Barta24

বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯, ৯ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজির পদত্যাগ চান পরিচালকরাও

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজির পদত্যাগ চান পরিচালকরাও
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয় আগারগাঁও, ছবি: বার্তা২৪.কম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজালের পদত্যাগের গুঞ্জনের মাঝেই প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকরা এক জরুরি বৈঠক করে তাকে শারীরিক কারণে পদত্যাগের আহবান জানিয়েছেন।

সোমবার (১৭ জুন) বিকেলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয় আগারগাঁওয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালককে কেন্দ্র করে উদ্ভুত পরিস্থিতি পর্যালোচনার নিমিত্তে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালকরা জরুরি বৈঠকে বসেন।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জ্যেষ্ঠ পরিচালক মাহবুব আলম।

পরিচালকদের জরুরি সভা থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ভাবমর্যাদা অক্ষুন্ন রাখার স্বার্থে এবং সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজালকে শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়ার আহবান জানানো হয়।

আরও পড়ুন: ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজির পদত্যাগ!

সভা থেকে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে মহাপরিচালককে পদত্যাগের আহবান জানানোর পাশাপাশি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে অবিলম্বে বোর্ড অব গভর্নরসের জরুরি সভা অনুষ্ঠানেরও তাগিদ দেওয়া হয়।

সেই সঙ্গে সঙ্গে পরিচালকদের সভা থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চেইন অব কমাণ্ড ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সবার সহযোগিতা চাওয়া হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন মো. আবুল কালাম, নুর মোহাম্মদ আলম, মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার, এ.কে.এম ফজলুর রহমান, মুহাম্মদ আবদুস সালাম, মো. আফজাল উদ্দিন, এ.বি.এম শফিকুল ইসলাম, মো. আবুল কাশেম মজুমদার, মো. আনিসুজ্জামান, ডা. একেএম বদরুল আহসান, মোস্তফা মনসুর আলম খান, জাহাঙ্গীর আলম, মুহাম্মদ রফিক-উল ইসলাম, রাশিদা আক্তার, ডা. মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ, মোহাম্মদ মহীউদ্দিন মজুমদার, জালাল আহমদ ও মো. লুৎফর রহমান সরকার।

উল্লেখ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজালকে। সাতদিনের মধ্যে নোটিশের জবাবও দিতে বলা হয় তাকে। এরই মাঝে খবর রটে তিনি পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালনা পর্ষদের বেশ কয়েকজন সদস্যও তাকে পদত্যাগের পরামর্শ দিয়েছেন।

২০০৯ সালের জানুয়ারিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে মহাপরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয় সাবেক জেলা জজ সামীম মোহাম্মদ আফজালকে। ২০১৬ সালের ২০ ডিসেম্বর প্রথম দফায় দুই বছর ও ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফায় আরও দুই বছরের জন্য তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়।

আপনার মতামত লিখুন :

গুজব ছড়ানো কবিরা গোনাহ

গুজব ছড়ানো কবিরা গোনাহ
গুজব ছড়াবেন না, গুজবে বিশ্বাস করবেন না, এটা কবিরা গোনাহ, ছবি: প্রতীকী

দুষ্টু লোকেরা সাধারণ মানুষকে নানাভাবে প্রতারিত ও বিভ্রান্ত করে থাকে। সহজ-সরল মানুষের মাঝে মিথ্যা কথা, গুজব রটানো, অলিক কথাবার্তা ও নানা কল্পকাহিনী প্রচার করে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালায়।

কোনো বিষয়ে সঠিকভাবে কিছু জানা না থাকলে আন্দাজে তা না বলার জন্য আল্লাহতায়ালা কঠোরভাবে নির্দেশ দিয়েছেন। সূরা বনি ইসরাইলে এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে বিষয়ে তোমার নিশ্চিত বিশ্বাস নেই আন্দাজে তা প্রচার করো না। কেননা চোখ, কান ও অন্তুর এ সবেরই জবাবদিহিতা করতে হবে।’

বর্ণিত আয়াতের আলোকে ভিত্তিহীন প্রচারণা ও গুজব রটানোর ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তা সহজে অনুমান করা যায়। নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্র ছাড়া কেউ কোনো খবর কেউ প্রচার করলে সে সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। গুজব ছড়ানো, প্রচার ও বিশ্বাস কবিরা গোনাহ।

কোরআনে কারিমে এ বিষয়ে আল্লাহতায়ালা বলছেন, ‘হে মুসলমানগণ! যদি কোনো ফাসেক, মন্দ লোক কোনো খবর নিয়ে আসে, তাহলে তা যাচাই-পরীক্ষা করে দেখবে যেন অজ্ঞতাবশতঃ কোনো জাতির ওপর আক্রমণ করা না হয়। এরূপ কাজ করলে তোমাদেরকে নিজেদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অনুতাপ করতে হবে।’ অর্থাৎ কোনো মন্দ লোকের খবর ততক্ষণ বিশ্বাসযোগ্য না, যতক্ষণ তা প্রমাণিত না হবে।

কোরআনে কারিমের এই সুনীতির অনুসরণ করা হলে গুজব রটনা বা মিথ্যা প্রচারণায় কোনো মুসলমান বিভ্রান্ত হতে পারে না। মিথ্যাকে প্রত্যাখ্যান ও বিশ্বাস না করার যেখানে উপদেশ দেওয়া হয়েছে এবং মিথ্যা প্রচারের কুফল বর্ণনা করা হয়েছে, সেখানে ন্যায় ও সত্য অনুসরণ এবং তাতে কোনো প্রকারের সংশয় না করারও আদেশ দেওয়া হয়েছে। সন্দেহ এবং সংশয়ের বিষয়গুলো হতে বিরত থাকার প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ন্যায়-অন্যায়, সত্য-অসত্য এবং ভুল ও নির্ভুল বিষয় যে কোনো সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন ব্যক্তি নির্ধারণ করতে পারে। মিথ্যা কথায় বিশ্বাস করা এবং তা প্রচার করা যেরূপ পাপ, সত্য ও ন্যায় সম্পর্কে সংশয়বোধ করাও তেমনি অপরাধ।

সূরা হুজরাতে এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! অধিক সংশয়বোধ হতে বিরত থাকো। কেননা কোনো কোনো সংশয় পাপকার্যের অন্তুর্ভুক্ত।’

এ আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয়, যারা মুসলমানদেরকে সংশয়গ্রস্ত করে তোলে, তারা বড় পাপী। হাদিস শরিফে সংশয় সৃষ্টিকে ‘মিথ্যা’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘সত্য সম্পর্কে তোমরা সংশয় সৃষ্টি হতে বেঁচে থাকো। কেননা সংশয় সৃষ্টি মিথ্যা কথা স্বরূপ।’

মিথ্যা প্রচার ও গুজব রটনা সম্পর্কে কোরআন-হাদিসের এসব বাণী বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, গুজবের কারণে সমাজে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে। মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে। সুতরাং কোনো অবস্থাতেই গুজবে কান দেওয়া যাবে না, গুজব বিশ্বাস করা যাবে না। কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো কিছু বলা ও প্রচার থেকে বিরত থাকতে হবে।

হাদিস শরিফে রাসূলুল্লাহ (সা.) সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, মিথ্যা খবর ও গুজব ছড়ানোর পেছনে শয়তানের হাত রয়েছে। সহিহ মুসলিমের ভূমিকায় ইমাম মুসলিম (রহ.) সাহাবি আবদুল্লাহ বিন মাসউদের সূত্র থেকে হাদিস বর্ণনা করে বলেন, ‘মানুষের রূপ ধরে শয়তান অনেক সময় কিছু লোকের সামনে কোনো একটি মিথ্যা খবর রেখে যায়। তার রেখে যাওয়া মিথ্যা খবরটি সে লোকগুলো অন্যদের কাছে পৌঁছে দিয়ে বলে, একজন এসেছিলো, তার চেহারা ঠিকই চিনি, কিন্তু নাম কি তা জানি না। অমুক ঘটনার খবর দিয়ে গেলো।’

নবী করিম (সা.) ভিত্তিহীন কথা প্রচার করতে কঠিনভাবে নিষেধ করে বলেছেন, একজন মানুষের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, যা শুনবে, তাই বলে বেড়াবে। -সহিহ মুসলিম

আমরা তো সমাজের চলতে-ফিরতে অনেক কথা শুনতে পাই। যার অনেকগুলোই সত্য নয়। এসব অসত্য কথা প্রচার করা অনেক বড় গোনাহের কাজ। যা লোকের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য যথেষ্ট। সমাজের অনেক মানুষ আছে, যারা এসব খবর প্রচারে খুবই মজা পান। শয়তান তাদের ব্যাপারে বড়ই খুশি। কারণ শয়তানের কাজটি তারা করে যাচ্ছেন।

গুজবের প্রেক্ষিতে সংঘঠিত ঘটনাগুলো প্রমাণ করে মানুষের জ্ঞানের যথেষ্ট কমতি রয়েছে। মৌলিক ইসলামি জ্ঞানের অভাব থাকায় শয়তান অনেককে এমন পাপের কাজে লিপ্ত করায়। আমাদের এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। মিথ্যা প্রচার ও কোনো ধরনের গুজবে কান দেওয়া যাবে না।

কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেবে কওমি ফোরাম

কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেবে কওমি ফোরাম
কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেবে কওমি ফোরাম, ছবি: সংগৃহীত

কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ে গঠিত আল হাইআতুল উলইয়া লিল জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অধীনে অনুষ্ঠিত দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের সংবর্ধনা দেবে কওমি ফোরাম।

২ আগস্ট, শুক্রবার বাদ জুমা জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ২০১৭, ১৮ ও ১৯ সালের পরীক্ষায় মুমতাজ (স্টারমার্ক) বিভাগে উত্তীর্ণদের সংবর্ধনা উপলক্ষে মতবিনিময় সভারও আয়োজন করেছে সংগঠনটি । অনুষ্ঠানে বরেণ্য ওলামায়ে কেরাম, শিক্ষক ও ইসলামি চিন্তাবিদরা উপস্থিত থাকবেন।

উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে 01674609982, 01670269028 এই নম্বরে নাম তালিকাভুক্তির জন্য যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে।

কওমি ফোরাম দেশের প্রতিনিধিত্বশীল আলেমদের নিয়ে একটি সম্মিলিত প্ল্যাটফর্ম গঠনের লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। এর নেতৃত্বে রয়েছেন- মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আউয়ুবি, মাওলানা হাসান জামিল, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মাওলানা ওয়ালী উল্লাহ আরমান, মাওলানা গাজী ইয়াকুব, মুফতি এনায়েতুল্লাহ ও মুফতি মুর্তজা হাসান ফয়েজি মাসুম ।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী আলেমদের উপস্থিতিতে কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে মাস্টার্স (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) এর সমমান স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরে ২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ‘আল হাইআতুল উলইয়া লিল জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’-এর অধীন ‘কওমি মাদরাসাগুলোর দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল)-এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি)-এর সমমান প্রদান বিল ২০১৮’ জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয়। ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে বিলটি পাস হয়। ৮ অক্টোবর এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ হয়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র