Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ধৈর্যশীল মানুষের পাপ কম হয়

ধৈর্যশীল মানুষের পাপ কম হয়
ধৈর্যশীল মানুষের পাপ কম হয়, প্রতীকী ছবি
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

মানুষের ধৈর্যশক্তি বৃদ্ধির পেছনে ধর্মীয় জ্ঞান ও ঈমানি শক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ধৈর্যশক্তি মানুষের ভালো কাজের সুযোগ ও ক্ষেত্র সৃষ্টি করে। পাশাপাশি এর মাধ্যমে পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা যায়।

যারা ধৈর্যশীল হয়, তারা পরকালে পুরস্কারতো পায়ই, একইসঙ্গে ইহকালীন জীবনেও সাফল্য পায় এবং তাদের জীবন হয় প্রশান্তিময়। নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে ধৈর্যশীলদের। এ ধরনের ব্যক্তিরা নিরর্থক অভিযোগ- অনুযোগ ও অন্যায় আচরণের দরুণ অস্থির হন না। এ কারণে এমন মানুষ অনাকাঙ্খিত বিপদ-আপদের ধৈর্য হারায় না। দুঃখ-কষ্টের মাঝেও চূড়ান্ত কল্যাণের তালাশ করেন।

প্রবাদে আছে, ‘সবুরে মেওয়া ফলে।’ ইতিহাসের সফল ব্যক্তিদের জীবন পর্যালোচনা করলেও এটা দেখা যায় যে, তাদের বিজয়ের পেছনে ধৈর্য শক্তি সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। যাদের ধৈর্যশক্তি নেই, তারা সামান্য বিপদে ভেঙে পড়েন।

অনেক সময় আমাদেরকে উদ্বেগ ও হতাশা কাবু করে ফেলে, এর পেছনে অধৈর্য ও অস্থিরতা প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করে। ধৈর্যহারা ব্যক্তিরা সম্ভাব্য স্বল্পতম সময়ে কাজ সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তারা কোনো কাজের জন্য সময় ব্যয় করতে চান না। কিন্তু এটা বুঝতে হবে যে, অনেক কাজ তাড়াহুড়োর মাধ্যমে করা সম্ভব নয়।

মানুষ ভুল-ভ্রান্তির উর্ধ্বে নয়। কোনো কিছু যদি অপ্রত্যাশিতভাবে ঘটে যায়, তাহলে আপনি ধৈর্যহীন হয়ে পড়লে কোনো সমাধান আসবে না রবং আরও ক্ষতি হবে। এ কারণে যেসব বিষয় আপনার মাঝে অস্থিরতা বাড়িয়ে দেয়, চিন্তা ও চেতনাকে সেসব বিষয়কেন্দ্রীক করলে চলবে না। দয়া-মায়া, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার মাধ্যমে জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত ও পরিস্থিতিকে কাজে লাগাতে হবে। সব সময় এটা মনে রাখতে হবে যে, যা প্রত্যাশা করছেন; আপনার প্রাপ্তি সেরকম না-ও হতে পারে। এ জন্য জীবনে ধৈর্য ও স্থিতিশীলতা জরুরি।

ইসলাম ধর্মে বারবারই ধৈর্যের প্রভাব নিয়ে কথা বলা হয়েছে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এ বিষয়ে প্রচুর বর্ণনা রয়েছে।

ধৈর্যশীল হলে অনেক পাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে পারে মানুষ। এমন মানুষ আল্লাহতায়ালার ন্যায়বিচারের বিষয়ে নিরাশ হয় না। এ কারণে তাদের পুরস্কার অবশ্যম্ভাবী। ধৈর্যের পুরস্কার অপরিসীম।

হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা হচ্ছে তিন ভাগে বিভক্ত। এক. বিপদের সময় ধৈর্য, দুই. আল্লাহর নির্দেশ পালনের ক্ষেত্রে ধৈর্য ও তিন. ধৈর্যের মাধ্যমে পাপ করা থেকে বিরত থাকা।

এ তিন ধরনের ধৈর্যের পুরস্কার প্রসঙ্গে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বিপদের সময় যে ধৈর্যধারণ করে, আল্লাহতায়ালা তাকে আসমান ও জমিনের মধ্যকার দূরত্বের সমতুল্য মর্যাদা দান করেন। যে ধৈর্যের সঙ্গে আল্লাহতায়ালার নির্দেশ মেনে চলবে অর্থাৎ ইবাদত-বন্দেগি করবে, আল্লাহতায়ালা তাকে জমিনের তলদেশ থেকে আল্লাহর আরশ পর্যন্ত যে জায়গা, সে পরিমাণ মর্যাদা দেবেন। আর যে ব্যক্তি ধৈর্যের মাধ্যমে পাপ থেকে বিরত থাকবে, আল্লাহ তাকে জমিনের তলদেশ ও আরশের শেষ প্রান্তের মধ্যকার দূরত্বের সমতুল্য মর্যাদা দেবেন। কাজেই ধৈর্যের সঙ্গে পাপ কাজ করা থেকে বিরত থাকার পুরস্কারই সর্বোচ্চ।

আপনার মতামত লিখুন :

পবিত্র কাবা ও মসজিদে হারামের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম

পবিত্র কাবা ও মসজিদে হারামের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ইবাদতের জন্য পৃথিবীতে সর্বপ্রথম স্থাপিত গৃহ পবিত্র কাবাঘর। কাবার চারপাশে গড়ে ওঠা মসজিদই মসজিদে হারাম। কাবা ও মসজিদে হারামের সঙ্গে পৃথিবীর ১৮০ কোটি মুসলমানের হৃদয় আধ্যাত্মিক সুতায় বাঁধা।

মসজিদে হারামে এক রাকাত নামাজ পড়লে অন্যত্র ১ লাখ রাকাত নামাজেরও বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। হজরত জাবির (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- 'আমার এ মসজিদে এক নামাজ অন্য মসজিদে হাজার নামাজ থেকেও উত্তম। তবে মসজিদে হারাম ছাড়া। কেননা মসজিদে হারামে এক নামাজ অন্য মসজিদের এক লক্ষ নামাজের চেয়ে উত্তম।'(মুসনাদে আহমাদ)। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/22/1563767670027.jpg
মসজিদে হারামে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য মোট কর্মচারীর সংখ্যা ১৭১৫

 

কাবাঘরকে ঘিরে নির্মিত মসজিদে হারামের আয়তন ৪ লক্ষ বর্গমিটার বা ৪৩ লক্ষ বর্গফুট। স্বাভাবিক ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী এতে একসঙ্গে ৯ লক্ষ মুসুল্লি নামাজ আদায় করতে পারে। তবে হজ বা রমজানের মওসুমে অতিরিক্ত আরও ৪০ লক্ষ লোকের স্থান সংকুলান হয় মসজিদে হারামে।

এতোবড় আয়োজনের পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও অত্যধিক গুরুত্বের দাবি রাখে। বছরে দুইবার কাবা ঘরের দরজা খুলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয় এবং কাবাঘরকে বিশেষ পানি দ্বারা ধোয়া হয়। প্রথমবার করা হয় শাবান মাসে আর দ্বিতীয়বার করা হয় জিলকদ মাসে। পবিত্র জমজমের পানি, তায়েফ গোলাপ জল এবং বহু মূল্যবান ঊড তৈল দিয়ে একটি পরিষ্কার মিশ্রণ তৈরি করে তা দিয়েই পবিত্র কাবা শরিফ পরিষ্কার করা হয়। আর এ কাজে নেতৃত্ব দেন দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম সৌদির বাদশাহসহ দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/22/1563767690112.jpg
মসজিদে হারাম পরিষ্কার ও পবিত্র করার কাজে ২০০ গ্যালন গোলাপজল ব্যবহার করা হয়

 

আর মসজিদে হারামকে দৈনিক ৫ বার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। মসজিদে হারামের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য প্রতিদিন ১২৪৫ জন কর্মচারী লিপ্ত থাকেন। হজের মৌসুমে পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য জরুরি কাজে ৪৭০ জন কর্মচারী বাড়ানো হয়। যে কারণে মোট কর্মচারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭১৫ জন। এর মধ্যে ২১০ জন মহিলা কর্মচারী থাকে।

পবিত্র রমজান মাসে উমরাহ চলাকালীন সময়ে ১৩১ জন অতিরিক্ত নারী কর্মচারীর খেদমত গ্রহণ করা হয়ে থাকে। যারা মসজিদে হারামের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন। মসজিদে হারাম পরিষ্কার ও পবিত্র করার কাজে ২০০ গ্যালন গোলাপজল ব্যবহার করা হয়। দ্রুততার সঙ্গে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে পরিষ্কারের সাধারণ পদ্ধতি ছাড়াও নিত্যনতুন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও মেশিনারির ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/22/1563767703981.jpg
পরিচ্ছন্ন কর্মীদের বড় অংশ ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের

 

কিছু আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে গোলাপজল ভরে মসজিদের মেঝে ও আশপাশে ছিটানো হয়। খাদেমগণ বাইতুল্লাহর মেঝে পরিষ্কারের সঙ্গে কাবার গিলাফ, হাজরে আসওয়াদ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ও জিনিসপত্রে প্রতিদিন পাঁচবার সুগন্ধি লাগান।

মসজিদে হারাম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সময় কর্মচারীরা বিশেষ পোশাক পরিধান করে কাজ করেন। আর এই পরিচ্ছন্ন কর্মীদের বড় অংশ ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের।

সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা

সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা
সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা, ছবি: সংগৃহীত

কালো কাপড়ের আচ্ছাদিত পবিত্র কাবা দেখতে বিশ্ববাসী অভ্যস্ত। এটাই কাবার চিরায়ত রূপ। কিন্তু বছরের তিন সপ্তাহের মতো সময় সেই পুরনো রূপে দেখা যায় না কাবাকে। কারণ, তখন কালো কাপড়ের সঙ্গে কাবার গিলাফের নিচের বেশ কিছু অংশ সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়, আর কিছু অংশ খালি রাখা হয়। তখন সাদা-কালোর মিশ্রণে নতুন রূপে দেখা যায় কাবা ঘরকে।

প্রতিবছর হজ মৌসুমে জিলকদ মাসের মাঝামাঝি সময়ে পবিত্র কাবা ঘরের গিলাফকে মাটি থেকে অনেকটা উঁচুতে উঠিয়ে খাঁজ করে রাখা হয়। আর কিছু অংশ খোলা রাখা হয়।

কারণ, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হজপালনেচ্ছুদের অনেকে বরকত লাভের আশায় নিরাপত্তারক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কাবার গিলাফ কেটে নিয়ে যায়। তারা মনে করেন, কাবার গিলাফের টুকরো কাফনের কাপড়ের সঙ্গে দিয়ে দিলে কবরের আজাব হবে না, কিংবা পরকালে এটা তার মুক্তির কারণ হবে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563722255398.jpg

অনেকে আবার পবিত্র কাবা ঘরের গিলাফ স্পর্শ করার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করে আহত হন। ফলে অনেকের জন্য তাওয়াফ করা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠে।
মূলত কাবার গিলাফের মূল অবয়ব রক্ষা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য এটা করা হয়। তখন সাদা-কালোর গিলাফের সংমিশ্রণে কাবা শরিফের নতুন রূপ পরিলক্ষিত হয়। দেখার সৌভাগ্য হয় কাবার দেয়ালের প্রকৃত রূপ।

অবশ্য ৯ জিলহজ আরাফার দিন (হজের দিন) পুরনো এই গিলাফ পরিবর্তন করে নতুন গিলাফ লাগানো হবে। ফলে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে এসে হাজি সাহেবর নতুন গিলাফে ঢাকা কাবা দেখতে পাবেন।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563722287338.jpg

কাবার গিলাফ স্পর্শ করা বা এটা ধরে দোয়া-মোনাজাত করার আলাদা কোনো ফজিলত নেই। তার পরও দেখা যায়, অনেক হজযাত্রী কাবাঘরের দেয়াল স্পর্শ করতে এমনকি তাতে নিজের রুমাল, জামা কাপড় স্পর্শ করাতে। যদিও ধর্মীয় চিন্তাবিদরা এমন কাজ করা থেকে মানুষকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র