যারা মনের কার্পণ্য থেকে মুক্ত, তারাই সফলকাম

মাওলানা আবদুল জাব্বার, অতিথি লেখক, ইসলাম, বার্তা২৪.কম
কোরআনে কারিমে আল্লাহতায়ালা মুসলমানদের কার্পণ্য থেকে বেঁচে থাকতে বলেছেন, ছবি: সংগৃহীত

কোরআনে কারিমে আল্লাহতায়ালা মুসলমানদের কার্পণ্য থেকে বেঁচে থাকতে বলেছেন, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সূরা তাগাবুনের ১৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘অতএব তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় করো, শুনো, আনুগত্য করো এবং ব্যয় করো (আল্লাহর পথে)। এটা তোমাদের জন্যে কল্যাণকর এবং যারা মনের কার্পণ্য থেকে মুক্ত, তারাই সফলকাম। ’

সর্বাবস্থায়, সর্বশক্তিমান আল্লাহতায়ালাকে ভয় করা মুমিনদের জন্য অপরিহার্য বিষয়। কারণ আল্লাহতায়ালার ভয় মানুষকে পাপ থেকে দূরে রাখে। আল্লাহর কথা শোনা ও তার নির্দেশ মান্য করাও অপরিহার্য। আল্লাহর নানা নির্দেশের মধ্যে এ নির্দেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে মানুষ তার পথে দান-খয়রাত করবে। এ বিষয়টি আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের জন্য অন্যতম প্রধান পরীক্ষা। অবশ্য আল্লাহর রাস্তায় দান-খয়রাতের কারণে মানুষ নিজেই লাভবান হয়।

আয়াতে এটাও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, যারা কার্পণ্য ও লোভ এড়িয়ে চলতে পারে তারাই সফল। মানুষের সফলতার পথে প্রধান দু’টি বাধা হলো- কার্পণ্য ও লোভ। যারা এ দুই মানসিক রোগ থেকে মুক্ত থেকে আল্লাহর পথে দান-খয়রাত করতে পারে তাদের সৌভাগ্য অনিবার্য।

অনেক বুজুর্গদের জীবনে দেখা গেছে, তারা সর্বদা আল্লাহতায়ালার দরবারে মোনাজাত করতেন এই বলে, হে আল্লাহ! আমার মনকে কার্পণ্য থেকে রক্ষা করুন।

ইসলামি স্কলারদের অভিমত হলো- মনের লোভ ও কার্পণ্য মানবজীবনের সবচেয়ে বড় বিপদ। তাই এসব থেকে নিজেকে রক্ষা করতে হবে।

আর এর উপায় স্বয়ং আল্লাহতায়ালা দেখিয়ে দিয়েছেন সূরা তাগাবুনের ১৭ নম্বর আয়াতে। ওই আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘যদি তোমরা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান করো, তিনি তোমাদের জন্যে তা দ্বিগুণ করে দেবেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ গুণগ্রাহী ও সহনশীল।

বর্ণিত আয়াত ছাড়াও পবিত্র কোরআনে বার বার এ জাতীয় বর্ণনা দেখা গেছে যেখানে আল্লাহতায়ালাকে কর্জে হাসানা বা উত্তম ঋণ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আল্লাহতায়ালা সমগ্র বিশ্বজগতের মালিক। সব নেয়ামত ও সৃষ্টিকুলের মালিক তিনি। অথচ তিনি আমাদের কাছে ঋণ চাইছেন! বস্তুত এ ঋণের বিনিময়ে আরও বেশি প্রতিদান দেওয়া ও ক্ষমা করার এবং কৃতজ্ঞতার ঘোষণা দিচ্ছেন। আসলে আল্লাহতায়ালা কোনো কিছুর মুখাপেক্ষী নন। বরং আমাদেরকে করুণা করতে তিনি নিজ সম্পদ থেকেই ঋণ চাইছেন। এটা মুমিনদের প্রতি তার অশেষ ভালোবাসার প্রকাশ। আমাদের কাছে কি আছে বা আমরা কিসের মালিক যে মহান আল্লাহকে ঋণ দেবো? আর কিসের বিনিময়ে আমরা এতসব মহাপুরস্কার পাবো? আসলে এসব হচ্ছে দানের মহাগুরুত্ব এবং বান্দাদের প্রতি আল্লাহর অশেষ দয়া ও করুণারই প্রকাশ।

আপনার মতামত লিখুন :