Alexa

বাংলাদেশি হাজীদের সৌদি আরবের ইমিগ্রেশন ঢাকা করার সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশি হাজীদের সৌদি আরবের ইমিগ্রেশন ঢাকা করার সিদ্ধান্ত

চলতি বছর থেকে বাংলাদেশি হাজীদের সৌদি আরবের ইমিগ্রেশন ঢাকা করার সিদ্ধান্ত, ছবি: সংগৃহীত

দুই ধছর ধরে আলোচনা-পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে, চলতি হজ মৌসুমে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সৌদি বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন হবে বিমানে ওঠার আগে ঢাকায়।

২০১৭ সাল থেকে মালয়েশিয়া এবং ২০১৮ সাল থেকে ইন্দোনেশিয়া হজযাত্রীদের আগাম এই ইমিগ্রেশনের সুবিধা পাচ্ছে। বাংলাদেশ হবে এমন সুবিধাপ্রাপ্ত তৃতীয় দেশ।

এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের হজযাত্রীদের সৌদি আরবের বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনের জন্য আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হবে না। ঢাকা বিমানবন্দর ও হজ ক্যাম্পে ডিপারচার ইমিগ্রেশনের সঙ্গেই সৌদি ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা আগাম সৌদি ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করবেন। এ কারণে হাজীরা সৌদি বিমানবন্দরে বিমান থেকে নেমেই সরাসরি হজ টার্মিনালে প্রবেশ করতে পারবেন।

বাংলাদেশের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যেই সৌদি সরকার নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। হাব ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) সৌদি আরবের ইমিগ্রেশন কারিগরি দল ঢাকায় আসবেন। এ ছাড়া আগামী ৬ এপ্রিল সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. হোসাইন শরিফের নেতৃত্বে সৌদি পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালকসহ উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আরেকটি প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফর করবেন।

এ বিষয়ে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর মহাসচিব এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম এক সাক্ষাতকারে বার্তা২৪.কমকে বলেন, এ বছর থেকেই প্রি ডিপারচার ইমিগ্রেশনের কাজ শুরু হবে। এ জন্য সৌদি পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক ঢাকায় আসবেন।

তিনি আরও বলেন, এতে হজযাত্রীদের দীর্ঘ সময় সৌদি হজ টার্মিনালে ইমিগ্রেশনের জন্য আর অপেক্ষা করতে হবে না। ইমিগ্রেশনের যাবতীয় কাজ সৌদি কর্মকর্তারা ঢাকায় বিমানে ওঠার আগে সম্পন্ন করে নেবেন।

আগাম ইমিগ্রেশনের পদ্ধতির বিষয়ে হাব মহাসচিব বলেন, সৌদি আরবের পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তারা ঢাকায় বসেই ডিপারচার ইমিগ্রেশনের সময় সৌদি প্রবেশের ইমিগ্রেশনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পাসপোর্ট ও কাগজপত্রে সিল দিয়ে দেবেন। হজযাত্রীরা বিমান থেকে নেমে সরাসরি হজ টার্মিনালে চলে যেতে পারবেন। টার্মিনাল থেকে মুয়াল্লেমের গাড়িতে মক্কায় নিয়ে যাওয়া হবে হাজীদের। এতে হাজীদের ভোগান্তি অনেক কমবে।

হজের সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ২০ লাখ মানুষ বিমানে সৌদি আরব গমন করেন। এ সময় বিমানবন্দরে একের পর এক বিমান আসতে থাকে। ফলে ইমিগ্রেশনে জট লেগে যায়। অনেক সময় হজযাত্রীদের ২ ঘণ্টা থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত ইমিগ্রেশনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। হজযাত্রীদের ভোগান্তি লাঘবে সৌদি সরকার ইতোমধ্যেই পুরো হজ ব্যবস্থাপনাকে অনলাইনভিত্তিক করেছে। হজের নিবন্ধন, ভিসা, হজযাত্রীদের বাড়ি ভাড়া, অর্থের লেনদেন সব কিছু অনলাইনে সম্পন্ন হচ্ছে।

বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনের ভোগান্তি লাঘবের পদক্ষেপ হিসেবে বিশ্বের অন্যতম দু’টি মুসলিম দেশ মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াকে গত দুই বছর নিজ নিজ দেশ থেকে আগাম সৌদি ইমিগ্রেশনের পদক্ষেপ নেয় সৌদি আরব। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকারের জোরালো আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরব এ বছর থেকে বাংলাদেশকেও এই সুবিধা দিতে রাজি হয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন :