Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

আল্লাহ তওবাকারীকে ভালোবাসেন, ক্ষমা করেন

আল্লাহ তওবাকারীকে ভালোবাসেন, ক্ষমা করেন
রমজান মাসে মুসলমানদের তওবা করার মহাসুযোগ সৃষ্টি হয়, ছবি: সংগৃহীত
ড. মাহফুজ পারভেজ
কন্ট্রিবিউটিং এডিটর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

রহমত, বরকত, মাগফেরাত, নাজাতের রমজান মাসে মুসলমানদের জন্য আল্লাহর দিকে ফিরে আসার ও তওবা করার মহাসুযোগ সৃষ্টি হয়। আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে রমজান রোজাদারদের আল্লাহর দিকে এবং তওবার দিকে ধাবিত করে। রমজানের সাংস্কৃতিক আবহের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের মধ্যে খোদাপ্রেম, আত্মশুদ্ধি ও তওবার প্রেরণা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

পবিত্র রমজানের রোজা ও আত্মশুদ্ধির সময়ে ঐশী গ্রন্থ আল কোরআনের একটি অম্লান বাণী মুসলমানদের হৃদয়ে তীব্র দোলা দেয়। মুক্তি ও কল্যাণের আশাবাদ জাগ্রত করে সূরা যুমারের ৫৩ নম্বর আয়াত, যেখানে আল্লাহ সুবহানাহুতায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘হে নবী! আপনি বলে দিন, হে আমার বান্দারা, তোমরা যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছো, তারা আল্লাহতায়ালার রহমত থেকে কখনও নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহতায়ালা সমুদয় পাপ ক্ষমা করে দেবেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’

আল্লাহর রহমত ও ক্ষমার অফুরন্ত ভাণ্ডারের দরজা খুলে যায় পবিত্র রমজান মাসে। রমজান মাসে দিনে রোজা আর রাতে নামাজের মাধ্যমে আমরা রহমত ও ক্ষমার সুযোগ পেয়ে থাকি। কারণ, মহানবী হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদিস থেকে জানা যায়, ‘মহান আল্লাহ রাতের বেলা তার হাত প্রসারিত করেন, যাতে দিনের অপরাধীরা তওবা করতে পারে, আর তিনি অনুরূপ দিনে তার ক্ষমার হাত প্রসারিত করেন, যাতে অপরাধীগণ তওবা করতে পারে। এমন চলতে থাকে যতক্ষণ না সূর্য পশ্চিমাকাশে উদিত হয়।’-সহিহ মুসলিম: ২৭৫৯

আল্লাহতায়ালার ক্ষমাশীলতার সীমা-পরিসীমা নেই। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে আল্লাহর ক্ষমার মহাসমুদ্রের কথা বার বার উল্লেখিত হয়েছে। মহিম্বান্বিত সত্তা! আমাদের সর্বদা অপরাধ সত্ত্বেও আমাদের দান করেন, ক্ষমা করেন। বান্দা যতক্ষণ পর্যন্ত অপরাধ করতে থাকে এবং অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা ভিক্ষা করে, আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত ক্ষমা করতে থাকেন। কারণ ক্ষমা করার ক্ষমতা ও এখতিয়ার একমাত্র আল্লাহর রয়েছে। কারণ তিনিই একমাত্র মালিক সারা জাহানের। অতএব তারই (মালিকের) রয়েছে ক্ষমার মহান গুণ ও ক্ষমতা।

অতএব অপরাধে আকীর্ণ মানুষের উচিত মহান সৃষ্টিকর্তা ও মালিক আল্লাহতায়ালার কাছ থেকে ক্ষমা ভিক্ষা করে নেওয়া। সূরা আলে ইমরানের ১৩৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘(ভালো মানুষ হচ্ছে তারা) যারা যখন কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেলে কিংবা নিজেদের ওপর নিজেরা জুলুম করে ফেলে, সাথে সাথেই তারা আল্লাহকে স্মরণ করে এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে। কেননা, আল্লাহতায়ালা ছাড়া আর কে আছে যে গোনাহ ক্ষমা করতে পারে? তদুপরি এরা জেনে বুঝে এদের গোনাহের ওপর অটল হয়ে বসে থাকে না।’

অতএব অপরাধ ও ভুলের জন্য দ্রুত অনুশোচনা ও তওবা কাম্য। এতে মানুষ ভুল থেকে শুদ্ধ হয়। পরিশুদ্ধি লাভ করে। পাপের বা ভুলে ওপর অটল থাকলে অজ্ঞতা, অন্ধকারতা ও গোমরাহি মানুষকে বেষ্টনি দিয়ে রাখবে। কিন্তু খালেস তওবা করা হলে নিষ্পাপ হওয়ার সুযোগ থাকে। সঠিক পথের দিশাও পাওয়া যায় তাওবা, অনুশোচনার মাধ্যমে।

আল্লাহতায়ালার অনুগত বান্দার লক্ষণ হলো, তারা কখনোই গোনাহের অটল হয়ে বসে থাকে না। ভুল করলেও ভুল বা অপরাধের স্বীকারোক্তি দিয়ে ক্ষমা চায়। অপরাধ করলে লজ্জিত হয়। আল্লাহ এমন অনুতপ্ত, লজ্জিত, তওবাকারীকেই ভালোবাসেন, ক্ষমা করেন।

একটি হাদিসের শিক্ষা এই প্রসঙ্গে আমাদেরকে অবশ্যই মনে রাখতেহ হবে, যা সুনানে তিরমিজির ৩৫৪৫ নম্বর হাদিস রূপে সংযোজিত রয়েছে, ‘সে ব্যক্তি ধ্বংস হোক, যে রমজান মাস পেলো, অথচ নিজের গোনাহ মাফ করাতে পারলো না।’

রমজানে এবং জীবনের সর্বক্ষণ আল্লাহতায়ালার অসীম ক্ষমার ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করা হবে মুসলিমের প্রধান কর্তব্য। রমজান মাস পেয়ে নেক আমল ও তওবা দ্বারা ধ্বংসের হাত থেকে বেঁচে নিজের গোনাহ মাফ করাতে পারার মধ্যেই নিজের সফলতা অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর উচিত।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও ৫ শতাংশ হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ

আরও ৫ শতাংশ হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ
আরও ৫ শতাংশ হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ দিলো ধর্ম মন্ত্রণালয়, ছবি: সংগৃহীত

বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর দাবির প্রেক্ষিতে আরও ৫ শতাংশ হারে হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্ট কিংবা প্রতিস্থাপনের সুযোগ দিলো ধর্ম মন্ত্রণালয়।

সোমবার (২২ জুলাই) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আব্দুল্লাহ আরিফ মোহাম্মদ স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে ৫ শতাংশ হারে হজযাত্রী প্রতিস্থাপনের কথা জানানো হয়েছে।

হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টের জন্য ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে হজ অফিসের পরিচালক বরাবর আবেদন করতে হবে এবং তা অনলাইনে নিশ্চিত করতে হবে। এজেন্সির নিজস্ব প্যাডে লিখিত আবেদনে হজ এজেন্সিস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর সুপারিশ থাকতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রতিস্থাপনযোগ্য হজযাত্রীর গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুজনিত কারণে হজপালন করতে পারবেন না মর্মে সংশ্লিষ্ট হজযাত্রী অথবা মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীর লিখিত আবেদন এবং উপযুক্ত চিকিৎসকের সনদ দাখিল করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তি দেখতে ক্লিক করুন

প্রতিস্থাপন প্রাপ্তির জন্য এজেন্সির পক্ষ থেকে কোনো মিথ্যা তথ্য প্রদান করা হচ্ছে না মর্মে তিনশ’ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দাখিল করতে হবে। হজযাত্রী প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে কোনো মিথ্যা তথ্য প্রমাণিত হলে জাতীয় হজ ও ওমরা নীতি-২০১৯ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এজেন্সির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

হজ নীতিমালায় ৫ শতাংশ হারে প্রতিস্থাপনের কথা বলা হলেও মন্ত্রণালয় বিশেষ সার্কুলার জারি করে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে এই সুবিধা দিয়ে থাকে। চলতি বছর দুই দফায় ৫ শতাংশ করে ১০ শতাংশ হারে রিপ্লেসমেন্টের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। এবার আরও ৫ শতাংশ হারে এই সুবিধা দেওয়া হলো।

হজযাত্রার জন্য প্রাক-নিবন্ধনের পর মৃত্যু ও অসুস্থতাসহ নানা কারণে যারা হজপালনে সৌদি আরব যেতে পারেন না, তাদের পরিবর্তে অন্যদের হজপালনের সুযোগকে রিপ্লেসমেন্ট বা প্রতিস্থাপন বলে। সৌদি দূতাবাস কর্তৃক হজ ভিসা দেওয়া বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত ফ্লাইট চালু সাপেক্ষে যাত্রীদের রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ রয়েছে।

৫ লাখ ৬৩ হাজার হজযাত্রী সৌদি পৌঁছেছেন

৫ লাখ ৬৩ হাজার হজযাত্রী সৌদি পৌঁছেছেন
৫ লাখ ৬৩ হাজার হজযাত্রী সৌদি পৌঁছেছেন, ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছর হজপালনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হজযাত্রীরা যাওয়া শুরু করেছেন। রোববার (২১ জুলাই) সকাল আটটা পর্যন্ত সৌদি আরবে বিভিন্ন দেশ থেকে ৫ লাখ ৭৭ হাজার ৮৬২ জন হজযাত্রী পৌঁছেছেন।

এসব হজযাত্রীদের মধ্যে ৫ লাখ ৬৩ হাজার ১৪৯ জন আকাশপথে, ৮ হাজার ৭১০ জন সড়কপথে ও ৬ হাজার ৩ জন নৌপথে সৌদি আরব পৌঁছেছেন।

সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ১৮৬টি দেশ থেকে হজযাত্রী আসবেন হজপালনের জন্য।

বিভিন্ন দেশের মুসলিম জনসংখ্যার হার অনুপাতে সৌদি আরব হজপালনকারীদের জন্য কোটা বরাদ্দ দিয়ে থাকে। তাদের দেওয়া কোটা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দেশগুলো থেকে হজ পালনেচ্ছুদের হজে আসতে হয়। সাধারণত ১০ লাখ লোকের জন্য ১ হাজার কোটা বরাদ্দের একটি নিয়ম তারা অনুসরণ করে।

এবার বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন হজযাত্রী সৌদি আরব যাবেন। ইতোমধ্যে ৭২ হাজার ৭৪৬ জন সৌদি আরব গিয়ে পৌঁছেছেন।

সৌদি গেজেটের এক খবরে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের নাগরিক ও দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসীসহ ৩ লাখেরও বেশি মানুষ এ পর্যন্ত হজপালনের অনুমতি পেয়েছেন। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা নিবন্ধিত হয়েছেন।

হজযাত্রীরা নিরাপদ ও স্বস্তির সঙ্গে হজপালন করতে পারেন, সেজন্য সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে হজ সেবা সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো নিরলসভাবে কাজ করছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র