Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম ইতেকাফ

আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম ইতেকাফ
আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম ইতেকাফ, ছবি: সংগৃহীত
মুফতি মাহফূযুল হক
অতিথি লেখক
ইসলাম
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

যেকোনো ওয়াকফকৃত মসজিদে ইতেকাফ করা যাবে; তা জামে মসজিদ হোক অথবা পাঞ্জেগানা মসজিদ।

কোনো অস্থায়ী নামাজ ঘরে ইতেকাফ করা যাবে না। বিভিন্ন বহুতল ভবন, অসিফ-আদলত, কল-কারখানায় নামাজের জন্য যে রুম, জায়গা ও কর্ণার নির্ধারিত থাকে- সেখানে ইতেকাফ করা যাবে না। কেননা, এগুলো মসজিদের জন্য ওয়াকফ করা নয়। বরং অস্থায়ীভাবে নির্ধারিত।

ইতেকাফের সময়
সুন্নত ইতেকাফের সময় হলো- রমজান মাসের শেষ দশক। অতএব, কেউ যদি সুন্নত ইতেকাফের নিয়ত করে তবে তাকে ২০ রমজানের সূর্যাস্তের পূর্বে মসজিদে প্রবেশ করতে হবে এবং ঈদের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর মসজিদ থেকে বের হতে হবে।

ইতেকাফ শুদ্ধ হওয়ার শর্ত
ইতেকাফ শুদ্ধ হওয়ার ৬টি শর্ত রয়েছে। যথা- ১. মুসলমান হওয়া, ২. গোসল ফরজ হওয়ার মতো নাপাক না থাকা, ৩. মাসিক স্রাব ও সন্তান প্রসবোত্তর স্রাব না থাকা, ৪. পাগল না হওয়া, ৫. নিয়ত করা ও ৬. ওয়াকফ মসজিদ হওয়া।

ইতেকাফের নিয়ত
নিয়ত হলো- মনের পাকাপাকি সিদ্ধান্তের নাম। মুখে উচ্চারণের নাম নিয়ত নয়। সুন্নত ইতেকাফের জন্য মসজিদে প্রবেশের পূর্বে মনে মনে এ খেয়াল করে নিতে হবে। রমজানের শেষ দশক সম্পূর্ণটুকু সুন্নত ইতেকাফ করার জন্য মসজিদে প্রবেশ করছি।

ইতেকাফের মোস্তাহাব
১. পূর্ণ রাত জেগে ইবাদত, জিকির ও দোয়া করা, ২. কোরআন তেলাওয়াত করা, ৩. দরুদ শরীফ পাঠ করা, ৪. দ্বীনী জ্ঞান চর্চা করা, ৫. আলেম হয়ে থাকলে ওয়াজ-নসিহত করা ও ৬. জামে মসজিদে ইতেকাফ করা।

ইতেকাফে যা করা জায়েজ
১. পানাহার করা, ২. ঘুমানো, ৩. একান্ত প্রয়োজনীয় দুনিয়াবি কথা বলা, ৪. পণ্য মসজিদে উপস্থিত না করে প্রয়োজনীয় জিনিষ কেনাকাটা করা।

ইতেকাফের মাকরুহ
১. অহেতুক কথাবার্তা বলা, গল্পগুজব করা, ২. সম্পূর্ণ সময় নিরব থাকা আর এবং নিরবতাকে ইবাদত মনে করা, ৩. কোনো সামগ্রী মসজিদে এনে বেচাকেনা করা ও ৪. যে কাজের পারিশ্রমিক গ্রহণ করা হবে তা করা।

ইতেকাফ ভঙ্গকারী কাজসমূহ
১. শরিয়ত অনুমোদিত ওজর ব্যতীত অন্যকোনো কারণে বা অকারণে মসজিদের বাইরে যাওয়া, ২. অনিচ্ছায় বা বাধ্য হয়ে মসজিদের বাইরে যাওয়া, ২. সহবাস করা, ৩. শরিয়ত অনুমোদিত ওজরে বাইরে যেয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় বাইরে থাকা।

তবে নিজের জরুরি চিকিৎসার জন্য, কোনো রোগী দেখার জন্য, কোনো বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করার জন্য, জানাজার জন্য বা আত্মরক্ষার জন্য বের হলেও ইতেকাফ ভেঙে যাবে।

ইতেকাফের স্থান থেকে বের হওয়ার শরিয়ত অনুমোদিত ওজর
১. মলমূত্র ত্যাগের জন্য, ২. ফরজ গোসলের জন্য, ৩. পাঞ্জেগানা মসজিদে ইতেকাফ করলে জুমার নামাজের জন্য, ৪. আজান দেওয়ার জন্য ও ৫. খাবার পৌঁছে দেওয়ার কেউ না থাকলে খাবার নিয়ে আসার জন্য মসজিদের বাইরে যাওয়া যাবে।

এ সব প্রয়োজনে বাইরে গেলে ইতেকাফ ভাঙবে না। কিন্তু প্রয়োজনের বেশি সময় বাইরে থাকলে ইতেকাফ ভেঙে যাবে।

অভ্যাসবশত দৈনিকের গোসলে জন্য মসজিদের বাইরে যাওয়া যাবে না। তবে একান্তই যদি বেশি সমস্যা হয় তাহলে মলমূত্র ত্যাগ করে আসার সময় সুন্দরভাবে অজু করতে যে সময় লাগে ঠিক ওই সময়ের মধ্যে যদি তাড়াহুড়ো করে গোসল করা সম্ভব হয় তবে অজু না করে সময়ের এ শর্ত মেনে গোসল করা যেতে পারে। বিষয়টি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ বটে। যা অত্যন্ত সতর্কতার দাবি রাখে।

আবার এর জন্য সহযোগীও দরকার যে আগে থেকেই পানির ব্যবস্থা করে রাখবে, গোসলের পরে কাপড় ধোঁয়ে দিবে। অজুখানায় শাওয়ার থাকলে বিষয়টি কিছুটা সহজ হয়।

ইতেকাফ ভেঙে গেলে করণীয়
কোনো সমস্যার কারণে হোক অথবা নিছক অসতর্কতার কারণেই হোক, সুন্নত ইতেকাফ ভেঙে গেলে কাজা আদায়ের নিয়তে একদিন ইতেকাফ করতে হবে। আর তা রমজানের ভেতরেও করা যাবে পরেও করা যাবে।

কাজা ইতেকাফের নিয়তে যেকোনো দিন সূর্যাস্তের পূর্বে মসজিদে প্রবেশ করে পরের দিন সূর্যাস্তের পর বের হতে হবে। আর রমজানের পর কাজা ইতেকাফ করলে মসজিদে প্রবেশের পরবর্তী দিন রোজাও রাখতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

হাজিদের ভিড়ে জাগ্রত থাকে মসজিদে আয়েশা

হাজিদের ভিড়ে জাগ্রত থাকে মসজিদে আয়েশা
মসজিদে হারামে নামাজ আদায়, নফল তাওয়াফ ও সুযোগ বুঝে নফল উমরা আদায় করছেন হাজিরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: হজপালন শেষে মক্কায় অবস্থানরত হাজিরা মক্কার বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন, ৫ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে হারামে আদায়, নফল তাওয়াফ ও সুযোগ বুঝে নফল উমরা আদায় করে কাটাচ্ছেন।

মক্কায় অবস্থানরত হাজিরা উমরার নিয়ত করলে তাদের ইহরাম বাধার জন্য যেতে হয় আয়েশা মসজিদে। সেখানে যেয়ে (ইহরাম আগেও পড়া যায় মসজিদে আয়েশাতে যেয়েও অনেকে পরিধান করেন) দুই রাকাত নামাজ পড়ে তালবিয়া (লাব্বাইক .... ) পড়ে কাবা শরিফে এসে উমরার সব নিয়মনীতি পালন করেন।

মসজিদটি মক্কার তানঈম এলাকায় অবস্থিত। এটাকে মসজিদে তানঈমও বলা হয়। হেরেম এলাকার বাইরে এটি মক্কা থেকে সর্বাধিক নিকটবর্তী স্থান। মক্কা থেকে ৬ কিলোমিটার উত্তরে মক্কা-মদিনা রোডে আল হিজরা এলাকায় অবস্থিত এই মসজিদ। রাতদিন ২৪ ঘণ্টা এখানে মুসল্লিদের উপস্থিতি থাকে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566392961853.jpg

উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) এখান থেকে উমরার ইহরাম বেঁধে উমরা করেছিলেন। পরে সেখানে একটি বিশাল মসজিদ গড়ে উঠে। মসজিদটি ইসলামি শিল্পনৈপুণ্যের এক অনুপম নিদর্শন।

বিদায় হজের সময় হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.)কে তার ভাই হজরত আবদুর রহমান (রা.)-এর সঙ্গে হারামের বাইরে এখান থেকে উমরার ইহরাম বাঁধার জন্য পাঠিয়েছিলেন।

এ কারণে এখান থেকে মক্কাবাসীরা উমরার জন্য এখান থেকে ইহরাম বেঁধে থাকেন। বিদেশি হাজিরা এখান থেকে উমরার ইহরাম বেঁধে থাকেন। অবশ্য এটা নিয়ে ইসলামি স্কলারদের মাঝে বিতর্ক আছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566392972633.jpg

মক্কা থেকে এখানে আসতে বাস ভাড়া ৩ রিয়াল, আর ট্যাক্সি ভাড়া ৫ রিয়াল। সারাক্ষণ নফল উমরার ইহরামের জন্য আসা হাজিদের ভিড় থাকে মসজিদটিতে। বিশাল এই মসজিদের দু’টি মিনার ও একটি গম্বুজ অনেক দূর থেকে দেখা যায়। মসজিদটি খেজুর গাছ দ্বারা পরিবেষ্টিত। মসজিদের সামনে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য বিশাল জায়গা রয়েছে। রয়েছেন অজু ও নারীদের নামাজের জন্য আলাদা ব্যবস্থা।

হজ বা উমরাপালন করতে যারা বিমানযোগে সৌদি আরব আসেন তারা নিজ দেশ থেকে কিংবা নির্দিষ্ট মিকাত থেকে নিয়ত করেন। কিন্তু হজের পর উমরা করতে চাইলে উত্তম হলো- নির্দিষ্ট মিকাতে যেয়ে উমরার নিয়ত করা। এজন্য তায়েফ, রাবেক, মদিনা, আস-সাইরুল খাবির, আস-সাদিয়াত যেতে পারেন। এসব জায়গা থেকে আসার পথে মিকাত পড়বে। সেখান যথা নিয়মে উমরার নিয়ত করে উমরা আদায় করতে পারেন।

ইসলামি স্কলারদের অভিমত হচ্ছে, হজে গিয়ে বেশি বেশি তাওয়াফ করা। এটি সুন্নত এবং সবচেয়ে উত্তম কাজ। কাজেই যারা মক্কায় অবস্থান করেন, তারা বেশি করে তাওয়াফ করবেন এবং আল্লাহর ঘরে গিয়ে বেশি করে নফল নামাজ আদায় করবেন।

আরও পড়ুন: হজপালনে শীর্ষ ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ চতুর্থ

আরও পড়ুন: হজ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কিছু প্রস্তাবনা

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে
ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: সৌদি আরবে আসা হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আসা ৫৮ আলেমকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন মদিনার মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকালে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহর নেতৃত্বে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখ দল হজপালন শেষে মদিনার মসজিদে নববী পরিদর্শনে গেলে তারা এ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় মসজিদে নববীর প্রধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল খুদায়েরি বলেন, অতীতে বাংলাদেশের এতো বড় আলেম প্রতিনিধি দল সৌদি আরব বিশেষ করে মদিনায় আসেনি। একসঙ্গে বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমদের কাছে পেয়ে তারা গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315408680.jpg

এ সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সৌদি আরবের সঙ্গেও তিনি সুসম্পর্ক বজায় রাখছেন। তিনি আরও বলেন, মুসলিম বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সৌদি আরবের নেতৃত্বকে সমর্থন জানাবে বাংলাদেশ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315426944.jpg

পরে বাংলাদেশের আলেম ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারকে সালাম ও দরুদ পেশ এবং রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করেন মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য যে, হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখের একটি দল রাষ্ট্রীয় খরচে সৌদি আরব অবস্থান করছেন। ২১ আগস্ট তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র