Alexa

জাপানের টোমি এক্সপ্রেসওয়েতে নামাজের ব্যবস্থা

জাপানের টোমি এক্সপ্রেসওয়েতে নামাজের ব্যবস্থা

জাপানের টোমি এক্সপ্রেসওয়েতে নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে, ছবি: সংগৃহীত

২০২০ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের আয়োজক দেশে জাপান। এ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মুসলিম দর্শনার্থীরা যাতে নামাজ পড়া নিয়ে সমস্যায় না পড়েন, সেজন্য নেওয়া হচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থা। এর অংশ হিসেবে টোকিওর একটি স্পোর্টস ও কালচারাল ইভেন্টস কোম্পানি বিশেষ গাড়িতে ভ্রাম্যমাণ মসজিদ তৈরি করছেন। ওই গাড়িতে একসঙ্গে ৫০ জন নামাজ আদায় করতে পারবেন। এমন বেশ কিছু গাড়ি লোক জামায়েতের স্থানগুলোতে রাখা হবে। যেখানে মুসলমানরা নামাজ আদায় করতে পারবেন।

ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে নামাজ আদায়ের সুবিধা ছাড়াও রাস্তার পাশে নামাজ আদায়ের জন্য বেশ কিছু অস্থায়ী নামাজ কক্ষ বানানো হচ্ছে। এর অন্যতম হলো- জাপানের বিখ্যাত টোমি এক্সপ্রেসওয়ে।

টোমি এক্সপ্রেসওয়েতে চলাচলকারী মুসলিমরা নির্ধারিত স্থানে নামাজ আদায় করতে পারবেন। ১৬২ কিলোমিটার দৈর্ঘের টোমি এক্সপ্রেসওয়েতে মুসলিম নারী-পুরুষদের জন্য আলাদা আলাদা নামাজ কক্ষের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এছাড়া হাইওয়েসহ জাপানের সব রেস্টুরেন্টে মুসলমানদের কেবলার দিক নির্দেশক চিহ্ন সংযোজন করা হয়েছে। যাতে মুসলমানদের নামাজ আদায় সহজ হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/31/1554016138541.jpg
গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক উপলক্ষে বানানো ভ্রাম্যমাণ মসজিদ


গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক উপলক্ষে ভ্রাম্যমাণ মসজিদ, এক্সপ্রেসওয়েতে মসজিদ স্থাপন এবং রেস্টুরেন্টগুলো কেবলার দিক নির্দেশক চিহ্ন ব্যবহারের ফলে জাপানে মুসলিম দর্শনার্থীদের সংখ্যা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাপান কর্তৃপক্ষ অলিম্পিকে আসা মুসলমানদের সার্বিক সুবিধার জন্য নিজ দেশে দ্রুততার সঙ্গে হালাল পণ্য তৈরি করছে। দেশটির উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানগুলো হালাল পণ্য তৈরিতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার অনুসন্ধান করে কার্যকরী ব্যবস্থা নিচ্ছে। মুসলিম দর্শনার্থীদের বিষয়টি মাথায় রেখেই জাপানের এমন উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় কাজ।

উল্লেখ্য, জাপানে বসবাসরত ছোট ছোট বিভিন্ন অভিবাসীদের মধ্যে বড় একটি অংশ হচ্ছে মুসলিম। পিও রিসার্চ সেন্টারের তথ্য মতে জাপানে বসবাসরত মুসলমানের সংখ্যা ২ লাখের বেশি।

বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান ধর্মের মতো জাপানে ইসলামের পদচিহ্ন একই রকমের না হলেও অষ্টম শতাব্দী থেকেই এখানে ইসলামের সন্ধান পাওয়া যায়। মেইজি শাসনামলে (১৮৬৮-১৮৯০) জাপান যখন বিশ্বব্যাপী তাদের উপস্থিতির অংশ হিসেবে উসমানীয় সাম্রাজ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে বাণিজ্য ও তথ্য বিনিময় মিশন শুরু করে তখন থেকেই তারা ইসলামের স্পর্শে আসতে থাকে। এ সময় থেকেই জাপানে মুসলমানদের প্রবেশের নানা তথ্য মেলে।

টোকিও মসজিদ, মসজিদে ওমর, ইসলামিক সেন্টার অব জাপান এবং ইসলামিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাপানে ইসলামের প্রাচীন এবং অনুদ্ঘাটিত ইতিহাসের অংশ।

টোকিও জামে মসজিদ নির্মাণশৈলীর দিক দিয়ে একটি চমৎকার দর্শনীয় স্থান। ২০০০ সালে মসজিদটির বর্তমান কাঠামো নির্মাণ সম্পূর্ণ হয়। কিন্তু মসজিদটির রয়েছে অনেক লম্বা ইতিহাস। ১৯৩০ সালের দিকে জাপানিরা প্রথম গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম জনসংখ্যার আবাসিক এলাকা প্রত্যক্ষ করে এবং প্রথম সেখানে মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়। ভারতীয় মুসলিম অভিবাসীরা ১৯৩১ সালে নাগোয়া মসজিদ এবং ১৯৩৫ সালে কোবে মসজিদ নির্মাণ করেন। রাশিয়ায় বিপ্লব সংগঠিত হলে সেখান হতে তাতার মুসলিম অভিবাসীরা পালিয়ে জাপানে আসে এবং পরে এখানে একটি বৃহত্তম জাতিগত গ্রুপ তৈরি করে। ১৯৩৮ সালে তারা টোকিওর মূল মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করে।

বিশিষ্ট এই মসজিদটি নির্মাণে শুধুমাত্র জাপান সরকার সহায়তা করেনি, জাপানি অনেক কোম্পানিও আর্থিকভবে সাহায্য করেছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- বিখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মিত্সুবিশি।

-আল জাজিরা ও ইসলাম ডটনেট অবলম্বনে

আপনার মতামত লিখুন :