Alexa

রমজান ও রোজা বিষয়ক প্রশ্নোত্তর

রমজান ও রোজা বিষয়ক প্রশ্নোত্তর

রমজান ও রোজা বিষয়ক প্রশ্নোত্তর, ছবি: সংগৃহীত

বৃষ্টি শেখ খাদিজা, মোহাম্মদপুর, ঢাকা
প্রশ্ন: অনেক রোজাদারকে দেখা যায়, তারা অজু করার পর মুখের ভেতরে অজুর পানি থাকার ভয়ে বারবার থুথু ফেলে। ফলে দ্রুত গলা শুকিয়ে যায়। আবার কেউ কুলির পর একবারও থুথু ফেলে না। প্রশ্ন হলো, অজুর পর মুখে যে আর্দ্রতা থাকে তা কি থুথুর সঙ্গে গিলে ফেলা যাবে, না ফেলে দিতে হবে?

উত্তর: কুলির পরে মুখে লেগে থাকা আর্দ্রতা বা ভেজাভাব পানির হুকুমে নয়। সুতরাং কুলির পরে থুথুর সঙ্গে তা গিলে ফেললে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। আর এই আর্দ্রতা দূর করার জন্য বারবার থুথু ফেলারও প্রয়োজন নেই, বরং এটা অহেতুক কাজ। এর কোনো দরকার নেই। -সূত্র: ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/২০৩

রফিকুল ইসলাম, গাবতলী, ঢাকা
প্রশ্ন: নির্দিষ্ট একটি মসজিদে সাত দিন ইতেকাফের মান্নত ছিলো। কিন্তু ইতেকাফ শুরুর পর অসুস্থ হয়ে যাওয়া ইতেকাফ শেষ করা সম্ভব হয়নি। আমার করণীয় কী?

উত্তর: প্রশ্নোক্ত মান্নতের দ্বারা আপনার ওপর একত্রে সাত দিন ইতেকাফ করা ওয়াজিব। আপনি যেহেতু একত্রে সাত দিনের ইতেকাফ পূর্ণ করতে পারেননি তাই এখন আপনাকে পুনরায় সাত দিনের ইতেকাফ ধারাবাহিকভাবে পূর্ণ করতে হবে।

তবে হ্যাঁ, আপনি ইতেকাফ যে কোনো মসজিদে করতে পারবেন। নির্দিষ্ট মসজিদেই আদায় করা জরুরি নয়। কারণ নির্দিষ্ট কোনো মসজিদে ইতেকাফের মান্নত করলে ওই মসজিদেই ইতেকাফ করা আবশ্যক হয় না; বরং অন্য মসজিদেও তা আদায় করা যায়। -সূত্র: আল বাহরুর রায়েক: ২/৩০৬

মান্নতের ইতেকাফের সময় রোজা রাখতে হয়। তাই আপনাকে উক্ত সাত দিনের ইতেকাফের সময় রোজা রাখতে হবে। উম্মুল মুমিনীন হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, রোজা ছাড়া ইতেকাফ হয় না।’ -সুনানে আবু দাউদ: ২৪৭৩

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ইতেকাফকারীর জন্য রোজা রাখা জরুরি। -মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ৯৭১১

হজরত আলী (রা.) থেকেও এমনটি বর্ণিত আছে। -মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ৯৭১৩

আবদুর রহমান, সরাইল, বি-বাড়িয়া
প্রশ্ন: গত রমজানে হঠাৎ অসুস্থতার কারণে রোজা অবস্থায় অজ্ঞান হয়ে যাই এবং অজ্ঞান অবস্থায় তিন দিন হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে থাকি। এরপর জ্ঞান ফিরে পাই এবং বাকি রোজাগুলো রাখি। জানার বিষয় হলো, আমি যে তিন দিন অজ্ঞান ছিলাম সে দিনগুলোর রোজার হুকুম কী হবে?

উত্তর: প্রথম দিন যেহেতু রোজা রাখা অবস্থায় অজ্ঞান হয়েছেন তাই সেদিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত যদি আপনাকে পানাহার না করানো হয়ে থাকে তাহলে ওই রোজা আদায় হয়ে গেছে। আর যদি পানাহার করানো হয়ে থাকে তাহলে উক্ত রোজাসহ পরের দুইদিনের রোজার কাজা আদায় করবেন। এক্ষেত্রে কাফফারা দিতে হবে না। -সূত্র: ফাতাওয়া তাতারখানিয়া: ৩/৪২৭

আকরাম হোসাইন, কড়াইল, বনানী, ঢাকা
প্রশ্ন: আমার স্ত্রীর ওপর রমজানের রোজার একটি কাফফারা ওয়াজিব হয়েছিল। কাফফারার ষাটটি রোজার মধ্যে এগারোটি রোজা লাগাতার রাখে। বারোতম দিনে একটি দূরের সফরে বের হলে পথিমধ্যে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে রোজা ভাঙতে বাধ্য হয়। তিন দিনের লাগাতার অসুস্থতার পর চতুর্থ দিন থেকে আবার কাফফারার রোজা রাখতে শুরু করে। আমার প্রশ্ন হলো, সে এখন তার কাফফারার রোজার গণনা বারোতম রোজা থেকে করবে, না আবার শুরু থেকে শুরু করবে? শরিয়তের বিধান কী?

উত্তর: রমযানের রোযার কাফফারার জন্য বিরতিহীনভাবে লাগাতার ষাটটি রোযা রাখতে হয়। এক্ষেত্রে মহিলাদের ঋতুস্রাবই কেবল ওজর হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ ঋতুস্রাবের কারণে ঐদিনগুলো বাদ পড়লে কোনো সমস্যা হবে না। এছাড়া সফর, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে রোযার বিরতি হলে আবার নতুন করে কাফফারার রোযা শুরু করতে হবে। এক্ষেত্রে যেগুলো রাখা হয়েছিল তা কাফফারা হিসেবে ধর্তব্য হবে না। অতএব আপনার স্ত্রীকে নতুন করে কাফফারার ষাটটি রোযা রাখতে হবে।

-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, বর্ণনা ১১৫০৯; কিতাবুল আছল ২/১৫৮, ১৬০; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২৭৩; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৫/১৭৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৬১; রদ্দুল মুহতার ২/৪০৯

মবিনুল ইসলাম, জুরাইন, ঢাকা
প্রশ্ন: জাকাত আদায়ের জন্য কি নিয়ত করা শর্ত? যদি শর্ত হয় তাহলে কখন করবে? জাকাত প্রদানের সময়ই কি নিয়ত করা আবশ্যক?

উত্তর: জাকাত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। অন্যান্য ইবাদতের ন্যায় জাকাতের জন্যও নিয়ত করা জরুরি। আর এ নিয়ত করবে জাকাত প্রদানের সময়। অবশ্য কেউ যদি জাকাতের টাকা অন্যান্য টাকা থেকে আলাদা করার সময় জাকাতের নিয়ত করে নেয়। এরপর সেই টাকা থেকে গরীবদের দিতে থাকে তবে ওই নিয়তও যথেষ্ট হবে এবং জাকাত আদায় হয়ে যাবে। -সূত্র: ফাতাওয়া তাতারখানিয়া: ৩/১৯৭

-উত্তর দিয়েছেন: বিভাগীয় প্রধান ইসলাম, বার্তা২৪.কম

আপনার মতামত লিখুন :