Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বত্রিশ লাখ জনসংখ্যার রংপুরে মসজিদ ৫ হাজার ১০৬টি

বত্রিশ লাখ জনসংখ্যার রংপুরে মসজিদ ৫ হাজার ১০৬টি
রংপুর কারামতিয়া জৌনপুরী (রহ.) মসজিদ, ছবি: বার্তা২৪.কম
ফরহাদুজ্জামান ফারুক
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
রংপুর


  • Font increase
  • Font Decrease

ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতির উর্বরভূমি রংপুরে মসজিদের সংখ্যা প্রায় ছয় হাজার। এসব মসজিদের মধ্যে ছোট বড় কাঁচা, আধা-পাকা দালানের মসজিদ রয়েছে। শত শত বছরের ঐতিহাসিক নিদর্শন ও স্মৃতি ঘেরা বেশ কয়েকটি মসজিদও রয়েছে এই জেলায়।

তবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) তথ্য মতে, বর্তমানে রংপুর জেলার আটটি উপজেলা, তিনটি পৌরসভা ও একটি সিটি কর্পোরেশন এলাকা মিলে মোট ৫ হাজার ১০৬টি মসজিদ রয়েছে। এরমধ্যে শুধু জামে মসজিদ ৪ হাজার ৮৫৩টি ও পাঞ্জেগানা (ওয়াক্তি) মসজিদ ২৫৩টি রয়েছে।

ওয়াক্তি মসজিদ ছাড়া বেশির মসজিদে সারা বছরই আজানের সঙ্গে নামাজ আদায় করা হলেও পবিত্র মাহে রমজান এলেই মসজিদে মসজিদে বাড়তে থাকে মুসল্লিদের সমাগম।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/15/1557920614029.jpg

ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা) রংপুর বিভাগীয় পরিচালক মো. মহিউদ্দীন চৌধুরী বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘রংপুর দুইশ সাতচল্লিশ বছরের পুরোনো জেলা। ঐতিহাসিক এই জেলা শহরের সিটি কর্পোরেশন এলাকার ৩৩টি ওয়ার্ডে ৬৯০টি মসজিদ রয়েছে। রংপুর সদর উপজেলাতে রয়েছে ২২১টি মসজিদ। বদরগঞ্জ উপজেলাতে ৫৪৯টি, তারাগঞ্জে ৩৫৭টি, পীরগঞ্জে ৮১৬টি মসজিদ। এছাড়া মিঠাপুকুর উপজেলায় ১১৬৭টি, কাউনিয়ায় ৩৭১টি, পীরগাছায় ৭০১টি এবং গঙ্গাচড়াতে ২৩৪টি মসজিদ রয়েছে। এসব অধিকাংশ মসজিদেই জুমার নামাজ হয়। তবে রংপুরের আট উপজেলার মধ্যে সর্বাধিক মসজিদ রয়েছে মিঠাপুকুরে।’

বত্রিশ লাখ জনসংখ্যার এই জেলায় ইফার পৃষ্ঠপোষকতা ও পরিচালনায় ১ হাজার ৪৩১টি মসজিদে রয়েছে শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম। এসব মসজিদের দ্বীনি শিক্ষার সঙ্গে শুদ্ধভাবে কোরআন তেলাওয়াত ও ইসলামি মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়া হয়। এছাড়াও স্থানীয়দের পরিচালনা ও মসজিদ কমিটির তত্ত্বাবধানে কিছু কিছু মসজিদে মক্তব রয়েছে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/15/1557920633142.jpg

এ ছাড়া মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে গ্রাম ও শহরের কিছু মসজিদ এখন শীতাতপ (এসি) নিয়ন্ত্রিত হলেও বেশিরভাগ মসজিদে নেই আধুনিক ব্যবস্থা। তবে ওয়াক্তি মসজিদ ছাড়া প্রতিটি জামে মসজিদে রয়েছে একজন খতিব বা পেশ ইমাম, একজন মুয়াজ্জিন ও খাদেম।

২ হাজার ৩শ’ ৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই জেলায় রংপুর কারামতিয়া জৌনপুরী (রহ.)-এর মাজার ও মসজিদ, বদরগঞ্জের লালদিঘী নয় গম্বুজ মসজিদ, মাহিগঞ্জের কাজিটারী মসজিদ, মিঠাপুকুরের ফুলচৌকি মোঘল মসজিদ, মিঠাপুকুর লাল মসজিদ, শুকুরেরহাটের তনকা মসজিদ, পীরগাছার চন্ডিপুর মসজিদ, গঙ্গাচড়ার কলি ও দলি আমিন জামে মসজিদ, হারাগাছ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদসহ বেশকিছু বিখ্যাত ও ঐতিহাসিক নির্দশন মসজিদের মধ্যে রয়েছে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/15/1557920653173.jpg

বর্তমানে রংপুর জেলায় মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের আওতায় নয়টি মসজিদের মধ্যে ৪টির নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।

এদিকে ইসলামি চিন্তক ও গবেষক চঞ্চল মাহমুদ এর মতে রংপুরে ইসলামের প্রচার ও প্রসারে মসজিদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘এই জেলায় যেসব ঐতিহাসিক মসজিদ রয়েছে, তার বেশিরভাগই মোঘল ও ব্রিটিশ শাসনে তৈরি। দেশের প্রথম ও প্রাচীন মসজিদটিও রংপুর অঞ্চলে রয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) জন্মগ্রহণের ৫০ বছর পর ৬২০ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশে যে ইসলাম প্রচারের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। সেটিও রংপুর অঞ্চল থেকে শুরু হয়।’

আপনার মতামত লিখুন :

সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা

সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা
সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা, ছবি: সংগৃহীত

কালো কাপড়ের আচ্ছাদিত পবিত্র কাবা দেখতে বিশ্ববাসী অভ্যস্ত। এটাই কাবার চিরায়ত রূপ। কিন্তু বছরের তিন সপ্তাহের মতো সময় সেই পুরনো রূপে দেখা যায় না কাবাকে। কারণ, তখন কালো কাপড়ের সঙ্গে কাবার গিলাফের নিচের বেশ কিছু অংশ সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়, আর কিছু অংশ খালি রাখা হয়। তখন সাদা-কালোর মিশ্রণে নতুন রূপে দেখা যায় কাবা ঘরকে।

প্রতিবছর হজ মৌসুমে জিলকদ মাসের মাঝামাঝি সময়ে পবিত্র কাবা ঘরের গিলাফকে মাটি থেকে অনেকটা উঁচুতে উঠিয়ে খাঁজ করে রাখা হয়। আর কিছু অংশ খোলা রাখা হয়।

কারণ, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হজপালনেচ্ছুদের অনেকে বরকত লাভের আশায় নিরাপত্তারক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কাবার গিলাফ কেটে নিয়ে যায়। তারা মনে করেন, কাবার গিলাফের টুকরো কাফনের কাপড়ের সঙ্গে দিয়ে দিলে কবরের আজাব হবে না, কিংবা পরকালে এটা তার মুক্তির কারণ হবে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563722255398.jpg

অনেকে আবার পবিত্র কাবা ঘরের গিলাফ স্পর্শ করার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করে আহত হন। ফলে অনেকের জন্য তাওয়াফ করা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠে।
মূলত কাবার গিলাফের মূল অবয়ব রক্ষা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য এটা করা হয়। তখন সাদা-কালোর গিলাফের সংমিশ্রণে কাবা শরিফের নতুন রূপ পরিলক্ষিত হয়। দেখার সৌভাগ্য হয় কাবার দেয়ালের প্রকৃত রূপ।

অবশ্য ৯ জিলহজ আরাফার দিন (হজের দিন) পুরনো এই গিলাফ পরিবর্তন করে নতুন গিলাফ লাগানো হবে। ফলে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে এসে হাজি সাহেবর নতুন গিলাফে ঢাকা কাবা দেখতে পাবেন।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563722287338.jpg

কাবার গিলাফ স্পর্শ করা বা এটা ধরে দোয়া-মোনাজাত করার আলাদা কোনো ফজিলত নেই। তার পরও দেখা যায়, অনেক হজযাত্রী কাবাঘরের দেয়াল স্পর্শ করতে এমনকি তাতে নিজের রুমাল, জামা কাপড় স্পর্শ করাতে। যদিও ধর্মীয় চিন্তাবিদরা এমন কাজ করা থেকে মানুষকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

ফ্লাইট মিস করা ৬৭ হজযাত্রী মক্কার পথে

ফ্লাইট মিস করা ৬৭ হজযাত্রী মক্কার পথে
ফ্লাইট মিস করা ৬৭ হজযাত্রী এখন মক্কার পথে, ছবি: সংগৃহীত

ভিসা জটিলতার কারণে নির্ধারিত ফ্লাইট মিস করা যাত্রীদের মধ্যে সর্বশেষ ৬৭ জন হজযাত্রী সাধারণ ফ্লাইটে মক্কায় যাচ্ছেন।

রোববার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় এই হজযাত্রীরা অন্য সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গী হয়ে মক্কায় যাচ্ছেন। বিমানের বিজি ১৩৫ নং ফ্লাইটে বিমানের ৪২০ জন যাত্রীর সঙ্গে এই ফ্লাইটে হজযাত্রী রয়েছেন মাত্র ১০০ জন।

মিনার এয়ার ট্রাভেলসের ৬৭ জন হজযাত্রী ভিসা জটিলতায় ১৬ জুলাই বিমানের নির্ধারিত ফ্লাইট মিস করেন। শুধু মিনার এয়ার ট্রাভেলস নয়, এর সঙ্গে আরও তিনটি ট্রাভেলসের মোট দেড়শ’ হজযাত্রী ফ্লাইট মিস করেছিলেন। তবে অন্যান্য ট্রাভেলসের হজযাত্রীরা ভিন্ন ভিন্ন ফ্লাইটে মক্কায় চলে গেছেন। কিন্তু মিনার ট্রাভেলসের হজযাত্রীরা বিচ্ছিন্নভাবে যেতে রাজি হননি। তাই তাদের সবাইকে অন্য একটি সাধারণ ফ্লাইটে মক্কায় পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই ফ্লাইটটি (বিজি ১৩৫) রোববার সন্ধা সাড়ে ছয়টায় ঢাকা ছেড়ে গেছে।

উল্লেখ্য গত ১৪ ও ১৫ জুলাই সৌদি দূতাবাসের অনলাইন সার্ভারের জটিলতায় সঠিক সময়ে ভিসা হাতে না পেয়ে বিমানের দু’টি ফ্লাইট মিস করেছেন এই হজযাত্রীরা। দু’দিন পরে গত মঙ্গলবার ভিসা হাতে পাওয়ার পর বিমানের অন্য ফ্লাইটেও কোনো শিডিউল পাচ্ছিলেন না তারা। ফলে কবে বা কোন ফ্লাইটে এই ১৫১ জন হজযাত্রী মক্কায় যেতে পারবেন সেটিও অনেকটা অনিশ্চয়তার মধ্যেই ছিল।

রোববার আশকোনাস্থ হজক্যাম্পে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেশ কয়েকটি হজ এজেন্সির মোট ১৫১ জন হজযাত্রী বিলম্বে ভিসা পাওয়ার কারণে তারা বিমানের ফ্লাইট মিস করেছিলেন। নির্ধারিত ফ্লাইটে তারা হজে যেতে পারেননি। এর মধ্যে মিনার এয়ার ট্রাভেলসের (হজ লাইসেন্স নং ১০৩০) তাদের ৬৭ জন হজযাত্রীর ভিসা দূতাবাসের সার্ভারের সমস্যার কারণে সঠিক সময়ে অর্থাৎ নির্ধারিত ফ্লাইটের আগে হাতে পাননি। এই ৬৭ জন হজযাত্রীর যাত্রার নির্ধারিত ফ্লাইট ছিল ১৬ জুলাই মঙ্গলবার (বিজি ৩০৩৩) ফ্লাইটে।

ফ্লাইট মিস করা হজযাত্রীরা বিমান হজ অফিসের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ভিন্ন ভিন্ন ফ্লাইটে মক্কায় চলে গেছেন। একমাত্র মিনার এয়ার ট্র্রাভেলস ছাড়া অন্যান্য কোনো ট্রাভেলসের ফ্লাইট মিস করা হজযাত্রী মক্কায় যাওয়ার বাকি নেই। মিনার ট্রাভেলসের যাত্রীরা বিচ্ছিন্নভাবে হজে যেতে রাজি না হওয়ায় এখন তাদের এই ৬৭ জনসহ মোট ১০০ জন হজযাত্রীকে বিমানের সাধারণ ফ্লাইটেই মক্কায় যেতে হচ্ছে।

রোববার দুপুরে আশকোনাস্থ হজ ক্যাম্পের পরিচালক (হজ অফিসার) মো: সাইফুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে জানান, আমরা ফ্লাইট মিস করা হজযাত্রীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্য ফ্লাইটে মক্কায় পাঠানোর ব্যবস্থা করছি। মিনার ট্রাভেলস ছাড়া আর কোন ফ্লাইট মিস করা যাত্রী ঢাকায় নেই। তারা সকলেই মক্কায় পৌছে গেছেন। রোববার সন্ধায় বিমানের একটি ফ্লাইটে মিনার ট্রাভেলস এর ৬৭ জন হজযাত্রীও মক্কায় যাচেছন।

 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র