Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

চীনা নিপীড়ন শিবিরে ১০ লাখের বেশি মুসলিম, নজরদারিতে অ্যাপ

চীনা নিপীড়ন শিবিরে ১০ লাখের বেশি মুসলিম, নজরদারিতে অ্যাপ
চীনের বহুস্থানে এমন প্রাচীরঘেরা স্থানে আটকে রাখা হচ্ছে মুসলমানদের, ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ১০ লাখের বেশি মানুষকে চীন নিপীড়ন শিবিরে আটকে রেখেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বেইজিংয়ে উইঘুরসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের মুসলিমদের গণ-আটকের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তারা। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা অধিদফতরের এশিয়া নীতির পরিচালক র‌্যান্ডেল শ্রিভার (Randall Schriver) এ কথা বলেছেন।

প্রতিরক্ষা অধিদফতরের সহকারী সচিব শ্রিভার আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় জার্মানির নাৎসি বাহিনীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শব্দ ‘নিপীড়ন শিবির’ কথাটি ব্যবহার করেছেন তিনি। এর আগে বন্দিশিবিরের সাবেক বাসিন্দারা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতনের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। শিবিরের প্রতিটি কক্ষে উপচেপড়া মানুষের ভিড়। প্রতিদিনকার পাশবিক নির্যাতনের পাশাপাশি মগজ ধোলাইয়ের কারণে অনেকেই আত্মহত্যায় উদ্বুদ্ধ হয়।

কাঁটাতারের বেড়া আর পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে ঘেরা নিপীড়ন শিবিরগুলো বন্দীদের জন্য রীতিমতো বিভীষিকা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চীনের সেনাবাহিনীর ব্যাপারে পেন্টাগনে বিস্তারিত এক আলোচনায় শ্রিভার বলেন, ‘চায়নিজ সমাজতান্ত্রিক দলগুলো নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যবহার করে চীনের মুসলমানদের গণহারে গেফতার করে বন্দিশিবিরে আটকে রাখছে।’ তার মতে, আটক মুসলিমের সংখ্যা ‘৩০ লাখের কাছাকাছি’ হবে।

ওয়াশিংটনের চীনা দূতাবাসের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও মুসলমান নাগরিকদের প্রতি চীনের আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন। চায়নিজদের এমন কর্মকাণ্ড ‘১৯৩০ সালের স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে’ বলে উল্লেখ করেন পম্পেও।

জিনজিয়াংয়ের উচ্চপদস্থ চায়নিজ কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন সরকার। মধ্য এশিয়ার সঙ্গে সীমান্তবর্তী এ বিশাল এলাকায় ঠাঁই মিলেছে উইঘুরসহ অন্যান্য জাতিগত সংখ্যালঘু মুসলিমের।

অন্যদিকে চীনে বসবাসরত উইগুর মুসলমানদের ওপর নজরদারি করতে অ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, এইচআরডাব্লিউ। জিনজিয়াং রাজ্যে বসবাসরত উইগুরদের মতো অন্যান্য মুসলমানদের ওপরও চীন নজর রাখছে বলে অভিযোগ।

‘ইন্টিগ্রেটেড জয়েন্ট অপারেশনস প্লাটফর্ম’ বা আইজেওপি নামে পরিচিত এক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে চীনের জিনজিয়াংয়ে বসবাসরত মুসলমানদের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহের কথা আগেই জানিয়েছিল এইচআরডাব্লিউ।

এই অ্যাপের সাহায্যে মানুষের ৩৬ ধরনের আচরণের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। যেমন, প্রতিবেশীর সঙ্গে বেশি না মেশা, বাড়িতে ঢোকার সময় পেছনের দরজা ব্যবহার করা, স্মার্টফোন ব্যবহার না করা, উৎসাহী হয়ে মসজিদে দান করা ও বিদ্যুতের অস্বাভাবিক ব্যবহার ইত্যাদি।

এছাড়া এই অ্যাপ সরকারি কর্মকর্তাদের এমন মানুষজনের ব্যাপারে সতর্ক করে, যাদের পরিচিত কেউ নতুন মোবাইল নম্বর নিয়েছেন, কিংবা এমন মানুষজনের পরিচিত, যারা বিদেশে গিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে দেশে ফেরেননি।

হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, ভিপিএন-এর মতো চীনের বাইরে নির্মিত ৫১টি ইন্টারনেট টুলসের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। যেগুলো ব্যবহারের জন্যও উইগুরসহ অন্যান্য মুসলমানদের চীনে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে এইচআরডাব্লিউ।

আপনার মতামত লিখুন :

নবীর রওজার গিলাফ উপহার পেলেন ব্রিটিশ বক্সার

নবীর রওজার গিলাফ উপহার পেলেন ব্রিটিশ বক্সার
নবীর রওজার গিলাফের টুকরা দেখাচ্ছেন আমির খান, ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত জনপ্রিয় ব্রিটিশ বক্সার আমির ইকবাল খান এক বক্সিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে সৌদি আরব সফরে রয়েছেন। তিনি জেদ্দায় অস্ট্রেলিয়ান বক্সার বিলি ডিবের বিপক্ষে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবেন। সৌদি আরব যেয়ে তিনি বিশেষ ব্যবস্থায় ওমরা পালন করেছেন। সেই সঙ্গে নবী করিম (সা.)-এর রওজা শরিফের অভ্যন্তরে ব্যবহৃত গিলাফের একটি টুকরা পেয়েছেন উপহার হিসেবে।

মাত্র ১৭ বছর বয়সে ব্রিটেনের হয়ে অলিম্পিক পদকজয়ী এই বক্সিং চ্যাম্পিয়ন স্ত্রী ফারিয়াল মাকদুমকে নিয়ে কাবা চত্ত্বরে দাঁড়িয়ে ইহরাম পরিহিত ও রওজার গিলাফের একটি ছবি ইন্সটাগ্রামে পোস্ট করেছেন। গিলাফের ওই টুকরাটি সবুজ কাপড়ের। সেখানে সাদা রংয়ের ক্যালিগ্রাফিতে কালেমা লেখা রয়েছে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563289158690.jpg

আমির খান সম্মাননা পাওয়া রওজার গিলাফের ছবি ইন্সটাগ্রামে পোস্ট করে লিখেছেন, ‘আমি বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র রওজা শরিফের এক টুকরো কাপড় পেয়ে সম্মানিত ও খুব সৌভাগ্যবান। এটা আমার পুরো জীবনের জন্য উপভোগের বিষয়।’

প্রতি বছরই নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রওজা শরিফের গিলাফ এবং কাবা শরিফের গিলাফ পরিবর্তন করা হয়। পরে গিলাফের অংশ বিশ্বের খ্যাতনামা আলেম ও রাষ্ট্রপ্রধানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরকে সম্মাননা হিসেবে উপঢৌকন দেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে কিংবদন্তি বক্সার মোহাম্মাদ আলীর পর মুসলিম বক্সার হিসেবে পরিচিত ও জনপ্রিয় মুষ্টিযোদ্ধা আমির ইকবাল খান এ উপহার পেলেন।

আরও ৫ শতাংশ রিপ্লেসমেন্ট সুবিধা চায় হজ এজেন্সিগুলো

আরও ৫ শতাংশ রিপ্লেসমেন্ট সুবিধা চায় হজ এজেন্সিগুলো
কাবা প্রাঙ্গণে হজযাত্রীদের একাংশ, ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র হজযাত্রার জন্য প্রাক-নিবন্ধনের পর মৃত্যু ও অসুস্থতাসহ নানা কারণে যারা হজপালনে সৌদি আরব যেতে পারেন না, তাদের পরিবর্তে অন্যদের হজপালনের সুযোগকে রিপ্লেসমেন্ট বা প্রতিস্থাপন বলে। জাতীয় হজ ও ওমরা নীতিমালা অনুযায়ী মৃত্যু বা মারাত্মক অসুস্থতাজনিত কারণে নিবন্ধিত কেউ হজে যেতে না পারলে তার পরিবর্তে অন্য কাউকে হজে পাঠানোর জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয় অনুমতি দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে এজেন্সিকে ওই হজযাত্রীর অসুস্থতার পক্ষে চিকিৎসকের সনদপত্র অথবা মৃত্যুর ক্ষেত্রে মৃত্যুর সনদপত্র জমা দিতে হবে। সৌদি দূতাবাস কর্তৃক হজ ভিসা দেওয়া বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত ফ্লাইট চালু সাপেক্ষে যাত্রীদের রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ রয়েছে।

তবে হজ সেবা সংশ্লিষ্ট অনেকেই বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানিয়েছেন, নীতিমালায় যাই থাকুক, রিপ্লেসমেন্টের ক্ষেত্রে হজ এজেন্সিগুলোকে বাড়তি কিছু সুবিধা দেওয়া হয়। এটা অনেকটা ওপেন সিক্রেট। যেমন নীতিমালায় ৫ শতাংশ হারে প্রতিস্থাপনের কথা বলা হলেও মন্ত্রণালয় বিশেষ সার্কুলার জারি করে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে এই সুবিধা দিয়ে থাকে। চলতি বছরও ১০ শতাংশ হারে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তার পরও কিছু এজেন্সি দাবি করছেন আরও ৫ শতাংশ সুবিধার।

চলতি হজ মৌসুমে ইতোমধ্যে এজেন্সিগুলোকে প্রতি ১০ শতাংশ হারে প্রতিস্থাপনের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তবে তা নির্ধারিত সময়ের জন্য হওয়ার কারণে কিছু এজেন্সি তখন এই সুবিধা নিতে পারেনি। এখন এজেন্সিগুলো আরেক দফায় এই সুযোগ চায়। প্রতিস্থাপনের সুবধিা না পাওয়ার কারণে অনেক এজেন্সি এখনও সৌদি আরবে বাড়ি ভাড়া করে তাসরিয়ার অনুমোদন নিতে পারছে না। এ জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ও গত কয়েক দিন কয়েক দফায় এজেন্সিগুলোকে তলব করে তাদের সর্বশেষ অবস্থান জানার চেষ্টা করছে। সর্বশেষ প্রায় ৪০টি এজেন্সিকে ধর্ম মন্ত্রণালয় ডেকেছিল।

এ বিষয়ে হাবের সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেছেন, আমরা শুরুতেই প্রয়োজনীয় সংখ্যক হজযাত্রীকে রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ দেওয়ার জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে অনুরোধ জানিয়েছি। মন্ত্রণালয় দুই দফায় আমাদের হজযাত্রীদের ১০ শতাংশ করে রিপ্লেমেন্টের সুযোগ দিয়েছে। এখন যারা হজযাত্রীদের পাঠানোর ব্যাপারে তথ্য দিতে পারছে না তাদেরকে ডেকে প্রকৃত অবস্থা জানার চেষ্টা করছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। তিনি বলেন, রিপ্লেমেন্টের জন্য নতুন করে অনুরোধ করার কিছু নেই। আমরা আগেই অনুরোধ করে রেখেছি সেটি বিবেচনায় রেখে ধর্ম মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে বলে আমরা আশা করি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন এজেন্সি মালিক রিপ্লেসমেন্ট সুবিধার বিষয়ে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, আসলে আগের বছর ১৫ শতাংশের বেশি রিপ্লেসমেন্ট দেওয়া হয়েছে তিন দফায়। এবারও দুই দফায় সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সময় নির্ধারিত থাকা কারণে পরে যাদের রিপ্লেসমেন্টের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে তাদের জন্য আবার সুযোগ দেওয়া দরকার। এ ছাড়া দেখা গেছে, অনেকে শতকরা হারে সে সংখ্যায় রিপ্লেসমেন্টের সুবিধা পেয়েছে তার প্রকৃত রিপ্লেসযোগ্য হজযাত্রীর সংখ্যা তার চেয়ে বেশি। ফলে সে আরেক দফায় সুবিধার জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে।

তাদের দাবি, যারা হজের জন্য প্রাক-নিবন্ধন করেছেন তাদেরই তো রিপ্লেসমেন্ট দেওয়া হবে। এতে কোটা খালি থাকা বা সরকারের লাভ-লোকসানের কিছু নেই। বরং কোনো এজেন্সি তার হজযাত্রী পাঠাতে না পারলে তার বাড়ি ভাড়ার টাকা এমনকি বিমানের টিকিটের টাকাসহ ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। আর ওই সব হজযাত্রীর কোটাও খালি যাবে। ফলে সব কিছু বিবেচনা করে সর্বশেষ রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ দেওয়া উচিত।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, হজ ব্যবস্থাপনাকে সুষ্ঠু ও সুন্দর করার জন্য এবার সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তার কারণে হজ ফ্লাইট নিয়ে কোনো ঝামেলা এখন পর্যন্ত হয়নি। আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে হজযাত্রীদের নামে বিমানের টিকিট নিশ্চিত করাসহ হজ অফিসে পাসপোর্ট জমা দিয়ে ভিসা নিশ্চিত করার বিষয়টি আগেই নিশ্চিত করার অংশ হিসেবেই দফায় দফায় এজেন্সিগুলোকে ডেকে তাদের সর্বশেষ তথ্য জানছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এখনও কিছু এজেন্সির সৌদি আরবের বাড়ি ভাড়া ও তাসরিয়ার ব্যাপারে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে তথ্য না থাকায় প্রকৃত অবস্থা জেনে ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানা গেছে মন্ত্রণালয় সূত্রে।

উল্লেখ্য, সরকারি-বেসরকারি মিলে এ বছর বাংলাদেশের হজযাত্রীর কোটা এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এক লাখ ২০ হাজার হজযাত্রী যাওয়ার কথা। ৫৯৮টি বেসরকারি এজেন্সি এ বছর হজ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গতকাল পর্যন্ত প্রায় ৫৩ হাজার হজযাত্রী সৌদি আরব গেছেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সৌদি এয়ারলাইন্স হজযাত্রীদের পরিবহন করছে। চাঁদ দেখাসাপেক্ষে আগামী ১০ আগস্ট পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ১৭ আগস্ট এবং শেষ ফিরতি ফ্লাইট ১৫ সেপ্টেম্বর।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, হজপালনের জন্য সৌদিতে যাওয়া বাংলাদেশি মধ্যে চার পুরুষ ও একজন নারী ইন্তেকাল করেছেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র