Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

English

মিন্দানাওয়ের মুসলমানরা স্বায়ত্তশাসন পেতে গণভোট দিলেন

মিন্দানাওয়ের মুসলমানরা স্বায়ত্তশাসন পেতে গণভোট দিলেন
ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন মিন্দানাওয়ের মুসলমানরা, ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

নতুন আইনের আলোকে ফিলিপাইনের মুসলিম অধুষ্যিত মিন্দানাও অঞ্চলে স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্নে সোমবার (২১ জানুয়ারি) গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ গণভোটে অংশ নিয়েছেন অন্তত ৩০ লাখ মানুষ। হ্যাঁ ভোট জয়ী হলে এ অঞ্চলের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানরা স্বায়ত্তশাসন পাবেন। ফলে মানুষের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে। নিজস্ব পার্লামেন্ট ও বাজেট প্রণয়নের ক্ষমতা পাবেন তারা।

পাঁচ বছর আগে মিন্দানাওয়ে মরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্ট-এমআইএলএফের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করে তৎকালীন ফিলিপাইন সরকার। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় সশস্ত্র গোষ্ঠী মনে করা হয় এমআইএলএফকে।

স্বাধীনতার দাবিতে মিন্দানাওয়ে চার দশক ধরে তারা লড়াই চালায়। এতে অন্তত দেড় লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। শান্তি চুক্তির আলোকে ২০১৮ সালে ‘বাংসামোরো অর্গানিক ল’ নামে একটি বিল পাস হয় ফিলিপাইনের পার্লামেন্টে। এ বিলের পক্ষে-বিপক্ষেই এ গণভোট হলো।

মিন্দানাওয়ে স্বায়ত্তশাসনে সমর্থন রয়েছে খ্রিস্টানদেরও। হ্যাঁ ভোট জয়ী হলে নিজস্ব পার্লামেন্ট পাবেন মরো জনগণ। থাকবে বাজেট প্রণয়নের ক্ষমতা এবং নিজস্ব পুলিশ বাহিনী।

ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষে এক ভোটার গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের বিশ্বাস এ গণভোট জনজীবনে শান্তি বয়ে আনবে। দশকের পর দশক যে সংঘাতময় অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছি তার সমাধান এ ভোট। সেজন্যই ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছি।

তিনি বলেন, যেহেতু আমাদের ধর্ম শান্তির কথা বলে; আশা করছি এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং মারাবির নিজ পিতৃভিটায় ফিরতে পারব।

মিন্দানাও ফিলিপাইনের সবচেয়ে অনুন্নত এলাকা। যদিও এখানে রয়েছে নিকেলের খনি। শান্তি ও উন্নয়নের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটে অংশ নিতে স্থানীয় জনগণকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট দুতার্তে ও এমআইএলএফ।

মরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্ট নেতা মোহাকার ইকবাল গণমাধ্যমকে জানান, আমাদের প্রধান কাজ হলো মানুষের চাওয়া-পাওয়ার সমন্বয় বজায় রাখা, আমরা যা অর্জন করেছি তা আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে হস্তান্তর করতে পারব।

মরো বিদ্রোহীদের চেয়ারম্যান আলহাজ ইবরাহিম মুরাদ বারবার বলে আসছেন, আইএসের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত প্রায় আধা ডজন সংগঠনকে নিষ্ক্রিয় করার সবচেয়ে ভালো ব্যবস্থা হবে একটি অর্থবহ মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। গত জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট দুতার্তে যখন বাংসামারো নামে নতুন একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গড়ার আইনে সই করেন, তখন আলহাজ ইবরাহিম বলেন, আমরা মোটামুটি নিশ্চিত করে বলতে পারি, এসব বিচ্ছিন্ন সংগঠন তৈরি হয়েছে শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে হতাশার ফলে।

আপনার মতামত লিখুন :

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে
ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: সৌদি আরবে আসা হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আসা ৫৮ আলেমকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন মদিনার মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকালে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহর নেতৃত্বে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখ দল হজপালন শেষে মদিনার মসজিদে নববী পরিদর্শনে গেলে তারা এ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় মসজিদে নববীর প্রধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল খুদায়েরি বলেন, অতীতে বাংলাদেশের এতো বড় আলেম প্রতিনিধি দল সৌদি আরব বিশেষ করে মদিনায় আসেনি। একসঙ্গে বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমদের কাছে পেয়ে তারা গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315408680.jpg

এ সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সৌদি আরবের সঙ্গেও তিনি সুসম্পর্ক বজায় রাখছেন। তিনি আরও বলেন, মুসলিম বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সৌদি আরবের নেতৃত্বকে সমর্থন জানাবে বাংলাদেশ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315426944.jpg

পরে বাংলাদেশের আলেম ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারকে সালাম ও দরুদ পেশ এবং রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করেন মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য যে, হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখের একটি দল রাষ্ট্রীয় খরচে সৌদি আরব অবস্থান করছেন। ২১ আগস্ট তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

হজপালনে শীর্ষ ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ চতুর্থ

হজপালনে শীর্ষ ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ চতুর্থ
ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: 'লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক' অর্থাৎ 'আমি উপস্থিত হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত।' সাদা দুই টুকরো কাপড় গায়ে জড়িয়ে বারবার এ ঘোষণায় আকাশ-বাতাস মুখর করে আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের মধ্য দিয়ে এবার হজপালন করলেন প্রায় ২৫ লাখ মুসলিম। আরাফাতের ময়দানে ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি সফেদ-শুভ্র কাপড় পরে চোখে পানি নিয়ে মোনাজাত করেছেন হাজিরা জীবনের যাবতীয় পাপ মাফের জন্য।

এবার হজপালন করেছেন ২৪ লাখ ৮৯ হাজার ৪০৬ জন। ২০১৮ সালে হজপালন করেছিলেন ২৩ লাখ ৭১ হাজার ৬৭৫ জন। গতবারের তুলনায় এবার হজপালনকারীর সংখ্যা ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৩১ জন বেশি। এবারের হজপালনকারীদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের হজযাত্রী ছিলো- ১৮ লাখ ৫৫ হাজার ২৭ জন, আর সৌদি আরবের হজপালনকারী ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৩৭৯ জন (সৌদি নাগরিক ২ লাখ ১১ হাজার ৩ জন, সৌদিতে কর্মরত বিভিন্ন দেশের নাগরিক ৪ লাখ ২৩ হাজার ৩৭৬ জন)। এই বিপুল সংখ্যক হজযাত্রীর মধ্যে পুরুষ হজযাত্রী ১৩ লাখ ৮৫ হাজার ২৩৪ জন (শতকরা ৫৩ ভাগ), নারী হজযাত্রী ১১ লাখ ৪ হাজার ১৭২ জন (শতকরা ৪৭ ভাগ)। এবার ৩ লাখ ৫০ হাজার ৮৩০ দম্পতি হজপালন করেছেন। হজযাত্রীরা আকাশ পথ, সড়ক পথ ও নৌ-পথ ব্যবহার করে হজপালন করতে সৌদি আরব এসেছেন।

হজযাত্রীর সংখ্যা বিবেচনায় এশিয়া মহাদেশ শীর্ষে। আর দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া। এবার ইন্দোনেশিয়া থেকে হজপালন করছেন ২ লাখ ২১ হাজার হজযাত্রী। বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। বাংলাদেশের হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮। বাংলাদেশি হাজিদের মধ্যে বয়স অনুযায়ী ৪১-৬০ বছর বয়সী যাত্রীর হার শকতরা ৩৪ ভাগ। আর লিঙ্গ অনুযায়ী পুরুষ যাত্রীর সংখ্যা ৬৩ ভাগ। বাংলাদেশ থেকে ঢাকা বিভাগের হজযাত্রী বেশি (শতকরা ৩৩ ভাগ) আর যাত্রী কম সিলেট বিভাগের (শতকরা ২ ভাগ)। হজ অফিস সূত্রে জানা গেছে, শতকরা ৯ ভাগ চাকরিজীবির বিপরীতে শতকরা ৪০ ভাগ ব্যবসায়ী এবার হজ পালন করেছেন।

হজযাত্রীর সংখ্যা হিসেবে শীর্ষ দশের অন্য দেশগুলো হলো- দ্বিতীয় স্থানে পাকিস্তান (১ লাখ ৭৯ হাজার ২১০), তৃতীয় ভারত (১ লাখ ৭০ হাজার), পঞ্চম মিসর (১ লাখ ৮ হাজার), ষষ্ঠ ইরান (৮৬ হাজার ৫০০), সপ্তম তুরস্ক (৭৯ হাজার), অষ্টম নাইজেরিয়া (৭৯ হাজার), নবম আলজেরিয়া (৩৬ হাজার) ও দশম স্থানে রয়েছে মরক্কো (৩১ হাজার)।

উল্লেখিত দেশসমূহ বাদে অন্য দেশসমূহের হজযাত্রীর সংখ্যা ৬ লাখ ৩৫ হাজার ১০৬ জন।

এবারও হজ উপলক্ষে সৌদি সরকার ৫ রিয়াল মূল্যমানের ডাকটিকিট অবমুক্ত করেছে। প্রথমবারের মতো আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে দেওয়া হজের খুতবা রেডিওর মাধ্যমের সরাসরি ৬টি ভাষায় অনুবাদ করে প্রচার করা হয়েছে। ওই ৬টি ভাষা হলো- ইংরেজি, চাইনিজ, উর্দু, ফার্সি, ফ্রান্স ও মালি। সৌদি সরকারের ব্যবস্থাপনায় প্রথমবারের মতো ৫০ ভাষার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। হজ অনুষ্ঠানের দিনগুলোতে সৌদি আরবের ধর্ম মন্ত্রণালয় হজপালনকারীদের মোবাইলে প্রতিদিন বিভিন্ন পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনামূলক প্রায় ৩২ লাখ এসএমএস পাঠিয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র