Alexa

অভিনব পদ্ধতিতে সেহেরিতে ডাকে ফিলিস্তিনি তরুণরা

অভিনব পদ্ধতিতে সেহেরিতে ডাকে ফিলিস্তিনি তরুণরা

অভিনব পদ্ধতিতে সেহেরিতে ডাকে ফিলিস্তিনি তরুণরা, ছবি: সংগৃহীত

সাহারি অথবা ‘সুহুর’ আরবি শব্দ ‘সাহর’থেকে এসেছে। এর অর্থ রাতের শেষাংশ, শেষ তৃতীয়াংশ বা ভোর রাত।

ইসলামি পরিভাষায় রোজা পালনার্থে মুমিন বান্দা শেষ রাতে ফজরের পূর্বে যে খাবার গ্রহণ করে থাকেন, তাকে সেহেরি বা সুহুর বলা হয়। রোজা রাখার নিমিত্তে এ খাবার গ্রহণ করা সুন্নত।

হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোজার উদ্দেশ্যে সেহেরি খেয়েছেন এবং তার প্রিয় উম্মতকে তা গ্রহণ করতে উৎসাহিত করেছেন। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা সেহেরি খাও। কেননা, সেহেরিতে বরকত রয়েছে।’ –সহিহ বোখারি: ৭৮৯

অন্য হাদিসে আছে, নবী করিম (সা.) বলেন, ‘আমাদের ও ইহুদি-নাসারাদের রোজার পার্থক্য হলো সেহেরি খাওয়া।’ –সহিহ মুসলিম: ২৬০৪

সেহেরির গুরুত্ব প্রদান করতে গিয়ে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘এক ঢোক পানি দিয়ে হলেও সেহেরি গ্রহণ করো।’ -ইবনে হিব্বান: ৩৪৭৬

সেহেরি খাওয়ার ফজিলত সম্পর্কে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, ‘সেহেরি খাওয়া বরকতময় কাজ। এটা ত্যাগ করো না, যদি এক ঢোক পানি দিয়েও হয় তা গ্রহণ করো। নিশ্চয় আল্লাহতায়ালা এবং তার ফেরেশতারা সেহেরি গ্রহণকারীদের জন্য রহমত বর্ষণ করেন।’ -মুসনাদে আহমদ

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে তাহাজ্জুদ ও সেহেরির জন্য আজানের ব্যবস্থা ছিল। বর্ণনাকারী সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যেন হজরত বেলাল (রা.)-এর আজান শুনে সেহেরি খাওয়া থেকে বিরত না থাকে, কারণ হজরত বেলাল (রা.) রাত থাকতে আজান দেয়; যাতে নামাজে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তি বিরত হয় ও নিদ্রারত ব্যক্তি জেগে সেহেরি খেতে পারে।’ –সহিহ মুসলিম: ২৪০৮

সেহের গুরুত্ব বিবেচনায় বিভিন্ন দেশে নানা উপায়ে মানুষদের জাগানোর নিয়ম চালু রয়েছে। কোথাও কাসিদা গেয়ে, কোথাও ড্রাম বাজিয়ে বা কোথাও সাইরেন বাজিয়ে রোজাদারদের জাগানো হয় ঘুম থেকে।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মসজিদের মাইক থেকে ডেকে ও গজল গেয়ে রোজাদারদের জাগানোর প্রচলন চালু আছে। একদা অ্যালার্ম ঘড়ির প্রচলন ছিলো। সে জায়গায় এখন মানুষের হাতে হাতে মোবাইল, মোবাইলে অ্যালার্ম দিয়ে রাথে প্রায় সবাই। এক সময় গ্রাম-বাংলায় মহল্লার অলিগলিতে গজল বা কাসিদা গেয়ে ডাকাডাকির প্রচলন ছিল। এখনও কিছু কিছু এলাকায় সৌখিনতাবশত এমন রীতির কথা শোনা যায়।

তবে বিদেশের মাটিতে এখনও এমন প্রথা চালু রয়েছে বলে জানা যায়। যেমন ধরা যাক ফিলিস্তিনের কথা। ঐতিহাসিক নগরী জেরুজালেমের পূর্ব শহরে ইসরাঈলিদের প্রবল বাধা উপেক্ষা করেও সেখানকার তরুণ ফিলিস্তিনিরা ড্রাম বাজিয়ে ও ইসলামি গান গেয়ে রোজাদারদের জাগিয়ে তোলার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

১৫ মে এ ছবিটি তুলেছেন আনাদোলু নিউজ এজেন্সির ফয়েজ আবু রামেল।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কয়েকজন তরুণ আনন্দের সঙ্গে রোজাদারদের ঘুম থেকে জাগানোর কাজ করছেন। অনেকে বলছেন, এটা একটা প্রতীকী ছবি। এ ছবির অন্তরালে রয়েছে দীর্ঘ ইসলামি চেতনা। 

আপনার মতামত লিখুন :