Barta24

সোমবার, ১৫ জুলাই ২০১৯, ৩১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

হজযাত্রীর কোটা পূরণে আরও ৩৫ হাজার প্রাক নিবন্ধিতকে আহ্বান

হজযাত্রীর কোটা পূরণে আরও ৩৫ হাজার প্রাক নিবন্ধিতকে আহ্বান
হজযাত্রীর কোটা পূরণে আরও ৩৫ হাজার প্রাক নিবন্ধিতকে আহ্বান জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়, ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বেসরকারি হজযাত্রীদের অবশিষ্ট প্রায় সাড়ে ৩৩ হাজার কোটা পূরণে আরও ৩৫ হাজার প্রাক নিবন্ধিতদের আহ্বান করে নতুন সিরিয়াল উন্মুক্ত করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এর ফলে হজের চূড়ান্ত নিবন্ধনের জন্য প্রথম ধাপে ঘোষিত সিরিয়ালের পর ৪৭৯,৮১৬ থেকে ৫১৪,৮৩২ সিরিয়ালের প্রাক নিবন্ধিতরা হজের চূড়ান্ত নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন।

আগামী ৪ এপ্রিলের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করার জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সরকারি ব্যবস্থাপনায়ও হজ কোটা খালি থাকায় নিবন্ধনের সময় ৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

তিন দফায় দেওয়া সময়ের মধ্যে বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) পর্যন্ত বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রথম ধাপে উন্মুক্ত করা নির্ধারিত সিরিয়ালের মধ্য থেকে ৮৩ হাজার ৩৮২ জন হজের চূড়ান্ত নিবন্ধন করেন।

গাইড ও মোনাজ্জেমের কোটা বাদ দিয়ে এবার বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীর কোটা এক লাখ ১৬ হাজার ৭৪৬ জন। ফলে এখনো ৩৩ হাজার ৩৬৪ জনের কোটা খালি রয়েছে, যা হজ কোটার প্রায় ৩০ ভাগ।

এই অবশিষ্ট কোটা পূরণে জাতীয় হজ নীতি অনুযায়ী প্রাক নিবন্ধিতদের দ্বিতীয় ধাপে সিরিয়াল উন্মুক্ত করে সুযোগ দেওয়া হলো। এই সিরিয়ালের অনেকে ২০২০ সালের জন্য প্রাক নিবন্ধিত হয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রাক নিবন্ধিত হজযাত্রীদের নিবন্ধনের পর দুই বছরের মধ্যে হজে যাওয়ার সুযোগ থাকে। এ হিসেবে যারা এ বছর নিবন্ধন করার পরও হজে যাবেন না, তাদের প্রাক নিবন্ধন বহাল থাকবে এবং তারা চাইলে পরের বছর যেতে পারবেন। তবে যারা ২০১৮ সালে প্রাক নিবন্ধিত হয়েছিলেন তাদের প্রাক নিবন্ধন ২০২০ সালে আর বহাল থাকবে না। তারা এজেন্সির মাধ্যমে সার্ভিস চার্জের টাকা বাদ দিয়ে প্রাক নিবন্ধনের সময় দেওয়া মোয়াল্লেম ফি ফেরতের আবেদন করতে পারবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজ হজ এজেন্সির মালিক জানিয়েছেন, এ বছর প্রাক নিবন্ধিত হজযাত্রীদের মধ্যে রেকর্ডসংখ্যক হজযাত্রী হজে যাচ্ছেন না। কারণ, প্রাক নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কিছু অনিয়ম করা হয়েছিলো। সেগুলো আর সংশোধন করা যাচ্ছে না। যেমন কোট ধরে রাখার জন্য প্রাক নিবন্ধনের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র ও টাকা জমা দিয়ে প্রাক নিবন্ধন করা গেছে। কিন্তু ওই নিবন্ধনের বিপরীতে রিপ্লেস করা যাচ্ছে না কড়াকাড়ির কারণে। এ কারণে তিন দফ সময় বাড়িয়েও চূড়ান্ত নিবন্ধনের কোট পূরণ করা সম্ভব হয়নি। তবে আশা করা হচ্ছে, দ্বিতীয় ধাপে উন্মুক্ত করা সিরিয়ালের মধ্য থেকে এবার কোটা পূরণ হয়ে যাবে। তাতেও সাড়ে ৩৩ হাজারের কোটা পূরণ না হলে তৃতীয় ধাপে আরও সিরিয়াল উন্মুক্ত এবং হজযাত্রী স্থানান্তরের সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত কোটা পূরণ করতে হবে।

এ দিকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সাত হাজার ১৯৮ জনের মধ্যে নিবন্ধন করেছেন ছয় হাজার ২২২ জন। সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদেরও আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

উভয় ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের জন্য আগামী ৩ এপ্রিলের মধ্যে জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। ছুটির দিনেও পাসপোর্ট জমা দেওয়া যাবে।

চলতি বছর বাংলাদেশের জন্য হজযাত্রী পাঠানোর কোটা রয়েছে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। এর মধ্যে এক লাখ ২০ হাজার বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং বাকি সাত হাজার ১৯৮ জন সরকারি ব্যবস্থাপনার জন্য নির্ধারিত। এজেন্সিগুলোর গাইড ও মোনাজ্জেমদের বাদ দিয়ে এক লাখ ১৬ হাজার ৭৪৬ জনের নিবন্ধন করা হবে।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধনের জন্য প্রাক নিবন্ধনের ক্রমিক ২২৭৬৫ থেকে পরে প্রাক নিবন্ধিতদের নিবন্ধনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে আগেরবার আহ্বানকৃত ২২৭৬৪ ক্রমিকের মধ্যে যারা কোনো কারণে নিবন্ধন করতে পারেননি তাদের মধ্যে এ বছর যারা হজ পালন করতে আগ্রহী তাদেরও সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

অন্য দিকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনার চার লাখ ৭৯ হাজার ৭১ সিরিয়াল থেকে পাঁচ লাখ ১৪ হাজার ৮৩২ সিরিয়াল পর্যন্ত নতুনভাবে উন্মুক্ত করা হয়েছে। এই সিরিয়ালের মধ্যে প্রাক নিবন্ধিত হজযাত্রীর সংখ্যা ৩৫ হাজার ১৬ জন। বেরসকারি ব্যবস্থাপনায় প্রাক নিবন্ধিত হজযাত্রীদের সর্বশেষ সিরিয়াল ছয় লাখ ২০ হাজারের অধিক রয়েছে।

বিমানভাড়ার টাকাসহ প্যাকেজমূল্যের একটি নির্ধারিত অঙ্ক জমা দিয়ে এজেন্সির মাধ্যমে প্রাক নিবন্ধিত হজযাত্রীদের নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হচ্ছে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১০ আগস্ট (৯ জিলহজ) পবিত্র হজ পালিত হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

একাধিক জানাজা ও লাশ দাফনে বিলম্ব প্রসঙ্গে ইসলাম

একাধিক জানাজা ও লাশ দাফনে বিলম্ব প্রসঙ্গে ইসলাম
বায়তুল মোকাররম মসজিদে জানাজার নামাজের দৃশ্য, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

আমাদের দেশে বিখ্যাত কেউ মারা গেলে তার একাধিক জানাজার নামাজ পড়া হয়। অনেকক্ষেত্রে জানাজার নামাজের সংখ্যাকে গুরুত্ব দিতে যেয়ে মরদেহ দু’তিন পর দাফন করার ঘটনাও ঘটে। অথচ ইসলামে এসব কাজের অনুমতি নেই।

বর্ণিত বিষয়ে ইসলামি শরিয়তের নির্দেশনা হলো- কেউ মারা গেল বিলম্ব না করে মৃতদেহের গোসল দেবে, কাফন পরাবে। অতপর জানাজার নামাজ পড়ে দ্রুত দাফন করে দেবে। একাধিক হাদিসে মৃত্যুর পর থেকে দাফন পর্যন্ত সব কাজ দ্রুত করার কথা বলা হয়েছে এবং বিলম্ব করতে নিষেধ করা হয়েছে।

সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে, ‘হজরত তালহা ইবনে বারা (রা.) অসুস্থ হলে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখতে গেলেন। অতপর বললেন, আমি তালহার মধ্যে মৃত্যুর আলামত দেখতে পাচ্ছি। অতএব (সে মারা গেলে) এ সম্পর্কে আমাকে অবহিত করবে। আর তোমরা দ্রুত কাফন-দাফনের ব্যবস্থা করবে। কেননা কোনো মুসলমানের মৃতদেহকে পরিবারস্থ লোকদের মাঝে আটকে রাখা উচিত নয়।’ -হাদিস: ৩১৫৯

অন্য বর্ণনায় এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, আমি হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি যে, তোমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তোমরা তাকে আটকে রেখো না। তাকে দ্রুত দাফন করে দিও।’ তাবারানি: ১৩৬১৩

সহিহ বোখারির এক হাদিসে জানাজার নামাজের পর লাশ দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও বিলম্ব না করার নির্দেশ এসেছে।

বর্ণিত হাদিসের আলোকে বলা যায়, মৃত্যুর পর বিলম্ব না করে কাফন, জানাজা দ্রুত সম্পন্ন করে তাড়াতাড়ি দাফন করে দেবে।

এ কারণে ইসলামি স্কলাররা বলেন, মৃতের গোসল, কাফন-দাফন ও জানাজা সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা উত্তম এবং বিনা কারণে বিলম্ব করা মাকরূহ।

তাই স্বাভাবিক সময়ের ভেতরে মৃতের জানাজা-দাফনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়ে গেলে মৃতের অভিভাবক উপস্থিত লোকদের নিয়ে জানাজা পড়ে দ্রুত দাফন করে দেবে। এ সময়ের মধ্যে কোনো আত্মীয়-স্বজন বা বিশেষ কোনো ব্যক্তির উপস্থিত হওয়া সম্ভব না হলে তার জন্য বিলম্ব করা সমীচীন নয়।

অবশ্য মৃতের অভিভাবক নিজেই যদি দূরে অবস্থান করার কারণে স্বাভাবিক সময়ের মধ্যে তার উপস্থিত হওয়া সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে করণীয় হলো- তার অপেক্ষা করতে না বলে দ্রুত দাফন করে দিতে বলা।

কিন্তু অভিভাবক যদি তার জন্য অপেক্ষা করতে বলে তাহলে তার জন্য বিলম্ব করার অবকাশ রয়েছে। অবশ্য এক্ষেত্রেও এ পরিমাণ বিলম্ব করার অবকাশ নেই, যার কারণে লাশের মধ্যে পরিবর্তন হওয়ার আশংকা হয়। এত অধিক সময় বিলম্ব করা জায়েজ নয়।

আর দাফনে দীর্ঘ বিলম্বের উদ্দেশ্যে লাশের পরিবর্তন ও বিকৃতিরোধে লাশকে হিমাগারে রাখা কিংবা ঔষধ দিয়ে রাখা জায়েয নয়। বরং লাশের স্বাভাবিক অবস্থা পরিবর্তন হওয়ার পূর্বে দাফন করে দেওয়া জরুরি। এর অধিক বিলম্ব করা গোনাহ।

ইসলামি স্কলারদের অভিমত হরো- মৃতদেহকে হিমাগারে রাখা কিংবা মেডিসিন ইত্যাদি দিয়ে রাখা সম্মানপরিপন্থী ও কষ্টদায়ক। অথচ মৃত ব্যক্তির সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা জরুরি। হাদিসে আছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছেন, কোনো মুমিন ব্যক্তিকে তার মৃত্যুর পর কষ্ট দেওয়া তেমনই যেমন জীবিত অবস্থায় তাকে কষ্ট দেওয়া। -মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ১১৯৯০
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/15/1563205495520.jpg

এ সংক্রান্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় আল্লামা ইবনে হাজার (রহ.) বলেছেন, জীবিত ব্যক্তি যে সব বস্তু দ্বারা আরামবোধ করে মৃত ব্যক্তি তা দ্বারা আরামবোধ করে। ইবনুল মালেক (রহ.) বলেছেন, মৃত ব্যক্তি কষ্টদায়ক বস্তু দ্বারা কষ্ট পায়। -মিরকাতুল মাফাতিহ: ৪/১৭০

তাই মৃতকে হিমাগারে রাখা মূলত তাকে কষ্ট দেওয়ারই নামান্তর। এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা অপরিহার্য।

অনুরূপ লাশ জানাজা ও দাফনের জন্য প্রস্তুত হওয়ার পর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রথা পালনের জন্য স্থানে স্থানে প্রদর্শন করা, পুষ্পস্তবক অর্পণ করা, ভিডিও করা, শোকের আবহে করুণ সুর বাজানো, লাশকে সামনে রেখে দীর্ঘ সময় ধরে জীবনালোচনা করা গর্হিত কাজ। এগুলোর মধ্যে জীবিত মৃত কারোরই কোনো কল্যাণ নেই।

জানাজার নামাজ একটি ফরজ ইবাদত। নবী করিম (সা.) আদেশ করেছেন, ‘তোমরা সবার জানাজার নামাজ আদায় করো। মৃত ব্যক্তি ভালো হোক আর মন্দ হোক।’

নবী করিম (সা.) আরও ইরশাদ করেছেন, ‘একজন মুসলমানের ওপর অপর মুসলমানের পাঁচটি অধিকার রয়েছে। ওই সব অধিকারের পঞ্চমটি হলো- সে মারা গেলে তার জানাজার নামাজ আদায় করা।’

যেহেতু পৃথিবীর সব মুসলমানের জন্য প্রত্যেক মৃত মুসলিমের জানাজার নামাজ আদায় করা সম্ভব নয়, সেহেতু এটা ফরজে কিফায়া। অর্থাৎ কিছু মানুষ আদায় করলে সবার ওপর থেকে ফরজ আদায় হয়ে যাবে। আর এ কথা আমরা সবাই জানি যে, কোনো নির্দিষ্ট ফরজ আমল একাধিকবার করা যায় না। নফল বারবার করা যায়।

আর মৃতের একাধিক জানাজা পড়া জায়েজ নয়। মৃতের অভিভাবক কিংবা তার অনুমতি সাপেক্ষে জানাজার নামাজ আদায় হয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়বার ওই মৃতের জানাজা পড়ার অবকাশ নেই। সাহাবারা কোনো মৃতের একাধিক জানাজা পড়া থেকে বিরত থাকতেন।

ইসলামি স্কলারহণ, জুমার দিনের শুরুতে জানাজা প্রস্তুত হয়ে যাওয়ার পর শুধু অধিক সংখ্যক মুসল্লি নিয়ে জানাজা পড়ার উদ্দেশ্যে জুমা পর্যন্ত বিলম্ব করাকেও মাকরূহ বলেছেন।

ইসলামি শরিয়ত মৃতের অভিভাবককে নামাজে জানাজার অগ্রাধিকার প্রদান করেছে, সেহেতু তার অসম্মতিতে কিংবা তার অগোচরে নামাজে জানাজা পড়া হলে শরিয়ত প্রদত্ত অভিভাবকের এ অগ্রাধিকার ক্ষুন্ন হয়। সেক্ষেত্রে অভিভাবকের অধিকার অক্ষুন্ন রাখার জন্য ইসলাম অভিভাবককে বিশেষ অনুমতি প্রদান করেছে, সে পুনরায় নতুন কিছু মানুষ নিয়ে নামাজে জানাজা আদায় করতে পারবে।

ইসলাম মতে মৃতের অভিভাবকের সম্মতিতে নামাজে জানাজা মাত্র একবার হবে। যারা কোনো কারণে নামাজে জানাজার জামাতে অংশ নিতে পারবে না- তারা মৃতের জন্য মাগফিরাতের দোয়া করবে।

উল্লেখ্য, মৃতের জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে পারাটাই জীবিতদের একমাত্র কর্তব্য নয়। বরং দাফনের পরও মৃত ব্যক্তির জন্য জীবিতদের অনেক করণীয় রয়েছে। যেমন, মৃত ব্যক্তির জন্য মাগফিরাতের দোয়া করা, কবর জিয়ারত করা ও শরিয়ত মোতাবেক ইসালে সওয়াব করা ইত্যাদি।

ইসলামি শরিয়তের নির্দেশনা হলো- কোনো ব্যক্তি যে এলাকায় মারা যাবে তাকে সেখানের কবরস্থানে বা নিকটের কোনো কবরস্থানে দাফন করে দেবে। প্রয়োজন ব্যতিত দূরবর্তী এলাকায় লাশ নিয়ে দাফন করা অনুত্তম।

পশু মোটাতাজাকরণে ইসলামের নির্দেশনা

পশু মোটাতাজাকরণে ইসলামের নির্দেশনা
গরুর খামার, ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে কোরবানির পশু মোটাতাজা করার প্রক্রিয়া। অনেকে প্রাকৃতিকভাবে পশু মোটাতাজাকরণের পদ্ধতি অনুসরণ করলেও অসাধু কিছু খামারি নিষিদ্ধ ডাইক্লোফেন ও স্টেরয়েড হরমোন প্রয়োগ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব পশুর গোশত মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একশ্রেণির লোভী মানুষের কাছে জনস্বাস্থ্য কীভাবে জিম্মি হয়ে পড়ছে পশু মোটাজাতাকরণে ক্ষতিকর হরমোনের ব্যবহার তারই প্রমাণ।

চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, স্টেরয়েড দ্বারা মোটাতাজাকৃত পশুর গোশত খেলে উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও ধমনি বিকল হয়ে হৃদরোগ এমনকি ব্রেনস্ট্রোকও হতে পারে। এ ধরনের পশুর গোশত খেলে কিডনি ও লিভার বিকলসহ পঙ্গুত্বের আশঙ্কাও থাকে।

এমনিতে জনমনে ভুল ধারণা রয়েছে, কোরবানির গোশত বেশি খেলে তাতে কোনো ক্ষতি হয় না। এ ভুল ধারণার কারণে কোরবানির ঈদের সময় হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়ে।

কোরবানির পশু বিশেষ করে গরু কেনার সময় ক্রেতারা সতর্ক থাকলে অবশ্য এ বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। প্রাকৃতিকভাবে মোটাতাজা গরুর পাঁজরের হাড় দেখা যায় এবং দুই হাড়ের মধ্যে একটা ঢেউয়ের ভাব থাকে। কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরুর মাংসল স্থানে আঙ্গুল দিয়ে চাপ দিলে অনেক দেবে যায় যা স্বাভাবিক গরুর ক্ষেত্রে হয় না।

উচ্চ আদালত হরমোন প্রয়োগে গরু মোটাতাজাকরণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব যাদের তাদের অবহেলায় অবৈধভাবে পশু মোটাতাজাকরণ বন্ধ হয়নি।

আমরা আশা করব, জনস্বার্থে এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসন সবকিছুই করবে এবং এটিকে তাদের নৈতিক কর্তব্য হিসেবে ভাববে।

দেখুন, কোরবানি শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো- কোনো কিছু উৎসর্গ করা কিংবা বিসর্জন দেওয়া। যার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়। আল্লাহতায়ালার ক্ষমা লাভের উদ্দেশ্যে মানুষ কোরবানি করে। কোরবানি একটি পবিত্র ও কল্যাণময় ইবাদত। এটি আদায় করা ওয়াজিব।

কোরবানির পশুর রক্ত-গোশত কোনোটিই আল্লাহর কাছে পৌঁছে না। আল্লাহর কাছে বান্দার তাকওয়া (মনের কথা, ইচ্ছা) পৌঁছে। আল্লাহতায়ালা প্রত্যেকটি ইবাদত আদায়ের ক্ষেত্রে বান্দার তাকওয়া দেখে থাকেন। কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহর কাছে তাদের রক্ত কিংবা গোশত কিছুই পৌঁছে না; বরং তার কাছে তোমাদের তাকওয়া পৌঁছে।’ -সূরা হজ: ৩৭

এমতাবস্থায় কোরবানির সময় জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিতায়ক পশু বাজারজাত করা নিশ্চয়ই অমানবিক বিষয়। সেই সঙ্গে কোরবানির পশুকে নানাভাবে কষ্ট দেওয়াও অনুচিত। আমরা আশা করবো, খামারিরা বিষয়টি আন্তরিকতার সঙ্গে ভেবে দেখে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।

কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘মানুষের মধ্যে কিছু (লোক) আছে যারা বলে, আমরা আল্লাহতায়ালা ও আখেরাতের ওপর ঈমান এনেছি, কিন্তু তারা মুমিন নয়। তারা আল্লাহতায়ালা ও তার বান্দাদের সঙ্গে প্রতারণা করে যাচ্ছে, যদিও তাদের অন্য কাউকে নয়, নিজেদেরই ধোঁকা দিয়ে যাচ্ছে, যদিও তাদের কোনো প্রকারের চৈতন্য নেই।’ -সূরা বাকারা: ৮-৯

যারা কৃত্রিম উপায়ে কোরবানির পশু মোটাতাজা করে, তারা সবাই কিয়ামতের মাঠে ধোঁকাদানকারী অর্থাৎ শয়তানের দলভুক্ত হিসেবে চিহ্নিত হবে। যে ব্যক্তি অপর একজনকে ধোঁকা দিলো সে শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করল। শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণকারীদের জন্য আল্লাহ কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছেন।

কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘সে তাদের প্রতিশ্রুতি দেয়, তাদের মিথ্যা বাসনার সৃষ্টি করে, আর শয়তান যা প্রতিশ্রুতি দেয় তা প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। এরাই হচ্ছে সেসব ব্যক্তি; যাদের আবাস্থল হচ্ছে দোজখ, যার থেকে মুক্তির কোনো পন্থাই তারা পাবে না।’ -সূরা আন নিসা: ১২০-১২১

কোরবানির পশু মোটাতাজা করার ক্ষেত্রে পশুর প্রতি অবশ্যই সদাচারণ করতে হবে। পশুর যেন কোনোরূপ কষ্ট না হয় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, সমগ্র সৃষ্টিই আল্লাহতায়ালার পরিবার সদৃশ; সুতরাং সৃষ্টির মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই সর্বাধিক প্রিয়, যে আল্লাহর পরিবারের সঙ্গে সদাচরণ প্রদর্শন করে।’ -মেশকাত: ৪৭৮১

হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা পশুর মুখমণ্ডলে আঘাত করো না এবং পশুর গায়ে দাগ দিও না।’ - মেশকাত: ৩৯০০

কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘জমিনের বুকে বিচরণশীল যেকোনো জন্তু কিংবা বাতাসের বুকে নিজ ডানা দু’টি দিয়ে উড়ে চলা যে কোনো পাখিই- এগুলো তোমাদের মতোই।’ -সূরা আনআম: ৩৮

সুতরাং যারা কোরবানির পশু লালন-পালন করে থাকেন এবং যারা কোরবানি আদায় করবেন উভয়কেই কোরবানির পশুর প্রতি সদাচারণ করতে হবে। এর অন্যথ্যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র