Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

জাপানের টোমি এক্সপ্রেসওয়েতে নামাজের ব্যবস্থা

জাপানের টোমি এক্সপ্রেসওয়েতে নামাজের ব্যবস্থা
জাপানের টোমি এক্সপ্রেসওয়েতে নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে, ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

২০২০ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের আয়োজক দেশে জাপান। এ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মুসলিম দর্শনার্থীরা যাতে নামাজ পড়া নিয়ে সমস্যায় না পড়েন, সেজন্য নেওয়া হচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থা। এর অংশ হিসেবে টোকিওর একটি স্পোর্টস ও কালচারাল ইভেন্টস কোম্পানি বিশেষ গাড়িতে ভ্রাম্যমাণ মসজিদ তৈরি করছেন। ওই গাড়িতে একসঙ্গে ৫০ জন নামাজ আদায় করতে পারবেন। এমন বেশ কিছু গাড়ি লোক জামায়েতের স্থানগুলোতে রাখা হবে। যেখানে মুসলমানরা নামাজ আদায় করতে পারবেন।

ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে নামাজ আদায়ের সুবিধা ছাড়াও রাস্তার পাশে নামাজ আদায়ের জন্য বেশ কিছু অস্থায়ী নামাজ কক্ষ বানানো হচ্ছে। এর অন্যতম হলো- জাপানের বিখ্যাত টোমি এক্সপ্রেসওয়ে।

টোমি এক্সপ্রেসওয়েতে চলাচলকারী মুসলিমরা নির্ধারিত স্থানে নামাজ আদায় করতে পারবেন। ১৬২ কিলোমিটার দৈর্ঘের টোমি এক্সপ্রেসওয়েতে মুসলিম নারী-পুরুষদের জন্য আলাদা আলাদা নামাজ কক্ষের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এছাড়া হাইওয়েসহ জাপানের সব রেস্টুরেন্টে মুসলমানদের কেবলার দিক নির্দেশক চিহ্ন সংযোজন করা হয়েছে। যাতে মুসলমানদের নামাজ আদায় সহজ হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/31/1554016138541.jpg
গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক উপলক্ষে বানানো ভ্রাম্যমাণ মসজিদ


গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক উপলক্ষে ভ্রাম্যমাণ মসজিদ, এক্সপ্রেসওয়েতে মসজিদ স্থাপন এবং রেস্টুরেন্টগুলো কেবলার দিক নির্দেশক চিহ্ন ব্যবহারের ফলে জাপানে মুসলিম দর্শনার্থীদের সংখ্যা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাপান কর্তৃপক্ষ অলিম্পিকে আসা মুসলমানদের সার্বিক সুবিধার জন্য নিজ দেশে দ্রুততার সঙ্গে হালাল পণ্য তৈরি করছে। দেশটির উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানগুলো হালাল পণ্য তৈরিতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার অনুসন্ধান করে কার্যকরী ব্যবস্থা নিচ্ছে। মুসলিম দর্শনার্থীদের বিষয়টি মাথায় রেখেই জাপানের এমন উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় কাজ।

উল্লেখ্য, জাপানে বসবাসরত ছোট ছোট বিভিন্ন অভিবাসীদের মধ্যে বড় একটি অংশ হচ্ছে মুসলিম। পিও রিসার্চ সেন্টারের তথ্য মতে জাপানে বসবাসরত মুসলমানের সংখ্যা ২ লাখের বেশি।

বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান ধর্মের মতো জাপানে ইসলামের পদচিহ্ন একই রকমের না হলেও অষ্টম শতাব্দী থেকেই এখানে ইসলামের সন্ধান পাওয়া যায়। মেইজি শাসনামলে (১৮৬৮-১৮৯০) জাপান যখন বিশ্বব্যাপী তাদের উপস্থিতির অংশ হিসেবে উসমানীয় সাম্রাজ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে বাণিজ্য ও তথ্য বিনিময় মিশন শুরু করে তখন থেকেই তারা ইসলামের স্পর্শে আসতে থাকে। এ সময় থেকেই জাপানে মুসলমানদের প্রবেশের নানা তথ্য মেলে।

টোকিও মসজিদ, মসজিদে ওমর, ইসলামিক সেন্টার অব জাপান এবং ইসলামিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাপানে ইসলামের প্রাচীন এবং অনুদ্ঘাটিত ইতিহাসের অংশ।

টোকিও জামে মসজিদ নির্মাণশৈলীর দিক দিয়ে একটি চমৎকার দর্শনীয় স্থান। ২০০০ সালে মসজিদটির বর্তমান কাঠামো নির্মাণ সম্পূর্ণ হয়। কিন্তু মসজিদটির রয়েছে অনেক লম্বা ইতিহাস। ১৯৩০ সালের দিকে জাপানিরা প্রথম গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম জনসংখ্যার আবাসিক এলাকা প্রত্যক্ষ করে এবং প্রথম সেখানে মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়। ভারতীয় মুসলিম অভিবাসীরা ১৯৩১ সালে নাগোয়া মসজিদ এবং ১৯৩৫ সালে কোবে মসজিদ নির্মাণ করেন। রাশিয়ায় বিপ্লব সংগঠিত হলে সেখান হতে তাতার মুসলিম অভিবাসীরা পালিয়ে জাপানে আসে এবং পরে এখানে একটি বৃহত্তম জাতিগত গ্রুপ তৈরি করে। ১৯৩৮ সালে তারা টোকিওর মূল মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করে।

বিশিষ্ট এই মসজিদটি নির্মাণে শুধুমাত্র জাপান সরকার সহায়তা করেনি, জাপানি অনেক কোম্পানিও আর্থিকভবে সাহায্য করেছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- বিখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মিত্সুবিশি।

-আল জাজিরা ও ইসলাম ডটনেট অবলম্বনে

আপনার মতামত লিখুন :

পবিত্র কাবা ও মসজিদে হারামের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম

পবিত্র কাবা ও মসজিদে হারামের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ইবাদতের জন্য পৃথিবীতে সর্বপ্রথম স্থাপিত গৃহ পবিত্র কাবাঘর। কাবার চারপাশে গড়ে ওঠা মসজিদই মসজিদে হারাম। কাবা ও মসজিদে হারামের সঙ্গে পৃথিবীর ১৮০ কোটি মুসলমানের হৃদয় আধ্যাত্মিক সুতায় বাঁধা।

মসজিদে হারামে এক রাকাত নামাজ পড়লে অন্যত্র ১ লাখ রাকাত নামাজেরও বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। হজরত জাবির (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- 'আমার এ মসজিদে এক নামাজ অন্য মসজিদে হাজার নামাজ থেকেও উত্তম। তবে মসজিদে হারাম ছাড়া। কেননা মসজিদে হারামে এক নামাজ অন্য মসজিদের এক লক্ষ নামাজের চেয়ে উত্তম।'(মুসনাদে আহমাদ)। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/22/1563767670027.jpg
মসজিদে হারামে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য মোট কর্মচারীর সংখ্যা ১৭১৫

 

কাবাঘরকে ঘিরে নির্মিত মসজিদে হারামের আয়তন ৪ লক্ষ বর্গমিটার বা ৪৩ লক্ষ বর্গফুট। স্বাভাবিক ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী এতে একসঙ্গে ৯ লক্ষ মুসুল্লি নামাজ আদায় করতে পারে। তবে হজ বা রমজানের মওসুমে অতিরিক্ত আরও ৪০ লক্ষ লোকের স্থান সংকুলান হয় মসজিদে হারামে।

এতোবড় আয়োজনের পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও অত্যধিক গুরুত্বের দাবি রাখে। বছরে দুইবার কাবা ঘরের দরজা খুলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয় এবং কাবাঘরকে বিশেষ পানি দ্বারা ধোয়া হয়। প্রথমবার করা হয় শাবান মাসে আর দ্বিতীয়বার করা হয় জিলকদ মাসে। পবিত্র জমজমের পানি, তায়েফ গোলাপ জল এবং বহু মূল্যবান ঊড তৈল দিয়ে একটি পরিষ্কার মিশ্রণ তৈরি করে তা দিয়েই পবিত্র কাবা শরিফ পরিষ্কার করা হয়। আর এ কাজে নেতৃত্ব দেন দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম সৌদির বাদশাহসহ দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/22/1563767690112.jpg
মসজিদে হারাম পরিষ্কার ও পবিত্র করার কাজে ২০০ গ্যালন গোলাপজল ব্যবহার করা হয়

 

আর মসজিদে হারামকে দৈনিক ৫ বার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। মসজিদে হারামের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য প্রতিদিন ১২৪৫ জন কর্মচারী লিপ্ত থাকেন। হজের মৌসুমে পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য জরুরি কাজে ৪৭০ জন কর্মচারী বাড়ানো হয়। যে কারণে মোট কর্মচারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭১৫ জন। এর মধ্যে ২১০ জন মহিলা কর্মচারী থাকে।

পবিত্র রমজান মাসে উমরাহ চলাকালীন সময়ে ১৩১ জন অতিরিক্ত নারী কর্মচারীর খেদমত গ্রহণ করা হয়ে থাকে। যারা মসজিদে হারামের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন। মসজিদে হারাম পরিষ্কার ও পবিত্র করার কাজে ২০০ গ্যালন গোলাপজল ব্যবহার করা হয়। দ্রুততার সঙ্গে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে পরিষ্কারের সাধারণ পদ্ধতি ছাড়াও নিত্যনতুন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও মেশিনারির ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/22/1563767703981.jpg
পরিচ্ছন্ন কর্মীদের বড় অংশ ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের

 

কিছু আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে গোলাপজল ভরে মসজিদের মেঝে ও আশপাশে ছিটানো হয়। খাদেমগণ বাইতুল্লাহর মেঝে পরিষ্কারের সঙ্গে কাবার গিলাফ, হাজরে আসওয়াদ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ও জিনিসপত্রে প্রতিদিন পাঁচবার সুগন্ধি লাগান।

মসজিদে হারাম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সময় কর্মচারীরা বিশেষ পোশাক পরিধান করে কাজ করেন। আর এই পরিচ্ছন্ন কর্মীদের বড় অংশ ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের।

সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা

সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা
সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা, ছবি: সংগৃহীত

কালো কাপড়ের আচ্ছাদিত পবিত্র কাবা দেখতে বিশ্ববাসী অভ্যস্ত। এটাই কাবার চিরায়ত রূপ। কিন্তু বছরের তিন সপ্তাহের মতো সময় সেই পুরনো রূপে দেখা যায় না কাবাকে। কারণ, তখন কালো কাপড়ের সঙ্গে কাবার গিলাফের নিচের বেশ কিছু অংশ সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়, আর কিছু অংশ খালি রাখা হয়। তখন সাদা-কালোর মিশ্রণে নতুন রূপে দেখা যায় কাবা ঘরকে।

প্রতিবছর হজ মৌসুমে জিলকদ মাসের মাঝামাঝি সময়ে পবিত্র কাবা ঘরের গিলাফকে মাটি থেকে অনেকটা উঁচুতে উঠিয়ে খাঁজ করে রাখা হয়। আর কিছু অংশ খোলা রাখা হয়।

কারণ, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হজপালনেচ্ছুদের অনেকে বরকত লাভের আশায় নিরাপত্তারক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কাবার গিলাফ কেটে নিয়ে যায়। তারা মনে করেন, কাবার গিলাফের টুকরো কাফনের কাপড়ের সঙ্গে দিয়ে দিলে কবরের আজাব হবে না, কিংবা পরকালে এটা তার মুক্তির কারণ হবে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563722255398.jpg

অনেকে আবার পবিত্র কাবা ঘরের গিলাফ স্পর্শ করার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করে আহত হন। ফলে অনেকের জন্য তাওয়াফ করা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠে।
মূলত কাবার গিলাফের মূল অবয়ব রক্ষা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য এটা করা হয়। তখন সাদা-কালোর গিলাফের সংমিশ্রণে কাবা শরিফের নতুন রূপ পরিলক্ষিত হয়। দেখার সৌভাগ্য হয় কাবার দেয়ালের প্রকৃত রূপ।

অবশ্য ৯ জিলহজ আরাফার দিন (হজের দিন) পুরনো এই গিলাফ পরিবর্তন করে নতুন গিলাফ লাগানো হবে। ফলে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে এসে হাজি সাহেবর নতুন গিলাফে ঢাকা কাবা দেখতে পাবেন।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563722287338.jpg

কাবার গিলাফ স্পর্শ করা বা এটা ধরে দোয়া-মোনাজাত করার আলাদা কোনো ফজিলত নেই। তার পরও দেখা যায়, অনেক হজযাত্রী কাবাঘরের দেয়াল স্পর্শ করতে এমনকি তাতে নিজের রুমাল, জামা কাপড় স্পর্শ করাতে। যদিও ধর্মীয় চিন্তাবিদরা এমন কাজ করা থেকে মানুষকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র