Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

এবার সরকারি খরচে হজে যাচ্ছেন ১৭৪ জন

এবার সরকারি খরচে হজে যাচ্ছেন ১৭৪ জন
পবিত্র মক্কা শরিফ, ছবি: সংগৃহীত
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
বিভাগীয় সম্পাদক
ইসলাম
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি খরচে বেশকিছু ধর্মপ্রাণ মুসলমানকে হজপালনের জন্য সৌদি আরব পাঠানো হয়। সে ধারাবাহিকতায় এবারও ১৭৪ জনকে হজে পাঠানো হচ্ছে। ধর্মপ্রাণ বিবেচনায় তাদের রাষ্ট্রীয় খরচে হজ করতে পাঠাচ্ছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

সোমবার (১ জুলাই) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব (হজ) এস এম মনিরুজ্জামান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি খরচে হজপালনের জন্য নির্বাচিত ১৭৪ ব্যক্তির নাম জানা গেছে। হজ প্যাকেজ-২ এর আওতায় নির্বাচিতরা আগামী ২৯ জুলাই (ফ্লাইটপ্রাপ্তি সাপেক্ষে) সৌদি আরব যাবেন ও ১০ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরবেন।

হজ প্যাকেজ-২-এর অধীনে খরচ পড়বে সব মিলিয়ে ৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। সে হিসেবে ১৭৪ জনের হজপালন বাবদ এ বছর সরকারের খরচ হবে ৫ কোটি ৯৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

তালিকায় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, গণভবন, সুধাসদন ও সংসদ সচিবালয়ে কর্মরত বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, জাসদ নেতা, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, পীর, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের নাম রয়েছে। তালিকায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নির্বাচনী এলাকার লোকজন ছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের নাম রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তাদের ভ্রমণ ব্যয় চলতি অর্থবছরে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশের বাইরে হজ বাবদ ব্যয়’ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে বহন করা হবে। খাবার খরচ ৩০ হাজার টাকা ছাড়া অন্য কোনো ব্যয় অথবা ভাতা প্রাপ্য হবেন না। খাবার খরচের ৩০ হাজার টাকার মধ্যে মক্কার খাবার খরচ বাবদ ৯ হাজার ৪৫০ টাকা কেটে রেখে অন্য ২০ হাজার ৫৫০ টাকা ঢাকার আশকোনা হজ অফিস থেকে নগদ প্রদান করা হবে।

তালিকা দেখতে ক্লিক করুন

তালিকায় থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সৌদি আরবে অবস্থানকালে নিজ নিজ কর্মস্থল থেকে বাংলাদেশের স্থানীয় মুদ্রায় বেতনভাতা প্রাপ্য হবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় খরচে হজপালনের জন্য অনুমোদিতদের পাসপোর্টের মেয়াদ ২০২০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাকতে হবে। তালিকায় থাকা কেউ বিগত বছরে রাষ্ট্রীয় খরচে হজপালন করে থাকলে তার নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে। যে সব ব্যক্তি বিগত ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে হজপালন করেছেন অথবা ভিসা প্রাপ্ত হয়েছিলেন কিন্তু হজে যাননি এমন কেউ সরকারি খরচে হজপালনের জন্য মনোনীত হয়ে থাকলে, তাদের জন্য সৌদি সরকার কর্তৃক আরোপিত ভ্যাটসহ অতিরিক্ত চার্জ ২ হাজার ১০০ সৌদি রিয়াল সমপরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সরকারি খরচে কোনো হজযাত্রী পাঠানো হয়নি। মন্ত্রিসভার অনুমোদন নিয়ে জাতীয় হজ ও ওমরা নীতি অনুযায়ী ২০১৪ সাল থেকে সরকারি খরচে হজে পাঠানো হচ্ছে।

গত চার বছরে রাষ্ট্রীয় খরচে হজে গেছেন ৯৯৯ জন। সংসদীয় কমিটিতে উপস্থাপিত এক প্রতিবেদনের তথ্য মতে, রাষ্ট্রীয় খরচে ২০১৭ সালে হজে গেছেন ৩২০ জন, ২০১৬ সালে ২৮৩, ২০১৫ সালে ২৬৮ ও ২০১৪ সালে ১২৮ জন।

সরকারি খরচে হজপালনে মনোনীতদের কীভাবে নির্বাচন করা হয় এ বিষয়ে আলাদা কোনো নীতিমালা নেই। অভিযোগ রয়েছে, নীতিমালা না থাকায় বরাবরই তালিকাগুলো হয় অনেকটা তদবিরের জোরে।

তবে রাষ্ট্রীয় খরচে হজ পালন প্রসঙ্গে জাতীয় হজ ও ওমরা নীতিমালায় বলা হয়েছে, ‘জাতীয় হজ ও ওমরাহ নীতিতে যা কিছুই উল্লেখ থাকুক না কেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী অথবা সরকার কর্তৃক মনোনীত একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসলমানকে সরকার ঘোষিত সর্বনিম্ন প্যাকেজমূল্যে সরকারি অর্থে পবিত্র হজপালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব প্রেরণ করা যাবে। এ দলের সদস্যগণ সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রী হিসেবে সরকারের সর্বনিম্ন প্যাকেজমূল্যে উল্লেখিত সেবাসমূহ প্রাপ্য হবেন। তারা দৈনিক ভাতা বা অন্যান্য আর্থিক সুবিধাদি প্রাপ্য হবেন না।’

আপনার মতামত লিখুন :

৬২ হাজার ৭৪৫ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন

৬২ হাজার ৭৪৫ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন
জেদ্দা বিমান বন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করছেন হজযাত্রীরা, ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র হজপালনে ৬২ হাজার ৭৪৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ৪ হাজার ৬০৪ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৮ হাজার ১৪১ জন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৮৮টি ও সৌদি এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৮৫টিসহ মোট ১৭৩টি ফ্লাইটে তারা সৌদি আরব পৌঁছান।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টায় মক্কা থেকে ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রকাশিত হজ বুলেটিন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

চলতি বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এ বছর হজ অনুষ্ঠিত হবে ১০ আগস্ট। ধর্ম মন্ত্রণালয় অনুমোদিত হজ এজেন্সির সংখ্যা ৫৯৮টি।

গত ৪ জুলাই থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হয়। শেষ ফ্লাইট আগামী ৫ আগস্ট। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ১৭ আগস্ট এবং শেষ ফিরতি ফ্লাইট ১৫ সেপ্টেম্বর।

বুলেটিনে আরও জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সৌদি আরব ব্যবস্থাপনামহ ১ লাখ ১ হাজার ৩৮৫ জন হজযাত্রীর ভিসা ইস্যু করেছে।

অনলাইনে হেলথ সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৬০ জন হজযাত্রীর।

বাংলাদেশি হজযাত্রীদের মধ্যে সৌদি আরবে ১২ জন ইন্তেকাল করেছেন। তন্মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা। তাদের ৯ জন মক্কায়, মদিনায় ২ জন ও জেদ্দায় ১ জন ইন্তেকাল করেন।

হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেম

হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেম
হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেমকে অন্তর্ভুক্ত করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়

সৌদি আরবে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা দেওয়ার জন্য গঠিত ওলামা-মাশায়েখদের দলে যোগ হয়েছেন আরও তিন আলেম। এখন ওই দলের সদস্য সংখ্যা ৫৭। এর আগে ৯ জুলাই ৫৫ জন আলেমের একটি দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

তালিকায় যোগ হওয়া ওই তিনজন হলেন- হাইয়াতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফ আলীর ছেলে হাফেজ মাওলানা মুফতি শামীম আহমদ (মুহাদ্দিস, মাদরাসাতুল আবরার, মাতুয়াইল, ঢাকা), বেফাক মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দসের ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ মঞ্জুরুল হাসান যোবায়ের (শিক্ষক, ফরিদাবাদ মাদরাসা, ঢাকা) ও মাওলানা সাজিদুর রহমান (মুহতামিম, দারুল আরকাম মাদরাসা, বি.বাড়িয়া)। তন্মধ্যে মাওলানা আশরাফ আলী ও মাওলানা আবদুল কুদ্দুস ওলামা-মাশায়েখদের দলে আগেই ছিলেন। এবার তালিকায় তাদের সঙ্গে সন্তানরাও যোগ হলেন। 

তালিকা দেখতে ক্লিক করুন 

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শিব্বির আহমদ উছমানি স্বাক্ষরিত এক চিঠির বরাতে ওলামা-মাশায়েখদের হজ পালনের বিষয়টি জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় খরচে হজযাত্রীদের প্যাকেজে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান সাপেক্ষে ওলামা-মাশায়েখদের হজপালনে এবারই প্রথম অন্তর্ভুক্ত করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগামী ৪ ও ৫ আগস্ট ফ্লাইট প্রাপ্তি সাপেক্ষে ওলামা-মাশায়েখদের দলটি সৌদি আরবে যাবেন। ২৩ আগস্ট তারা দেশে ফিরে আসবেন। রাষ্ট্রীয় খরচে হজ সফর হিসেবে গণ্য হবে। মনোনীত আলেমদের কোরবানি নিজ খরচে করতে হবে। মক্কা-মদিনায় তাদের ভ্রমনসূচি হজ কাউন্সিলর কর্তৃক নির্ধারিত হবে, তারা নিজ অর্থায়নে হলেও স্ত্রী-সন্তানসহ গমন করতে পারবেন না।

এদিকে ১৪ জুলাই বাংলাদেশিদের হজ ব্যবস্থাপনার কাজে সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য ১০ সদস্য বিশিষ্ট হজ প্রতিনিধি দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ওই দলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদাসহ তিনজন প্রতিমন্ত্রী, তিনজন সংসদ সদস্য, দু্’জন সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন মহাপরিচালক (মহাপরিচালক-৩) রয়েছেন।

এই দুই দল ছাড়াও বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় সহায়তা করতে সরকার বেশ কয়েকটি টিম গঠন করে সৌদি আরব প্রেরণ করেছে। দলগুলো হলো- হজ চিকিৎসক দল, হজ প্রশাসনিক দল, হজ কারিগরি দল ও হজ চিকিৎসক দলের সহায়ক দল।

আরও পড়ুন:

হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৫ আলেমকে সৌদি পাঠাচ্ছে সরকার

সিইসিসহ হজ প্রতিনিধি দলে ৩ মন্ত্রী, ৩ এমপি

উল্লেখ্য, এ বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন হজযাত্রী হজপালনের জন্য সৌদি আরব যাবেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র