Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ইসলামি বিধান মেনে চলা দেশ: শীর্ষে আয়ারল্যান্ড, সৌদি আরব ১৩১

ইসলামি বিধান মেনে চলা দেশ: শীর্ষে আয়ারল্যান্ড, সৌদি আরব ১৩১
ইসলামি বিধান মেনে চলা দেশ: শীর্ষে আয়ারল্যান্ড, সৌদি আরব ১৩১, ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বাণিজ্য বিভাগের প্রফেসর হুসেইন আসকারি ইসলামের বিধান মেনে চলার বিষয়ে একটি গবেষণাকর্ম সম্পন্ন করেছেন। সেই গবেষণায় তিনি দেখানোর চেষ্টা করেছেন, বিশ্বের কোন দেশগুলোতে দৈনন্দিন জীবনে ইসলামি বিধান মেনে চলা হয়।

গবেষণার নমুনায় ২০৮টি দেশ ছিল। সেসব দেশের মধ্যে কারা কতটা রাষ্ট্র পরিচালনা ও সমাজের মধ্যে ইসলামি বিধান মেনে চলেন, সেসব বিবেচনা করা হয়েছে।

গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, ইসলামি রীতি মেনে চলা দেশের তালিকার শীর্ষে কোনো ইসলামি দেশের নাম নেই। তালিকার ৩৩ নম্বরে রয়েছে মুসলিম প্রধান দেশ মালয়েশিয়া এবং কুয়েত রয়েছে ৪৮ এ।

গবেষক হুসেইন আসকারি এ গবেষণা প্রসঙ্গে বলেন, মুসলিম দেশগুলো রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য ইসলামি আইন ব্যবহার করে। এমন অনেক দেশ আছে; যেগুলো ইসলামি রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত। তবে সেখানকার সমাজে ইসলামি আইন মেনে চলা হয় না। দুর্নীতি ছেয়ে আছে সেখানে এমনকি ইসলাম বিরোধী প্রচুর কর্মকাণ্ড চলে সেখানে।

গবেষণার ফলাফলে দেখানো হয়েছে, সমাজে ইসলামি বিধান মেনে চলার ক্ষেত্রে আয়ারল্যান্ড, ডেনমার্ক, সুইডেন, যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে ও বেলজিয়াম তালিকার শীর্ষে রয়েছে।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বাহরাইন ৬৪ নম্বরে এবং সৌদি আরব রয়েছে একশ ১৩১ নম্বরে।

বাংলাদেশ রয়েছে তালিকার ৫৬ নম্বরে।

অন্যদিকে তথাকথিত মুসলিম দেশগুলোতে মুসলমানরা ব্যক্তি জীবনে নামাজ আদায় করেন, রোজা পালন করেন, কোরআন-হাদিস অধ্যয়ন করেন, নারীরা পর্দা মেনে চলেন, দাড়ি রাখেন, ইসলামি পোষাক নিয়ে সচেতন। তবে সমাজে দুর্নীতি আর পেশাগত জীবনে অসদুপায় অবলম্বনের নজির চতুর্দিকে।

এর আগে ২০১০ সালেও এক গবেষণায় ইসলামি বিধান মেনে চলা দেশগুলোর তালিকার শীর্ষে ইসলামি রাষ্ট্রের নাম ছিল না। ওই গবেষণায় নিউজিল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, আয়ারল্যান্ড, আইসল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া এবং নেদারল্যান্ড ছিল তালিকার শীর্ষে।

তবে অনেকে এ গবেষণা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। তাদের বক্তব্য হলো, ব্যক্তি জীবনে ধর্ম পালনে দিন দিন মুসলমানরা এগিয়ে। তবে হ্যাঁ, রাষ্ট্রীয় ও সমাজ জীবনে ধর্মীয় বিধান পরিপালনের দিক থেকে মুসলিম দেশ অনেক পিছিয়ে।

আপনার মতামত লিখুন :

পবিত্র কাবা ও মসজিদে হারামের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম

পবিত্র কাবা ও মসজিদে হারামের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ইবাদতের জন্য পৃথিবীতে সর্বপ্রথম স্থাপিত গৃহ পবিত্র কাবাঘর। কাবার চারপাশে গড়ে ওঠা মসজিদই মসজিদে হারাম। কাবা ও মসজিদে হারামের সঙ্গে পৃথিবীর ১৮০ কোটি মুসলমানের হৃদয় আধ্যাত্মিক সুতায় বাঁধা।

মসজিদে হারামে এক রাকাত নামাজ পড়লে অন্যত্র ১ লাখ রাকাত নামাজেরও বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। হজরত জাবির (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- 'আমার এ মসজিদে এক নামাজ অন্য মসজিদে হাজার নামাজ থেকেও উত্তম। তবে মসজিদে হারাম ছাড়া। কেননা মসজিদে হারামে এক নামাজ অন্য মসজিদের এক লক্ষ নামাজের চেয়ে উত্তম।'(মুসনাদে আহমাদ)। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/22/1563767670027.jpg
মসজিদে হারামে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য মোট কর্মচারীর সংখ্যা ১৭১৫

 

কাবাঘরকে ঘিরে নির্মিত মসজিদে হারামের আয়তন ৪ লক্ষ বর্গমিটার বা ৪৩ লক্ষ বর্গফুট। স্বাভাবিক ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী এতে একসঙ্গে ৯ লক্ষ মুসুল্লি নামাজ আদায় করতে পারে। তবে হজ বা রমজানের মওসুমে অতিরিক্ত আরও ৪০ লক্ষ লোকের স্থান সংকুলান হয় মসজিদে হারামে।

এতোবড় আয়োজনের পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও অত্যধিক গুরুত্বের দাবি রাখে। বছরে দুইবার কাবা ঘরের দরজা খুলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয় এবং কাবাঘরকে বিশেষ পানি দ্বারা ধোয়া হয়। প্রথমবার করা হয় শাবান মাসে আর দ্বিতীয়বার করা হয় জিলকদ মাসে। পবিত্র জমজমের পানি, তায়েফ গোলাপ জল এবং বহু মূল্যবান ঊড তৈল দিয়ে একটি পরিষ্কার মিশ্রণ তৈরি করে তা দিয়েই পবিত্র কাবা শরিফ পরিষ্কার করা হয়। আর এ কাজে নেতৃত্ব দেন দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম সৌদির বাদশাহসহ দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/22/1563767690112.jpg
মসজিদে হারাম পরিষ্কার ও পবিত্র করার কাজে ২০০ গ্যালন গোলাপজল ব্যবহার করা হয়

 

আর মসজিদে হারামকে দৈনিক ৫ বার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। মসজিদে হারামের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য প্রতিদিন ১২৪৫ জন কর্মচারী লিপ্ত থাকেন। হজের মৌসুমে পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য জরুরি কাজে ৪৭০ জন কর্মচারী বাড়ানো হয়। যে কারণে মোট কর্মচারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭১৫ জন। এর মধ্যে ২১০ জন মহিলা কর্মচারী থাকে।

পবিত্র রমজান মাসে উমরাহ চলাকালীন সময়ে ১৩১ জন অতিরিক্ত নারী কর্মচারীর খেদমত গ্রহণ করা হয়ে থাকে। যারা মসজিদে হারামের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন। মসজিদে হারাম পরিষ্কার ও পবিত্র করার কাজে ২০০ গ্যালন গোলাপজল ব্যবহার করা হয়। দ্রুততার সঙ্গে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে পরিষ্কারের সাধারণ পদ্ধতি ছাড়াও নিত্যনতুন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও মেশিনারির ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/22/1563767703981.jpg
পরিচ্ছন্ন কর্মীদের বড় অংশ ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের

 

কিছু আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে গোলাপজল ভরে মসজিদের মেঝে ও আশপাশে ছিটানো হয়। খাদেমগণ বাইতুল্লাহর মেঝে পরিষ্কারের সঙ্গে কাবার গিলাফ, হাজরে আসওয়াদ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ও জিনিসপত্রে প্রতিদিন পাঁচবার সুগন্ধি লাগান।

মসজিদে হারাম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সময় কর্মচারীরা বিশেষ পোশাক পরিধান করে কাজ করেন। আর এই পরিচ্ছন্ন কর্মীদের বড় অংশ ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের।

সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা

সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা
সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা, ছবি: সংগৃহীত

কালো কাপড়ের আচ্ছাদিত পবিত্র কাবা দেখতে বিশ্ববাসী অভ্যস্ত। এটাই কাবার চিরায়ত রূপ। কিন্তু বছরের তিন সপ্তাহের মতো সময় সেই পুরনো রূপে দেখা যায় না কাবাকে। কারণ, তখন কালো কাপড়ের সঙ্গে কাবার গিলাফের নিচের বেশ কিছু অংশ সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়, আর কিছু অংশ খালি রাখা হয়। তখন সাদা-কালোর মিশ্রণে নতুন রূপে দেখা যায় কাবা ঘরকে।

প্রতিবছর হজ মৌসুমে জিলকদ মাসের মাঝামাঝি সময়ে পবিত্র কাবা ঘরের গিলাফকে মাটি থেকে অনেকটা উঁচুতে উঠিয়ে খাঁজ করে রাখা হয়। আর কিছু অংশ খোলা রাখা হয়।

কারণ, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হজপালনেচ্ছুদের অনেকে বরকত লাভের আশায় নিরাপত্তারক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কাবার গিলাফ কেটে নিয়ে যায়। তারা মনে করেন, কাবার গিলাফের টুকরো কাফনের কাপড়ের সঙ্গে দিয়ে দিলে কবরের আজাব হবে না, কিংবা পরকালে এটা তার মুক্তির কারণ হবে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563722255398.jpg

অনেকে আবার পবিত্র কাবা ঘরের গিলাফ স্পর্শ করার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করে আহত হন। ফলে অনেকের জন্য তাওয়াফ করা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠে।
মূলত কাবার গিলাফের মূল অবয়ব রক্ষা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য এটা করা হয়। তখন সাদা-কালোর গিলাফের সংমিশ্রণে কাবা শরিফের নতুন রূপ পরিলক্ষিত হয়। দেখার সৌভাগ্য হয় কাবার দেয়ালের প্রকৃত রূপ।

অবশ্য ৯ জিলহজ আরাফার দিন (হজের দিন) পুরনো এই গিলাফ পরিবর্তন করে নতুন গিলাফ লাগানো হবে। ফলে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে এসে হাজি সাহেবর নতুন গিলাফে ঢাকা কাবা দেখতে পাবেন।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563722287338.jpg

কাবার গিলাফ স্পর্শ করা বা এটা ধরে দোয়া-মোনাজাত করার আলাদা কোনো ফজিলত নেই। তার পরও দেখা যায়, অনেক হজযাত্রী কাবাঘরের দেয়াল স্পর্শ করতে এমনকি তাতে নিজের রুমাল, জামা কাপড় স্পর্শ করাতে। যদিও ধর্মীয় চিন্তাবিদরা এমন কাজ করা থেকে মানুষকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র