Barta24

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

English

পবিত্র কাবায় বৃষ্টি, আনন্দিত তওয়াফকারীরা

পবিত্র কাবায় বৃষ্টি, আনন্দিত তওয়াফকারীরা
পবিত্র কাবা চত্বরে বৃষ্টিতে ভিজে নামাজ আদায় করছেন তওয়াফকারীরা, ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

মরুর লু’ হাওয়ার উষ্ণ-শুষ্ক গরম ছাপিয়ে, ওমরা ও রোজা পালনরতদের স্বস্তি দিয়ে পবিত্র মক্কায় সোমবার (২০ মে) রাতে মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। দিনভর রোদ থাকলেও বিকেলের দিকে মক্কার আকাশে মেঘ জমতে শুরু করে। মেঘ-রোদের লুকোচুরি শেষে রাতে প্রায় ১৫ মিনিট টানা বৃষ্টির হয়। বৃষ্টিতে হারাম শরিফ প্রাঙ্গণে পানি জমে যায়।

কাবা চত্বরে এ সময় তাওয়াফরত বহু মানুষ বৃষ্টিতে ভিজতে থাকেন। বৃষ্টির পর কাবা শরিফের নিরাপত্তারক্ষী ও ক্লিনাররা জমে থাকা বৃষ্টির পানি দ্রুত অপসারণ করে নামাজের উপযোগী করে তোলেন।

মক্কার আকাশ
মেঘাচ্ছন্ন মক্কার আকাশ

বৃষ্টি সবসময়ই রহমতের। আর সেই বৃষ্টি যদি হয় পবিত্র কাবা চত্বরে, মাতাফের ওপর তাহলে তো আর কোনো কথাই নেই। ওই স্থানে রহমতের দোয়ার খুলে আসমান থেকে নেমে আসে রহমতের বারিধারা। খানায়ে কাবায়, মসজিদে হারামে। কাবার ছাদে জমে থাকা সেই বৃষ্টির পানি নেমে আসে মিজাবে রহমতের ঝরনা দিয়ে। কী মনোরম দৃশ্য!

বৃষ্টি শুরু হতেই তাওয়াফকারীদের মাঝে নেমে অনাবিল আনন্দ, অলৌকিক খুশির ঝলকানি। যারা বৃষ্টির সময় কাবা চত্বরের বাইরে কিংবা হোটেলে ছিলেন, তাদের অনেকেই দৌঁড়ে চলে আসেন বৃষ্টিতে ভিজে তাওয়াফ করতে।

বৃষ্টিতে ভিজে ইবাদত করছেন মুসল্লিরা
বৃষ্টিতে ভিজে ইবাদত করছেন মুসল্লিরা

বৃষ্টির সময় হাজার হাজার তাওয়াফকারী বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে তাওয়াফ করেন। তাদে তাকবিরের ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠে কাবা প্রাঙ্গণ।

কাবা ঘরের উত্তর দিকে ছাদের পানি গড়িয়ে পড়ার জন্যে সোনার তৈরি একটা নালা আছে। এটাকে মিজাবে রহমত বলে। রাতের ঝমঝম বৃষ্টির সময় মিজাবে রহমত দিয়ে হাতিমের মধ্যে পানি গড়িয়ে পড়ার দৃশ্য দেখে তাওয়াফকারীদের কৃতজ্ঞতায় ভরে উঠে। আকাশ থেকে বৃষ্টি ঝরছে, বাতাস বইছে, বাতাসে কাবার গিলাফ ফুলে ফুলে উঠছে। এমন দৃশ্য দেখা সৌভাগ্য সত্যিই বিরল। কারণ, সৌদি আরব বিশেষ করে রমজানে কাবায় বৃষ্টি এমনিতে দুর্লভ।

কাবার ছাদে জমা বৃষ্টির পানি নেমে আসছে মিজাবে রহমতের নালা দিয়ে
কাবার ছাদে জমা বৃষ্টির পানি নেমে আসছে মিজাবে রহমতের নালা দিয়ে

এ সময় তাওয়াফরত মুসল্লিরা কেঁদে কেঁদে আল্লাহতায়ালার দরবারে ফরিয়াদ জানায়। কেউ বৃষ্টিতে ভিজে নামাজ পড়তে থাকে। তাকবিরের ধ্বনি, উচ্চকন্ঠে দোয়া-মোনাজাতে কাবা চত্বরে ভিন্ন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ওমরা পালনকারীরা রহমতের বৃষ্টিতে ভিজে স্বস্তির নিঃশ্বাস নেয়।

কাবার বাইরে বৃষ্টির সময়
বৃষ্টিতে ভিজে তওয়াফ করার জন্য কাবার দিকে যাচ্ছেন মুসল্লিরা

শান্তি স্বস্তি আর আনন্দের স্পর্শ নিয়ে আসতে পারে এক পশলা রহমতের বৃষ্টি, কাবার বৃষ্টি এর উদাহরণ। মানুষ আল্লাহতায়ালার অপার রহমতে বেঁচেবর্তে থাকে এই রুদ্র প্রকৃতিতে, বৈরি বসুন্ধরায়। তার একটু রহমতই যথেষ্ট পৃথিবীকে মানুষের বাসোপযোগী রাখতে। মানুষ তারই আশ্রয়ে বেঁচে থাকে। কৃতজ্ঞতা প্রভু তোমার প্রতি, আলহামদুলিল্লাহ।

আপনার মতামত লিখুন :

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে
ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: সৌদি আরবে আসা হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আসা ৫৮ আলেমকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন মদিনার মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকালে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহর নেতৃত্বে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখ দল হজপালন শেষে মদিনার মসজিদে নববী পরিদর্শনে গেলে তারা এ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় মসজিদে নববীর প্রধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল খুদায়েরি বলেন, অতীতে বাংলাদেশের এতো বড় আলেম প্রতিনিধি দল সৌদি আরব বিশেষ করে মদিনায় আসেনি। একসঙ্গে বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমদের কাছে পেয়ে তারা গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315408680.jpg

এ সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সৌদি আরবের সঙ্গেও তিনি সুসম্পর্ক বজায় রাখছেন। তিনি আরও বলেন, মুসলিম বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সৌদি আরবের নেতৃত্বকে সমর্থন জানাবে বাংলাদেশ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315426944.jpg

পরে বাংলাদেশের আলেম ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারকে সালাম ও দরুদ পেশ এবং রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করেন মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য যে, হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখের একটি দল রাষ্ট্রীয় খরচে সৌদি আরব অবস্থান করছেন। ২১ আগস্ট তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

হজপালনে শীর্ষ ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ চতুর্থ

হজপালনে শীর্ষ ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ চতুর্থ
ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: 'লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক' অর্থাৎ 'আমি উপস্থিত হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত।' সাদা দুই টুকরো কাপড় গায়ে জড়িয়ে বারবার এ ঘোষণায় আকাশ-বাতাস মুখর করে আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের মধ্য দিয়ে এবার হজপালন করলেন প্রায় ২৫ লাখ মুসলিম। আরাফাতের ময়দানে ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি সফেদ-শুভ্র কাপড় পরে চোখে পানি নিয়ে মোনাজাত করেছেন হাজিরা জীবনের যাবতীয় পাপ মাফের জন্য।

এবার হজপালন করেছেন ২৪ লাখ ৮৯ হাজার ৪০৬ জন। ২০১৮ সালে হজপালন করেছিলেন ২৩ লাখ ৭১ হাজার ৬৭৫ জন। গতবারের তুলনায় এবার হজপালনকারীর সংখ্যা ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৩১ জন বেশি। এবারের হজপালনকারীদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের হজযাত্রী ছিলো- ১৮ লাখ ৫৫ হাজার ২৭ জন, আর সৌদি আরবের হজপালনকারী ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৩৭৯ জন (সৌদি নাগরিক ২ লাখ ১১ হাজার ৩ জন, সৌদিতে কর্মরত বিভিন্ন দেশের নাগরিক ৪ লাখ ২৩ হাজার ৩৭৬ জন)। এই বিপুল সংখ্যক হজযাত্রীর মধ্যে পুরুষ হজযাত্রী ১৩ লাখ ৮৫ হাজার ২৩৪ জন (শতকরা ৫৩ ভাগ), নারী হজযাত্রী ১১ লাখ ৪ হাজার ১৭২ জন (শতকরা ৪৭ ভাগ)। এবার ৩ লাখ ৫০ হাজার ৮৩০ দম্পতি হজপালন করেছেন। হজযাত্রীরা আকাশ পথ, সড়ক পথ ও নৌ-পথ ব্যবহার করে হজপালন করতে সৌদি আরব এসেছেন।

হজযাত্রীর সংখ্যা বিবেচনায় এশিয়া মহাদেশ শীর্ষে। আর দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া। এবার ইন্দোনেশিয়া থেকে হজপালন করছেন ২ লাখ ২১ হাজার হজযাত্রী। বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। বাংলাদেশের হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮। বাংলাদেশি হাজিদের মধ্যে বয়স অনুযায়ী ৪১-৬০ বছর বয়সী যাত্রীর হার শকতরা ৩৪ ভাগ। আর লিঙ্গ অনুযায়ী পুরুষ যাত্রীর সংখ্যা ৬৩ ভাগ। বাংলাদেশ থেকে ঢাকা বিভাগের হজযাত্রী বেশি (শতকরা ৩৩ ভাগ) আর যাত্রী কম সিলেট বিভাগের (শতকরা ২ ভাগ)। হজ অফিস সূত্রে জানা গেছে, শতকরা ৯ ভাগ চাকরিজীবির বিপরীতে শতকরা ৪০ ভাগ ব্যবসায়ী এবার হজ পালন করেছেন।

হজযাত্রীর সংখ্যা হিসেবে শীর্ষ দশের অন্য দেশগুলো হলো- দ্বিতীয় স্থানে পাকিস্তান (১ লাখ ৭৯ হাজার ২১০), তৃতীয় ভারত (১ লাখ ৭০ হাজার), পঞ্চম মিসর (১ লাখ ৮ হাজার), ষষ্ঠ ইরান (৮৬ হাজার ৫০০), সপ্তম তুরস্ক (৭৯ হাজার), অষ্টম নাইজেরিয়া (৭৯ হাজার), নবম আলজেরিয়া (৩৬ হাজার) ও দশম স্থানে রয়েছে মরক্কো (৩১ হাজার)।

উল্লেখিত দেশসমূহ বাদে অন্য দেশসমূহের হজযাত্রীর সংখ্যা ৬ লাখ ৩৫ হাজার ১০৬ জন।

এবারও হজ উপলক্ষে সৌদি সরকার ৫ রিয়াল মূল্যমানের ডাকটিকিট অবমুক্ত করেছে। প্রথমবারের মতো আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে দেওয়া হজের খুতবা রেডিওর মাধ্যমের সরাসরি ৬টি ভাষায় অনুবাদ করে প্রচার করা হয়েছে। ওই ৬টি ভাষা হলো- ইংরেজি, চাইনিজ, উর্দু, ফার্সি, ফ্রান্স ও মালি। সৌদি সরকারের ব্যবস্থাপনায় প্রথমবারের মতো ৫০ ভাষার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। হজ অনুষ্ঠানের দিনগুলোতে সৌদি আরবের ধর্ম মন্ত্রণালয় হজপালনকারীদের মোবাইলে প্রতিদিন বিভিন্ন পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনামূলক প্রায় ৩২ লাখ এসএমএস পাঠিয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র