অস্ট্রিয়ায় স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধ, আদালতে যাচ্ছেন মুসলমানরা

ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
অস্ট্রিয়ায় স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধ, আদালতে যাচ্ছেন মুসলমানরা, ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রিয়ায় স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধ, আদালতে যাচ্ছেন মুসলমানরা, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রাথমিক স্কুলের মুসলিম মেয়েরা যাতে হিজাব বা অন্য কোনো মাথার কাপড় ব্যবহার করতে না পারে সে লক্ষ্যে একটি আইন পাস করেছে অস্ট্রিয়া সরকার। তবে ইহুদিদের টুপি এবং শিখদের পাগড়ি এই আইনের আওতায় রাখা হয়নি।

তবে এই আইনকে বৈষম্যমূলক হিসেবে বিবেচনা করে দেশটির সাংবিধানিক আদালতে সেটিকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন মুসলমানরা। মুসলমানদের পক্ষে একাধিক পিটিশন দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

সংসদে বিলটির পক্ষে ভোট দেন দেশটির ক্ষমতাসীন মধ্য ডানপন্থি দল পিপলস পার্টি এবং উগ্র ডানপন্থি ফ্রিডম পার্টির সদস্যরা। তবে, সংসদে বিরোধী দলের প্রায় সব সদস্য বিলটির বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।

আইনটির লক্ষ্য শুধু মুসলমানরা নয়, এমন ধারণা দিতে সেটিতে লেখা, ‘যেকোনো আদর্শগত বা ধর্মীয় প্রভাবান্বিত পোশাক, যা মাথা ঢেকে রাখার লক্ষ্যে ব্যবহার করা হয় তা নিষিদ্ধ।’

তবে শনিবার (১৮ মে) রাতে সরকারের তরফ থেকে এটাও জানানো হয়েছে যে, শিখদের পাগড়ি বা ইহুদিদের টুপি এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে না। কেননা আইনটিতে এমন মাথার কাপড়ের কথা বলা হয়েছে, যেটি সব চুল বা মাথার অধিকাংশ অংশ ঢেকে রাখে। এছাড়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কারণে, কিংবা বৃষ্টি ও তুষারপাত থেকে বাঁচতে মাথা ঢেকে রাখতে কোনো বাধা নেই।

উল্লেখ্য, নিয়মিত ধর্মচর্চাকারী মুসলিম মেয়েরা সাধারণত বয়ঃসন্ধিকাল থেকে হিজাব বা হেডস্কার্ফ ব্যবহার করতে শুরু করেন। অস্ট্রিয়ার ক্ষমতাসীন দলের আইনপ্রণেতারা ইতোমধ্যে স্বীকার করেছেন যে, নতুন আইনটি মূলতঃ মুসলমান মেয়েদের জন্যই প্রণয়ন করা হয়েছে।

পিপলস পার্টির আইনপ্রণেতা ব়্যুডল্ফ টাশনার, ‘মেয়েদেরকে নতি স্বীকার করা থেকে মুক্ত করতে’ এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে বলে অভিমত দিয়েছে। আর ফ্রিডম পার্টির শিক্ষা বিষয়ক মুখপাত্র ভেন্ডিল্যান ম্যোলৎসার মনে করেন, এই আইনের মাধ্যমে রাজনৈতিক ইসলামের বিরুদ্ধে একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে এবং সমাজের মূলধারায় সবাইকে সম্পৃক্ত করাকে উৎসাহিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, অস্ট্রিয়ার আনুষ্ঠানিক মুসলিম কমিউনিটি অর্গানাইজেশন নতুন আইনটিকে ‘ধ্বংসাত্মক’ এবং শুধুমাত্র ‘মুসলমানদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে সেটির বিরুদ্ধে আইনি লড়াই পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে।

এর আগে ২০১৮ সালের জুন মাসে দেশটি সাতটি মসজিদ বন্ধ ও ৬০ জন ইমামকে দেশ থেকে বহিষ্কার করার করেছিল।

অস্ট্রিয়াতে বসবাসকারী মুসলিমদের সংখ্যা সাড়ে পাঁচ লাখের অধিক। যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭ শতাংশ।

আপনার মতামত লিখুন :