Alexa

সৌদি আরবের বিশ্ববিদ্যালয়ে কওমি সনদ গ্রহণের অনুরোধ

সৌদি আরবের বিশ্ববিদ্যালয়ে কওমি সনদ গ্রহণের অনুরোধ

সৌদি আরবের ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ, ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কওমি সনদ গ্রহণ করে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহ।

সোমবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রিয়াদে সৌদি আরবের ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রী ড. আবদুল লতিফ বিন আবদুল আজিজ আলে শায়খের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক তিনি এ অনুরোধ জানান।

বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, অনেক দাবি-দাওয়ার পর আওয়ামী লীগ সরকার কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে মাস্টার্সের সমমান প্রদান করেছে। এ স্বীকৃতির ফলে দেশের আর্থ-সামাজিক কর্মকাণ্ডে কওমি পড়ুয়া ছাত্র ও আলেম সমাজ আরও ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

সরকারি স্বীকৃতির ফলে প্রচলিত অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদের তুলনায় কওমি ছাত্র-ছাত্রীদের ইসলাম ও আরবি ভাষায় বহুমাত্রিক যোগ্যতার বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয় বৈঠকে।

সৌদি আরবের মন্ত্রী গভীর মনযোগ দিয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য শুনেন এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়ে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেন।

বৈঠকে সৌদি আরবের ইসলাম বিষয়ক উপমন্ত্রী ড. ইউসুফ বিন মুহাম্মদ, ধর্ম সচিব ড. আবদুল্লাহ আস সামিল, বিদেশে সৌদি মিশনসমূহে নিযুক্ত ধর্মীয় এ্যাটাশে বিষয়ক মহাপরিচালক শায়খ মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহিদ আল আরিফি উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ, ধর্ম সচিব আনিসুর রহমান ও বাংলাদেশ দূতাবাসের উপ-মিশন প্রধান ড. নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

উল্লেখ্য যে, ২০১৮ সালের ১৯ নভেম্বর ‘আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অধীন কওমি মাদরাসাসমূহের দাওরায়ে হাদিস তাকমিলের সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবির সমমান প্রদান) বিল ২০১৮ সংসদে পাস হয়।

এর আগে ১৩ আগস্ট (২০১৮) মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

অবশ্য ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে কওমি সনদের স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সরকার কর্তৃক কওমি সনদ ও কওমি ডিগ্রির স্বীকৃতি প্রদান এক ঐতিহাসিক ঘটনা। এতে সাধারণ শিক্ষিত সমাজে পিছিয়ে পড়া ও অবহেলিত লাখ লাখ কওমি ছাত্র ও আলেম-উলামাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়। সমাজসেবা, চাকরি ও উচ্চশিক্ষাগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এতদিন বিষয়টি দেশের অভ্যন্তরে থাকলেও বহির্বিশ্বে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু কওমি ছাত্র আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেতেন।

রিয়াদে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর এই বৈঠকের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো সরকারিভাবে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলো।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহর নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল শুক্রবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট (বিজি-০৩৫) যোগে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন। ২ মার্চ প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশে ফেরার কথা রয়েছে।

প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হচ্ছেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনিছুর রহমান, হাব মহাসচিব এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর এপিএস শেখ নাজমুল হক সৈকত।

আপনার মতামত লিখুন :