Alexa

হাফেজে কোরআনের মা-বাবার মর্যাদা

হাফেজে কোরআনের মা-বাবার মর্যাদা

কোরআন তেলাওয়াত করছে হেফজ মাদরাসার ছাত্ররা, ছবি: সংগৃহীত

কোরআনে কারিমের তেলাওয়াত মুমিনের হৃদয় আলোকিত করে। কোরআন তেলাওয়াত করলে জান্নাত ও জাহান্নামের চিত্র চোখের সামনে ভেসে ওঠে, কোরআন তেলাওয়াতে অশান্ত হৃদয়ে প্রশান্তি মিলে। কোরআনে কারিমই একমাত্র কিতাব, যা পাঠ করার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মনে আল্লাহতায়ালার ভয় সৃষ্টি হয়। যারা সব কিছুতে আল্লাহর ওপর ভরসা করেন, তারা কোরআরে কারিম তেলাওয়াত করে আনন্দ পান।

এ প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘মুমিন তো তারাই, আল্লাহর কথা স্মরণ হওয়া মাত্রই যাদের অন্তরসমূহ কেঁপে ওঠে। আর যখন তাদের সামনে কোরআন তেলাওয়াত করা হয়, তখন তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং তারা তাদের রবের ওপরই ভরসা করে।’ -সূরা আনফাল: ২

মা-বাবা অমূল্য সম্পদ। যার মূল্য পরিশোধ করে শেষ করা যাবে না। জগৎ-সংসারে মা-বাবার চেয়ে বেশি হিতাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তি দ্বিতীয় আর কেউ নেই। শৈশবে সন্তানের পড়ালেখা ও বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে মা-বাবার যেমন করণীয় রয়েছে, তেমনি মা-বাবার বৃদ্ধ বয়সে কিংবা অসুস্থ হলে তাদের জন্য সন্তানের অনেক করণীয় রয়েছে। তাদের ইন্তেকালের পরও সন্তানের অনেকগুলো করণীয় বিষয় থাকে। মৃত্যুর পর মানুষের নিজের আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু মৃত ব্যক্তির দুনিয়াতে রেখে যাওয়া সুসন্তানের দোয়া ও সদকায়ে জারিয়ার সওয়াবের দরজা বন্ধ হয় না।

মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের সন্তান কোরআন তেলাওয়াত করবে। তাদের মা-বাবাকে হাশরের দিন নূরের টুপি পরানো হবে। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত মুয়াজ জুহানি (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোরআন পাঠ করেছে এবং তাতে যা আছে সে অনুযায়ী আমল করেছে, তাহলে তার মা-বাবাকে কিয়ামত দিবসে একটি (নূরের) তাজ (টুপি) পরানো হবে। যদি সূর্য তোমাদের ঘরে প্রবেশ করত, তাহলে ওই সূর্যের আলো অপেক্ষাও ওই টুপির আলো উজ্জ্বলতর হবে। এখন তোমরা চিন্তা করো, যে ব্যক্তি কোরআনের নির্দেশ অনুসারে আমল করে, তার মর্যাদা ও অবস্থা কত উত্তম হবে?’ –সুনানে আবু দাউদ

যারা কোরআন তেলাওয়াতকারী তারা আল্লাহর পরিবারভুক্ত। কোরআন তেলাওয়াতকারী জগৎ-সংসারের বিশিষ্ট জ্ঞানী ব্যক্তি। তাদের সুপারিশ আল্লাহতায়ালা কবুল করবেন। কোরআন তেলাওয়াতকারীর মা-বাবাকে আল্লাহতায়ালা জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবেন। ইবনে আবু তালেব (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোরআন পাঠ করে এবং তা মুখস্থ করেছে অতঃপর কোরআন যা হালাল করেছে সে নিজের জন্য তা হালাল করেছে এবং কোরআন যা হারাম করেছে সে নিজের জন্য তা হারাম করেছে, তাহলে আল্লাহতায়ালা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং নিজ পরিবারের এমন দশজনের জন্য তার সুপারিশ কবুল করা হবে। যাদের পরিণাম জাহান্নাম অবধারিত ছিল।’ -তিরমিজি: ৫/২৯০৫

হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘মানুষের মধ্যে এমন কিছু লোক, যারা আল্লাহর পরিবারভুক্ত। সাহাবিরা আরজ করল যে, হে আল্লাহর রাসূল তারা কারা? তিনি বলেন, যারা কোরআন পাঠকারী এবং এর ওপর আমলকারী। তারা হলেন, আল্লাহর পরিবারভুক্ত ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।’ -মুসনাদে আবু দাউদ: ৩/২২৩৮

মা-বাবার মৃত্যুর পর হাত দিয়ে সেবাযত্ন করার সুযোগ থাকে না, কিন্তু দোয়া করা কিংবা মাগফিরাত কামনা করার সুযোগ থাকে। তাই মা-বাবার মৃত্যুর পরও তাদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া যাবে না। মা-বাবার মৃত্যুর পরে সন্তানের দোয়া খেদমত হিসেবে কবর জগতে উপকারে আসে। তখন সন্তানের দোয়াই হলো মা-বাবার প্রতি উত্তম আচরণ।

এ প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা আল্লাহর ইবাদত করবে, তার সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক করবে না এবং পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে।’ -সূরা নিসা: ৩৬

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা তোমাদের বাবার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না। কেননা, যে ব্যক্তি আপন বাবার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলো সে কুফরি করল। -সহিহ বোখারি: ৬৩১১

আপনার মতামত লিখুন :