Barta24

শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬

English

অভিনব পদ্ধতিতে সেহেরিতে ডাকে ফিলিস্তিনি তরুণরা

অভিনব পদ্ধতিতে সেহেরিতে ডাকে ফিলিস্তিনি তরুণরা
অভিনব পদ্ধতিতে সেহেরিতে ডাকে ফিলিস্তিনি তরুণরা, ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সাহারি অথবা ‘সুহুর’ আরবি শব্দ ‘সাহর’থেকে এসেছে। এর অর্থ রাতের শেষাংশ, শেষ তৃতীয়াংশ বা ভোর রাত।

ইসলামি পরিভাষায় রোজা পালনার্থে মুমিন বান্দা শেষ রাতে ফজরের পূর্বে যে খাবার গ্রহণ করে থাকেন, তাকে সেহেরি বা সুহুর বলা হয়। রোজা রাখার নিমিত্তে এ খাবার গ্রহণ করা সুন্নত।

হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোজার উদ্দেশ্যে সেহেরি খেয়েছেন এবং তার প্রিয় উম্মতকে তা গ্রহণ করতে উৎসাহিত করেছেন। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা সেহেরি খাও। কেননা, সেহেরিতে বরকত রয়েছে।’ –সহিহ বোখারি: ৭৮৯

অন্য হাদিসে আছে, নবী করিম (সা.) বলেন, ‘আমাদের ও ইহুদি-নাসারাদের রোজার পার্থক্য হলো সেহেরি খাওয়া।’ –সহিহ মুসলিম: ২৬০৪

সেহেরির গুরুত্ব প্রদান করতে গিয়ে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘এক ঢোক পানি দিয়ে হলেও সেহেরি গ্রহণ করো।’ -ইবনে হিব্বান: ৩৪৭৬

সেহেরি খাওয়ার ফজিলত সম্পর্কে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, ‘সেহেরি খাওয়া বরকতময় কাজ। এটা ত্যাগ করো না, যদি এক ঢোক পানি দিয়েও হয় তা গ্রহণ করো। নিশ্চয় আল্লাহতায়ালা এবং তার ফেরেশতারা সেহেরি গ্রহণকারীদের জন্য রহমত বর্ষণ করেন।’ -মুসনাদে আহমদ

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে তাহাজ্জুদ ও সেহেরির জন্য আজানের ব্যবস্থা ছিল। বর্ণনাকারী সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যেন হজরত বেলাল (রা.)-এর আজান শুনে সেহেরি খাওয়া থেকে বিরত না থাকে, কারণ হজরত বেলাল (রা.) রাত থাকতে আজান দেয়; যাতে নামাজে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তি বিরত হয় ও নিদ্রারত ব্যক্তি জেগে সেহেরি খেতে পারে।’ –সহিহ মুসলিম: ২৪০৮

সেহের গুরুত্ব বিবেচনায় বিভিন্ন দেশে নানা উপায়ে মানুষদের জাগানোর নিয়ম চালু রয়েছে। কোথাও কাসিদা গেয়ে, কোথাও ড্রাম বাজিয়ে বা কোথাও সাইরেন বাজিয়ে রোজাদারদের জাগানো হয় ঘুম থেকে।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মসজিদের মাইক থেকে ডেকে ও গজল গেয়ে রোজাদারদের জাগানোর প্রচলন চালু আছে। একদা অ্যালার্ম ঘড়ির প্রচলন ছিলো। সে জায়গায় এখন মানুষের হাতে হাতে মোবাইল, মোবাইলে অ্যালার্ম দিয়ে রাথে প্রায় সবাই। এক সময় গ্রাম-বাংলায় মহল্লার অলিগলিতে গজল বা কাসিদা গেয়ে ডাকাডাকির প্রচলন ছিল। এখনও কিছু কিছু এলাকায় সৌখিনতাবশত এমন রীতির কথা শোনা যায়।

তবে বিদেশের মাটিতে এখনও এমন প্রথা চালু রয়েছে বলে জানা যায়। যেমন ধরা যাক ফিলিস্তিনের কথা। ঐতিহাসিক নগরী জেরুজালেমের পূর্ব শহরে ইসরাঈলিদের প্রবল বাধা উপেক্ষা করেও সেখানকার তরুণ ফিলিস্তিনিরা ড্রাম বাজিয়ে ও ইসলামি গান গেয়ে রোজাদারদের জাগিয়ে তোলার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

১৫ মে এ ছবিটি তুলেছেন আনাদোলু নিউজ এজেন্সির ফয়েজ আবু রামেল।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কয়েকজন তরুণ আনন্দের সঙ্গে রোজাদারদের ঘুম থেকে জাগানোর কাজ করছেন। অনেকে বলছেন, এটা একটা প্রতীকী ছবি। এ ছবির অন্তরালে রয়েছে দীর্ঘ ইসলামি চেতনা। 

আপনার মতামত লিখুন :

একসঙ্গে ৫৮ জনের জানাজা!

একসঙ্গে ৫৮ জনের জানাজা!
জানাজার নামাজের জন্য মরদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: শুক্রবার (১৬ আগস্ট) মসজিদে হারামে ফজরের নামাজের পর দুইবারে ৫৮ জনের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মসজিদে হারামের এত সংখ্যক মানুষের নামাজে জানাজা একসঙ্গে আদায়ের ঘটনা আর ঘটেনি। ৫৮ জনের মধ্যে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ বেশ কয়েকজন হাজি রয়েছেন।

মসজিদে হারামে প্রতি ওয়াক্ত ফরজ নামাজ শেষে ‘আস সালাতু আলাল আমওয়াতি ইয়ারহামু কুমুল্লাহ', অথবা 'আস সালাতু আলাল আমওয়াতি ওয়াল আতফালি ইয়ারহামু কুমুল্লাহ' বলে জানাজার নামাজের ঘোষণা দেওয়া হয়। 

চলতি হজ মৌসুমে ফরজ নামাজের পর একবার জানাজা শেষে দ্বিতীয়বার ঘোষণা দিয়ে আবার জানাজার নামাজ পড়া হচ্ছে। এটা নিয়ে এক ধরণের কৌতূহল কাজ করছে। এ বিষয়ে খোজ নিয়ে জানা গেছে, জানাজার জন্য আসা লাশের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে দুইবার জানাজা পড়তে হচ্ছে। শুক্রবার ফজরের নামাজের পরও দু'বার ঘোষণা দিয়ে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566023261620.jpg

 

হজযাত্রী এবং মক্কার আশপাশের এলাকার স্থানীয় সৌদি নাগরিক কিংবা কোনা প্রবাসী মারা গেলে তাদের জানাজা মসজিদে হারামে অনুষ্ঠিত হয়। হজযাত্রীরা ফরজ নামাজের পর সঙ্গে সঙ্গে সুন্নত নামাজ শুরু না করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন জানাজার জন্য, এটাই রীতি।

হজপালন করতে এসে কোনো হজযাত্রী হোটেল, বাড়ি কিংবা রাস্তায় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অথবা হাসপাতালে মারা গেলে তার মরদেহ দেশে পাঠানো হয় না। তবে লাশ দেশে না পাঠালেও মৃত্যুবরণকারী হাজির মৃত্যুর সনদ যথাসময়ে তাদের পরিবার বা তাদের প্রতিনিধি কিংবা এজেন্সির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মরদেহের গোসল করানো, কাফন পরানো, জানাজা পড়ানো ও দাফন করাসহ যাবতীয় কাজ নির্দিষ্ট বিভাগ করে থাকে। মক্কার রুশাইফায় রয়েছে লাশের গোসল ও কাফন পরানোর ব্যবস্থা। হজপালনকারীদের লাশ বহন করার জন্য সরকারি গাড়ির ব্যবস্থা রয়েছে। মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশের এখানে কোনো কিছু করতে হয় না।

মসজিদে হারামে জানাজার জন্য লাশ গাড়িতে করে কাবা শরিফের দক্ষিণে নবী করিম (সা.)-এর জন্মস্থানের পাশে বাবে ইসমাইলের কাছে রাখা হয়। ফরজ নামাজের পর ইমাম সাহেব লাশ রাখার স্থানে এসে জানাজার নামাজ পড়ান।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566023327139.jpg

 

আরবদের মাঝে লাশ বহরকারী খাটিয়া কাঁধে নেওয়ার আগ্রহ অনেক। এটা তাদের একটি বিশেষ গুণ। এটাকে তারা সৌভাগ্য মনে করে। এজন্য লাশ পরিচিত হওয়া জরুরি নয়।

পবিত্র হাদিসের ভাষ্যমতে, জানাজার নামাজ আদায় করলে উহুদ পর্বত সমান সওয়াব ব্যক্তির আমলনামায় যোগ হয়। জানাজার নামাজ আদায় করা- ‘ফরজে কেফায়া।’ অর্থাৎ সমাজের কিছু মানুষ তা আদায় করলে সবাই দায়িত্ব থেকে মুক্তি লাভ করেন। আর কেউ যদি এই কাজ না করেন, তাহলে সবাই পাপের ভাগীদার।

ভারতীয় উপমহাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে ‘জানাজার নামাজ’ বলে যে ইবাদতটি পরিচিত, আরব দেশের জনগণ সেটিকে ‘সালাত আলাল মাইয়্যেত’ বা মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া বলে থাকেন। জানাজার নামাজ মূলতঃ মৃত ব্যক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা।

এক হাদিসের মর্মার্থ হলো- জানাজা মুসলমানের অন্যতম হক। এতে অংশ নিলে পরকালের কল্যাণ লাভের সঙ্গে সঙ্গে মুসলমানের অধিকার সংরক্ষণের মতো মহৎ একটি কর্ম সম্পাদিত হয়।

 

আরও পড়ুন, হজের ফিরতি ফ্লাইট শুরু

হজের ফিরতি ফ্লাইট শুরু

হজের ফিরতি ফ্লাইট শুরু
দেশে ফিরতে এয়াপোর্টে যাচ্ছেন হাজিরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: শুরু হচ্ছে হজের ফিরতি ফ্লাইট। শনিবার (১৭ আগস্ট) থেকে শুরু হওয়া হজের ফিরতি ফ্লাইট চলবে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের হাজিরা দেশে ফিরবেন। এবার ১ লাখ ২৭ হাজার ১৫২ জন বাংলাদেশি হজপালনের জন্য সৌদি আরব এসেছেন। হজপালনে এসে সৌদি আরবে শনিবার পর্যন্ত ৮১ জন ইন্তেকাল করেছেন।

৪১৯ জন হাজি নিয়ে সৌদি আরবের স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় ঢাকার উদ্দেশে জেদ্দা ছেড়ে যাবে বিমানের বিজি৩৫২০ ফ্লাইট। বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ৪০মিনিটে ফ্লাইটটি ঢাকায় পৌঁছার কথা রয়েছে। প্রথম দিন তিনটি ফিরতি ফ্লাইট রয়েছে।

আরও পড়ুন: ২৬ বছরের জমানো টাকায় হজ!

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এবং সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইনসের ৩৬৫টি ফ্লাইটে দেশে ফিরবেন বাংলাদেশি হাজিরা। জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দরে বাংলাদেশি হাজিদের সেবা দিতে কাজ শুরু করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566019669426.jpg

প্রত্যেক হাজি বিনা মূল্যে সর্বাধিক দুটি ব্যাগে ৪৬ কেজি মালামাল আনতে পারবেন। বিজনেস ক্লাসের জন্য সর্বাধিক দুটি ব্যাগে ৫৬ কেজি মালামাল বহন করতে পারবেন। কেবিন ব্যাগেজে ৭ কেজি মালামাল সঙ্গে রাখতে পারবেন। তবে কোনোভাবেই প্রতি পিস ব্যাগের ওজন ২৩ কেজি এবং বিজনেস ক্লাসে ২৮ কেজির বেশি হতে পারবে না।

আরও পড়ুন: হাজিরা মক্কা ছাড়তে শুরু করেছেন

বাংলাদেশের যাত্রীরা ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে এবং সৌদির যাত্রীরা জেদ্দা এয়ারপোর্ট থেকে ৫ লিটার জমজমের পানি বিনা মূল্যে নিতে পারবেন। সুতরাং মক্কা কিংবা জেদ্দা থেকে জমজমের পানি সংগ্রহের কোনো প্রয়োজন নেই। বিমানে পানির জন্য প্রত্যেককে একটি করে টোকেন দেওয়া হবে। পরে ওই টোকেন দেখিয়ে জমজমের পানি সংগ্রহ করতে হবে বিমান বন্দরের নিদিষ্ট কাউন্টার থেকে।

পবিত্র হজপালনের জন্য বাংলাদেশ থেকে আসার সময় ৬০ হাজার হাজি মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভের আওতায় ঢাকায় প্রি-ডিপারচার এরাইভাল সুবিধা পেয়েছেন এবং তাদের লাগেজ নিজ নিজ হোটেলে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু ফিরতি ফ্লাইট মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভের আওতায় না থাকায় হাজিদেরকে তাদের লাগেজ নিজ দায়িত্বে বহন করতে হবে।

আরও পড়ুন: হজের খুতবা দেওয়া হয় যে মসজিদ থেকে

লাগেজসহ মক্কা থেকে হাজিদের জেদ্দা বিমান বন্দরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করছে মক্কা বাংলাদেশ হজ মিশন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র