইনের মুসলিম অধুষ্যিত মিন্দানাও অঞ্চলে স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্নে সোমবার (২১ জানুয়ারি) গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ গণভোটে অংশ নিয়েছেন অন্তত ৩০ লাখ মানুষ। হ্যাঁ ভোট জয়ী হলে এ অঞ্চলের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানরা স্বায়ত্তশাসন পাবেন। ফলে মানুষের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে। নিজস্ব পার্লামেন্ট ও বাজেট প্রণয়নের ক্ষমতা পাবেন তারা।

পাঁচ বছর আগে মিন্দানাওয়ে মরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্ট-এমআইএলএফের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করে তৎকালীন ফিলিপাইন সরকার। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় সশস্ত্র গোষ্ঠী মনে করা হয় এমআইএলএফকে।

স্বাধীনতার দাবিতে মিন্দানাওয়ে চার দশক ধরে তারা লড়াই চালায়। এতে অন্তত দেড় লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। শান্তি চুক্তির আলোকে ২০১৮ সালে ‘বাংসামোরো অর্গানিক ল’ নামে একটি বিল পাস হয় ফিলিপাইনের পার্লামেন্টে। এ বিলের পক্ষে-বিপক্ষেই এ গণভোট হলো।

মিন্দানাওয়ে স্বায়ত্তশাসনে সমর্থন রয়েছে খ্রিস্টানদেরও। হ্যাঁ ভোট জয়ী হলে নিজস্ব পার্লামেন্ট পাবেন মরো জনগণ। থাকবে বাজেট প্রণয়নের ক্ষমতা এবং নিজস্ব পুলিশ বাহিনী।

ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষে এক ভোটার গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের বিশ্বাস এ গণভোট জনজীবনে শান্তি বয়ে আনবে। দশকের পর দশক যে সংঘাতময় অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছি তার সমাধান এ ভোট। সেজন্যই ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছি।

তিনি বলেন, যেহেতু আমাদের ধর্ম শান্তির কথা বলে; আশা করছি এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং মারাবির নিজ পিতৃভিটায় ফিরতে পারব।

মিন্দানাও ফিলিপাইনের সবচেয়ে অনুন্নত এলাকা। যদিও এখানে রয়েছে নিকেলের খনি। শান্তি ও উন্নয়নের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটে অংশ নিতে স্থানীয় জনগণকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট দুতার্তে ও এমআইএলএফ।

মরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্ট নেতা মোহাকার ইকবাল গণমাধ্যমকে জানান, আমাদের প্রধান কাজ হলো মানুষের চাওয়া-পাওয়ার সমন্বয় বজায় রাখা, আমরা যা অর্জন করেছি তা আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে হস্তান্তর করতে পারব।

মরো বিদ্রোহীদের চেয়ারম্যান আলহাজ ইবরাহিম মুরাদ বারবার বলে আসছেন, আইএসের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত প্রায় আধা ডজন সংগঠনকে নিষ্ক্রিয় করার সবচেয়ে ভালো ব্যবস্থা হবে একটি অর্থবহ মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। গত জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট দুতার্তে যখন বাংসামারো নামে নতুন একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গড়ার আইনে সই করেন, তখন আলহাজ ইবরাহিম বলেন, আমরা মোটামুটি নিশ্চিত করে বলতে পারি, এসব বিচ্ছিন্ন সংগঠন তৈরি হয়েছে শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে হতাশার ফলে।