জুমার খুতবাপূর্ব আলোচনায় জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বয়ানের আহবান

ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, ছবি: সংগৃহীত

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) জুমার খুতবাপূর্ব আলোচনায় দেশের প্রতিটি মসজিদে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বয়ান করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুরোধ জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী রুটে বিরতিহীন আন্তঃনগর ট্রেন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তব্যের সময় তিনি এ অনুরোধ জানান।

এ সময় ধর্মের নামে জঙ্গিবাদ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইসলাম ধর্মের নাম নিয়ে যারা সন্ত্রাস করে, তারা ইসলামের কোনো ভালো কাজ করছে না। ইসলাম ধর্মকে তারা প্রশ্নবিদ্ধ করে ধর্মের ক্ষতি করছে। যে ধর্ম সবথেকে বড়, মানবতার ধর্ম, যে ধর্ম সবথেকে বড় শান্তির ধর্ম সে ধর্মের নামে তারা জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে। এ ধরনের কাজে যারা সম্পৃক্ত তাদের বিরত থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর আগামী শুক্রবারের দিন আমি চাই প্রত্যেক মসজিদে আমাদের জায়ান চৌধুরী মারা গেল, কয়েকদিন আগে নিউজজিল্যান্ডে মসজিদে হামলায় অনেকে মারা গেল, সেখানে আমাদের বাংলাদেশিরাও ছিল, এরপর শ্রীলঙ্কার হামলা, আমি চাই সারা বাংলাদেশের প্রত্যেক মসজিদে শুক্রবার যেন তাদের নামে দোয়া কামনা করা হয়। সেই সঙ্গে ইমাম, মুয়াজ্জিনদের প্রতি অনুরোধ থাকবে এই যে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসের সঙ্গে ধর্ম ও মানবতার জন্য ক্ষতিকারক সে বিষয়টা তুলে ধরবেন।

পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক আনিসুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া কথা বলা হয়।

এদিকে শ্রীলংকার কলম্বোতে গীর্জা ও হোটেলে বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলায় নিহত শিশু জায়ান চৌধুরীসহ নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনায় দেশের সব মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থণার অনুরোধ জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মো. আবদুল্লাহ।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শ্রীলংকা ও নিউজল্যান্ডে ঘৃণ্য সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের দ্রুত সনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

তিনি শুক্রবার জুমার খুতবা পূর্ব বক্তব্যে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের কুফল ও ভয়াবহতা তুলে ধরে বিশেষ বয়ান রাখার জন্য খতিবদের প্রতি আহবান জানান।

এর আগেও দেশের সব মসজিদে একযোগে জুমারপূর্ব বয়ানে আত্মঘাতী হামলা, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বয়ান করেছেন। ওইসব বয়ানে ইমামরা পরিষ্কার করে বলেছেন, ইসলামে খুন-খারাবি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, বোমাবাজি হারাম।

কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে একজন মানুষকে অন্যায়ভাবে খুন করল, সে যেন গোটা মানবজাতিকে খুন করল।’

হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘মানুষ হত্যা করা বড় পাপ।’

আপনার মতামত লিখুন :