Barta24

শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬

English

বন্ধের পথে বানিয়াচং তাজবিদুল কোরআন মাদরাসা

বন্ধের পথে বানিয়াচং তাজবিদুল কোরআন মাদরাসা
তাজবিদুল কোরআন মাদরাসায় পড়াশোনা করছেন শিক্ষার্থীরা, ছবি: বার্তা২৪.কম
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
হবিগঞ্জ
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সহিহ শুদ্ধভাবে পবিত্র কোরআন শিক্ষার বিশ্বস্ত ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান তাজবিদুল কোরআন মাদরাসা। এখানে কেরাতের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার সদরের পাইকপাড়া খাকশীরি গ্রামে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি এখন ধ্বংসের মুখে। আর্থিক টানাপোড়ানের কারণে ভেঙে পড়েছে শিক্ষা ব্যবস্থা। এ অবস্থায় সমাজের বিত্তশালীদের সহযোগিতার বিকল্প দেখছেন না প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ।

১৯৮৫ সালে বানিয়াচং সদরের পাইকপাড়া খাকশীরি গ্রামে বিশিষ্ট কারি মো. সালাউদ্দিন দ্বীনি শিক্ষার এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেন। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই শিক্ষার্থীদের সামান্য বেতন ও এলাকাবাসীর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনুদানে পরিচালিত হয়ে আসছে মাদরাসাটি। এই মাদরাসা থেকে দেশবরেণ্য অনেক কারি শিক্ষা নিয়েছেন। নিয়মিত শিক্ষার্থী ছাড়াও প্রতি রমজান মাসে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এই মাদরাসায় কেরাত প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন।

মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা কারি সালাহউদ্দিনের মৃত্যুর পর তার ছেলে কারি মাওলানা রাফি উদ্দিন মাদরাসাটির হাল ধরেন। বর্তমানে ১৭০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। আর তাদের পাঠদানের জন্য রয়েছে ১৩ জন শিক্ষক। এর মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী।

বর্তমানে নানা সমস্যা জর্জরিত গুরুত্বপূর্ণ এই মাদরাসাটি। জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে মাদরাসার ভবন। বৃষ্টি হলে পানি পড়ে ক্লাসরুমে ভেসে যায়। শ্রেণি কক্ষের অভাবে কখনও খোলা আকাশের নিচে আবার কখনও অন্যত্র ঘর ভাড়া নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত করতে হচ্ছে। শিক্ষকদের বেতন নিয়মিত পরিশোধ করা সস্তব হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে নূরানি বিভাগের শিক্ষক হাফেজ শফিউল ইসলাম বলেন, ‘মাদরাসাটির অবস্থা এখন করুণ। জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। এছাড়া কখনও খোলা আকাশের নিচে আবার কখনও অন্য স্থানে ভাড়া নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।’

কেরাত বিভাগের শিক্ষক কারি আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আর্থিক দূরবস্থার কারণে পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। একইসঙ্গে আমরা শিক্ষকরা সামান্য টাকা বেতনে এখানে চাকরি করছি। কিন্তু তাও ঠিকভাবে পাই না। ফলে আমাদেরকেও পরিবার-পরিজন নিয়ে খারাপ অবস্থা কাটছে।’
তিনি বলেন, ‘দ্বীন শিক্ষার এই প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারি-বেসরকারি অনুদানের বিকল্প নেই।’

কেরাত বিভাগের শিক্ষক কারি তাহমিনা আক্তার বলেন, ‘৫০ জন নারী শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের জন্য নারী শিক্ষক মাত্র ৩ জন। ফলে পাঠাদানে অনেক সমস্যা হচ্ছে। আমরা আশা করব দ্বীন শিক্ষার এই প্রতিষ্ঠানটিকে টিকিয়ে রাখতে সরকারসহ সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসবেন।’

এ ব্যাপারে মাদরাসার মুহতামিম কারি মাওলানা রাফি উদ্দিন বলেন, ‘মাদরাসাটি নিয়ে আমার বাবার অনেক স্বপ্ন ছিলো। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন এই মাদরাসাটিতে একদিন পাঁচ তলা একটি ভবন হবে। কিন্তু তার স্বপ্ন আজও পূরণ হয়নি। উল্টো অর্থের অভাবে মাদরাসাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি অন্য এক জায়গায় চাকরি করি। ওই চাকরিতে যে বেতন পাই তা দিয়ে পরিবার চালানোই দায় হয়ে গেছে। এর মধ্যে মাদরাসাটিতে অনুদান দেওয়া কমে গেছে। এ অবস্থা সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা না পেলে মাদরাসাটি একদিন বন্ধ হয়ে যেতে পারে।’

আপনার মতামত লিখুন :

হাজিদের ভিড়ে জাগ্রত থাকে মসজিদে আয়েশা

হাজিদের ভিড়ে জাগ্রত থাকে মসজিদে আয়েশা
মসজিদে হারামে নামাজ আদায়, নফল তাওয়াফ ও সুযোগ বুঝে নফল উমরা আদায় করছেন হাজিরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: হজপালন শেষে মক্কায় অবস্থানরত হাজিরা মক্কার বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন, ৫ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে হারামে আদায়, নফল তাওয়াফ ও সুযোগ বুঝে নফল উমরা আদায় করে কাটাচ্ছেন।

মক্কায় অবস্থানরত হাজিরা উমরার নিয়ত করলে তাদের ইহরাম বাধার জন্য যেতে হয় আয়েশা মসজিদে। সেখানে যেয়ে (ইহরাম আগেও পড়া যায় মসজিদে আয়েশাতে যেয়েও অনেকে পরিধান করেন) দুই রাকাত নামাজ পড়ে তালবিয়া (লাব্বাইক .... ) পড়ে কাবা শরিফে এসে উমরার সব নিয়মনীতি পালন করেন।

মসজিদটি মক্কার তানঈম এলাকায় অবস্থিত। এটাকে মসজিদে তানঈমও বলা হয়। হেরেম এলাকার বাইরে এটি মক্কা থেকে সর্বাধিক নিকটবর্তী স্থান। মক্কা থেকে ৬ কিলোমিটার উত্তরে মক্কা-মদিনা রোডে আল হিজরা এলাকায় অবস্থিত এই মসজিদ। রাতদিন ২৪ ঘণ্টা এখানে মুসল্লিদের উপস্থিতি থাকে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566392961853.jpg

উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) এখান থেকে উমরার ইহরাম বেঁধে উমরা করেছিলেন। পরে সেখানে একটি বিশাল মসজিদ গড়ে উঠে। মসজিদটি ইসলামি শিল্পনৈপুণ্যের এক অনুপম নিদর্শন।

বিদায় হজের সময় হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.)কে তার ভাই হজরত আবদুর রহমান (রা.)-এর সঙ্গে হারামের বাইরে এখান থেকে উমরার ইহরাম বাঁধার জন্য পাঠিয়েছিলেন।

এ কারণে এখান থেকে মক্কাবাসীরা উমরার জন্য এখান থেকে ইহরাম বেঁধে থাকেন। বিদেশি হাজিরা এখান থেকে উমরার ইহরাম বেঁধে থাকেন। অবশ্য এটা নিয়ে ইসলামি স্কলারদের মাঝে বিতর্ক আছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566392972633.jpg

মক্কা থেকে এখানে আসতে বাস ভাড়া ৩ রিয়াল, আর ট্যাক্সি ভাড়া ৫ রিয়াল। সারাক্ষণ নফল উমরার ইহরামের জন্য আসা হাজিদের ভিড় থাকে মসজিদটিতে। বিশাল এই মসজিদের দু’টি মিনার ও একটি গম্বুজ অনেক দূর থেকে দেখা যায়। মসজিদটি খেজুর গাছ দ্বারা পরিবেষ্টিত। মসজিদের সামনে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য বিশাল জায়গা রয়েছে। রয়েছেন অজু ও নারীদের নামাজের জন্য আলাদা ব্যবস্থা।

হজ বা উমরাপালন করতে যারা বিমানযোগে সৌদি আরব আসেন তারা নিজ দেশ থেকে কিংবা নির্দিষ্ট মিকাত থেকে নিয়ত করেন। কিন্তু হজের পর উমরা করতে চাইলে উত্তম হলো- নির্দিষ্ট মিকাতে যেয়ে উমরার নিয়ত করা। এজন্য তায়েফ, রাবেক, মদিনা, আস-সাইরুল খাবির, আস-সাদিয়াত যেতে পারেন। এসব জায়গা থেকে আসার পথে মিকাত পড়বে। সেখান যথা নিয়মে উমরার নিয়ত করে উমরা আদায় করতে পারেন।

ইসলামি স্কলারদের অভিমত হচ্ছে, হজে গিয়ে বেশি বেশি তাওয়াফ করা। এটি সুন্নত এবং সবচেয়ে উত্তম কাজ। কাজেই যারা মক্কায় অবস্থান করেন, তারা বেশি করে তাওয়াফ করবেন এবং আল্লাহর ঘরে গিয়ে বেশি করে নফল নামাজ আদায় করবেন।

আরও পড়ুন: হজপালনে শীর্ষ ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ চতুর্থ

আরও পড়ুন: হজ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কিছু প্রস্তাবনা

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে
ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: সৌদি আরবে আসা হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আসা ৫৮ আলেমকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন মদিনার মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকালে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহর নেতৃত্বে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখ দল হজপালন শেষে মদিনার মসজিদে নববী পরিদর্শনে গেলে তারা এ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় মসজিদে নববীর প্রধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল খুদায়েরি বলেন, অতীতে বাংলাদেশের এতো বড় আলেম প্রতিনিধি দল সৌদি আরব বিশেষ করে মদিনায় আসেনি। একসঙ্গে বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমদের কাছে পেয়ে তারা গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315408680.jpg

এ সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সৌদি আরবের সঙ্গেও তিনি সুসম্পর্ক বজায় রাখছেন। তিনি আরও বলেন, মুসলিম বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সৌদি আরবের নেতৃত্বকে সমর্থন জানাবে বাংলাদেশ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315426944.jpg

পরে বাংলাদেশের আলেম ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারকে সালাম ও দরুদ পেশ এবং রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করেন মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য যে, হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখের একটি দল রাষ্ট্রীয় খরচে সৌদি আরব অবস্থান করছেন। ২১ আগস্ট তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র