Alexa

চোখ কীভাবে রোজা রাখবে?

চোখ কীভাবে রোজা রাখবে?

অন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মতো চোখকেও রোজায় শরিক করতে হবে, ছবি: সংগৃহীত

রমজানের প্রথম দশক, যা রহমতের কাল, তা পেরিয়ে যাচ্ছে। তারপর আসবে মাগফেরাতের দশ দিন এবং সর্বশেষে নাজাতের দশ দিন। বৈরী আবহাওয়া ও তীব্র গরমের মধ্যে রহমতের বৃষ্টিতে সিক্ত হয়েছে রমজানের প্রথম দশক।

পানাহার ও কাম রিপু থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে রোজা পালনের সময় সবাইকে এ কথাও মনে রাখতে হবে যে, চোখেরও রোজা রয়েছে। অন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মতো চোখকেও রোজায় শরিক করতে হবে।

চোখের রোজা হলো হারাম বস্তু থেকে চোখকে সংযত রাখা। অশ্লীল ও নিষিদ্ধ বস্তু না দেখা। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ সোবহানাহু ওয়াতায়ালা ইরশাদ করেছেন,

‘হে নবী! আপনি মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। এটাই হচ্ছে তাদের জন্য উত্তম পন্থা। কেননা, তারা যা করে আল্লাহ সে বিষয়ে পূর্ণভাবে জানেন। হে নবী! আপনি মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।’ -সূরা নূর: ৩০-৩১১

বস্তুতপক্ষে চক্ষু হচ্ছে হৃদয়ের জানালা এবং রূহের দরজা। এ পথ দিয়ে ভালো জিনিস যেমন প্রবেশ করতে পারে, মন্দ জিনিসও প্রবেশ করতে পারে, যা কষ্ট ও শাস্তির কারণ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখো।’

সহিহ বোখারির ৬২২৯ নম্বরে বর্ণিত এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি তার দৃষ্টিকে সংযত করবে না, সে চারটি বিপদে পড়বে। বিপদগুলো হলো-

১. তার মন বিক্ষিপ্ত হয়ে যাবে এবং তার কাজে কখনও স্থিরতা আসবে না।

২. যা সে দেখলো, তা অর্জিত না হওয়ায় তার মনে সব সময় আফসোস থাকবে। না পাওয়ার বেদনা তাকে সব সময় দহন করবে।

৩. অসংযত দৃষ্টির দ্বারা ইবাদতের স্বাদ চলে যায়। ঈমান আর একিনের উপলব্ধি শুধু ঐ ব্যক্তিরা অনুভব করতে পারে, যে তার দৃষ্টিকে সংযত করে।

৪. অসংযত দৃষ্টির দ্বারা অন্যের ইজ্জত, আব্রু, হারাম ও অশ্লীল বস্তুর দিকে নজর চলে যাওয়ায় অনেক বড় বিপদের কারণ সৃষ্টি হয়।

ফলে রোজার সময় দৃষ্টিকে সংযত রেখে ও চোখের হেফাজত করে রোজাকে পরিপূর্ণ করা দরকার। চোখের রোজা হলো চোখকেও সংযমের অধীনস্থ করা। চোখকে হেফাজত করা গেলে পাঁচটি উপকার পাওয়া সম্ভব। এগুলো হলো-

১. দৃষ্টি সংযত রাখার মাধ্যমে আল্লাহতায়ালার আদেশের আনুগত্য হয়।

২. মন পরিস্কার ও প্রশান্ত থাকে।

. ফেতনা, ফাসাদ, বিপদ ও পাপ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

৪. আত্মউপলব্ধি ও জ্ঞান বৃদ্ধি পেয়ে অন্তর্দৃষ্টি প্রশস্ত হয়।

৫. পরিচ্ছন্ন মনে নূর বা আলো সঞ্চারিত হয়।

মাহে রমজানের সময় আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় রোজা পালনের কালে চোখকেও হেফাজত করে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে রাখা প্রয়োজন। খাদ্য ও কামের নিবৃত্তির দ্বারা শরীরকে যেমন কৃচ্ছ্বতার মাধ্যমে হেফাজত করা হয়, তেমনি চোখের চাহিদাকে নিয়ন্ত্রণ ও হেফাজত করাও রমজান মাসে রোজার অন্যতম দায়িত্ব।

আপনার মতামত লিখুন :